a
ফাইল ছবি
বিদেশি চ্যানেলে ক্লিনফিড বাস্তবায়নে সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে সেখান থেকে এক চুলও সরা হবে না বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ক্লিনফিড বাস্তবায়ন সহজ কাজ ছিল না। ১৫ বছরে এটি বাস্তবায়িত হয়নি। এর আগেও একবার আমরা উদ্যোগ নিয়েছিলাম। নানা অজুহাতে সেটি করা সম্ভব হয়নি। এবার স্থির সিদ্ধান্ত নিয়ে আগে ভাগে গ্রাউন্ড ওয়ার্ক করে এবং যে সমস্ত জায়গা থেকে কথা উঠতে পারে তাদের জানিয়ে আমরা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছি। সুতরাং এ সিদ্ধান্ত থেকে আমরা একচুলও নড়বো না।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন সার্বিকভাবে গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা আনার জন্য সম্প্রচার, প্রিন্ট ও অনলাইন মাধ্যমে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে অনেকগুলো কাজ করেছি।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আপনাদের যে প্রস্তাব সেটার জন্য ধন্যবাদ জানাই। অন্তত প্রথমে ৫০টি পত্রিকা সম্ভব হলে ১০০টি পত্রিকার ক্ষেত্রে রিয়েলিস্টক যে সার্কুলেশন সেটার ভিত্তিতে ক্রম করা। আমি মনে করি এটা অনেক ভালো প্রস্তাব, আমি এটা করতে চাই।
বিজ্ঞাপনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে ই-টেন্ডারিং এর জন্য বিজ্ঞাপন যাচ্ছে না এটি কিছুটা জানতাম। তবে এত ভয়াবহ চিত্র সেটা জানা ছিল না।
এ বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলবো। ই-টেন্ডারিং হলেও যেন বিজ্ঞাপন যায়। আর আপনারা যে বকেয়ার কথা বলেছেন সেটা আমি জানি। অনেক পত্রিকার কয়েক কোটি টাকা করে বাকি আছে। কোর্টেও যে পড়ে আছে সেটা অবশ্য জানতাম না। এগুলো আমি জানলাম। দেশের মানুষ জানলেও মনে হয় ভালো হতো। কারণ এই বাকিটাতো থাকার কথা ছিল না।
বিজ্ঞাপনের টাকা প্রজেক্টের মধ্যে ধরা থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ধরা থাকে। কেন বাকি পড়ছে এটাই আসল বিষয়।
ছবি: সংগৃহীত
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এসএম শফিউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, দেশ ও জাতি গঠনে ক্যাডেটদের অবদান অসামান্য। দেশে বিভিন্ন দুর্যোগের সময় ক্যাডেট সদস্যরা প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে থাকেন।
শুক্রবার কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন ছাত্রদের সপ্তম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ক্যাডেট কলেজের উন্নয়ন এবং আধুনিকায়নে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানও অনস্বীকার্য।
এ সময় তিনি ভাষার মাসে ৫২-এর ভাষা আন্দোলনে বীর শহিদদের স্মরণ করে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। সেনাপ্রধান বর্তমান এবং প্রাক্তন ক্যাডেটদের সার্বিক সফলতা ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন ছাত্র, স্থানীয় ফরমেশনের ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তা, কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজের অধ্যক্ষ, শিক্ষক, গণমাধ্যম ব্যক্তি, শিক্ষার্থী ও বেসামরিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র:যুগান্তর
ফাইল ছবি
আগামীতে বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায় যুক্তরাজ্য। শনিবার লন্ডনে হোটেল ক্ল্যারিজে সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লেভারলি জানান, তার দেশ বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায়।
সাক্ষাতের পর হোটেল ক্ল্যারিজে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। এ সাক্ষাতে বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন ছাড়াও দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, রোহিঙ্গা ইস্যুসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
নির্বাচন নিয়ে আলাপের কথা জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন বলেন, ‘ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন সম্পর্কে কথা বলেন। তারাও চান একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হোক।’ একে আবদুল মোমেন বলেন, ‘নির্বাচন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেছেন— আমরাও চাই একটি সুষ্ঠু-সুন্দর নির্বাচন। আর আমার দল (আওয়ামী লীগ) সবসময় গণতন্ত্রকে সমুন্নত রেখেছে।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ‘শেখ হাসিনা বলেছেন— আমরাই বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বলিষ্ঠ একটা অবস্থান তৈরি করেছি। আমাদেরও প্রতিশ্রুতি— আমরা একটা সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। তবে সুষ্ঠু নির্বাচন সবাইকে সঙ্গে নিয়েই করতে হবে। সে ক্ষেত্রে অন্যরা যদি আমাদের সহযোগিতা করে তা হলে ভালো।’
