a
ফাইল ছবি
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও প্রধানমন্ত্রী বলছেন আবার ষড়যন্ত্র শুরু হচ্ছে। আরে ষড়যন্ত্র তো করছেন আপনারা। আপনারা ষড়যন্ত্র করে দিনের ভোট রাতে করেছেন, ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে আছেন। আপনাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হবে কেন। আপনারাই তো ষড়যন্ত্রকারী।
তিনি বলেন, সরকারের এখন দুটি নতুন মন্ত্রণালয় গঠন করতে হবে। একটি হলো- ষড়যন্ত্র বিষয়ক মন্ত্রণালয়, আরেকটি হচ্ছে মিথ্যাচার বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ওবায়দুল কাদের এত ষড়যন্ত্র করছেন তাই এই মন্ত্রণালয় গঠন করে তাকেই এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া উচিত।
শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১৪তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরাম ও বাংলাদেশ ছাত্র ফোরামের যৌথ আয়োজনে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে রিজভী বলেন, আপনি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে প্রতিনিয়ত মিথ্যা কথা বলছেন। আমি বলব, আপনি টুঙ্গিপাড়া যান সেখানে আপনার পিতার কবরে গিয়ে জিজ্ঞাসা করুন কেন আপনার বাবা জিয়াউর রহমানকে বীর উত্তম প্রতীক খেতাব দিয়েছিল। আর আপনি রংপুরের পীরগঞ্জে যান, সেখানে আপনার স্বামীর কবরে গিয়ে বলেন যে, আপনি যে বইটা লিখেছিলেন তুমি আর আমি সঙ্গে বসে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা শুনেছিলাম। এই বইটাতে তুমি একথা কেন লিখেছিলে। প্রশ্ন করেন, দেখি তারা কী বলে। কারণ মিনিস্ট্রি অব লাই মিথ্যার মন্ত্রণালয় করে সেই দায়িত্বটা প্রধানমন্ত্রীকে দিতে হবে। কারণ তিনি কোনো ভালো শিক্ষা দেননি। শেখ হাসিনা কোনো দিন ভালো কিছু অর্জন করেননি।
রিজভী আরও বলেন, নানা আলোচনা ও সমালোচনার মধ্য দিয়ে তাকে (তারেক রহমান) যেভাবে আওয়ামী লীগ নেতারা তীর নিক্ষেপ করেন, এর মাধ্যমে তিনি এক অভিসংবাদিত নেতা হয়ে উঠেছেন।
রিজভী বলেন, কই শেখ হাসিনা আপনি তো প্রমাণ করতে পারেননি মালয়েশিয়াতে তারেক রহমানের কারখানা আছে। কই সেখানেতো তারেক রহমানের নামে একটা আইসক্রিম কারখানাও দেখাতে পারেননি। অথচ কত মিথ্যাচার করেছেন তার বিরুদ্ধে।
বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম আলীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আরও ছিলেন, বিএনপির চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদ, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকনসহ অন্যান্য নেতারা।
ফাইল ফটো
স্থানীয় সরকারের পর এবার জাতীয় সংসদের উপনির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। শুধু লক্ষ্মীপুর নয়, বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অধীনে আর কোনো নির্বাচনেই অংশ না-নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি'র হাইকমান্ড।
অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে-এমন নিশ্চয়তা বা পরিবেশ সৃষ্টি না-হওয়া পর্যন্ত তারা আর ভোটে অংশগ্রহণ করবে না। এ মুহূর্তে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চেয়ে দুটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে তারা। এর মধ্যে রয়েছে নির্বাচন কমিশন সংস্কার এবং নির্বাচনকালীন সরকারের দাবিতে কার্যকর আন্দোলন গড়ে তোলা।
