a
ফাইল ছবি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক
দেশে আবারও আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা। এরই মধ্যে সংক্রমণ ঠেকাতে প্রস্তাবনাও দিয়েছে এই সংক্রান্ত কারিগরি কমিটি। সে অনুযায়ী দু’একদিনের মধ্যেই কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
শনিবার দুপুরে মানিকগঞ্জের গড়পাড়ায় শুভ্র সেন্টারে শীতবস্ত্র বিতরণকালে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা আগের চেয়ে ৪০০ গুণ বেশি। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের মতো পরিস্থিত এখনেও সৃষ্টি হয়নি। আক্রান্তের হার অতিরিক্ত বৃদ্ধি পেলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চলমান ইউপি নির্বাচনসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যানবাহনে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। এটা খুবই উদ্বেগজনক। নিয়ম না মানলে দেশকে হুমকির মুখে ঠেলে দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেন।
ফাইল ছবি
বাংলাদেশে চীনা টিকার যৌথ উৎপাদন শুরু করতে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ জানিয়েছেন উজবেকিস্তান সফররত পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে যৌথভাবে কাজ করতেও একমত হয়েছেন ভারত ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
একে আব্দুল মোমেন একই দিনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং তাজিকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিরোজিদ্দিন মুহরিদ্দিনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন।
তাসখন্দে ‘মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়া: আঞ্চলিক যোগাযোগ-চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিয়ে তিনি এসব বৈঠক করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার এসব বৈঠকের বিষয়ে জানানো হয়।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশ ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক যোগাযোগ, উভয় দেশের করোনা মহামারি এবং টিকাদান পরিস্থিতি, অস্থায়ীভাবে বাংলাদেশে অবস্থানরত মিয়ানমারের নাগরিকদের স্বদেশ প্রত্যাবাসন সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে উভয় দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে একমত হন দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর বাংলাদেশে টিকা সরবরাহের বিষয়ে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তারা উভয় দেশের কোভিড পরিস্থিতির উন্নতির পরেই বিভিন্ন যৌথ কার্যক্রম শুরুর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। এ সময় কোভ্যাক্সসহ বহুমুখী উৎস থেকে টিকা পেয়ে বাংলাদেশের টিকা পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসায় খুশির কথা জানান জয়শঙ্কর।
এরপর একে আব্দুল মোমেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে বৈঠক করেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছয় জাতির কোভিড ভ্যাকসিন সংরক্ষণ জোট বা সিওআইডি উদ্যোগ গ্রহণের জন্য চীনকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি টিকা সংকটের কঠিন সময়ে চীন সরকারের দেওয়া উপহার ও বাণিজ্যিক সরবরাহের লাইন চালু করায় কৃতজ্ঞতা জানান। এ সময় তিনি দ্রুত বাংলাদেশে করোনা টিকার যৌথ উৎপাদন শুরুর অনুরোধ করেন। এ বিষয়ে চীন সরকার সহযেগিতা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন ওয়াং ই।
এদিকে আবদুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে যৌথ কমিশন চালুর প্রস্তাব করেন তাজিকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুহরিদ্দিন। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যাবাসনের বিষয়ে বাংলাদেশকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে সমর্থন দেবে তার দেশ।
ফাইল ছবি
তালেবান যোদ্ধারা আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল দখলের পর সেখানকার কারাগার থেকে বের হয়ে গেছেন তিন বাংলাদেশি কারাবন্দী। কারাগার থেকে বের হওয়া তিনজন হলেন- খুলনার মঈন আল মেজবাহ, রাজধানীর মিরপুরের কাওসার সুলতানা ও ফেনীর উবাইদুল্লাহ হারুন।
কাবুলে প্রবেশের পর তালেবান যোদ্ধারা সেখানকার কারাগারের প্রধান দরজা খুলে দেয়। যার ফলে এই তিন বাংলাদেশি বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে উজবেকিস্তানে বাংলাদেশি দূতাবাস।
উজবেকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. জাহাঙ্গীর আলম সমদূরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে আফগানিস্তানের দায়িত্বও পালন করছেন। তিনি বলেন, দেশটিতে বাংলাদেশের মিশন না থাকায় পুরো দেশের তথ্য সম্পর্কে আমরা অবগত নই। আপাতত কাবুলে থাকা বাংলাদেশিদের খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া বাংলাদেশের কোনো নাগরিক দেশটির অন্য কোথাও আছেন কি না, তা জানাতে আফগানিস্তানকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।
আফগানিস্তানে কোনো বাংলাদেশি যদি থেকে থাকেন, তাদের সহায়তার জন্য দুটি হটলাইন (+৯৯৮৯৭৪৪০২২০১ ও +৯৯৮৯০৩২৭৫১৫২) খোলা হয়েছে।
দূতাবাস সূত্রে জানা যায়, আফগান কারাগার থেকে বেরিয়ে যাওয়া তিন বাংলাদেশি হলেন খুলনার দৌলতপুর উপজেলার মঈন আল মেজবাহ, রাজধানীর মিরপুরের (ভাষানটেক) কাওসার সুলতানা ও ফেনীর ফুলগাজীর উবাইদুল্লাহ হারুন।
বেরিয়ে যাওয়া তিন বাংলাদেশি কারাবন্দীর অপরাধ সম্পর্কে একাধিক তথ্য পাওয়া যায়। কেউ বলছেন, তারা অবৈধ ভিওআইপি (ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল) ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আবার কেউ বলছেন, ওই তিনজনসহ মোট চার বাংলাদেশিকে তালেবানকে সহায়তার অভিযোগে কয়েক বছর আগে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
রাষ্ট্রদূত মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কারাগার থেকে বেরিয়ে যাওয়া মঈন আল মেজবাহ দূতাবাসে যোগাযোগ করলে তাকে নিরাপদে থাকতে বলা হয়। দূতাবাস তাকে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করবে বলেও জানিয়ে দিয়েছে।