a
ফাইল ছবি
আসন্ন বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ড ৫ম্যাচ টি-টুয়ান্টি সিরিজকে সামনে রেখে কোয়ারান্টাইন পর্ব শেষ করে অনুশীলনে ব্যস্ত উভয় দল। গতকাল শুক্রবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে টাইগাররা।
একদিন পর গতকাল শনিবার দলের সঙ্গে অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে গত ২৪ আগস্ট রাতে তিনি দেশে ফিরেছেন। এরপর সিরিজের নিয়ম অনুযায়ী যেতে হয় তিন দিনের কোয়ারেন্টিনে। ফলে একদিন পর শুরু হয় তার প্রস্তুতিপর্ব।
গত ২৪ আগস্ট দল জৈব সুরক্ষায় প্রবেশ করলেও সাকিবকে অন্য হোটেলে রুম কোয়ারেন্টিনে থাকতে হয়। অবশেষে গতকাল ২৮ আগস্ট শেষ হয় তার কোয়ারেন্টিন। এরপর তিনি মিরপুর শেরে বাংলায় অনুশীলনে নামেন। বেলা ২টায় শুরু হয়ে সাকিব- মাহমুদউল্লাহদের অনুশীলন চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। আগামী ১ সেপ্টম্বর পাঁচ ম্যাচের সিরিজ শুরুর আগে ৩১ আগন্ট পর্যন্ত চলবে অনুশীলন। শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে বাকি চার ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে যথাক্রমে ৩, ৫, ৮ ও ১০ সেপ্টেম্বর। নিউজিল্যান্ডের সময়ের সঙ্গে মিল রেখে ম্যাচগুলো শুরু হবে বিকাল ৪টায়।
ফাইল ছবি
তারকাবহুল ভারত দল তারকাহীন শ্রীলঙ্কার কাছে হারানো এক বিস্ময়ের ব্যাপার হয়ে থাকবে। ২০২১ সাল থেকে ১১ ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে শ্রীলঙ্কার জয় মাত্র দুইটিতে। একই সময়ে পরে ব্যাট করে (দ্বিতীয় ইনিংসে) সাত ম্যাচে তারা জিতেছে, হেরেছে মাত্র চারটায়।
এই এশিয়া কাপেও তারা প্রথমে ব্যাট করে আফগানিস্তানের সাথে করেছিল ১০৫ রান, হেরেছিল ৮ উইকেটে। বিপরীতে দুই ম্যাচে পরে ব্যাট করে দুইটাতেই জিতেছে লঙ্কানরা। তারা বাংলাদেশের ১৮৪ ও আফগানদের ১৭৬ রান পরে ব্যাট করে খুব সহজেই টপকে গেছে।
সেই লক্ষ্য তাড়ার আত্মবিশ্বাসেই এশিয়া কাপের সুপার ফোরের ম্যাচে টস জিতেই লঙ্কান অধিনায়ক দাসুন শানাকা রোহিতের ভারতকে ব্যাটে পাঠান। এরপর ১৭৪ রানের বড় টার্গেট দেয় ভারত। তবে সেই বড় লক্ষ্য তাড়া করতেও শ্রীলঙ্কার খুব একটা বেগ পেতে হয়নি।
কারণ শ্রীলঙ্কার হাতে ছিল দুই ইনফর্ম ব্যাটার। এক, টপ অর্ডারে কুসল মেন্ডিস ২, লোয়ার অর্ডারে স্বয়ং কাপ্তান দাসুন শানাকা। দুজনেই কালকে কার্যকরী ইনিংস খেলেছেন।
৩৭ বলে ওপেনিংয়ে নামা মেন্ডিস করেছেন ৫৭ রান। পাথুম নিশাঙ্কাকে নিয়ে গড়েছেন ৬৭ বলে ৯৭ রানের জুটি। জয়ের পথটা দুই ওপেনারই মূলত মসৃণ করেছেন। আর ভারতীয় বোলিংয়ের পরের ধাক্কাটা সামলে নিয়েছেন ভানুকা রাজাপাকসে ও ক্যাপ্টেন শানাকা, তাদের ৩৪ বলে ৬৪ রানের অপরাজিত পার্টনারশিপই জয়ের পথটা সহজ করেছে।
যদিও একটা জায়গা একটু ব্যতিক্রম, শ্রীলঙ্কার স্পিন ভাণ্ডারের চেয়ে কালকে পেসাররাই ভালো করেছেন। তবে সবশেষে ভাগ্যটাও শ্রীলঙ্কাকে কালকে দিয়েছে যোগ্য সঙ্গ। সূত্র: বিডি প্রতিদিন
ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
সাইফুল আলম, ঢাকা: ভাসানচর অঞ্চলের শান্তি ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অপপ্রয়াসে ভাসানচরকে একটি ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করছে একটি কুচক্রী মহল। উক্ত বিষয়টি নিয়ে হাতিয়াবাসীর পক্ষে হাতিয়া দ্বীপ সমিতি, ঢাকার সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ মোঃ জাহেদুল আলম সংবাদ সম্মেলন করেন এবং মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
আজ ৯ই এপ্রিল সকাল সাড়ে ১১ টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের দ্বিতীয় তলায় জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন হাতিয়া দ্বীপ সমিতি এবং হাতিয়ার সকল সাংবাদিক ও সামাজিক সংগঠন গুলো।
হাতিয়া, নোয়াখালী জেলার অর্ন্তগত মেঘনার পলিবাহিত দ্বীপ। হিমালয় থেকে আসা লক্ষ টন পলি হাতিয়ার চারপাশে অনেকগুলো দ্বীপের সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে সন্দ্বীপ ও হাতিয়ার মত প্রাচীন দ্বীপ যা ফেনী নদীর মোহনায় অবস্হিত। বিভিন্ন স্যাটেলাইট ভিউ পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, হাতিয়ার আয়তন ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। মূলত হাতিয়ার সীমানা সেই প্রাচীনকাল থেকে ছিল দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পশ্চিমে শাহাবাজপুর, উত্তরে কালাইয়া নদী এবং পূর্বে সন্দ্বীপ চ্যানেল যেটা ফেনী নদী থেকে এসে মেঘনার মোহনায় স্বর্ণদ্বীপের পূর্ব সীমানায় মিলিত হয়েছে।
১৯৬০-এর দশক হতে হাতিয়ার নদী ভাঙন সমস্যা তীব্রতর হয়ে ওঠে। ভাঙনে বিগত প্রায় ৬৮ বছরে হাতিয়ার বিশাল এলাকা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ‘সাহেবানীর চর' নামে হাতিয়ার পূর্ব পার্শ্বে একটি চর ভেঙে সম্পূর্ণরূপেই বিলীন হয়ে গেছে মেঘনায়। আজকের ভাসানচর মূলত ভেঙ্গে যাওয়া সাহেবানীর চর, রাধাখালি, চিত্রাখালি, বাথানখালি, মাইজচরা, চরভারতসেন, চৌরঙ্গী, মফিজয়া, সুখচর, নলচিরা, গোডাউন বাজার এর জেগে উঠা চর।
ভূমি রেকর্ড ও জরীপ অধিদপ্তরের অনুমোদনক্রমে ২০১৬-২০১৭ সালের দিয়ারা জরীপে নবসৃষ্ট ভাসানচর অংশটি সঠিকভাবে হাতিয়া উপজেলার অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। ভূমি রেকর্ড ও জরীপ অধিদপ্তর কর্তৃক ২০১৬-২০১৭ সালে নবসৃষ্ট ভাসানচর অংশটির (ভাসানচর, শালিকচর, চর বাতায়ন, চর মোহনা, চর কাজলা ও কেওডার চর) দিয়ারা জরীপ সম্পন্ন করা হয়। উক্ত দিয়ারা জরীপের রেকর্ড ১৮/০৪/২০১৮ তারিখে চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত গেজেটে ভাসানচর অংশের ৬টি মৌজা নোয়াখালী জেলাধীন হাতিয়া উপজেলার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
