a
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পটভূমির দিকে যদি তাকাই, তাহলে দেখতে পাই যে, আমাদের শিক্ষার্থীদের মেধা ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আসন স্বল্পতার কারণে তারা উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছিল না। এ কারণে আমাদের শিক্ষার্থীদের একটি বিরাট অংশ পার্শ্ববর্তী দেশসহ বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য গমন করতো। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে যে, এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা মানসম্মত বলে বিবেচিত হয়নি। এমনকি শিক্ষার্থীরা অনেক ক্ষেত্রে প্রতারণার শিকার হয়েছিল। এই পরিস্থিতি একদিকে যেমন আমাদের মেধার অপচয় করছিল অন্যদিকে তেমনি দেশ থেকে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা বের হয়ে যাচ্ছিলো। কিন্তু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ সংখ্যা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। সুতরাং বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখিত পরিস্থিতিতে সরকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুমতি প্রদান করে এবং এই লক্ষ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন প্রণীত হয়। সরকারের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসেন। তখন কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সরকারের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তাদের কার্যক্রম শুরু করে। কিন্তু সেই সময় যে কয়টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তাতে এমন একটি ধারণার সৃষ্টি হয়েছিল যে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা একটি বিশেষ শ্রেণীর মধ্যে সীমাবদ্ধ। এরকম ধারণার কারণ ছিল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের অত্যন্ত ব্যয়বহুল টিউশন ফি স্ট্রাকচার। যে কারণে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে একটি ধারণার জন্ম হয় যে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ স্বল্প আয়ের লোকদের পক্ষে সম্ভব নয়।
এরকম একটি অবস্থার মধ্যে ১৯৯৬ সালের ৪ জানুয়ারি এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ তার যাত্রা শুরু করে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি একমাত্র বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, যা দ্বৈত পদ্ধতিতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি লাভ করে। অর্থাৎ দূরশিক্ষণ এবং অন ক্যাম্পাস ভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার অনুভূতি লাভ করে| বিশ্ববিদ্যালয়টি সব শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে টিউশন ফি স্ট্রাকচার , পাঠ্যসূচি নির্ধারণ এবং বিষয়সমূহ চালু করে যা স্বল্পমূল্যে মানসম্মত উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পথ প্রশস্ত করে। ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চশিক্ষা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সাধারণের নাগালের বাইরে’- বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে এই অচলায়তন ভেঙে দেয়| এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সরকারি বেসরকারি খাতে কর্মরত বিভিন্ন পেশাজীবীদের স্বল্প ব্যয়ে মানসম্মত উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে।
একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এখন বাস্তবতা। প্রচুর শিক্ষার্থী এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়ে কর্মক্ষেত্রে যোগ দিচ্ছেন। দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদানও যোগ হচ্ছে। ৩৪তম বিসিএসে মেধা তালিকায় সবার সেরা হয়েছিলেন ওয়ালিদ। এই ওয়ালিদ কিন্তু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। বিসিএসের ইতিহাসে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে প্রথম হওয়ার গৌরবও এই ওয়ালিদের হাতে।
সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তা কোনোভাবেই অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। বরং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভালোমানের শিক্ষার্থী তৈরির ব্যাপারে ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষা বিস্তারে এবং জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ নির্মাণে যেসকল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে তারমধ্যে অন্যতম হলো এশিয়ান ইউনিভারিসিটি অব বাংলাদেশ। আসন্ন ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে এ বিদ্যাপীঠ রজত জয়ন্তী উৎসব পালন করবে নব চেতনায়, তার সুবিশাল নিজস্ব ক্যাম্পাসে।
