a বিনম্র শ্রদ্ধায় সত্যজিৎ রায়কে
ঢাকা বুধবার, ২৮ মাঘ ১৪৩২, ১১ ফেরুয়ারী, ২০২৬
https://www.msprotidin.com website logo

বিনম্র শ্রদ্ধায় সত্যজিৎ রায়কে


এমএস.প্রতিদিন ডেস্ক:
শনিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২১, ১২:৩৯
বিনম্র শ্রদ্ধায় সত্যজিৎ রায়কে

সত্যজিৎ রায়

সত্যজিৎ রায় (জন্মঃ২ মে ১৯২১-মৃত্যুঃ ২৩ এপ্রিল ১৯৯২) আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাঙালি চলচ্চিত্রকার; আলোকচিত্রী, চিত্রকর, শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ হিসেবেও সুপরিচিত। ১৯২১ সালের ২ মে তিনি কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস ছিল বৃহত্তর ময়মনসিংহের কিশোরগঞ্জ জেলার মসুয়া গ্রামে। 

পিতা প্রখ্যাত লেখক, সম্পাদক ও আলোকচিত্রী সুকুমার রায় ছিলেন রয়াল ফটোগ্রাফিক সোসাইটি অব গ্রেট ব্রিটেন-এর ফেলো। তার মাতা সুপ্রভা রায় ছিলেন একজন সঙ্গীতশিল্পী ও হস্তশিল্পে পারদর্শী এবং তার পিতামহ উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরীও ছিলেন প্রখ্যাত লেখক, শিশু সাহিত্যিক, চিত্রকর, আলোকচিত্রী, ব্লক ডিজাইনার এবং শিশুতোষ পত্রিকা সন্দেশ (১৯১৩)-এর সম্পাদক।

জন্মের মাত্র দুই বছরের মধ্যেই পিতাকে হারিয়ে মামার আশ্রয়ে দৃঢ়চেতা মাতার তত্ত্বাবধানে সত্যজিৎ রায়ের শৈশব-কৈশোর অতিবাহিত হয়।

বালিগঞ্জ সরকারি হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক ও প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে অর্থনীতিতে অনার্সসহ বিএ পাসের পর ১৯৪০ সালে সত্যজিৎ রায় শান্তিনিকেতনে ভর্তি হন।

১৯৪৩ সালে একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থার কমার্শিয়াল আর্টিস্ট হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু হয়। বিজ্ঞাপনের ভাষা ও ডিজাইনে তিনি নতুন মাত্রা সংযোজন করেন। প্রায় একই সময়ে তিনি বইয়ের প্রচ্ছদ এবং পত্রিকায় ছবি আঁকা শুরু করেন।

১৯৪৭ সালে কয়েকজন বন্ধুর সহায়তায় গঠন করেন কলকাতা চলচ্চিত্র সংসদ। পরবর্তী বছরে তার সুযোগ ঘটে ফরাসি চলচ্চিত্রকার জাঁ রেনোয়ার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার। রেঁনোয়া তার পরিচালিত 'দ্য রিভার' ছবির কিছু অংশ কলকাতায় শুটিং করেন এবং সত্যজিৎ তা প্রত্যক্ষ করেন।

পরে চলচ্চিত্র নির্মাণের উদ্দেশ্যে তিনি গঠন করেন ‘কনক পিকাচার্স’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। সত্যজিৎ এ সময় এ 'পারফেক্ট ডে' নামে একটি চিত্রনাট্য রচনা করেন।

১৯৫০ সালে চাকরির সূত্রে পাঁচ মাস লন্ডনে অবস্থানকালে তিনি প্রায় একশ চলচ্চিত্র দেখেন এবং পরিচিত হন ব্রিটিশ চলচ্চিত্র নির্মাতা লিন্ডসে অ্যান্ডারসন, চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞ পেনেলোপি হাস্টন এবং গ্যাবিন ল্যাম্বটি-এর সঙ্গে।

ইতালির ভিত্তোরিও ডি সিকা পরিচালিত 'দ্য বাইসাইকেল থিফ' দেখে তিনি মুগ্ধ হন এবং বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'পথের পাঁচালী' অবলম্বনে ছবি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। একই বছর অক্টোবরে দেশে ফিরে তিনি এর চিত্রনাট্য রচনা করেন এবং ১৯৫২ সালে অপেশাদার লোকজন নিয়ে ছবির শুটিং শুরু করেন। বহু ধারদেনা এবং গহনা, বইপত্র ও সঞ্চিত সম্পদ বিক্রয় করেও তিনি ছবির কাজ শেষ করতে পারেন নি। নিজের জীবন বীমার পলিসি বন্ধক দিয়ে ও বন্ধুবান্ধব-আত্মীয়দের কাছ থেকে তিনি মাত্র ১৭,৫০০ টাকা সংগ্রহ করেন।

