a
ছবি সংগৃহীত
কবিতার ছুটি
কবি শহীদুল্লাহ আনসারী
ভাষা আর আশা নিয়ে আজ বড় দৌড় ঝাঁপ বর্ণের
হাতে মহা—ধন ইমিটেশন চকচকে ঠিক যেন স্বর্ণের।
কেউ দেখেন স্বপ্নের বালিহাঁস বালিঘাটে সারারাত
নিঘুর্ম—ভাবনায় হিরে—মতি—জহরত পাওয়া যেন ডালভাত।
ডিম পাড়ে হিমশীতে ঘর বাঁধে বালুময় নির্জলা ব—দ্বীপে
সুর বাজে জাহাজের মাস্তুলে মগ্নতায় রংময় সে শিপে,
রাতারাতি বড় হবার অসম মাতামাতি দেখে কাঁপে বুকটা
চারিদিকে হানাহানি কানাকানি কীভাবে সারাবে এ রোগটা!
কারও আজ মন নেই, সত্য ও সুন্দর পুজারির ধন নেই
কবিতারা মার খায় সবখানে, কোথাও বা পারখায় শুরুতেই,
সত্য ও সুন্দরের কথা বলে। বিবেকের দংশনে রাতারাতি
মরে কেউ। আবার মতের বিভেদ নিয়ে লেগে যায় হাতাহাতি।
কবিতার রাজ্যে অরাজকতা দেখে কেউ মরে যায় লজ্জায়
কেউ কেউ মানসিক রোগি হয়, পঁচে গলে মিশে রোগ—শয্যায়,
ছন্দের দ্বন্দ্বে কাঁটাঘার গন্ধে কবিতাকে কবিতাই চেপে ধরে টুটি
দেখে শুনে গদ্যের বীজ বুনে মঞ্জুর করে দিলাম কবিতার ছুটি।
ছবি: আবদুল কাদের
ছোটবেলা থেকেই আমাদের মনের মধ্যে একটা জিনিস গেঁথে আছে, সেটা হলো গণিত মানেই বিচ্ছিরি সব সুত্র মুখস্থ করা আর হিবিজিবি সব অংক করা। গণিত মানেই মোটা চশমা পরা কাঠের বড় স্কেল হাতে রাগী স্যারের থমথমে ক্লাস। সুত্র মুখস্থ না পারলেই পিঠের উপর বেতের বারি বা ঠাস ঠাস শব্দে দুইগাল লাল হয়ে যাওয়া। কিন্তু এর বাইরেও যে গণিতের একটা সৌন্দর্য আছে, গণিতে একটা মুগ্ধতা আছে, গণিতের মাঝে জীবনের ভাষা আছে, গণিতে আছে সুন্দর চিন্তা করার উৎস এই জিনিসটা আমরা কখনো ভেবে দেখিনি।
জনপ্রিয় গণিত লেখক "চমক হাসান" ভাই যথার্থই বলেছেন "সুন্দর চিন্তা করা অনেক আনন্দের ব্যাপার। খাবারের সংস্থান থাকলে শুধু চিন্তার আনন্দেই একটা অর্থবহ জীবন পার করে দেয়া যায়। আর গণিত হলো গুছিয়ে চিন্তা করার ভাষা, বিজ্ঞানের ভাষা"
আবদুল কাদের, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের একজন ছাত্র, সম্প্রতি "সংখ্যা-সাহিত্য: গণিতের অভ্যন্তরীণ রহস্য" শিরোনামে একটি বই লিখেছেন। অনুজ প্রকাশনা দ্বারা ১৫ই জানুয়ারী প্রকাশিত, এই বইটির লক্ষ্য গণিতের আশে-পাশের রহস্য উন্মোচন করা, যা একটি অনন্য প্রস্তাব দেয়।
বিষয়ের উপর দৃষ্টিভঙ্গি আখ্যানে, আবদুল কাদের বইটি লেখার পিছনে তার প্রেরণা শেয়ার করেছেন, গণিত একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয় যা সাধারণ ধারণাকে সম্বোধন করেছেন। তিনি গাণিতিক ধারণাগুলিকে রহস্যময় করার গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছেন, মূল্যবোধের গঠন এবং পিছনের নির্ভুলতার উপর আলোকপাত করেছেন।
বইটি একটি গাইড হিসাবে কাজ করে, গণিতের জগতে অসংখ্য রহস্য সমাধান করে, এবং ছাত্রদের দ্বারা প্রায়ই সম্মুখীন হওয়া ভুল ধারণাগুলি দূর করা লক্ষ্য করে। লেখক গণিতের সৌন্দর্যের দিকেও খোঁড়াখুঁড়ি করেছেন, পাঠকদের মোহিত করার উদ্দেশ্যে।
আবদুল কাদের, তার বইয়ের উদ্দেশ্য বর্ণনা করে, এটি প্রকাশ করে যে এটি কেবল ভুল ধারণাকেই স্পষ্ট করে না বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণিতের প্রতি আগ্রহের অনুভূতি জাগিয়ে তোলে। তিনি বিশ্বাস করেন যে দৈনন্দিন জীবনে গণিতের ব্যবহারিক প্রয়োগগুলি বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বইটি এই ব্যবধান পূরণ করার চেষ্টা করে।
