a
সংগৃহীত ছবি
আগামী ১৬ থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৫টি ওয়ার্ডে এডিস মশার প্রজননস্থল নির্মূল ও ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হবে। শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান ডিএসসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাছের।
তিনি জানান, আগামীকাল দক্ষিণ সিটির ৬ নম্বর, ১৭ অক্টোবর ২ নম্বর, ১৮ অক্টোবর ৩ নম্বর, ১৯ অক্টোবর ৫৬ নম্বর এবং ২০ অক্টোবর ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে দিনব্যাপী এ বিশেষ চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হবে। চিরুনি অভিযানে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে সকালের লার্ভিসাইড কার্যক্রমে ১৩ জন ও বিকেলের অ্যাডাল্টিসাইডিং (পরিণত মশার কীটনাশক) কার্যক্রমে ১৩ জন মশককর্মী অংশ নেবেন।
এ ছাড়া স্ব স্ব ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এ কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেবেন। আঞ্চলিক নিবার্হী কর্মকর্তা ও সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আঞ্চলিক পর্যায়ে এ কার্যক্রম সমন্বয়, পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করবেন। সংস্থার প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কেন্দ্রীয়ভাবে পুরো কার্যক্রমটি সমন্বয় করবেন। সূত্র: বিডি প্রতিদিন
ফাইল ছবি: মুফতি ওয়াক্কাস
জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি ও সাবেক ধর্মপ্রতিমন্ত্রী মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস আর নেই (ইন্না লিল্লাহি...রাজিউন)। বুধবার (৩১ মার্চ) ভোর ৪টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
মুফতি ওয়াক্কাস বেশ কিছুদিন ধরে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৭৩ বছর।
তিনি যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসন থেকে ১৯৮৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্রপ্রার্থী (মটরগাড়ী প্রতীক) হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে নির্বাচিত হন। পরে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে ১৯৮৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে পুনরায় নির্বাচিত হয়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
বিভিন্ন কারণে মন্ত্রিত্বের পদে বেশি দিন থাকা হয়নি। এরপর তিনি এরশাদ সরকারের শেষদিন পর্যন্ত জাতীয় সংসদের হুইপের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
এরশাদ সরকারের পতনের পর মুফতি ওয়াক্কাস আবার সক্রিয় হন জমিয়তের রাজনীতিতে। পরে ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তিনি এমপি নির্বাচিত হন। এছাড়াও ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বচনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করলেও পরাজিত হন।
তিনি ২০২০ সালের শেষ দিকে হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির ও ঢাকা মহানগরের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নিজের নির্বাচনী এলাকায় বেশ সুনাম অর্জন করেছিলেন।
ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