২০১৮ সালে জনৈক সন্দ্বীপবাসীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট আইন ভিত্তিক সমাধানের জন্য রুল জারি করে। পরবর্তীতে সমস্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে গত ০৯/০২/২০২১ সালে ভাসানচরকে হাতিয়া উপজেলার অন্তর্ভুক্ত করে গেজেট নোটিশ জারি হয়েছে। ভাসানচর অংশের সর্বশেষ জরীপ অনুযায়ী বর্ণিত ৬টি মৌজা নিয়ে নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের অধীন ভাসানচর থানা মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে গঠিত হয়, যা ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখে বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে।
দীর্ঘদিন পর দূরভিসন্দিমূলকভাবে গত ২৩/০৩/২০২৫ তারিখে জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস চট্টগ্রাম, নোয়াখালী (হাতিয়া) ও চট্টগ্রাম (সন্দ্বীপ) অংশের সীমানা নির্ধারণ বিষয়ক প্রতিবেদন প্রেরণ করে এবং একই তারিখে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয় (রাজস্ব শাখা) আন্তঃজেলা সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তির নিমিত্তে গঠিত কমিটির ১ম সভার কার্য বিববরণীর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আদেশ জারি করেন, যা সুস্পষ্ট প্রশাসনিক ষড়যন্ত্র বলে আমরা মনে করি।
সার্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসারের কার্যালয়, চট্টগ্রাম এর ২৩ মার্চ ২০২৫ তারিখের ১৩০(২) নং স্মারকের প্রতিবেদনটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ত্রুটিপূর্ণ ও পক্ষপাতদৃষ্ট। ১৯২৯ সালের সঠিক সি.এস ম্যাপ, ১৯৫৪ সালের নোয়াখালী জেলা থেকে সন্দ্বীপ থানা পৃথকীকরণ আদেশ ও এর সুস্পষ্ট ভৌগলিক বিভাজন, ২০১৬-২০১৭ সালের ভাসানচরের দীয়ারা জরীপ ও ম্যাপ এবং হাতিয়া ও সন্দ্বীপ উপজেলার সর্বশেষ ম্যাপ পর্যালোচনা না করে শুধু অনুমান নির্ভর বিকৃত সি.এস ম্যাপ ও গুগল ম্যাপ এর উপর ভিত্তি করে প্রতিবেদন দাখিল করায় আমরা হাতিয়াবাসী হতাশ ও সংক্ষুব্ধ। বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ভাসানচরকে হাতিয়া উপজেলার অনুকূলে দিয়ারা জরীপ সম্পাদন করে চূড়ান্ত রেকর্ড প্রকাশ ও হাতিয়া উপজেলাধীন চরঈশ্বর ইউনিয়নের অন্তর্গত ভাসানচর থানা গঠন শান্তিপূর্ণ ও বিরোধ ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। একটি কুচক্রী মহল অত্র অঞ্চলের শান্তি ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অপপ্রয়াসে ভাসানচরকে একটি ইস্যু হিসেবে সামনে এনেছে যা অনভিপ্রেত।
এরই প্রেক্ষিতে হাতিয়াবাসীর পক্ষে হাতিয়া দ্বীপ সমিতি, ঢাকার সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ মোঃ জাহেদুল আলম সাংবাদিকদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ পূর্বক মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা মহোদয়ের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এ সময়ে হাতিয়া দ্বীপ সমিতির অন্যান্য কর্মকর্তারা, কার্যকরী সদস্যরা এবং হাতিয়ার সাংবাদিক আমাদের সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।