বাংলাদেশের ইতিহাস ,ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরার জন্য এটিই প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে বাংলা বিভাগ চালু করা হয় |এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক, কলা ও মানবিক বিষয় সমূহকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে| এইউবি শুরু থেকেই শিক্ষাক্রম এমনভাবে নির্ধারণ ও চালু করেছে, যাতে একজন শিক্ষার্থী পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় দুই লক্ষ শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষা কার্যক্রম শেষে দেশে ও বিদেশে সাফল্যের সাথে কাজ করে যাচ্ছেন।
রজতজয়ন্তী তথা ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে জাতির প্রত্যাশা, বিশ্ববিদ্যালয়টি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ নির্মাণে তার কার্যক্রম সাফল্যের সাথে অব্যাহত রাখবে।
গবেষক ও লেখক
সহযোগী অধ্যাপক, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ
টঙ্গীতে তুলার গুদামে আগুন
টঙ্গীর মিলগেট এলাকার কো-অপারেটিভ সোসাইটি মার্কেটে বৃহস্পতিবার সকালে এক ভয়াভহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ১৫ টি তুলার গুদাম পুড়ে ছাঁই হয়ে গেছে।
খবর পেয়ে টঙ্গী ও উত্তরা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা একযোগে কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হয়েছে।
জানা যায়, সকাল সাড়ে ৯ টায় উল্লেখিত এলাকার জনৈক মাসুদের তুলা ভাঙ্গানোর মেশিন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।
মুহুর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা ওই গোডাউনসহ আশপাশের গোডাউনগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে টঙ্গী ও উত্তরার ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌছে প্রায় সোয়া ২ ঘন্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হয়।
এ সময় ওই এলাকায় পানি সংকট দেখা দিলে আশপাশের বিল্ডিং থেকে পানির ব্যবস্থা করা হয় বলে জানান ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ।
ততক্ষনে ছোট বড় প্রায় ১৫ টি ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান, রক্ষিত মালামাল ও আসবাব পত্র পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
তবে ক্ষতিগ্রস্থ তুলা ব্যবসায়ীরা তৎক্ষণাত আগুনে পুড়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমান জানাতে পারেননি।
এব্যাপারে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন অফিসার মো. ইকবাল হাসান জানান, তুলা ভাঙ্গানোর মেশিনে স্পার্ক থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আগুনে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানা যায়নি।
ফাইল ছবি
দেশে চলছে করোনার তাণ্ডব। দীর্ঘ ১৭ মাস ধরে বন্ধ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। সশরীরে পরীক্ষা নেয়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি না হওয়ায় এবার অনলাইনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) কর্তৃপক্ষ। বুধবার (১৮ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. মাহবুবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রো-ভিসি বলেন, পরীক্ষার বিষয়ে মঙ্গলবার (১৭ আগস্ট) ভিসি ড. শেখ আবদুস সালামের সভাপতিত্বে বিভিন্ন অনুষদের ডিনদের নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ডিনদের সর্বসম্মতিক্রমে অনলাইনেই পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ব্যাপারে বিভাগগুলোতে চূড়ান্ত নীতিমালা পাঠানো হয়েছে। বিভাগ চাইলে যেকোনো সময় পরীক্ষা শুরু করতে পারে।
এদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) আতাউর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পরীক্ষাসমূহ অনলাইনে গ্রহণ, উত্তরপত্র মূল্যায়ন এবং টেবুলেশন শীটে নম্বর সন্নিবেশ সংক্রান্ত একটি সমন্বিত নির্দেশিকা সংযুক্ত নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। সংযুক্ত নির্দেশিকা নির্দিষ্ট অনুষদভূক্ত বিভাগসমূহের সভাপতি মহােদয়গনকে অবহিত করবেন। পরীক্ষা নির্দেশিকা বিভাগীয় সভাপতি সকল শিক্ষকে অবহিত করেবেন। তারপর বিভাগীয় একাডেমিক কমিটি বসে একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের আলোকে পরীক্ষা নেয়া শুরু করবেন।
