a
ফাইল ছবি
সুশান্ত কুলু ৩০ বছর বয়সে এসে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদোয়ানী ইউনিয়নের আমড়াতলা গ্রামের সদানন্দ কুলুর ছেলে বেলাল।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় পাথরঘাটা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান জুয়েল ও অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন সোহাগের উপস্থিতিতে কালেমা পড়ান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা এইচএম গোলাম কিবরিয়া।
ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পূর্বে বেলালের নাম ছিল সুশান্ত কুলু। বেলাল জানান, ইসলাম ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে নিজ ইচ্ছায় ও স্বেচ্ছায় আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে দুজন উকিলের উপস্থিতিতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছি।
ইসলাম ধর্মের সব বিষয় যেন মেনে চলতে পারি সেজন্য সবার কাছে দোয়া চাই।
ফাইল ছবি
স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চালুসহ তিন দফা দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ করেছেন পরিবহন শ্রমিকরা। আজ রবিবার (২ মে) সকাল থেকে দেশের সকল টার্মিনালে বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি পালন করছে পরিবহন শ্রমিকেরা।
শ্রমিকদের বিক্ষোভের পাশাপাশি তাদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- স্বাস্থ্যবিধি মেনে আসনের অর্ধেক যাত্রী নিয়ে নৌ-পরিবহন ও পণ্য পরিবহন চলাচলের ব্যবস্থা করা, সড়ক পরিবহন শ্রমিকদের আর্থিক অনুদান ও খাদ্য সহায়তা দেওয়া এবং সারাদেশে বাস ও ট্রাক টার্মিনালগুলোতে পরিবহন শ্রমিকদের জন্য ১০ টাকায় ওএমএসের চাল বিক্রির ব্যবস্থা করা।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত সারা দেশে ২৪৯টি পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন এ আন্দোলন কর্মসূচি পালন করছে। তারা বিভিন্ন দাবি দাওয়ার ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে।
এছাড়া আগামীকাল মঙ্গলবার (৪ মে) সারাদেশে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করার কথা জানিয়েছে পরিবহন শ্রমিকদের নেতৃবৃন্দ।
ছবি সংগৃহীত
নিউজ ডেস্ক: আমরা সবাই দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বিগ্ন। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকারুজ্জামান নিজেও সামগ্রিক অবস্থা, বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সালে তিনি RAOWA-তে অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিতে গিয়ে দেশবাসীকে সতর্ক করার চেষ্টা করেছেন। তার বক্তব্য জনমনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং জনগণের জন্য এটি চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুশীল সমাজ এটিকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছে।
সেনাপ্রধান ও প্রধান উপদেষ্টার মধ্যে কোনো ধরনের মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে কিনা, তা আমাদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। জনগণ চায়, তারা ভবিষ্যতেও দৃঢ়ভাবে একসঙ্গে কাজ করুক।
BDR হত্যাকাণ্ড নিয়ে তার মন্তব্যকে অনেকে সম্প্রতি গঠিত তদন্ত কমিশনের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। এটি একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জাতীয় ইস্যু, যা গভীর মনোযোগ দাবি করে। কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি আগাম মন্তব্য করলে সত্য উদঘাটনের কাজ ব্যাহত হতে পারে, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এটাই প্রথম নয় যে তিনি জাতিকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। কয়েক মাস আগে, সেনা সদর দপ্তরের প্রাঙ্গণে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার সময়ও তিনি কঠিন সময়ের ইঙ্গিত দিয়েছিলে।
নিঃসন্দেহে, আগস্ট ২০২৪ সালে ফ্যাসিবাদী শাসনের পতনের পর থেকে আমরা একের পর এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছি। বাংলাদেশের জনগণ অতীতে কখনো এত সংকটময় সময় দেখেনি। আমরা ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি—এখানে হয় আমরা জিতব, নয়তো হারব। গোটা জাতি জাতীয় ঐক্যের কঠিন পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, এবং আমাদের অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। যদি জাতি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে দেশীয় বা আন্তর্জাতিক কোনো হুমকিই আমাদের ক্ষতি করতে পারবে না।
আমরা ১৯৭৫ সালের নভেম্বরেও আমাদের জাতীয় জীবনের অনুরূপ এক সংকটময় মুহূর্ত দেখেছি। তবে তখন আমাদের সৌভাগ্য ছিল যে, আমাদের দূরদর্শী নেতা জিয়াউর রহমান সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে সফলভাবে উত্তরণ ঘটিয়েছিলেন। তিনি অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক উভয় সংকটকে প্রজ্ঞা ও কৌশলে মোকাবিলা করে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছিলেন।
বাংলাদেশের জনগণ তার নেতৃত্বে এক অভাবনীয় আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছিল। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশ সঠিক পথে এগিয়ে যেতে পেরেছিল এবং তিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করে জাতিকে রক্ষা করেছিলে। তিনি কেবল নিজেই ইতিহাস গড়েননি, বরং সমগ্র জাতির জন্য এক গৌরবময় অধ্যায় সৃষ্টি করেছেন।
ড. ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আন্তরিকভাবে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার চেষ্টা করছে, তবে দৃঢ়তা প্রদর্শনে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। তবুও জাতি তার নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল। সরকারকে অবশ্যই বুঝতে হবে যে, তারা একা নয়—পুরো জাতি তাদের পাশে আছে। তাদের উচিত ‘জুলাই বিপ্লব’-এর চেতনা ধারণ করে কাজ করা এবং মনে রাখা যে, বাংলাদেশের জনগণ তাদের সঙ্গে রয়েছে।
সরকারের উচিত জিয়াউর রহমানের নীতিকে অনুসরণ করা। তিনি দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে মেধাবী ও অভিজ্ঞ মানুষদের খুঁজে বের করে জাতীয় উন্নয়নে কাজে লাগিয়েছিলেন। তিনি প্রাক্তন CSP ও সেনাবাহিনীর জেনারেলদের দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগিয়ে আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার মহান লক্ষ্যে এগিয়ে গিয়েছিলেন। অপরদিকে, শেখ মুজিব এই দক্ষ জনবলকে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন, বরং পুরো আমলাতন্ত্র ও সামরিক বাহিনীকে ক্ষুব্ধ করেছিলেন, যার পরিণতি তাকে ভুগতে হয়েছিল।
সরকারের সাত মাস অতিক্রান্ত হয়েছে, তবুও তারা এখনো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে, বিশেষ করে ঢাকায়। এটি কোনোভাবেই ভালো লক্ষণ নয় এবং মানুষ এ নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন। মূল্যস্ফীতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি, ফলে মধ্যবিত্ত শ্রেণি ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়ছে। এই সমস্ত বিষয় সরকার ও জনগণের জন্য বড় সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে, এবং সমাজে যেকোনো মুহূর্তে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকারুজ্জামান যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। জাতিকে অবশ্যই এটি গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। বিপ্লবের অংশীদারদের অবশ্যই যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে এবং প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত সর্বোচ্চ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা।
যদিও কিছু মানুষ সেনাপ্রধানের বক্তব্যকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছেন, আমরা বিশ্বাস করতে চাই যে তিনি ড. ইউনুসের সরকারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবেন। আমাদেরও উচিত আমাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সরকারকে সমর্থন দেওয়া, যাতে তারা তাদের লক্ষ্যে সফল হতে পারে।
জাতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দেশ। প্রতিটি নাগরিকের উচিত দেশকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া। জুলাই বিপ্লব ২০২৪-এর মাধ্যমে তৈরি হওয়া বর্তমান সুযোগকে ধ্বংস করার জন্য যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় জাতির ঐক্যই একমাত্র পথ।