a কবিতার ছুটি
ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ মাঘ ১৪৩২, ১০ ফেরুয়ারী, ২০২৬
https://www.msprotidin.com website logo

কবিতার ছুটি


কবি শহীদুল্লাহ আনসারী, কবি ও লেখক, মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
বুধবার, ১২ ফেরুয়ারী, ২০২৫, ০১:২৮
কবিতার ছুটি

ছবি সংগৃহীত

কবিতার ছুটি

 কবি শহীদুল্লাহ আনসারী

 

ভাষা আর আশা নিয়ে আজ বড় দৌড় ঝাঁপ বর্ণের
হাতে মহা—ধন ইমিটেশন চকচকে ঠিক যেন স্বর্ণের।
কেউ দেখেন স্বপ্নের বালিহাঁস বালিঘাটে সারারাত
নিঘুর্ম—ভাবনায় হিরে—মতি—জহরত পাওয়া যেন ডালভাত।

ডিম পাড়ে হিমশীতে ঘর বাঁধে বালুময় নির্জলা ব—দ্বীপে
সুর বাজে জাহাজের মাস্তুলে মগ্নতায় রংময় সে শিপে,
রাতারাতি বড় হবার অসম মাতামাতি দেখে কাঁপে বুকটা
চারিদিকে হানাহানি কানাকানি কীভাবে সারাবে এ রোগটা!

কারও আজ মন নেই, সত্য ও সুন্দর পুজারির ধন নেই
কবিতারা মার খায় সবখানে, কোথাও বা পারখায় শুরুতেই,
সত্য ও সুন্দরের কথা বলে। বিবেকের দংশনে রাতারাতি
মরে কেউ। আবার মতের বিভেদ নিয়ে লেগে যায় হাতাহাতি।

কবিতার রাজ্যে অরাজকতা দেখে কেউ মরে যায় লজ্জায়
কেউ কেউ মানসিক রোগি হয়, পঁচে গলে মিশে রোগ—শয্যায়,
ছন্দের দ্বন্দ্বে কাঁটাঘার গন্ধে কবিতাকে কবিতাই চেপে ধরে টুটি
দেখে শুনে গদ্যের বীজ বুনে মঞ্জুর করে দিলাম কবিতার ছুটি।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

পন্ডশ্রম – শামসুর রাহমান


আরাফাত আলম, বিশেষ প্রতিনিধি, মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
সোমবার, ০৫ মে, ২০২৫, ০৪:১৫
পন্ডশ্রম–শামসুর রাহমান

ছবি সংগৃহীত

পন্ডশ্রম

 

এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,
চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।
কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,
আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা গেল উড়ে,
কান না পেলে চার দেয়ালে মরব মাথা খুঁড়ে।
কান গেলে আর মুখের পাড়ায় থাকল কী-হে বল?
কানের শোকে আজকে সবাই মিটিং করি চল।

যাচ্ছে, গেল সবই গেল, জাত মেরছে চিলে,
পাজি চিলের ভূত ছাড়াব লাথি-জুতো-কিলে।
সুধী সমাজ! শুনুন বলি, এই রেখেছি বাজি,
যে-জন সাধের কান নিয়েছে জান নেব তার আজই।

মিটিং হল ফিটিং হল, কান মেলে না তবু,
ডানে-বাঁয়ে ছুটে বেড়াই মেলান যদি প্রভূ।
ছুটতে দেখে ছোট ছেলে বলল, কেন মিছে
কানের খোঁজে মরছ ঘূরে সোনার চিলের পিছে?

নেইকো খালে, নেইকো বিলে, নেইকো মাঠে গাছে;
কান যেখানে ছিল আগে সেখানটাতেই আছে।
ঠিক বলেছে, চিল তবে কি নয়কো কানের যম ?
বৃথাই মাথার ঘাম ফেলছি, পন্ড হল শ্রম।

 

....ফেসবুক থেকে সংগৃহীত 

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র এখন ভ্যান চালক!


এমএস.প্রতিদিন ডেস্ক:
শুক্রবার, ১৬ জুলাই, ২০২১, ১০:৪৪
৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র এখন ভ্যান চালক!

ফাইল ছবি

রাকিব, ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া ছাত্র। তিন ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট। করোনাকালে কঠোর লকডাউনেও ব্যাটারি চালিত অটো-ভ্যান নিয়ে রাস্তায় নেমেছে। পরিবার ও নিজের হাত খরচের জন্য সামান্য আর্থিক চাহিদা পূরণ করতে তিনি অটো-ভ্যান হাতে তুলে নিয়েছেন। 

করোনায় স্কুল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তার পরিবারকে সহযোগিতা করছেন ওই কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থী। তার কাছে প্রশ্ন ছিল কেন তুমি অটো চালাচ্ছো। সহজ সরল উত্তর স্কুল বন্ধ, তাই আব্বুকে বলে অটো-ভ্যানটি নিয়ে রাস্তায় বেড়িয়ে পড়েছি।