একইসঙ্গে অনলাইনে কোন পদ্ধতি অনুসরণ করে পরীক্ষা নেওয়া হবে– এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা নির্দেশনাও তৈরি করেছেন কতৃপক্ষ। তা সংশ্লিষ্ট অনুষদ এবং বিভাগগুলোতে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হবে।
অনলাইন পরীক্ষাসংক্রান্ত নির্দেশিকায় বলা হয়েছে-
পরীক্ষা পূর্ববর্তী কার্যক্রম সংক্রান্ত:
পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন ফরম পূরণ: সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য বর্তমানে প্রচলিত ফরমের ন্যায় একটি পিডিএফ ফরম বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে আপলােড করা হবে। যেটি পরীক্ষার্থী প্রিন্ট করে যথাযথভাবে স্বহস্তে পূরণপূর্বক স্ক্যান করে একটি পিডিএফ ফাইলে রূপান্তর করে তার বিভাগীয় সভাপতির নিকট Google Classroom এ জমাকরণ অথবা ইমেইলে প্রেরণের মাধ্যমে আবেদন করবে।
পরীক্ষার ফি সংক্রান্ত: পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরীক্ষার্থী তার বিভাগ এবং আবাসিক হলের পাওনাসহ অংশগ্রহণকৃত পরীক্ষার ফি পরিশােধ করবেন। অন্যথায় কর্তৃপক্ষ তার ফলাফল স্থগিত রাখবেন। অনলাইনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ব্যবহৃত আবেদন ফরমের সাথে শিক্ষার্থীরা এই ব্যবস্থার প্রতি সম্মতি প্রকাশ করে একান্ত অঙ্গীকারনামা প্রদান করবেন। অথবা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আবেদন ফরম পূরণের সময়ই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আবেদন-ফি সংগ্রহ করার জন্য প্রয়ােজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
পরীক্ষার্থীদের অনলাইন পরীক্ষা ও সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ: উপরে আবেদন আবেদন ফরমে শিক্ষার্থীর নাম, বিভাগের নাম, শ্রেণি, সেশন, বর্ষ, সেমিস্টার, রোল নম্বরের পাশাপাশি মােবাইল ফোন নম্বর এবং ইমেইল আইডি লেখার ঘর থাকবে। শিক্ষার্থী কর্তৃক পূরণকৃত ফরমটি Google Classroom অথবা ইমেইলে পাওয়ার পর বিভাগীয় সভাপতি সেটি প্রিন্ট করবেন এবং সংশ্লিষ্ট ভুক্তিগুলি ব্যবহার করে বর্ষ, সিমিস্টার ভিত্তিক পরীক্ষার্থীদের একটি তালিকা প্রস্তুত করবেন। এই তালিকার একটি কপি সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কমিটির সভাপতির নিকট এবং একটি কপি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর প্রেরণ করবেন।
অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার সংক্রান্ত: পরীক্ষা নেওয়ার জন্য অনলাইন প্ল্যাটফর্ম প্রস্তুতকরণ অনলাইনে চূড়ান্ত পরীক্ষা নেওয়ার জন্য গুগল ক্লাসরুম ব্যবহার করতে হবে। শিক্ষার্থীদের তাদের নিজ নিজ সেমিস্টার/বর্ষের জন্য তৈরি করা গুগল ক্লাসরুম এ পরীক্ষা শুরুর অন্তত ১৫ মিনিট আগে যুক্ত হতে হবে। শিক্ষার্থীরা কারিগরি সমস্যার প্রয়োজনে তিন পরিদর্শক ও পরীক্ষকের মেবাইল নাম্বার সংগ্রহে রাখবেন। সব পরীক্ষার্থী নির্ধারিত ক্লাসরুমে যুক্ত হতে পেরেছে কি না বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সেমিস্টার/বর্ষের পরীক্ষার পরিদর্শকরা নিশ্চিত করবে।
প্রশ্নপত্র সংক্রান্ত: নির্ধারিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রধান পরিদর্শক বিভাগীয় সভাপতির কাছ থেকে সংগ্রহ করবেন। যা পরীক্ষা শুরুর পাঁচ মিনিট আগে গুগল ক্লাসরুমে প্রকাশ করে পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র সরবরাহের ব্যবস্থা করবেন। সময় গণনার জন্য গুগল ঘড়ি রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করবেন।
উত্তরপত্র প্রস্তুতকরণ ও জমাদান সংক্রান্ত: অনলাইনে পরীক্ষার্থীগণ A4 সাইজের কাগজ ব্যবহার করবেন। প্রতি পৃষ্ঠার ডান কোণায় পরীক্ষার্থী নিজের রোল নম্বর ও পৃষ্ঠা নম্বর লিখবেন। উত্তরপত্রের কাভার পেজ পরীক্ষা শুরু সাত দিন আগে বিভাগ যে কোন মাধ্যম দিয়ে শিক্ষার্থীদের জানিয়ে দিবে।