সাইফুল আলম, ঢাকা: কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-অষ্টগ্রাম-মিঠামইন) নির্বাচনী এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর হামলা, নির্যাতন, প্রাণ নাশের হুমকির প্রতিবাদে এবং বাংলাদেশে একমাত্র বিতর্কিত ব্যক্তি এ্যড. ফজলুর রহমানের প্রাথমিক মনোনয়ন বাতিলের জন্য সংবাদ সম্মেলন করেন বীরমুক্তিযোদ্ধা আবদুর রহিম মোল্লা, সাবেক জেলা প্রশাসকসহ কিশোরগঞ্জ-৪ নির্বাচনী এলাকার নেতাকর্মীরা।
আজ ১১ নভেম্বর ২০২৫ সকালে রাজধানী ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে উপস্থিত নেতাকর্মীদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি বলেন, আমি বিএনপির একজন কর্মী এবং মনোনয়ন প্রত্যাশী। ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্রদলের সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম। পড়াশুনো শেষ করে একটি কলেজে প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। কিছুদিন পর ১৯৮৫ ব্যাচে বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে প্রশাসন ক্যাডারে যোগদানের কারণে সরাসরি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলাম না। চাকরীকালীন সময়ে একপর্যায়ে আমি ঠাকুরগাঁও জেলার জেলা প্রশাসক হিসেবে এবং কুড়িগ্রাম জেলার জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। কিন্তু একসময়ে দলের প্রতি আনুগত্য থাকার বিষয়ে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের নজরে আসার পর দীর্ঘদিন ওএসডি কর্মকর্তা হিসেবে চাকরীজীবন অতিবাহিত করি এবং ২০১৬ সালে অবসরে যাই। অবসরে যাওয়ার পর সরাসরি রাজনীতিতে পুনরায় সক্রিয় হই। ৫ই আগষ্টের পূর্ববর্তী সময়ে দলের নির্দেশে ঢাকার কেন্দ্রীয় প্রোগ্রাম, জেলার প্রোগ্রাম সহ ময়মনসিংহ টু কিশোরগঞ্জ রোডমার্চ, ভোট বর্জন সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করি এবং সময়ে সময়ে দলীয় নির্দেশনা পালন করে যাচ্ছি।
অপরদিকে এ্যাড. ফজলুর রহমানের পরিচিতি সম্পর্কে আপনারা অনেকে ওয়াকিবহাল থাকলেও তাঁর সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট ভাবে কতিপয় বিষয় আপনাদের নিকট পেশ করছি। তিনি একসময় আওয়ামীলীগের আশ্রয়ে থেকে বাকশালের আশ্রয়ে ছিলেন। পরে আবার বাকশাল থেকে আওয়ামী রাজনীতিতে ফিরে আসেন। পরবর্তী ধাপে তিনি কিশোরগঞ্জ-৪ এলাকায় ১৯৯৬ সালে টেলিভিশন মার্কায় স্বতন্ত্র নির্বাচন করেন। অন্য একটি সময়ে কিশোরগঞ্জ নির্বাচনী-২ এলাকা থেকে পিঁড়ি মার্কায় স্বতন্ত্র নির্বাচন করেন এবং ২০০১ সালে কৃষক শ্রমীক জনতা লীগ থেকে গামছা মার্কায় কিশোরগঞ্জ নির্বাচনী এলাকা ৪ থেকে নির্বাচন করেন এবং ২০০৬ সালে বিএনপিতে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ওয়ান ইলেভেনের সময় ড. ফেরদৌস আহমেদ কোরাইশী এর সাথে কিংস পার্টি তৈরীতে সম্পৃক্ত হন এবং মাইনাস টু ফর্মুলার পরিকল্পনায় যুক্ত হন।
২০০৮ সালে বিএনপিতে যোগদান করার পর একপর্যায়ে জেলা কমিটির সভাপতি হলে টেলিভিশন, গামছা ও লীগের ঐসব সহকর্মীরাই (দুয়েকজন ব্যতীত) বিএনপির উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটিতে প্রধান হয়ে উঠেন । ফলে বিএনপিতে বিগত ৩টি নির্বাচনে যেসব বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী হয়েছিলেন যেমন বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রিন্সিপাল হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া, সাবেক