a
ফাইল ছবি
ঢাকা-১৪, কুমিল্লা-৫ ও সিলেট-৩- এ তিনটি শূন্য আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৪ জুলাই। এছাড়া আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিত হবে করোনাভাইরাসের কারণে স্থগিত হওয়া লক্ষ্মীপুর-২ আসনের ভোট।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার বুধবার (২ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে শূন্য ঘোষিত তিনটি আসনের তফসিল ও স্থগিত হওয়া লক্ষ্মীপুর-২ আসনের ভোটের তারিখ ঘোষণা করেন।
ঘোষিত তফসিল থেকে জানা যায়, ওই তিন আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৫ জুন। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১৭ জুন ও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৩ জুন।
এদিন ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার জানান, করোনাভাইরাসের কারণে স্থগিত হওয়া প্রথম ধাপের ৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ১১টি পৌরসভায় নির্বাচন ও লক্ষ্মীপুর-২ আসনে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে আগামী ২১ জুন।
তিনি আরো জানান, এই আসনের মনোনয়নপত্র আগেই যাচাই-বাছাই হয়েছে। গত ১১ এপ্রিল লক্ষ্মীপুর-২ আসনের ভোট হওয়ার কথা ছিল।
সংগৃহীত ছবি
সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে পরিবেশগত পরিবর্তনে আবহাওয়ার পরিবর্তন লক্ষ্যনীয়। বিশেষ করে জলবায়ুগত পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন— বন্যা, খরা, সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি, নদী ভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, বজ্রপাত ইত্যাদির প্রবণতা তুলনামূলক বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে কিছু দিন ধরে বজ্রপাতে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি অতীতের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধি জলবায়ুগত এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের উপাদানের পরিবর্তনের ফলে ঘটে যাচ্ছে।
আবহাওয়াবিদ ও পরিবেশবিদদের মতে, এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগের অন্যতম বড় কারণ হচ্ছে দূষণ। গাছ কেটে বহুতল নির্মাণ, গাড়ির ধোঁয়া, কলকারখানার ধোঁয়া, যেখানে সেখানে বছর ধরে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার কারণে অত্যধিক মাত্রায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। সেই তুলনায় গাছ লাগানো হচ্ছে না। মাত্রাতিরিক্ত দূষণের কারণে বাতাসে গরম ধূলিকণা বাড়ছে, যা বজ্রপাতের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে।
এদিকে বাতাসের উপরের পরিমণ্ডলে বর্ষার আগে পরে মে-জুন মাস নাগাদ প্রচুর জলীয় বাষ্প থেকে যাচ্ছে। যখনই উষ্ণ বায়ু উপর দিকে ওঠার চেষ্টা করছে, তখনই অন্যান্য বায়ু ও জলীয়কণার সঙ্গে ঘর্ষণের ফলে বিদ্যুৎ তৈরি হচ্ছে। ফলে একেকটা জলীয় কণা ব্যাটারির মতো কাজ করছে অর্থাৎ বাজ পড়ছে।
আবহাওয়াবিদরা আরও জানাচ্ছেন, সাধারণত কিউমুলোনিম্বাস মেঘ থেকে বজ্রপাত ও বৃষ্টি হয়। সেই কারণে এই মেঘকে বজ্রগর্ভ মেঘও বলা হয়ে থাকে। গত কয়েক বছর ধরে এপ্রিল-জুন মাসে এই বজ্রগর্ভ মেঘের পরিমাণ বেড়েছে। তার একটা অন্যতম কারণ যেমন বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি, তেমনই আর একট কারণ, তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া। আর এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকে দূষণ। দূষণের মাত্রা যত বাড়ছে, গড় তাপমাত্রা তত বাড়ছে।
ফলে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হওয়ার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। তাছাড়া একটা ঘূর্ণিঝড় চলে যাওয়ার পর বাতাসে প্রচুর জলীয় বাষ্প থেকে যায়। সব মিলিয়ে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হওয়ার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হওয়ার কারণে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হচ্ছে।
বজ্রপাত থেকে বাঁচতে আমাদের করণীয়:
বজ্রপাতের সময় করণীয় সম্পর্কে প্রতিটি মানুষের উপস্থিত জ্ঞান থাকা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে যারা ঘরের বাইরে ক্ষেতখামারে কাজ করে তারা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। যেহেতু মেঘের নিম্নদেশের ঋণাত্মক চার্জ এবং পৃথিবীর ধনাত্মক চার্জের স্পার্কিংয়ের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র তৈরি হয় এবং এই ক্ষেত্রের মধ্যে যা কিছু পড়ে তা অতিরিক্ত তাপের কারণে পুড়ে যায়।
