a
সংগৃহীত ছবি
নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জে আগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৯ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। উল্লেখ্য, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজের কারখানার দ্বিতীয় তলায় আগুন লাগে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা সাংবাদিকদের জানান, তৃতীয় তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। পরে তা খুব দ্রুতই আগুন ছড়িয়ে পড়ে ৬ তলা ভবনজুড়ে। তখন ভবনের বিভিন্ন তলায় কর্মচারী ও কর্মকর্তারা আটকা পড়ে। কেউ কেউ প্রাণ বাঁচাতে লাফিয়ে নিচে পড়ে আহত হয়।
ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট একেক করে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। কিন্তু বিভিন্ন দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে সময় লাগে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের অপারেশন ও মেইনটেনেন্স বিভাগের উপপরিচালক দেবাসীস রঞ্জন।
নিখোঁজদের স্বজনরা জানান, সন্ধ্যার পর থেকে কারো সাথে কোন যোগাযোগ হয় নাই।
ফাইল ছবি । নিশতিয়াক আহমেদ রাখি
ঢাকা ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মাদারবক্স হলের সাবেক এজিএস নিশতিয়াক আহমেদ রাখি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)।
মাত্র ৫২ বছর বয়সে আজ ভোর ৭টায় গ্রীন লাইফ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানান তার পরিবার।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নকালে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন রাখি। তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পদে দায়িত্ব পালন করেন। তার মৃত্যুতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সাবেক সংসদ সদস্য নাদিম মোস্তফা প্রমুখ শোক প্রকাশ করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার ডেঙ্গজ্বরে আক্রান্ত হয়ে স্ত্রী, দুই ছেলেমেয়েসহ গ্রীন লাইফ হাসপতালে ভর্তি হন। গতকাল অবস্থা খারাপ হলে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। আজ সকাল ৭টায় তার মৃত্যু হয়।
নিশতিয়াক আহমেদ রাখির বাবা হামিদ সাহেব ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ব্যক্তি জীবনে নিশতিয়াক আহমেদ রাখি অনেক সহজ সরল ও বন্ধু-বৎসল ছিলেন। এলাকায় সকল ধরণের মানুষের সাথে তার উঠাবসা ছিল। গরীব, অসহায় ব্যক্তিদের তিনি উদারহস্তে সাহায্য করতেন।
১/৬, পূর্ব বাসাবো পৈত্রিক বাসার পাশে কদমতলা স্কুল এন্ড কলেজের সন্নিকটে নিজ ফ্লাটে বসবাস করছিলেন। তার স্ত্রী সরকারি স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক এবং দুই মেয়ে ও ৪ বছরের এক ছেলে সন্তান রয়েছে।
ওবায়দুল কাদের
করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) নিয়ে কবিতা আবৃত্তি করলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
কবিতাটির আবৃত্তি একটি ভিডিও শুক্রবার নিজের ভেরিফাইড ফেসবুকে পোস্ট করেন তিনি।
ওবায়দুল কাদেরের কবিতাটি নিচে তুলে ধরা হলো-