এ লক্ষে সরকারের বাইরে থাকা সব দলকে নিয়ে গড়ে তোলা হবে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য। এ নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দ্রুত আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করবে দলটি। বিএনপির নীতিনির্ধারণী সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
গত শনিবার জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের উপনির্বাচনে অংশ নেওয়া না-নেওয়াসহ ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এতে উপস্থিত বেশিরভাগ নেতাই উপনির্বাচনে না যাওয়ার পক্ষে মতামত জানান।
এক নেতা বলেন, বিএনপি স্থানীয় সরকারের (পৌরসভা) সব নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। তাই নির্বাচন বর্জন করলে সুশীল সমাজ বা বাইরের কোনো শক্তি এ নিয়ে তাদের দোষারোপ করতে পারবে না। কারণ, সারা দেশে নির্বাচনের নামে যে তামাশা হচ্ছে তা প্রমাণিত।
এখন মানুষই প্রশ্ন তুলছে-কেন আমরা নির্বাচনে যাচ্ছি। তাই এ সরকার ও ইসির অধীন আর কোনো নির্বাচনে অংশ না-নেওয়াই সঠিক সিদ্ধান্ত হবে বলে জানান ওই নেতা।
আন্দোলনের ইস্যু কী হবে, তা নিয়েও নেতারা অভিমত ব্যক্ত করেন। একাধিক নেতা বলেন, নির্বাচন কমিশনের আমূল সংস্কার এবং বিদ্যমান নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থার পরিবর্তনকে সামনে রেখে জনমত তৈরি করতে হবে। কারণ, বিদ্যমান সরকার ব্যবস্থা এবং নির্বাচন কমিশনের সংস্কার না করে নির্বাচনে অংশ নিলে ফলাফল বিগত দিনের মতোই হবে।
তাই এ দুটি বিষয় সামনে রেখেই আমাদের কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। এক নেতা বলেন, এ নিয়ে আমরা অতীতেও আন্দোলন করেছি; কিন্তু দাবি আদায় না-করেই আমরা সরকারের সঙ্গে সংলাপ করে বিগত নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। ফলাফল যা হওয়ার তাই হয়েছে।
তাই এবার আন্দোলনের আগে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, সরকার যদি আলোচনায় বসে, তাহলে আমরা কোন কোন জায়গায় ছাড় দেব। তা ছাড়া এ দাবি শুধু আমাদের একার নয়, দেশের প্রায় প্রতিটি রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজসহ সবার। সবাই চাচ্ছে, এ দেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন।
বর্তমান সরকারের অধীন তা সম্ভব নয় বলে সবাই মনে করছে। আমাদের বাইরে থাকা দল ও সুশীল সমাজকে এ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্ম করতে হবে। প্রয়োজনে এ ইস্যুতে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।
জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, সরকার নির্বাচনি ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। জনগণের ভোটের অধিকার হরণ করা হয়েছে। এ কারণে বিএনপি স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো বর্জন করতে বাধ্য হয়েছে।
দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় যুগান্তরকে বলেন, দেশে নির্বাচনি সিস্টেমটা পুরোপুরি ভেঙে ফেলা হয়েছে। নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল সংস্কার প্রয়োজন। বর্তমান নির্বাচনি ব্যবস্থা পরিবর্তন না হলে শুধু বিএনপি নয়, জনগণও ভোট দিতে কেন্দ্রে যাবে না।
