a
সংগৃহীত ছবি
শাটডাউনের ঘোষণা আসবে এমন খবর শুনেই রাজধানী ছাড়ছেন মানুষ। শুক্রবার ছুটির দিন থাকায় সকালে ঢাকার প্রবেশমুখগুলোতে মানুষের ঢল নামে।
চলাচলে বাস বন্ধ থাকায় কয়েক ধাপে ভেঙ্গে ভেঙ্গে কয়েকগুণ ভাড়া বেশি দিয়ে গন্তব্যে ছুটছে সাধারণ মানুষ। প্রতিটি গাড়িকেই পুলিশের তল্লাশি চৌকি পার হতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোনো গাড়িকেই ঢাকায় ঢুকতে বা বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। এতো কিছুর পরও ঠেকানো যাচ্ছেনা মানুষের ঢলকে।
সকালে ঢাকায় প্রবেশ ও বাহিরের অন্যতম সড়ক গাবতলী এলাকা, ঢাকা- মাওয়া রোড, ঢাকা-চট্টগ্রাম রোড। সবকিছু উপেক্ষা করেই ছুটছে সাধারণ মানুষ। শাটডাউনের কথা শুনেই আগে আগে রাজধানী ছাড়ার চেষ্টা করছে।
এমন পরিস্থিতিতে যানবাহন না পেয়ে অনেকেই আবার কাভার্ডভ্যান, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন বিকল্প যানবাহনে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া দিয়ে বাড়ি যাচ্ছে।
ফাইল ছবি
সরকারি ৩৩৩ নম্বরে ফোন করে খাদ্য সহায়তা চাওয়া ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে অবশেষে ক্ষতিপূরণ দিচ্ছেন জেলা প্রশাসন। নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলায় বাস করেন বৃদ্ধ ফরিদউদ্দিন আহমেদ। কিছুদিন আগে ফরিদউদ্দিন আহমেদ সরকারি হটলাইন ৩৩৩ নম্বরে কল করে খাদ্য সহায়তা চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি সহায়তা পাননি বরং তাকে জরিমানা হিসেবে ১০০ জনকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করতে হয়েছিলো।
এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. মোস্তাইন গতকাল রবিবার সকালে জানিয়েছেন বয়োজ্যেষ্ঠ ফরিদউদ্দিনের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
ডিসি বলেন, ফরিদউদ্দিনের পরিবারের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। প্রথমে খবর বের হয়েছিল তিনি একজন বাড়িওয়ালা হয়েও ৩৩৩ নম্বরে ফোন করে খাদ্য সহায়তা চেয়েছেন এজন্য তাকে জরিমানা করা হয়েছিল এতে তিনি অনেকটা ক্ষতিগ্রস্ত হন। পরে বিষয়টির সত্যতা খুজে বের করে তাদের যে পরিমাণ খরচ হয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে আজ সোমবারের মধ্যেই সেসব ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আছে ১৬ বছর বয়সি প্রতিবন্ধী ছেলে, স্নাতক পড়ুয়া মেয়ে ও স্ত্রী। জানা যায়, তিনি এক সময় হোসিয়ারি কারখানায় কাটিং মাস্টার হিসেবে কাজ করতেন। তিনবার ব্রেনস্ট্রোক করার পর এখন কাজ করতে পারেন না। এখন মাসে মাত্র আট হাজার টাকা বেতনে সেই কারখানাতেই শ্রমিকদের দেখবালের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমান করোনাকালীন মহামারিতে সংকটে পড়ে নিরুপায় হয়েই জাতীয় কলসেন্টারের ৩৩৩ নম্বরে কল করে খাদ্য সহায়তা চেয়েছিলেন তিনি। ওই কলই তার জীবনে কাল হয়েছিল।
সরকারি সহায়তার আশায় তিনি কল করেছিলেন ওই নম্বরে। কিন্তু সহায়তা তো পাননি, উল্টো তিনি চারতলা ভবনের মালিক এমন তথ্যের কারণে ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হয়েছে তাকে। স্থানীয় লোকদের থেকে ধার করে তিনি জরিমানা পরিশোধ করেছিলেন বলে জানান তিনি।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফা জহুরার নির্দেশে তাকে ১০০ জনের মধ্যে চাল, আলু, ডাল, লবণ ইত্যাদি খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করতে হয়েছিলো।
ফাইল ছবি