বাংলাদেশের নির্বাচনি ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে আওয়ামী লীগের অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন স্বচ্ছ, সুন্দর করার জন্য আওয়ামী লীগ সরকার যা যা করার তাই করেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপির সময় এক কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোট ছিল, সেই ভুয়া ভোট যাতে না হয়, সে জন্য বায়োমেট্রিক ফটোআইডি, ফটোযুক্ত ভোটার তালিকা প্রণয়ন, কেউ যাতে আগে বাক্সে ব্যালট ঢুকাতে না পারে, সেই জন্য স্বচ্ছ ব্যালটবাক্স চালু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আর অত্যন্ত স্বাধীন ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া যত ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দরকার, স্বচ্ছ-সুন্দর করা হয়েছে।
ব্রিটেনের গণতান্ত্রিক পদ্ধতির প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ওয়েস্টমিনস্টারে যে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি সেটিতে আমরা বিশ্বাস করি। ওয়েস্টমিনস্টারের মতোই আমিও আমার দেশে প্রধানমন্ত্রীর একটি প্রশ্নোত্তর পর্ব চালু করেছি। ব্রিটিশ এ সিস্টেম অনুসরণ করে বাংলাদেশে প্রতি বুধবার সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর চালু করেছি।
রাজা তৃতীয় চার্লসের সিংহাসন আরোহণ অনুষ্ঠানে যোগদান করায় ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ দেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লেভারলি।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিশেষ করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন জেমস ক্লেভারলি।
যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের প্রশংসা করে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অনেক মানুষ এ দেশে থাকেন। এরা অত্যন্ত ভালো কাজ করছে।
দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে জেমস ক্লেভারলি বলেন, বাংলাদেশ ও ব্রিটিশের মধ্যে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। ব্যবসাবাণিজ্য সব দিক থেকে আমাদের সম্পর্ক বাড়ছে। গত কয়েক বছরে সেই সম্পর্ক অত্যন্ত শক্তিশালী হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্কের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু প্রথম জেল থেকে বের হয়ে এই লন্ডনে এসেছিলেন। তখন এ দেশের প্রধানমন্ত্রী তাকে অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন। আর সেই থেকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ভালো সম্পর্ক।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রিটেনের প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের ভূয়সী প্রশংসা করেন। শেখ হাসিনা বলেছেন, রানি সবসময় তার এবং তার ছোট বোনের (শেখ রেহানা) খোঁজখবর রাখতেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন জানান, শুক্রবার ‘কমনওয়েলথ লিডার্স ইভেন্টে’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজা তৃতীয় চার্লসকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। রাজা বাংলাদেশ সফর করবেন বলে জানান।
আবদুল মোমেন জানান, রোহিঙ্গা ইস্যুতে শেখ হাসিনা যে মানবিকতা দেখিয়েছেন, নির্যাতিত লোকদের সাহায্য করেছে, তার ভূয়সী প্রশংসা করেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লেভারলি।
ব্রিটিশমন্ত্রী বলেন, ব্রিটিশ সরকার রোহিঙ্গা ইস্যুতে সবসময় বাংলাদেশের সঙ্গে থাকবে। আগামীতেও তারা এ সমস্যা যাতে তাড়াতাড়ি সমাধান হয়, সেই জন্য যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের সঙ্গে আছে।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের ভূমিকার প্রশংসা করে ব্রিফিংয়ে আবদুল মোমেন বলেন, ব্রিটিশ সরকার রোহিঙ্গা ইস্যুটি নিরাপত্তা কাউন্সিলের রেজুলেশন আনে। তারা এই মুখ্য ভূমিকা পালন করে। এই রেজুলেশন তখন পাশও হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এ সৌজন্য সাক্ষাতে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লেভারলির সঙ্গে তার স্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন।
সৌজন্য সাক্ষাতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মো. নজরুল ইসলাম, যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনীম।
শনিবার লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে টেনের নতুন রাজা তৃতীয় চার্লস এবং তার স্ত্রী কুইন কনসোর্ট ক্যামিলার রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। সূত্র: যুগান্তর