a
ফাইল ছবি
নামে-বেনামে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপকমিটি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত নেত্রী এবং জয়যাত্রা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা হেলেনা জাহাঙ্গীর (হেজা)। এরই মধ্যে তার নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের নামে পাঁচটি গার্মেন্টস, রাজধানীর অভিজাত এলাকায় ১৫টি ফ্ল্যাট, অসংখ্য ভুঁইফোড় সংগঠনের প্রতিষ্ঠার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা পেয়েছে একটি সংস্থা।
হেলেনা জাহঙ্গীরকে গ্রেফতারের পর সংবাদ সম্মেলনেও র্যাব হেলেনার আর্থিক অনিয়মের বিষয়টি উল্লেখ করেছে। এদিকে, শিগগিরই তার সম্পদের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধানে নামছে বলে নিশ্চিত করেছে সূত্র। দুদক তার মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়টিও খতিয়ে দেখবে। দুদকের একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, মানি লন্ডারিং, বিদেশে অর্থ পাচারসহ হেলেনা জাহাঙ্গীরের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত কোনো প্রকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ আছে কি না সে বিষয়ে অনুসন্ধানে নামতে পারে সংস্থাটি।
দুদকের সচিব ড. মুহম্মদ আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, র্যাব যেহেতু তাদের ব্রিফিংয়ে হেলেনা জাহাঙ্গীরের আর্থিক বিষয়টি উল্লেখ করেছে তাই তারা অফিশিয়ালি আমাদেরকে অবহিত করবে। পরবর্তীতে কমিশন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই তার বিপুল সম্পদের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে এগুলো কীভাবে তিনি অর্জন করেছেন সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। এ ব্যাপারে র্যাবের ভাষ্য ছিল, দলকে ভাঙিয়ে তিনি বিভিন্ন সময়ে চাঁদাবাজি কিংবা ‘ব্ল্যাকমেল’ করে দুর্নীতির মাধ্যমে আদায় করা টাকাগুলো তিনি ফ্ল্যাট কেনা ও ফাউন্ডেশনে বিনিয়োগ করতেন। দুদক চাইলে র্যাব তাদের সহায়তা করবে। দুদক কমিশনার মোজাম্মেল হক খান জানান, দুদকের তফসিলভুক্ত অপরাধে হেলেনা জাহাঙ্গীর জড়িত থাকলে অবশ্যই সে বিষয়ে অনুসন্ধানসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তদন্তে যা উঠে এসেছে: একটি সংস্থার অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, রাজধানীতে হেলেনা জাহাঙ্গীরের সর্বমোট ১৫টি ফ্ল্যাট রয়েছে। এর মধ্যে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরে পাঁচটি, গুলশান ৩৬ নম্বর সড়কের পাঁচটি, গুলশান ২ নম্বরের ৮৬ নম্বর সড়কের ৭/বি নম্বর বাড়িতে ৮ হাজার ফুটের একটি ফ্ল্যাট, গুলশান এভিনিউতে একটি, গুলশান নিকেতনে একটি, মিরপুর ১১ নম্বরের ৬ নম্বর রোডে একটি ও কাজী পাড়ায় একটি ফ্ল্যাট। এর বাইরে তিনি মোট পাঁচটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানের মালিক। এগুলো হলো মিরপুর ১১ নম্বরের নিউ কনসার্ন প্রিন্টিং ইউনিট, নারায়ণগঞ্জের জয় অটো গার্মেন্টস, জেসি এমব্রয়ডারি, প্যাক কনসার্ন ও হুমায়রা স্টিকার। এ ছাড়া অনেক ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন। এগুলোর মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন সময় দেশ-বিদেশ থেকে অনুদান সংগ্রহ করেছেন। অনুদান সংগ্রহে ব্ল্যাকমেলিং ছিল হেলেনার অন্যতম একটি কৌশল। কেবল জয়যাত্রা ফাউন্ডেশনের ব্যানারেই তিনি বিপুল অঙ্কের চাঁদাবাজি এবং অনুদান সংগ্রহ করেছেন। ‘জয়যাত্রা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের প্রভাবশালী একাধিক নেতাকে সম্পৃক্ত করেছিলেন। তাদের সামনে রেখেই তিনি অনেকের সঙ্গে ব্ল্যাকমেলিং করেছেন এমন অভিযোগ এখন উঠে আসছে। সুনামগঞ্জে তিনি ত্রাণ বিতরণ করায় স্থানীয়রা তাকে পল্লী মাতা উপাধি দিয়েছেন। তবে এই ফাউন্ডেশনের নামে প্রবাসীদের কাছ থেকে অনেক টাকা এনেছেন তিনি। এগুলো কী কাজে ব্যবহার করা হয়েছে সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি হেলেনা জাহাঙ্গীর।