নাজমুল হাসান শান্তর প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি সাথে তামিম ইকবাল ও অধিনায়ক মুমিনুল হকের দায়িত্বশীল ব্যাটিং প্রথম টেস্টের প্রথম দিনটি নিজেদের করে নিল টিম টাইগার দিন শেষে মাঠে অপরাজিত ছিল নাজমুল শান্ত ১২৬* রানে এবং অধিনায়ক মুমিনুল হক ৬৪* রানে।
সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়েও উইকেট বিলিয়ে ৯০ রানে থামেন তামিম। এ নিয়ে ২য় বারের মত ৯০ এর ঘরে আউট হলে বাংলাদেশের এই ড্যাশিং ওপেনার। এমন চার টেস্টের মধ্যে তিনটিতে যারা আগে ব্যাট করেছে তারাই জয়ী হয়েছে। সে বিবেচনায় টসটা ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একের পর এক ব্যর্থতার বৃত্তে থাকা বাংলাদেশ অধিনায়ক টসে জিতে ব্যাটিং এর সিদ্ধান্তকে কার্যকর করেন ব্যাটসম্যানরা। এদিকে ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ড সফরে অভিষেক হওয়া প্রতিভাবান বা বাঁহাতির ব্যাটসম্যান নাজমুল শান্ত বিরূপ কন্ডিশনে হঠাৎ খেলতে নেমে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি কিন্তু শান্ত প্রতি আস্থা হারায়নি নির্বাচকরা।
আজ ক্যান্ডির পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামে দিনটাই নিজের করে নিলেন এই বাহাতি ব্যাটসম্যান। টস জিতে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ দিনের শুরুতে দলীয় ৮ রানে ব্যক্তিগত ০ রানে সাইফ হাসানের উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে যায়, তবে সে ধাক্কা সামলে নিয়েছেন তামিম-শান্তর ১৪৪রানের জুটি।
দিনের দ্বিতীয় ওভারেই শ্রীলঙ্কার একমাত্র সফল বোলার বিশ্ব ফার্নান্দোর বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে সাজঘরে ফিরেন সাইফ।এর পর দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে শান্ত যোগ করেন ১৪৪ রান দলীয় ১৫২ রানে সেঞ্চুরি থেকে ১০ রান দূরে থাকতে আউট হন মি.খান সাহেব।তামিম আউট হবার আগেই ফিফটি তুলে নেন শান্ত।পরে অধিনায়ক মুমিনুল হককে নিয়ে চা বিরতির আগে দলীয় খাতায় যোগ করেন ৪৮ রান। তবে চা বিরতির পরের সেশনে কোন উইকেটই হারায়নি বাংলাদেশ। শান্তের সাথে পাল্লা দিয়ে রান বাড়াতে থাকেন মুমিনুলও।
৭৪তম ওভারের পঞ্চম বলে চার হাঁকিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন শান্ত। এক হাতে ব্যাট অন্য হাতে হেলমেট উঁচিয়ে মাথা নিচু করে ড্রেসিংরুমে দিকে উদ্দেশ্য উদযাপন করলেন নিজের সেঞ্চুরি। ২৩৫ বলে ১২ চার ১ ছক্কায় সেঞ্চুরিতে পৌঁছানো এই বাঁহাতি দিনশেষে অপরাজিত ২৮৮ বলে ১৪ চার ১ ছক্কায় ১২৬ রানে। মুমিনুল করেন ১১৭ বলে ৫ চারে ক্যারিয়ারের ১৪ তম ফিফটি করেন ১৫০ বলে ৬৪ রান।
দিন শেষে এক প্রতিক্রিয়ায় শান্ত বলেন, গত কয়েক মাসে সত্যিই কঠোর পরিশ্রম করেছি এবং আমি রান করছিলাম না, তবে আমি জানতাম যে আমি যদি ঘুরে দাড়াই এবং আমার প্রাকৃতিক খেলা খেলি তবে আমি স্কোর করতে পারি এবং আমি সত্যিই খুশি।
মানসিকভাবে আমি খুব ইতিবাচক চিন্তাভাবনা করছি এবং এটি আমাকে অনেক সহায়তা করেছে। আজ আমি ব্যাটিংয়ের সময় অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছিলাম এবং কখন এবং কোথায় স্কোর করব সে সম্পর্কে খুব বেশি ভাবছিলাম না, আমার চিন্তার প্রক্রিয়াটি কেবল বলটি দেখার এবং সেই অনুসারে খেলতে হবে। আমাদের ভাল ব্যাট করতে হবে।
প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের স্কোর: ৩০২/২ (৯০), তামিম ৯০, সাইফ ০, শান্ত ১২৬*, মুমিনুল ৬৪*; বিশ্ব ১৭-২-৬১-২।