তাই এ মুহূর্তে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চেয়ে নির্বাচনি ব্যবস্থার পরিবর্তনই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আমরা জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে চাই।
তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচনমুখী দল। আমরা নির্বাচনে যাব না, তা কখনোই বলছি না। যদি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত হয় এবং জনগণ যদি তা বিশ্বাস করে, তবে আমরা অবশ্যই নির্বাচনে যাব। সেটা যদি আজ হয়, তাহলে আজই আমরা নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দেব। কারণ, জনগণের প্রতি আমাদের বিশ্বাস ও আস্থা রয়েছে।
বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী গণমাধ্যমকে বলেন, লক্ষ্মীপুর-২ আসনের উপনির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীন আর কোনো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাইকমান্ড। এটা সঠিক সিদ্ধান্ত বলে আমি মনে করি।
কারণ, এদেশে নির্বাচন বলতে কিছু নেই। সরকারি দল নির্বাচনকে টেন্ডারের মতো বানিয়ে ফেলছে। কেউ নৌকার টেন্ডার পেলেই তিনি নির্বাচিত। গত ১০ বছরে স্থানীয় সরকারের প্রায় সব নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি। সম্প্রতি শেষ হওয়া পৌরসভা নির্বাচনেও অংশ নিয়েছে।
কিন্তু আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ ও বাকি পৌর ও উপজেলা নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সর্বশেষ লক্ষ্মীপুর-২ আসনের উপনির্বাচনসহ বাকি ভোটও বর্জনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। সংগ্রহীত: যুগান্তর
ছবি সংগৃহীত: জো বাইডেন ও ভ্লাদিমির পুতিন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তার ক্ষমতা গ্রহণের শতদিন পূর্তির প্রাক্কালে, বার্ধক্যজনিত শারীরিক ও মানসিক দুর্বলতাকে পাত্তা না দিয়েই তিনটি লাগসই পদক্ষেপ নেন। কারণ, বিশ্বে এখন ‘আমেরিকা ফার্স্ব’ নয়, ‘আমেরিকা ইজ ব্যাক’। কোভিডের ছত্রছায়ায়, ‘দি গ্রেট-রিসেট’ তথা ‘আমাদের গণতন্ত্র’কে বহাল করার একমাত্র আন্তর্জাতিক বাধা অথবা কানাগলি তৈরি করে রেখেছে ‘চীন-রাশিয়া-ইরান’ মৈত্রীবন্ধন।
উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিকের ফ্রিডম অব্যাহত রাখার তাগিদে তাই ১২ মার্চ স্বয়ং বাইডেন ‘কোয়াড’-এর বাকি তিন শরিক জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের সঙ্গে ভার্চুয়াল সামিট করেন। ‘কোয়াডে’র চার দেশের রাষ্ট্রীয় প্রধানরা প্রতিশ্রুতি দেন যে, ইন্দো-প্যাসিফিকের দেশগুলোকে ২০২২ সালের শেষের দিকে এক বিলিয়ন ডোজ কোভিড টিকা সরবরাহ করা হবে; টিকা তৈরি হবে ভারতে, অর্থায়নের দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের, বিতরণে থাকবে অস্ট্রেলিয়া। এটি একটি খুশির খবর হতে পারে; কিন্তু অনেকের মনে প্রশ্ন জাগছে—‘কোভিড’কে টেনে লম্বা করে ২০২২ সালের শেষ পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখা কেন! বিশেষ করে যখন দিনকে দিন ইউরোপসহ সর্বত্র স্পুতনিক-ভি ও সিনোফার্মের টিকার ডিমান্ড বাড়ছে! ‘কোয়াড’ থেকে কি বহু জল্পনাকল্পনার ‘এশিয়া ন্যাটো’র আবির্ভাব হবে! দেখা যাক। তবে ‘কোয়াডে’র শরিক ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির উচ্ছ্বসিত মন্তব্য যে, কোয়াড হবে গ্লোবাল-সাউথের (উন্নয়নশীল দেশসমূহ) শক্তি বাহিনী!