হেলেনা দেশের ১২টি অভিজাত ক্লাবের সদস্য। সেগুলো হলো- গুলশান ক্লাব, গুলশান ক্যাপিটাস ক্লাব, গুলশান নর্থ ক্লাব, ঢাকা বোর্ড ক্লাব, গুলশান সোসাইটি ক্লাব, কুমিল্লা ক্লাব, গুলশান জগার সোসাইটি, ফিল্ম ক্লাব, গুলশান হেলথ ক্লাব, গুলশান লেডিস ক্লাব, ঢাকা রাইফেলস ক্লাব ও ওয়ার্ড ট্রাভেলস ক্লাব। হেলেনার কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের বরাত দিয়ে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হেলেনা জাহাঙ্গীরের স্বামী ১৯৯০ সাল থেকে গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে অন্যদের সঙ্গে পার্টনারশিপের মাধ্যমে ব্যবসা শুরু করে এখন পর্যন্ত পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মালিক তিনি। একটা সময় রাজধানীর একটি অভিজাত ক্লাবে চিয়ার গার্ল হিসেবে কাজ করেছেন হেলেনা। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি কখনো ছয়টি অভিজাত গাড়ি, কখনো বা আটটি গাড়ির কথা বলেছেন। তবে আয়ের উৎস সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য দিচ্ছেন না। এখন সিআইডি কিংবা দুদক এ ব্যাপারে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।
জানা গেছে, ২০১৮ সালে তিনি আইপি টিভির কার্যক্রম শুরু করেন। তার এসব চ্যানেলে প্রায় ৭০ জন স্টাফ রয়েছে। তাদের বেতন ভাতা পরিশোধের ব্যাপারে অনিয়ম রয়েছে। জয়যাত্রা আইপিটিভির নিবন্ধন না করে স্টাফদের বেতন-ভাতা না দিয়ে অন্যায়ভাবে স্টাফদের চাকরিচ্যুত করেন তিনি।
গত দুই বছরে বিভিন্ন মাধ্যম এবং টেলিভিশনে চাকরি দেওয়ার কথা বলে, এজেন্সি দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে বিভিন্ন পরিমাণ টাকা আদায় করছেন তিনি। কারও কাছ থেকে ১০ হাজার, কারো কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা, আবার কারও কাছ থেকে ১ লাখ টাকা নিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে এভাবে তিনি কী কারণে টাকা নিয়েছেন এবং কী কাজে ব্যবহার করেছেন এসব বিষয়ে হেলেনা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বলেও জানান র্যাব কর্মকর্তারা। তারা জানতে পেরেছেন, এসবের দায় অফিস স্টাফদের ওপর চাপিয়েছেন তিনি। তার বাসা এবং অফিস থেকে যে পরিমাণ ভাউচার পাওয়া গেছে তা এখনো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। জয়যাত্রা টেলিভিশনের আইডি কার্ড ব্যবহার করে অনেক প্রতিনিধিও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন।
সাইবার টিম ছিল হেলেনার: হেলেনার নিজস্ব একটি বিশেষ সাইবার টিম রয়েছে। টিমের সদস্যদেরকে তিনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে নিজের প্রচার প্রচারণায় ব্যবহার করতেন। যারা তার সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করত তাদেরকে কৌশলে ঘায়েল করার পাশাপাশি অপমান অপদস্ত করতেন তিনি। র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, বর্তমানে হেলেনা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। মামলার তদন্তও করছে পুলিশ। এখন এ বিষযে তদন্তকারী কর্মকর্তাই বলবেন। তবে এখন পর্যন্ত বিতর্কিত এই নারীর বিষয়ে অনেক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তবে প্রতিটি তথ্যই গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে আমরা ছায়া তদন্ত করছি।