স্বহস্তে কালাে কালির কলম ব্যবহার করে প্রশ্নের ক্রমানুযায়ী উত্তর লিখবে। লেখা শেষ করে Camscanner অথবা অনুরূপ অ্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে যথাযথভাবে পূরণকৃত কভার পেজটি প্রথমে এবং উত্তর লেখা পৃষ্ঠাগুলাের ক্রম ঠিক রেখে সমগ্র উত্তরপত্রের একটি (single) পিডিএফ ফাইল তৈরি করবে। অতঃপর ফাইলটি তার রােল নম্বরে রিনেইম করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রধান পরিদর্শক কর্তৃক নির্দেশিত উপায়ে (Google Classrom/Email ইত্যাদি) তাঁর কাছে জমা দেবে।
তত্ত্বীয় কোর্সের পরীক্ষা সংক্রান্ত:
প্রচলিত অর্ডিন্যান্সের আলােকে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রতিটি তত্ত্বীয় কোর্সের জন্য ১ম এবং ২য় পরীক্ষক নিয়ােগপ্রাপ্ত হবেন। প্রতিটি তত্ত্বীয় কোর্সের Class Attendance, Quiz/Presentation, In-course/tutorial exam/assignment সমন্বয়ে নির্ধারিত অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ণ (Internal Evaluation) কোর্স শিক্ষক তাঁর সুবিধামত অনলাইন/অফলাইন মাধ্যমে সম্পন্ন করবেন।
লিখিত পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত মােট নম্বরের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ নম্বরের Take-home exam/open- book exam/unseen exam/report/creative assignment ইত্যাদি উপায়ে বর্ণনামূলক, বহুনির্বাচনী, সংক্ষিপ্ত ইত্যাদি ধরনের প্রশ্নে জুম প্লাটফরমে রিয়েল-টাইম মনিটরিংয়ে (অনলাইন) অথবা Google Classroom/Email/Whatsapp ইত্যাদি মাধ্যমে প্রশ্নপত্র প্রদান করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে উত্তরপত্র গ্রহণ (অফলাইন) করা সম্ভব এমন প্রশ্নে লিখিত পরীক্ষা হবে।
*সংশ্লিষ্ট কোর্সের বিষয়বস্তুর উপরে বাকি ৬০ থেকে ৫০ শতাংশ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে।
*বিভাগ থেকে সব পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা শুরুর অন্তত এক সপ্তাহ আগে প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে অবহিত করতে হবে।
বর্ষ/সেমিস্টারের মৌখিক পরীক্ষা: বহিরাগত সদস্যের উপস্থিতিতে পরীক্ষা কমিটি জুম/গুগল মিট ইত্যাদি অনলাইন প্লাটফরম ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করবেন।
ব্যবহারিক পরীক্ষা সংক্রান্ত: ভৌত অবকাঠামাের সুবিধা এবং পরীক্ষার্থীর শারীরিক উপস্থিতি ছাড়াই অনলাইন/অফলাইন পদ্ধতিতে ব্যবহারিক পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হলে বিভাগীয় একাডেমিক কর্তৃক নির্ধারিত পন্থায় সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কমিটি পরীক্ষার্থীদের ব্যবহারিক পরীক্ষা গ্রহণ করবেন । অন্যথায় কৱােন্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা সমূহ স্থগিত থাকবে।
প্রজেক্ট এবং থিসিস কোর্সের পরীক্ষা: পরীক্ষা কমিটি জুম/গুগল মিট ইত্যাদি অনলাইন প্লাটফরম ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীদের প্রজেক্ট/থিসিস ওয়ার্কের প্রেজেন্টেশন এবং বিষয়বস্তু সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন-উত্তরের মাধ্যমে প্রজেক্ট/থিসিস কোর্সের মূল্যায়ন করবেন।
পরীক্ষা পরবর্তী কার্যক্রম
উত্তরপত্র পরীক্ষকের কাছে বিতরণসংক্রান্ত: প্রধান পরিদর্শক Google Classroom/Email/Whats app ইত্যাদি মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের জমাকৃত উত্তরপত্রগুলি প্রিন্ট করে প্রতিটি উত্তরপত্রের কাভার পেজে পরিদর্শকের জন্য নির্ধারিত স্থানে স্বাক্ষর করবেন এবং পরীক্ষণের জন্য ১ ম এবং ২ য় পরীক্ষের কাছে হার্ড/সফট কপি প্রেরণ করবেন। প্রত্যেক পরীক্ষক উত্তরপত্রগুলি মূল্যায়ন শেষে প্রচলিত পদ্ধতির ন্যায় পরীক্ষার্থীদের বিস্তারিত নম্বরপত্র এবং সমন্বিত নম্বরপত্র ইমেইলে অথবা সীলগালাকৃত খামে পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের নিকট প্রেরণ করবেন।
টেবুলেশন: প্রচলিত পদ্ধতি অনুসরণ করে টেবুলেশন ও পরীক্ষার ফল প্রকাশ করতে হবে। ব্যবহারিক কোর্সের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে না পারলে কেবল অন্যন্য কোর্সে প্রাপ্ত নম্বরের উপৱেই গ্রেডিং পদ্ধতিতে ফলাফল গণনা করে শিক্ষার্থীকে বর্তমান বর্ষ/সেমিস্টারে উত্তীর্ণ ও অনুত্তীর্ণ ঘােষণ।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. শেখ আব্দুস সালাম বলেন, সশরীরে পরীক্ষা নেয়ার মতো অনুকূল পরিবেশ এখনও তৈরী হয় নি। তাই ডিনদের সর্বসম্মতিক্রমে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় অনলাইনে পরীক্ষা গ্রহণের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।