কথা প্রসঙ্গে বলছি যে, ভারতের রুশ এস-৪০০ কেনার বিষয়টি সিনেট ফরেন পলিসি কমিটি এখন নিজের হাতে তুলে নিয়েছে এবং কিনলে ‘স্যাংকশনে’র ভীতি দেখানো হয়েছে; দিন কয় পূর্বে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী লয়েড অস্টিন নয়া দিল্লিতে বলেছেনও। কৃষক আন্দোলনের বিষয়টি নিয়েও ওয়াশিংটনে বিষমভাবে কুমিরের কান্নাকাটি চলছে; কিন্তু যদিও তা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। ‘কোয়াড’ থেকে ‘এশিয়া ন্যাটো’ নয়—গ্লোবাল সাউথ বরং ভারতের স্ট্র্যাটেজিক অটোনমি সংরক্ষণের প্রত্যাশায় রয়েছে।
পুতিনের প্রসঙ্গ এবার। তবে তার আগে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের প্রফেশনাল ’সিভি’তে দ্রুত চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক। বাইডেনের রাজনৈতিক কেরিয়ারের বয়স মোটামুটি অর্ধশতাব্দী। কাজেই, বয়সে ও রাজনীতিতে জো ‘ঝানু’ ব্যক্তি। দীর্ঘ অনেক বছর ছিলেন সিনেটর হিসেবে, তারপরে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ভিপি ছিলেন আট বছর ধরে, মাধ্যখানে চার বছর ফাঁকা গেছে; বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট তিনি। কর্মজীবনে সিনেট বৈদেশিক বিষয়ক কমিটির জ্যেষ্ঠ সিনেটর হিসেবে ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণে কংগ্রেসের অনুমতি আদায়ে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
ইরাক আক্রমণ, সাদ্দাম হোসেনের উচ্ছেদ ইত্যাদির অজুহাত ছিল গণবিধ্বংসী অস্ত্র এবং ছিল তো নির্জলা মিথ্যা বানোয়াট নৃশংস ‘ফেয়ারিটেল’। এই অন্যায় আক্রমণে কম করে এক মিলিয়ন মানুষ মারা যায় এবং মধ্যপ্রাচ্যে ও আশপাশের অন্যত্র সন্ত্রাসবাদ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে দেওয়া হয়। কিংবা প্রেসিডেন্ট ওবামার ভিপি থাকাকালে, প্রেসিডেন্টের ‘ওভারসিজ কনটিনজেন্সি অপারেশনস’ এবং ৮০টি দেশের ওপর রাতের অন্ধকারে নাইট ড্রোন হামলা চালানোর অংশীদার তিনি। লিবিয়া ও লিবিয়ার গাদ্দাফির নৃশংস পরিণতি, যুগোস্লাভ ফেডারেশনের আকাশ থেকে বিরামহীন ৭৮ দিনরাত্রি বোমাবর্ষণ ইত্যাদিও রয়েছে।
কিছুদিন আগে, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখে প্রেসিডেন্ট বাইডেন সিরিয়ায় বোমাবর্ষণের হুকুম দেন। কিছু লোক মারা যায়। ১৭ মার্চ ‘ডিক্লাসিফাই’কৃত একটি মার্কিন ‘ইনটেল’ প্রতিবেদনে দাবি করা হয় যে, প্রেসিডেন্ট পুতিন ২০২০ সালের মার্কিন নির্বাচনের সময় ডেমোক্রেটিক প্রার্থী বাইডেনের বিরুদ্ধে ‘প্রভাব/ইনফ্লুয়েন্স অপারেশন’ পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ঘটনাক্রমে এই একই তারিখে প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেন ‘এবিসি নিউজে’ তার প্রথম সাংবাদিক সাক্ষাত্কার দেন।
