a
ফাইল ছবি
করোনার কারনে ৩ দফা পিছিয়ে রোববার (৫ সেপ্টেম্বর) থেকে এয়ার বাবলের আওতায় বাংলাদেশ-ভারত বিমান চলাচল ফের আরম্ভ হচ্ছে। আজ শনিবার (৪ সেপ্টেম্বর) বেসামরিক বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দিয়েছে।
চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম. মাফিদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সব ধরনের যাত্রীর ভ্রমণের ৭২ ঘণ্টা আগে করোনা পরীক্ষা সরকারি কেন্দ্র থেকে সম্পন্ন করতে হবে। দু'দেশের নিয়ম অনুসারে যাত্রীরা কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন। বিমান জানায়, ৫ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকা-কলকাতা রুটে বিমানের প্রথম ফ্লাইট যাবে। করোনা মহামারির মধ্যে গত বছরের অক্টোবরে ভারতের সঙ্গে 'এয়ার বাবল' চুক্তির আওতায় বিমান চলাচল শুরু হয়েছিল।
মহামারিতে ভারত বিপর্যস্ত হয়ে পড়লে চলতি বছরের এপ্রিলে বন্ধ হয় বিমান চলাচল। দুই দেশের করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে ৪ সেপ্টেম্বর ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয় বেবিচক। প্রায় চার মাস পর বেসামরিক বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষ ৫ সেপ্টেম্বর থেকে ভারতের সঙ্গে আকাশপথে বিমান চলাচলের ঘোষণা আসলো।
এর আগে গত ২৮ আগস্ট বেবিচককে ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের এক চিঠিতে ৩ সেপ্টেম্বর থেকে এয়ার বাবল চুক্তির আওতায় ফ্লাইট শুরুর প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রস্তুতির অভাবে সেই দিন বিমান চলাচল শুরু করতে পারেনি বাংলাদেশ। ২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ আবারো দেশটিকে চিঠি পাঠায়।
প্রতিকী ছবি
জামালপুরের ইসলামপুরে এক দিনে বজ্রপাতে ৬ জন নিহত ও ৭ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রচণ্ড ঝড় বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
ইসলামপুর থানার ওসি মুহাম্মদ মাজেদুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে প্রচণ্ড ঝড় বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে পাথর্শী ইউনিয়নের পশ্চিম গামারিয়া গ্রামের হাছেন আলীর ছেলে কালা মিয়া (৩৫), একই গ্রামের কাইলা শেখের ছেলে শাহ জামাল (৪৫), আব্দুল জব্বারের ছেলে এনামুল হক (৪০), পলবান্ধা ইউনিয়নের বাটিকামারি গ্রামের চন্দু শেখের ছেলে জবেদ আলী (৬০), সাপধরি ইউনিয়নের প্রজাপতিচরের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে বিল্লাল হোসেন (৩৫), চন্দনপুর গ্রামের আখের মাহমুদের ছেলে মহিজল মাহমুদ (৫০) নিহত হয়েছেন।
একইদিনে বজ্রপাতে আরও ৭ জন আহত হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার পাথর্শী ইউনিয়নের পশ্চিম গামারিয়া ইউনিয়নের তিনজন কৃষক তারা ক্ষেতে কাজ করা অবস্থায় তাদের উপর আকস্মিক বজ্রপাত হলে তারা সেখানেই মারা যান। বাকি তিনজনের মধ্যে একজন ঘরে এবং অপর দুইজন নৌকায় ছিল বলে জানা যায়।
ফাইল ছবি
তালেবানের কবলে পড়া কাবুলের আকাশপথে ঢুকতে পারছে না অনেক দেশ। যার জেরে ভারতের আকাশপথ থেকেও বিমান ঘুরিয়ে নিচ্ছে সংস্থাগুলি। সেটা হলে অচিরেই বড়সড় আর্থিক লোকসানের মুখে পড়তে পারে ভারতীয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
এশিয়া থেকে ইউরোপ যাওয়ার অন্যতম রাস্তা ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তানের আকাশপথ ধরে ইউরোপের সীমান্তে প্রবেশ করা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বহু বিমান সংস্থাই আফগানিস্তানের আকাশপথ ব্যবহার করতে চাইছে না। কোনো কোনো দেশ ইতোমধ্যেই দেশের বিমান সংস্থাগুলিকে যাত্রাপথ বদলের নির্দেশ দিয়েছে। অসুবিধা হলো, যাত্রাপথ বদলালে বহু বিমান ভারতের আকাশপথও ব্যবহার করতে পারবে না। তাদের পথ পরিবর্তন করতে হবে। ফলে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হবে ভারতীয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে।
বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, ''এতদিন বহু বিদেশি বিমান দিল্লি হয়ে পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের উপর দিয়ে ইউরোপে ঢুকে যেত। ভারতের আকাশ সীমা ব্যবহারের জন্য তারা বিপুল অঙ্কের মাশুল দিত। কিন্তু রুট পরিবর্তন হলে তারা ভারতের এয়ারস্পেসে ঢুকবে না।''
বস্তুত, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বহু বিমান কলকাতার উপর দিয়েও যাতায়াত করে। সেই বিমানগুলিও রুট বদলাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিমানবন্দরের আরেক কর্মকর্তার বক্তব্য, ইতোমধ্যেই বহু বিমান রুট বদলেছে। আফগানিস্তানের আকাশপথ দিয়ে যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো তারা দিল্লি এবং এবং পাকিস্তানের আকাশপথ ব্যবহার করছে। কিন্তু তাতে তাদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। অতিরিক্ত পথ অতিক্রম করতে হচ্ছে। ফলে অনেকেই পুরোওয়া রুট বদলে নের পরিকল্পনা করছে।
এর আগে বালাকোটে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পর বেশ কিছুদিন পাকিস্তানের এয়ারস্পেস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সে সময়েও দিল্লির উপর দিয়ে যাওয়া বিমান যাত্রাপথ পরিবর্তন করেছিল। ভারতীয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের আর্থিক ক্ষতি হয়েছিল। তবে সে ঘটনা ছিল সাময়িক। আফগানিস্তানের পরিস্থিতি অনেক জটিল। আদৌ সেখানকার আকাশপথ অদূর ভবিষ্যতে ব্যবহার করা যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে। এবং সে কারণেই বহু বিমান সংস্থা নতুন রুট তৈরির পরিকল্পনা করছে।
এমনিতেই করোনার কারণে ভারতীয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। বিমানবন্দর সূত্র জানাচ্ছে, ভারত হয়ে পাকিস্তানে ঢোকা বিমানের সংখ্যা অন্তত ৬০ শতাংশ কমে গেছে।
শুধু তাই নয়, কোনো কোনো বিমান সংস্থা এই রুটের বিমান বন্ধ করে দেওয়ার কথাও ভাবছে। কারণ করোনায় বিমান সংস্থাগুলিরও বিপুল ক্ষতি হয়েছে। ফলে সাময়িক রুট বদলে তারা ক্ষতির পরিমাণ বাড়াতে চাইছে না।
কোনো বিমান যখন অন্য দেশের আকাশসীমায় ঢোকে তখন সেই দেশ তাকে এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) পরিষেবা প্রদান করে। তার বিনিময়ে বিমানসংস্থা ওই দেশের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে বিপুল পরিমাণ টাকা দেয়। এর থেকে লাভবান হয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। ভারতের ভয়, তালেবানের ভয়ে তাদের সেই রোজগার অনেকটাই কমে যেতে পারে।
সূত্র: আনন্দবাজার ও ডয়েচে ভেলে।