পরে তিনি ব্যয় কম করার জন্য পুরানো ক্যামেরা ভাড়া করেন, খাদ্য ও যাতায়াত খরচ কমিয়ে দেন এবং কলকাতার প্রত্যন্ত এলাকায় শুটিং করেন।

তিনি একজন প্রযোজকের সন্ধান করছিলেন যিনি অন্তত ৪০,০০০ টাকা অর্থায়নে সক্ষম। ছবির এক-তৃতীয়াংশ চিত্রায়িত হওয়ার পর যোগাড় করা টাকা শেষ হয়ে যায়।
বাধ্য হয়ে তিনি পশ্চিমবঙ্গের সরকারের কাছে অর্থসাহায্য কামনা করেন। এ বিষয়ে আমলাদের অনীহা প্রত্যক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায় নিজে ছবিটির নির্মাণ ব্যয় সংকুলানের ব্যবস্থা করেন।

১৯৫৫ সালে 'পথের পাঁচালী' নিউইয়র্কে প্রদর্শিত হয় এবং ঐ বছরই, আগস্টে কলকাতার প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হয়। মুক্তির পরপরই ছবিটি সারা বিশ্বে প্রশংসা লাভ করে এবং পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করে।

১৯৫৫ সালে 'পথের পাঁচালী' রাষ্ট্রপতি ও পশ্চিমবঙ্গ সাংবাদিক সমিতির পুরস্কার লাভ করে। ঐ বছরই ছবিটি ফ্রান্স ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ‘সর্বশ্রেষ্ঠ মানব দলিল’ হিসেবে জুরি বোর্ডের বিশেষ পুরস্কার অর্জন করে।

ছবিটি পৃথিবীর বিভিন্ন শহর ও দেশ, যথা এডিনবার্গ, ম্যানিলা, স্পেন, সানফ্রান্সিসকো, বার্লিন, ভ্যাঙ্কুবার, ডেনমার্ক ও জাপানে পুরস্কৃত হয়।

১৯৫৬-তে মুক্তি পায় তার দ্বিতীয় ছবি অপরাজিত, এটি তাকে এনে দেয় ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব পুরস্কার, গোল্ডেন লায়ন, Cinema Nuveall এবং ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ড।
১৯৫৬ থেকে ১৯৯২-এর মৃত্যুর আগে পর্যন্ত চলচ্চিত্র মিশে ছিল তার চিন্তা ও কর্মে। তিনি ছিলেন বিশ্বের সেরা দশজন চলচ্চিত্রকারের মধ্যে একজন।

তার চলচ্চিত্র কর্মের মধ্যে রয়েছে ২৮টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চিত্র, ৫টি তথ্যচিত্র এবং ৩টি টেলি-ফিল্ম।
নির্মিত চলচ্চিত্রসমূহের মধ্যে উলে­খযোগ্য হলো:
পথের পাঁচালী (১৯৫৫), অপরাজিত (১৯৫৬), পরশপাথর (১৯৫৭), জলসাঘর (১৯৫৮), অপুর সংসার (১৯৫৯), দেবী (১৯৬০), তিন কন্যা (১৯৬১), রবীন্দ্রনাথ (১৯৬১), কাঞ্চনজঙ্ঘা (১৯৬২), অভিযান (১৯৬২), মহানগর (১৯৬৩), চারুলতা (১৯৬৪), কাপুরুষ ও মহাপুরুষ (১৯৬৫), নায়ক (১৯৬৬), চিড়িয়াখানা (১৯৬৭), গুপী গাইন বাঘা বাইন (১৯৬৯), অরণ্যের দিনরাত্রি (১৯৭০), প্রতিদ্বন্দ্বী (১৯৭০), সিকিম (১৯৭১), সীমাবদ্ধ (১৯৭১), অশনি সংকেত (১৯৭৩), সোনার কেল্লা (১৯৭৪)প্রভৃতি।
লেখক হিসেবেও তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।তার প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে: বিষয় চলচ্চিত্র,একেই বলে শ্যুটিং,ফেলুদা সিরিজ,শঙ্কু সিরিজ,পিকুর ডায়েরী।

সত্যজিৎ রায় জীবনে বহু পুরস্কারে ভূষিত হন। তিনি পথের পাঁচালীর জন্য (১৯৫৫-১৯৬৬) ভারত ছাড়াও মোট ১১টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন।

তিনি ভারত সরকারের কাছে ৪০টি ও বহির্বিশ্বের কাছে ৬০টি পুরস্কার লাভ করেন। সেসবের মধ্যে দেশ বিদেশের বহু বিশ্ববিদ্যালয়ের অনারারী ডক্টরেট ডিগ্রি, বিশ্বভারতীর দেশিকোত্তম, দাদা সাহেব ফালকে,ভারত রত্ন ইত্যাদি। অস্কার পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক সত্যজিৎ রায় ১৯৯২ সালের ২৩ এপ্রিল কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