হেলেনার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা: অনুমোদন ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া জয়যাত্রা টিভির সম্প্রচারের অভিযোগে হেলেনা জাহাঙ্গীরের নামে পল্লবী থানায় আরেকটি মামলা হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন আইনে র্যাব-৪-এর মামলার বাদী হয়েছেন র্যাব-৪-এর উপপরিদর্শক ইদ্রিস আলী। শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে ওই মামলা করেন। এ নিয়ে হেলেনা জাহাঙ্গীরের নামে রাজধানীর গুলশান থানায় দুটি, পল্লবী থানায় একটিসহ তিনটি মামলা হলো। ওই মামলায় হেজাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর গুলশান-২ এর ৩৬ নম্বর রোডের ৫ নম্বরের হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাসায় অভিযান চালিয়ে ১৯ বোতল বিদেশি মদ, একটি ক্যাঙ্গারুর চামড়া, একটি হরিণের চামড়া, দুটি মোবাইল ফোন, ১৯টি চেক বই ও বিদেশি মুদ্রা, দুটি ওয়াকিটকি সেট এবং ক্যাসিনো খেলার সরঞ্জামসহ ৪৫৬টি চিপস উদ্ধার করা হয়। সূত্র: বিডি প্রতিদিন
ফাইল ছবি
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানে সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া নায়িকা, প্রযোজক ও মডেলদের আসরে যাতায়াতকারীদের লম্বা তালিকা তৈরি করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। তালিকায় মোট কতটি নাম আছে এবং কাদের নাম আছে সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেনি সিআইডি। তারা বলছেন- অনেক নাম পেয়েছেন। এদের মধ্যে বিত্তশালী ও পদস্থ ব্যক্তিদের নামও আছে। যাচাই-বাছাই না করে এসব নাম প্রকাশ করবে না সিআইডি। কারণ এতে অনেক নিরীহ মানুষও বিপদে পড়তে পারেন।
সিআইডির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান, আলোচিত নায়িকা পরীমণি, মডেল ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসা, মরিয়ম আক্তার মৌ, প্রযোজক ও অভিনেতা নজরুল ইসলাম ওরফে নজরুল রাজসহ ১০-১২ জনের একটি সিন্ডিকেট অভিজাত এলাকায় নিয়মিত আসর বসাত। আসরগুলোতে মদ পান, ডিজে পার্টিসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো। গ্রেফতার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ, মোবাইল ফোন, কললিস্ট, মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাপস থেকে সিন্ডিকেটভুক্তদের আসরে যাতায়াত করা প্রায় ৩০০ জনের নাম পাওয়া গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের বিষয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে গ্রেফতার হওয়ার পর রিমান্ডে থাকা ব্যক্তিরা। প্রাপ্ত নামের অনেকগুলোই ছদ্মনাম বা সাংকেতিক নাম। সিআইডি তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রযুক্তিগত তদন্তের সহায়তায় প্রকৃত নাম ঠিকানা, পেশা, আয়ের উৎস ইত্যাদি সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছে। বিশাল এই তালিকা থেকে যাছাই-বাছাই শেষে তালিকাটি ছোট ও নির্ভুল করে আনার কাজ করে যাচ্ছে সিআইডি। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের উপকমিটি থেকে অব্যাহতি পাওয়া হেলেনা জাহাঙ্গীর, শরিফুল হাসান মিশু ও মাসুদুল ইসলাম ওরফে জিসানের চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও মাদক ব্যবসা এবং তাদের ঘনিষ্ঠজনদের বিষয়েও খোঁজখবর নিচ্ছে সিআইডি।
গত শনিবার সিআইডি হেলেনা জাহাঙ্গীর, পরীমণি, পিয়াসা, মৌ, নজরুল ইসলাম রাজ, মিশু হাসানের বাসায় তল্লাশি অভিযান চালায়। এসব বাসা থেকে সিসিটিভি ফুটেজ, বিভিন্ন আলামত ও ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে। ল্যাপটপ, ডেস্কটপ পাসপোর্ট, মোবাইল, হার্ডডিস্ক ও ফেরারি গাড়ি জব্দ করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে এই তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানিয়েছে সিআইডি।
রবিবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে প্রধান কার্যালয়ে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক বলেন, ‘দায়ের হওয়া সাত মামলার ডকেট ও আসামি বুঝে পেয়েছি। আসামিরা আমাদের হেফাজতে আসার পর ধারাবাহিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে যাচ্ছি। তারা অনেক তথ্য দিয়েছে। তদন্তের স্বার্থে সেগুলো প্রকাশ করা যাবে না। আমরা প্রাপ্ত তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করছি।’ শেখ ওমর ফারুক আরও বলেন, ‘নজরুল রাজ, পরীমণি ও পিয়াসাদের সঙ্গে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততার তথ্য আমরা পেয়েছি। যাদের অনেকেই তাদের আড্ডা ও ডিজে পার্টিতে যেতেন।
যাতায়াতকারীদের মধ্যে ব্যাংকার, বিত্তশালী ও পদস্থ ব্যক্তিদের নামও রয়েছে।’ পরীমণির সঙ্গে ব্যাংকের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সখ্য বিষয়ে সিআইডি কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন পেশার অনেকেরই নাম পাচ্ছি কিন্তু সেগুলো এখনই বলা যাবে না। যেহেতু অনেকগুলো মামলা এবং অনেক তথ্যের ছড়াছড়ি সেজন্য অনেক নিরপরাধ মানুষ ফেঁসে যেতে পারেন। সেটি যেন না হয় সেজন্য আমরা কোনো ধরনের তাড়াহুড়া করছি না। ধারাবাহিকভাবে আমরা তদন্ত কাজ এগিয়ে নেব।’
সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, ‘আমরা দেখছি কিছু গণমাধ্যম বিভিন্ন ব্যাংক কর্মকর্তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করে সংবাদ প্রচার করছে। সেখানে সিআইডির বরাত দিয়ে কয়েকজন ব্যাংক কর্মকর্তার নাম প্রকাশিত হয়েছে। আমরা নিশ্চিত করে বলতে চাই সিআইডির কোনো কর্মকর্তা এসব তথ্য দেননি।’ এই সিন্ডিকেটের হাতে ব্ল্যাকমেলের শিকার কোনো ভিকটিম অভিযোগ করেছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ওমর ফারুক বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো ভিকটিম অভিযোগ করেননি। তবে কিছু তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সে অনুযায়ী তদন্ত চলছে। আসামিদের পর্যায়ক্রমে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আরও তথ্যের প্রয়োজন হলে আমরা আসামিদের ফের রিমান্ডে নেব।’
সিআইডি কর্মকর্তা বলেন, ‘পুলিশের হেফাজতে থাকা একটি ফেরারি গাড়ি আমরা নিয়ে এসেছি। এটি র্যাব জব্দ করেছিল মিশু হাসানের বাসা থেকে। আমরা গাড়িটির বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি। এ ছাড়া মিশু হাসানের বাসায় অভিযান চালিয়ে আরও বেশ কিছু আলামত জব্দ করা হয়েছে। আমরা তদন্তের স্বার্থে সেসব বিষয় প্রকাশ করছি না।’
সিআইডির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এই সিন্ডিকেট বিভিন্ন ব্যাংকে চাকরি ও বড় অংকের ঋণ পাওয়ার বিষয়ে তদবির করত। বিশেষ করে দুটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নামও প্রকাশ করেছে তারা। কয়েকটি রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতা, এমপির ভাই ও ছেলের নামও পাওয়া গেছে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘অভিজাত এলাকার এই ভয়াবহ সিন্ডিকেট প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলির তদবির করত বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এরা নিজের কাজ বাগিয়ে নিতে যাকে যেভাবে খুশি করা সম্ভব সে পদ্ধতি অনুসরণ করত। এমনকি সিন্ডিকেটভুক্ত তরুণীদের সঙ্গে দেশে-বিদেশে স্পেশাল প্লোজার্স ট্যুরে পাঠাত এই চক্র।’
অপর এক কর্মকর্তা বলেন, ‘নায়িকা পরীমণিসহ সিন্ডিকেটের সদস্যরা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে টার্গেট করা ব্যক্তিকে ‘হিপনোটাইজ’ করে ফেলত। তারা যে কোনো মূল্যে নিজেদের কাজ হাসিল করে নিত। এ রকম কয়েকজন ভিক্টিমের সঙ্গে তারা কথাও বলেছেন। কিন্তু তারা আইনগত ব্যবস্থা বা মামলা করতে রাজি হননি।’ প্রসঙ্গত, গত ১ আগস্ট বারিধারা থেকে মডেল পিয়াসা ও মোহাম্মদপুর থেকে মৌ, ৩ আগস্ট রাতে ভাটারা থানা এলাকা থেকে মিশু হাসান এবং তার সহযোগী জিসানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন ৪ আগস্ট বনানীর বাসা থেকে নায়িকা পরীমণি, প্রযোজক নজরুল রাজ, পরীমণির ম্যানেজার আশরাফুল ইসলাম দীপু ও রাজের ম্যানেজার সবুজ আলীকে গ্রেফতার করা হয়। ৬ আগস্ট গ্রেফতার করা হয় পরীমণির কস্টিউম ডিজাইনার জিমিকে। এসব ঘটনায় রাজধানীর বিভিন্ন থানায় সাতটি মামলা হয়েছে। মামলাগুলোর তদন্তভার পেয়েছে সিআইডি। গ্রেফতার আসামিদের সিআইডি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পরীমণি-সাকলায়েন কাণ্ডে পুলিশ সদর দফতরের তদন্ত কমিটি : পরীমণিকে বাসায় নিয়ে এডিসি গোলাম সাকলায়েন শিথিলের ১৮ ঘণ্টা সময় কাটানোর অভিযোগের তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে পুলিশ সদর দফতর। গতকাল পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত ডিআইজি মিয়া মাসুদ করিমকে (ট্রেনিং) প্রধান করে এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য দুজন হলেন ডিএমপির উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন সেন্টারের উপ-কমিশনার (ডিসি) হামিদা পারভিন এবং সিআইডির ফরেনসিক বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএস) রুমানা আক্তার। সাকলায়েন যে মামলার তদারকি কর্মকর্তা সেই মামলার তথ্য, তার বাসায় পরীমণির আসা-যাওয়ায় মামলার তদন্তে কোনো প্রভাব পড়েছে কি না, সাকলায়েন পুলিশের আইন অনুযায়ী কোনো অপরাধ করেছেন কি না- তদন্ত প্রতিবেদনে এসব তুলে ধরতে বলা হয়েছে কমিটিকে। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কমিটিকে ১৫ কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়েছে। সূত্র: বিডি প্রতিদিন
বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে গাজীপুরের স্টাইলক্রাফট নামের একটি তৈরি পোশাক কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। উত্তেজিত শ্রমিকেরা আজ বুধবার সকালে ঢাকা–জয়দেবপুর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন। সড়ক অবরোধের কারণে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও পথচারীরা। বেলা ১১টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে পুলিশ।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, ঢাকা–জয়দেবপুর সড়কে গাজীপুর মহানগরীর তিনসড়ক এলাকায় স্টাইলক্রাফট নামের তৈরি পোশাক কারখানায় প্রায় তিন হাজার শ্রমিক কাজ করেন। মালিকপক্ষের কাছে তাঁদের জুন ও জুলাই মাসের বেতন এবং কোরবানি ঈদের বোনাস পাওনা আছে।
এসব পাওনা নিয়ে তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে আগে থেকেই। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৬ জুলাই কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরে মালিকপক্ষের সঙ্গে শ্রমিকদের সমঝোতা চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী ১ আগস্ট তাঁদের বেতন পরিশোধ করার কথা। কিন্তু পাওনা আদায় না করে মালিকপক্ষ কারখানা বন্ধ করে নোটিশ টাঙিয়ে দেয়। আজ সকালে কাজে যোগ দিয়ে শ্রমিকেরা বন্ধের নোটিশ দেখতে পেয়ে কারখানার সামনের রাস্তার উপরে আন্দোলন শুরু করেন।
শিল্প পুলিশের পরিদর্শক রেজাউল করিম বলেন, বেতন–ভাতা পরিশোধের জন্য কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের শ্রমিকদের সঙ্গে কারখানার মালিকের সমঝোতা চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী ১ আগস্ট জুন মাসের বেতন এবং ৮ আগস্ট শ্রমিকদের ঈদ বোনাস দেওয়ার কথা। কিন্তু মালিকপক্ষ বেতনাদি পরিশোধ না করেই কারখানা সাত দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন।
আজ বুধবার সকালে শ্রমিকেরা কাজে এসে বন্ধের নোটিশ দেখতে পেয়ে উত্তেজিত হয়ে রাস্তায় নামে। পুলিশ মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছে। মালিকপক্ষ জানিয়েছে, বেতনের টাকা জোগাড় করতে না পেরে তারা কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সূত্র: প্রথম আলো