সুনামির মতো বিধ্বংসী আলোড়ন তুলে
করোনা এসেছে পৃথিবীজুড়ে
কোভিডে কাঁপছে আজ সারা পৃথিবী
কাঁপছে আমেরিকা, কাঁপছে লাতিন আমেরিকা
কাঁপছে আফ্রিকা, কাঁপছে এশিয়া
ভারত কাঁপছে, কাঁপছে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ
জীবনের এক অচিন্তনীয় অবিশ্বাস্য কঠিন লড়াই
জরুরি শয্যার জন্য দুনিয়াজুড়ে হাহাকার
সম্মুখসারির যোদ্ধারা সামাল দিতে হিমশিম
দেশে দেশে সংক্রমণ কেবল বাড়ছেই
বাড়ছে মৃত্যুর হার
কত আপন মানুষ এরই মধ্যে
করোনার কালগ্রাসে চিরদিনের মতো বিদায় নিয়েছে
এই আলোছায়ার সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে
সন্তান হারানোর কান্না
স্বামী হারানো বধূর ফরিয়াদে
বোন হারা ভাইয়ের আর্তনাদে
সারা পৃথিবীর আকাশ ভারী
নতুন নতুন ধরন এসে ভয়ংকর রূপ নিয়েছে করোনা
এইতো সেদিন আমাদের কাছের মানুষ
মতিন খসরুর শেষবিদায়ের বিষাদ সংবাদ পেলাম
এক দিনেই সর্বোচ্চ ৯৬ জন চলে গেল মৃত্যুর মিছিলে
সকালে ঘুম ভাঙলেই নতুন নতুন মৃত্যুর সংবাদ আর সংক্রমণ খবর
জীবনে যারা এত কাছের মানুষ
প্রাণঘাতী প্যান্ডেমিক তাদের কত দূরে সরে নিয়ে যায়
এ রোগীদের কাছে আসতে ভয়
ফুল জোটে না কফিনে
মৃতের সৎকারেও আপন মানুষেরা কাছে ভেড়ে না
দূর থেকে কেবল নিশ্চিত শূন্যতায় হৃদয় ভারাক্রান্ত হয়
করোনা প্রতিরোধে সারা দুনিয়ায় আজ লকডাউন চলছে
চলছে রাত্রিকালীন কারফিউ
পৃথিবীজুড়ে গরিব আরও গরিব হচ্ছে
বাড়ছে নিঃস্ব মানুষ, ভাসমান মানুষ
বাড়ছে কর্মহীন বেকারদের দীর্ঘ মিছিল
বাংলাদেশে লকডাউন মানতে চায় না মানুষ
মাস্ক পরতেও নিদারুণ অনাগ্রহ
স্বাস্থ্যবিধির প্রতি সাংঘাতিক অবহেলা
ভ্যাকসিনেও হার মানছে না করোনা
এ ভয়ংকর ভাইরাসকে হারাতেই হবে
স্বাস্থ্যবিধির শাণিত হাতিয়ারই কেবল হারাতে পারে প্রাণঘাতী করোনাকে
করোনা দিনে দিনে হয়ে উঠছে আরও হিংস্র
আরও প্রতিশোধপরায়ণ
তবু মানুষ সর্বত্রই বেপরোয়া
আর হাটেবাজারে ফেরিঘাটে
বেপরোয়া মানুষের ছুটন্ত মিছিল চোখে পড়ে প্রতিদিন
সরকারি বিধিনিষেধ পুরোপুরি মানছে না মানুষ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক আহ্বানেও উপেক্ষা
নানা ফাঁকফোকরে শহর থেকে গ্রামের দিকে অনিশ্চিত অভিযাত্রা
যেন বিরাম নেই
অপ্রয়োজনীয় ঘোরাঘুরির প্রবণতাও অপ্রতিরোধ্য
আসুন আমরা অদৃশ্য এই শত্রু করোনার বিরুদ্ধে
ঘরে ঘরে সচেতনতার দুর্গ গড়ে তুলি
সম্মিলিত শক্তি দিয়ে আসুন আমরা প্রতিহত পরাজিত করি
প্রাণঘাতী করোনাকে
সময়ের সাহসী কাণ্ডারি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিজয়ী হই
ভুলে গেলে চলবে না
সরকারকে ফাঁকি দিলেও করোনাকে ফাঁকি দেওয়া যায় না
সামান্য উদাসীনতায় এ সংক্রমণে অকালমৃত্যু অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে
করোনা এখন তরুণদেরও ছাড়ছে না
করোনার করাল গ্রাস থেকে ধনী দরিদ্র, বড় ছোট কারও রেহাই নেই
এখন আর কোনো রাজনীতি নয়
এখনকার রাজনীতি হচ্ছে সচেতনতার দুর্গ গড়ে তোলা
করোনাকে প্রতিরোধ করা
আসুন আমরা দলবল শ্রেণি পেশা নির্বিশেষে
আমাদের সকলেই সুরক্ষার স্বার্থে
প্রাণঘাতী করোনার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ে অবতীর্ণ হই
জয় আমাদের হবেই ইনশাআল্লাহ