রাকিব টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার পৌর শহরের শিয়ালকোল এলাকার লবণ ব্যবসায়ী হাকিমের ছেলে। সে তার পাশের এলাকার ভারই দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। রাকিব বলেন- করোনায় স্কুল বন্ধ। কি করব, পড়াশোনা নেই। আমার বন্ধুরা মোবাইলে অনলাইন ক্লাস করে। কিন্তু আমার ফোন না থাকায় ক্লাস করতে পারি না। মাঝে মাঝে সহপাঠীদের ফোনে ক্লাস করি। করোনার কারণে সহপাঠীদের বাড়িতে যাওয়া যায় না।

করোনাকালে অনেক শিক্ষার্থী অলস সময় পার করলেও কেন অটো-ভ্যান নিয়ে রাস্তায় বের হতে হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে রাকিব বলেন- কয়েক মাস আগে আব্বুকে বলেছিলাম একটা স্মার্ট মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার জন্য। আব্বুর কাছে টাকা না থাকায় তার অটো-ভ্যান নিয়ে রাস্তায় বের হয়েছি। এছাড়াও সংসার খরচে কিছু টাকা দিয়ে বাকি টাকা জমিয়ে একটা মোবাইল ফোন কিনে অনলাইন ক্লাস করব।’

এদিকে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে অহরহ খোঁজ মেলে এমন শিশুর। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এভাবে চলতে থাকলে কয়েক বছরের মধ্যে শিশু শ্রম বাড়ার পাশাপাশি স্কুল থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। স্থানীয় অটো-ভ্যান চালকদের কাছ থেকে জানা যায়, প্রত্যেক শিশু প্রথমে অটো-ভ্যান খেলার হাতেখড়ি হয় তাদের। আমাদের মতো নিম্ন আয়ের সন্তানরা বেশি ভাগ সংসারের আর্থিক সংকট দূর করতে নিরুপায় হয়ে এমন কাজে করাতে বাধ্য করতে হয়।

অটো-ভ্যান চালকরা আরও বলেন- তারপর এ সময়টা করোনাকালীন সময়। ওরা ঘরবন্ধি। দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় পড়াশোনার প্রতি তাদের কোন আগ্রহ নেই। এতে করে শিক্ষার্থী আরও অকালে ঝড়ে পড়ছে। অনলাইন ক্লাসের নামে ক্ষুদে ছাত্ররা মোবাইলে নানা ধরণের গেমসে আসক্ত হচ্ছেন। এছাড়া এমন অনেক হতদরিদ্র পরিবার আছে, যেখানে শিশু শিক্ষার্থীরা সংসারের খরচ চালাতে ভাড়ায় ভ্যানগাড়ি চালিয়ে বা অন্যান্য কাজকর্ম করে সংসারের হাল ধরে থাকেন।

শুধু রাকিব নয়। তার মতো নিম্ন আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীরা করোনাকালে পড়াশোনা থেকে দূরে গিয়ে পরিবারের অর্থের যোগান দিচ্ছেন নানা ধরণের কাজ করে। উপজেলার পৌর শহর, গোবিন্দাসী বাজার, মাটিকাটা, নিকরাইল, সিরাজকান্দি বাজার, পাথাইলকান্দি (যমুনা) সেতু বাজারসহ বিভিন্ন ছোট-বড় হাটবাজার ঘুরে দেখা যায় রাস্তায় অহরহ কম বয়সের শিশুরা ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়ি চালিয়ে যাচ্ছে, বেশি গতিতে গাড়ি চালিয়ে ওভারটেক করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হতে দেখা গেছে শিশু চালক-যাত্রীদের। অনেক অভিভাবক আজকাল নিজেই ভ্যানগাড়ির চাবি তুলে দিচ্ছেন তার সন্তানদের হাতে।

উপজেলার ভারই দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালেেয় প্রধান শিক্ষক কামরুল হাসান বলেন, ‘করোনায় স্কুল বন্ধ থাকায় শিশুরা এখন বাডীতে অলস সময় পার করছে। আমার প্রতিষ্ঠানটি প্রান্তিক এলাকায় হওয়ায় বেশীর ভাগ শিশুই হতদরিদ্র পরিবার থেকে এসেছে। রাস্তা-ঘাটে আমার স্কুলের অনেক শিক্ষার্থীকেই দেখি ব্যাটারিচালিত ভ্যান গাড়িতে যাত্রী কিংবা মালামাল পরিবহন করছে। অভিবাভকেরা যদি সচেতন না হন, তবে কিছুদিন পর এই শিক্ষার্থীরা আর স্কুলে আসবে না। আমার মনে হয়, শিশুদের এ ধরণের ঝুঁকিপূর্ণ কাজের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।’

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শাহিনুল ইসলাম জানান- বিষয়টি দুঃখজনক, করোনাকালে স্কুল বন্ধ থাকার কারণে ও পারিবারিক অসচ্ছলতায় অনেক শিশুকেই আজকাল এ ধরণের ব্যাটারি চালিত অটো-ভ্যান যানবাহনগুলো চালাতে দেখা যাচ্ছে। এগুলো তো আমরা বন্ধ করতে পারি না। তবে, যেসব নিম্নবিত্ত শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তাদের তালিকা হচ্ছে।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম
Share on Facebook

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন এর জনপ্রিয়

সর্বশেষ - শিল্প ও সাহিত্য