সেহেতু উঁচু স্থান অর্থাৎ উঁচু গাছ, ইলেকট্রিক পোল, মোবাইল টাওয়ার ইত্যাদি এরূপ বস্তুর সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকতে হবে। কেননা যে স্থান বা বস্তু যত উঁচু সে স্থান মেঘের তত সন্নিকটে থাকায় বজ্রপাতের সম্ভাবনা তত বেশি হয়ে থাকে।
দুর্যোগ আবহাওয়ায় বাড়ির ছাদ কিংবা উঁচু স্থানে অবস্থান করলে দ্রুত সেখান থেকে নেমে নিরাপদ স্থানে যেতে হবে। মৌসুমে ঘনকালো (ঝড়মেঘ) মেঘ দেখলেই সাবধান হতে হবে এবং বৃষ্টি শুরুর আগে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় গ্রহণ করতে হবে।
পাকা বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া বেশি নিরাপদ। তবে পাকাবাড়ি সুউচ্চ হলে সেক্ষেত্রে বজ্র নিরোধক ব্যবস্থা থাকতে হবে। বজ্রপাতের সময় জানালার কাছে না থাকাই ভালো। পায়ে রাবারের স্যান্ডেল পরে থাকা এবং পানি ও যে কোনো ধাতববস্তুর যেমন সিঁড়ির বা বারান্দার রেলিং, পানির কল ইত্যাদির স্পর্শ থেকে বিরত থাকা নিরাপদ। বিদ্যুৎ পরিবাহী যে কোনো বস্তুর স্পর্শ থেকে দূরে থাকতে হবে। পুকুর বা জলাশয়ে থাকা নিরাপদ নয়।
বজ্রপাতে বাড়ির ইলেকট্রনিক্স জিনিসপত্র যেগুলো ইলেকট্রিক সংযোগ বা ডিসের সংযোগ থাকে সেগুলো বিচ্ছিন্ন করা ভালো। নতুবা পুড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ ছাড়া এগুলো বন্ধ থাকলেও স্পর্শ থেকে বিরত থাকতে হবে।
মাঠের মধ্যে ফাঁকা জায়গায় থাকলে যদি বজ্রপাত হওয়ার অবস্থা তৈরি হয় তাহলে কানে আঙ্গুল দিয়ে চোখ বন্ধ করে নিচু হয়ে বসে থাকতে হবে। তবে মাটিতে শোয়া পড়া যাবে না, কেননা মটিতে শুয়ে পড়লে বিদ্যুৎ পৃষ্ঠ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
গাড়িতে থাকা অবস্থায় বজ্রপাতের পরিস্থিতি তৈরি হলে গাড়ির মধ্যে থাকায় নিরাপদ। তবে মনে রাখতে হবে গাড়ির ধাতব কোনো অংশের সংস্পর্শ থেকে বিরত থাকতে হবে।
টিনের বাড়ির চেয়ে ছনের বাড়ি এমনকি কংক্রিটের দালান বাড়ি বেশি নিরাপদ। তবে সব বাড়িকে দক্ষ ইঞ্জিনিয়ারের পরামর্শক্রমে বজ্র নিরোধক ব্যবস্থা লাগাতে হবে। যেসব বাড়িতে বৈদ্যুতিক সংযোগ রয়েছে সেগুলোর সংযোগের সময় আর্থিং ব্যবস্থা সঠিকভাবে স্থাপন করতে হবে।
তাল জাতীয় সুউচ্চ প্রজাতির গাছ প্রচুর পরিমাণে মাঠের মধ্যে লাগানোর ব্যবস্থা করতে হবে। বজ্রপাতে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা বৈদ্যুতিক শকে আহত ব্যক্তিদের মতো চিকিৎসা দিতে হবে। শরীর থেকে দ্রুত বৈদ্যুতিক চার্জ অপসারণের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে। বজ্রপাতে আহত ব্যক্তির অস্বাভাবিক আচরণে বিচলিত না হয়ে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
ফাইল ছবি
ভারতে করোনায় (কোভিড-১৯) আক্রান্তে মারা যাওয়া এক ব্যক্তির লাশ সেতুর ওপর থেকে নদীতে ফেলে দেওয়ার চেষ্টার মর্মান্তিক দৃশ্য এক ভিডিওতে দেখা গেছে।
আজ রবিবার দেশটির গণমাধ্যম এনডিটিভি অনলাইনে এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
গত ২৮ মে শুক্রবার ভারতের উত্তর প্রদেশের বলরামপুর জেলায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটতে দেখা যায়। নদীর ওপরে থাকা সেতু দিয়ে গাড়িতে করে যাওয়ার সময় কয়েকজন পুরো ঘটনাটি ক্যামেরাবন্দি করেন। তাদের করা ভিডিওটি অনলাইনে এলে কিছুক্ষণের মধ্যেই তা ফেসবুক, টুইটারসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
ভিডিওতে দেখা যায়, নদীতে ফেলার জন্য দুই ব্যক্তি মরদেহটি সেতুর রেলিংয়ে তুলছেন। দুই ব্যক্তির মধ্যে একজনের পরনে পিপিই। রেলিংয়ের ওপর তোলার পর পিপিই পরা ব্যক্তি মরদেহটি ব্যাগ থেকে বের করার চেষ্টা করছিলেন।
মরদেহটি করোনায় মৃত এক ব্যক্তির বলে নিশ্চিত করেছেন বলরামপুরের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। তার স্বজনেরা লাশটি নদীতে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। পরে লাশটি উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে ফেরত দেওয়া হয়। এ ঘটনায় স্বজনদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ভিডিও লিংক: www.youtube.com/watch?v=q3-g0ROtBG8&t=8s