এই প্রতিবেদনের সূত্র ধরে সাংবাদিক জর্জ স্টেফানোপউলস প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে প্রশ্ন করেন, ‘নির্বাচনের সময় ভ্লাদিমির পুতিন আপনার মানহানি করেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সমর্থন করেছেন, আমাদের নির্বাচনের ভিত্তিকে দুর্বল করেছেন, আমাদের সমাজকে বিভক্ত করেছেন। কী মূল্য তাকে দিতে হবে?’ বাইডেন বলেন, মূল্য তাকে দিতে হবে। ... তার সঙ্গে ফোনে দীর্ঘ কথোপকথন হয়েছে; বলেছি, ‘আমি আপনাকে জানি, আপনিও আমাকে জানেন। যদি প্রমাণিত হয় তো ফলভোগের জন্য প্রস্তুত থাকুন।’ ... স্টেফানোপউলস বলেন, ‘আপনি বলছিলেন যে, উনি হূদয়শূন্য ব্যক্তি!’ বাইডেন বলেন, ‘ও হ্যাঁ, আমি তাকে বলেছি বটে, তার উত্তর ছিল যে—আমরা একে অপরকে বুঝতে পারছি, ....বলেছি, আপনার চোখের ভেতরে তাকালাম কিন্তু আমার মনে হয় না যে আপনার হূদয় বলে কিছু আছে।’ স্টেফানোপউলস বলেন, ‘অতএব, ভ্লাদিমির পুতিনকে আপনি চেনেন।’...এক অর্থে, এটিকে ঐতিহাসিক ইন্টারভিউ বলা চলে, মার্কিন-রুশ সম্পর্কের ‘ওয়াটারশেড-মুহূর্ত’ বা ‘আজ...দুজনার দুটি পথ গেছে বেঁকে-মুহূর্ত’। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের ‘এলিট’দের অনেকেরই কূটনৈতিক কম্পিটেন্স বা যোগ্যতা, ঔচিত্যবোধ, শিষ্টতার অভাব নতুন কিছু নয়। যেমন, বছর দুই আগে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে ‘ঠগ’ বলতে আটকায়নি। বা ভেনিজুয়েলার মাদুরো’কে অবলীলায় ‘সন্ত্রাসী’র লেবেল দেওয়া হয়।
প্রশ্ন হলো—মস্কো এখন কী করবে? রাশিয়ার উত্তর ছিল তাত্ক্ষণিক এবং সুস্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূতকে শলাপরামর্শের জন্য মস্কোতে ডেকে পাঠানো হয়। এটি একটি নজিরবিহীন পদক্ষেপ। সুস্পষ্ট ইঙ্গিত যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে রাশিয়া পুনর্বিবেচনা করতে চায়। বাইডেনের অপমানের জবাব দিতে পুতিন রুশ টেলিভিশনে আসেন, ধীরস্থির শান্ত গলায় বলেন যে, বাইডেন স্টেটমেন্টে যা বলেছেন, আমরা পরস্পরের সঙ্গে পরিচিত। অতঃপর, বাইডেনকে তিনি সুস্বাস্থ্য কামনা করেন এবং বলেন যে, ঠাট্টা নয়, তিনি বাস্তবিকই তার সুস্বাস্থ্য কামনা করছেন। অবশ্য পুতিন প্রচলিত বচন বা লোককথা ব্যবহার করেন, বলেন যে, ‘যে যেমন, সে ভাবে যে অন্যলোকেও ঠিক তারই মতো; বা ‘অন্য লোকের সম্বন্ধে যা-ই বলো না কেন তুমি আসলে তা-ই’।
প্রেসিডেন্ট পুতিনের মতে, ইউরোপিয়ানরা যখন সামরিক শক্তি নিয়ে (আমেরিকা) মহাদেশ বিজয়ে মত্ত, সেই সময়ে আমেরিকান প্রশাসনিক শ্রেণি সংগঠিত হতে থাকে। পুতিন জাপানের বিরুদ্ধে দুটো পারমাণবিক বোমা ফেলা এবং কালো মানুষ নিয়ে দাসপ্রথা চালুর ইতিহাস ইত্যাদি—সবই অন্যায়-অবিচারভিত্তিক যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব নিপীড়নের ইতিহাস। বাইডেনের বক্তব্যের জবাব হিসেবে পুতিন একটি চমকপ্রদ প্রস্তাব করেন। অনুবাদ করলে দাঁড়ায়: এসো আমরা ‘ভারবাল শুটআউটে’ নামি। লাইভ চ্যাট কাম ডুয়েল; বিষয়বস্তু: প্যান্ডেমিক, আঞ্চলিক কনফ্লিক্ট রিজোলিয়োশন এবং স্ট্র্যাটেজিক স্থিততা/স্ট্যাবিলিটি। অডিয়েন্স: মার্কিন ও রুশ পাবলিক; শর্ত: স্বতঃস্ফূর্ত, লিখিত স্ক্রিপ্ট ব্যবহার অবৈধ। পুতিনের সময় বাইডেনের ফুল প্রোগ্রাম, সময় কবে হবে, অনিশ্চিত। অর্থাত্, ‘টাফ টকিং আমেরিকান ওয়েস্টার্ন’-এর ছোঁয়া মেশানো কোনো ঐতিহাসিক শোউডাউন হবে না, হচ্ছে না!
তবে উভয়ের ক্ষেত্রেই অনেকের মনে রবীন্দ্রনাথের একটি কবিতার লাইন ঘুরতে পারে—‘ওরে ভাই, কার নিন্দা করো তুমি। মাথা করো নত। / এ আমার এ তোমার পাপ।’ সূত্র:ইত্তেফাক