সচিব জহির উদ্দিন ভূঁইয়া এবং ইঞ্জি. ইমদাদুল হক সাহেবের সাথে কাজ করেছিলেন ফজলুর রহমানের কমিটিতে এদের কারোর স্থান হয় নাই। ফলে ফজলুর রহমানের দেওয়া কমিটিগুলোর পকেট কমিটি হিসেবে সারা এলাকায় পরিচিতি লাভ করে বলে জেলা নেতৃবৃন্দের বক্তব্যে জানা যায়। ফলশ্রুতিতে বিএনপি নেতাকর্মীরা আমার উপর আস্থা রেখে এখনও টিকে আছে। একারনেই আজকে ফজলুর রহমানের নাম প্রাথমিক তালিকায় আসার পর ইটনা-অষ্টগ্রাম-মিঠামইন এ অত্যাচারের মাত্রা আতঙ্কে রূপ নিয়েছে।
উল্লেখ করার মত যে, ফজলুর রহমান বিগত ১৬ বছরে এলাকায় বিএনপির কোন রাজনৈতিক প্রোগ্রামে যাননি এবং দলীয় নির্দেশনাও পালন করেননি। এমনকি ১৬ বছরে কেন্দ্রীয় অফিসে কতবার যোগাযোগ রেখেছেন তাও সংশ্লিষ্ট প্রত্যক্ষদর্শীরা জানেননা। আপনারা জানেন এ্যাড. ফজলুর রহমানের অন্তরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা স্থান পায়নি। আওয়ামীলীগ তার প্রাণ, বঙ্গবন্ধু তার ধ্যান, ৩২ নম্বর তার জ্ঞান, জয়বাংলা তার শ্লোগান। এ বিষয়ে তার টকশো, বক্তৃতা, বিবৃতি, ইউটিউব এবং এতদ্বসংক্রান্ত কার্যকলাপ শুধু ইটনা-অষ্টগ্রাম-মিঠামইন নয় সারা বাংলাদেশের মানুষ দেখেছে ও দেখছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে যখন ক্যান্টনমেন্টের বাসা থেকে ফ্যাসিস্ট সরকার কর্তৃক বের করে দেওয়া হয়, অথবা যখন শহীদ প্রেসিডেন্ট মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের বীর উত্তম উপাধী কেড়ে নেওয়া হয় তখন ফজলুর রহমান বোধ হয় ঘুমিয়ে থাকেন।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে, এ্যাড. ফজলুর রহমানের নয়ন কুকীর্তি তুলে ধরেন আবদুর রহিম মোল্লা। তিনি আরো বলেন, এলাকার বিভিন্ন খাস জমি দখল, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির পায়তারা, বিশাল আকারের ফিসারি কার্যক্রম, মামলা বানিজ্য ও নগ্ন চাঁদাবাজি, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বড় ব্যবসায়ীগণ এর সাথে দ্বন্দ্ব, নিজের নামে বাড়ি গাড়ি, কোটি টাকার গাড়ীতে চলাচলসহ আরো অনেক কর্মকান্ডের কথা বলেন।
যেহেতু ফজলুর রহমান নিজে আওয়ামীলীগের ভক্ত, আওয়ামীলীগ তার প্রাণ, বঙ্গবন্ধু তার ধ্যান, ৩২ নম্বর তার জ্ঞান, জয়বাংলা তার শ্লোগান এবং জিয়া স্বাধীনতার ঘোষক নন শেখ মুজীবের ঈশারায় দেশ স্বাধীন হয়েছে বলে বিশ্বাস করেন এবং বিএনপির নীতি আদর্শে বিশ্বাসী নয় সেহেতু এলাকাবাসী ধরে নিয়েছে যে এলাকায় সন্ত্রাস, দুর্নীতি, হত্যা, নির্যাতনের শিকার হবে বিএনপির নেতাকর্মীবৃন্দ। তাই এলাকাবাসীর প্রশ্ন ফজলুর রহমানের মত ব্যক্তিকে কিশোরগঞ্জ-৪ এর জন্য মনোনয়ন দিলে বিএনপি কর্মী ও গরীব হাওড়বাসী কি শান্তিতে থাকবে? না এলাকা ছেড়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিবাসী হবে? কাজেই তারা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নিকট এর প্রতিকার দাবী করেছে। এমতাবস্থায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের কাছে নিরাপদ কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা- অষ্টগ্রাম-মিঠামইন) হাওড় এলাকায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়নের স্বার্থে এ্যাড. ফজলুর রহমানের প্রাথমিক মনোনয়ন পুনর্বিবেচনা পূর্বক স্থগিতের জন্য হাওড়বাসীর পক্ষে সবিনয় অনুরোধ জানাচ্ছি।