মেসবা খান: ২৩ এপ্রিল ১৯৯৪/সূত্র:সংবাদ

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

বাংলা একাডেমী ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সাবেক মূখ্যমন্ত্রী আবু হোসেন সরকারের ১২৮তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন


আরাফাত, বিশেষ প্রতিনিধি, মুক্তসংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক
সোমবার, ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ০১:৪৮
বাংলা একাডেমী ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সাবেক মূখ্যমন্ত্রী আবু হোসেন সরকারের ১২৮তম

ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন

 

ঢাকায় বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে ১৯৫৫ সালের যুক্তফ্রন্ট সরকারের তৎকালীন মূখ্যমন্ত্রী আবু হোসেন সরকারের ১২৮ তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে বিশিষ্ট সংগঠক চাঁদের কনা’র সভাপতি এ.টি.এম মমতাজুল করিমের সভাপতিত্বে এক স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোঃ কফিল উদ্দিন। বক্তব্য রাখেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোঃ আইয়ুব হোসেন, কবি সাজেদা ডুলু, বীর মুক্তিযোদ্ধা হবিবর রহমান সরকার, বাংলাদেশ নাগরিক পরিষদের সভাপতি মোঃ আব্দুল আহাস নুর, লেখক সোহেল মোঃ ফকরুদ্দিন, ভাষা আন্দোলন স্মৃতি রক্ষা পরিষদের সেক্রেটারী মু.আ.ডা. মোক্তাদির, প্রাচ্য বাংলার সভাপতি রবিউল ইসলাম রবি, নাট্যকার নুর হোসেন রানা, এ্যাডভোকেট মোঃ আশরাফ উদ্দিন, এ্যাডভোকেট মোশারফ হোসেন মনির, সাবেক মূখ্য মন্ত্রী আবু হোসেন সরকার স্মৃতি পরিষদের আহ্বায়ক কবি নজরুল বাঙ্গালী প্রমূখ।
    
বক্তারা বলেন, আবু হোসেন সরকারের আত্মত্যাগে বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠা হয়েছে। সেই বাংলা একাডেমী বিগত ৫০ বছরেও তাঁর স্মরণে কোন স্মরণ সভা করা হয় নাই। বক্তারা বাংলা একাডেমীতে আবু হোসেন সরকারের নামে একটি স্মৃতি মঞ্চ প্রতিষ্ঠা ও লেখক-কবিদের জন্য একটি “কবি ভবন” করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
 
অনুষ্ঠানে ভাষা সৈনিক মুহা. মোস্তাফিজুর রহমান, ইতিহাসবিদ লেখক সোহেল মোঃ ফকর উদ-দিন ও নাট্যকার মোঃ নুর হোসেন রানাকে সাবেক মূখ্যমন্ত্রী আবু হোসেন সরকার স্মৃতি সম্মাননা প্রদান করা হয়।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে কবি নজরুল বাঙ্গালী কে আহ্বায়ক ও মোঃ আঃ কুদ্দুস কে সদস্য সচিব মনোনীত করে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট সাবেক মূখ্যমন্ত্রী “আবু হোসেন সরকার স্মৃতি পরিষদ” গঠন করা হয়।

 

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

ওয়াসার এমডির ব্যাংক হিসাব তলব


মুক্তসংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক
বৃহস্পতিবার, ২৫ আগষ্ট, ২০২২, ০২:১৯
ওয়াসার এমডির ব্যাংক হিসাব তলব

ফাইল ছবি

ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খানের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। বৃহস্পতিবার তার ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়। পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তাকসিমের ব্যাংকের যাবতীয় হিসাব ও লেনদেনের তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে। বিএফআইইউর এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত ১৭ আগস্ট ঢাকা ওয়াসার এমডি হিসেবে তাকসিম এ খান ১৩ বছর ধরে বেতনসহ কত টাকা নিয়েছেন, তার হিসাব চায় হাইকোর্ট। এসব হিসাব জানাতে ওয়াসার বোর্ডকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। তিনি জানান, ঢাকা ওয়াসার এমডিকে অপসারণে নিস্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং তাকে অপসারণের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ কেন দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করেছে আদালত।

জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ‘গত ১৩ বছরে কত টাকা বেতন, বোনাস এবং অন্যান্য সুবিধাদি দেয়া হয়েছে তার হিসাব আগামী ৬০ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে জমা করতে বলেছেন আদালত।’

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (ক্যাব) পক্ষে করা রিটের শুনানি নিয়ে আদালত এই আদেশ দেয়। সূত্র: বিডি প্রতদিন

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম
Share on Facebook

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন এর জনপ্রিয়

সর্বশেষ - শিল্প ও সাহিত্য