তিনি বলেন, "এই বইটি একজন শিক্ষার্থীকে গণিতের প্রতি আগ্রহ তৈরি করতে সাহায্য করবে এবং সেই সাথে গণিত কীভাবে দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার করতে পারে তার যাত্রার প্রতিফলন করে।
আব্দুল কাদের শেয়ার করেছেন যে গণিতের প্রতি তার আকর্ষণ শৈশব থেকেই শুরু হয়েছিল, যা তাকে আজীবন অন্বেষণে প্ররোচিত করেছিল। তার লক্ষ্য হল ছাত্রদের সেই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজে পেতে সহায়তা করা, যা তাকে যৌবন থেকে কৌতূহলী করেছে। সামনের দিকে তাকিয়ে তরুণ লেখক তার গাণিতিক ধারণাগুলির অন্বেষণ চালিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে বিজ্ঞান কল্পকাহিনী লেখার কল্পনা করেছেন। আব্দুল কাদেরের বর্ণনা গণিতের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির তাৎপর্য এবং ছাত্র ও পাঠকদের উপর একইভাবে তার কাজের সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে।
ফাইল ছবি
বিশ্বকাপ ফুটবলে ইতিহাস তৈরি করলেন মরক্কোর নোহাইলা বেনজিনা ফুটবলার। নারী বিশ্বকাপের ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে তিনি মাঠে নেমেছেন হিজাব পরে। এই প্রথম কোনও ফুটবলার বিশ্বকাপের ম্যাচ খেললেন হিজাব পরে।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, ধর্মীয় কারণেও মাথা ঢেকে মাঠে নামা যেত না। ফুটবলারদের স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তার স্বার্থেই কিন্তু ২০১৪ সালে এই নিয়ম প্রত্যাহার করে নেয় ফিফা। ফলে হিজাব পরে খেলার ক্ষেত্রে এখন আরও কোনও বাধা নেই।
শনিবার দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে মরক্কোর নারী ফুটবল দলের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় বেনজিনা মাঠে নামেন হিজাব পরে। পুরুষ বা নারীদের বিশ্বকাপ মিলিয়ে এমন ঘটনা এই প্রথম ঘটল।
হিজাব পরে মাঠে নামায় বেনজিনার প্রশংসা করেছেন মুসলিম উইমেন ইন স্পোর্টস নেটওয়ার্কের সহ-প্রতিষ্ঠাতা আসমা হেলাল বলেছেন, ‘‘বেনজিনাকে দেখে মুসলিম সম্প্রদায়ের নারীরা অনুপ্রাণিত হবে। এ নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। শুধু ফুটবলাররা নয়। যারা সিদ্ধান্ত নেন, কোচেরা এবং অন্য খেলার সঙ্গে যুক্তরাও ভীষণ ভাবে অনুপ্রাণিত হবে।’’
বেনজিনার হিজাব পরে খেলার সিদ্ধান্ত সমর্থন করেছেন সতীর্থেরাও। দলের অধিনায়ক গিজলেন চেবাক বলেছেন, ‘‘নারীদের বিশ্বকাপে আরব বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে আমরা যোগ্যতা অর্জন করেছি। বিশ্বকাপ খেলতে পারা আমাদের কাছে গর্বের। দেশের খেলাধুলার সম্পর্কে বিশ্বের ধারণা উন্নত করার গুরুতর দায়িত্ব রয়েছে আমাদের কাঁধে।’’
বেনজিনা পেশাদার ফুটবলার। তিনি মরক্কোর অ্যাসোসিয়েশনের স্পোর্টস অফ ফোর্সেস আর্মড রয়্যাল ক্লাবের হয়ে খেলেন। তার ক্লাব মরক্কোয় নারীদের লিগে টানা আট বারের চ্যাম্পিয়ন। মরক্কোর অন্যতম সেরা নারী ডিফেন্ডার ২৪ বছরের এই ফুটবলার। সূত্র : এপি।