a দ্যা নিউজ সম্পাদক ও প্রকাশকের উপর হামলার প্রতিবাদ ও মানববন্ধন
ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ মাঘ ১৪৩২, ০৩ ফেরুয়ারী, ২০২৬
https://www.msprotidin.com website logo

দ্যা নিউজ সম্পাদক ও প্রকাশকের উপর হামলার প্রতিবাদ ও মানববন্ধন


সাইফুল আলম, মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
শনিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৫, ১১:৪৭
দ্যা নিউজ সম্পাদক ও প্রকাশকের উপর হামলার প্রতিবাদ ও মানববন্ধন

ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন

সাইফুল আলম, ঢাকা:  বাংলাদেশ সরকারের নিয়ম নীতি মেনে সুনামের সাথে ১৪ বছর ধরে চলমান দ্যা নিউজ ডটকম (thenewse.com) এর সম্পাদক ও প্রকাশক প্রমিথিয়াস চৌধুরীকে ইসকন এর ট্যাগ লাগিয়ে খোলা বাজারে টর্চার, জিম্মি করে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর এবং ব্যাংকের চেকের পাতা নেওয়া, বার্তা সম্পাদক তৃণা রায় চৌধুরীকে মুসলিম পুরুষদের দিয়ে গ্যাং রেপের প্রকাশ্য হুমকির প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানব বন্ধন। আজ ১ নভেম্বর সকাল ১১ ঘটিকায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দ্যা নিউজ ডটকম এর সম্পাদক ও প্রকাশক প্রমিথিয়াস চৌধুরী বাংলাদেশ সরকারের নিয়ম নীতি মেনে সুনামের সহিত ১৪ বছর ধরে দেশে তথ্যসেবা দিয়ে আসছে। বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া থানাধীন পশ্চিম গোয়াইল গ্রামে দ্যা নিউজের কর্ণধারের পৈত্রিক বাড়ীতে আশ্রম নির্মাণ করে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, আশ্রয়ের জন্য কাজ করছেন। সম্পাদক মহোদয়কে ২৯ অক্টোবর বুধবার বেলা ১টার দিকে স্কুল বন্ধু হালান মোল্লা কল করে বাশাইল বাজারে ডাকেন। সেখানে হালানের টিনের দোকানে সম্পাদক পৌঁছালে ইতিমধ্যে নিজাম মোল্লা হালান ও সাহানুর ওরফে শাহিন পেদা নিজেদের লেনদেন নিয়ে ঝগড়া শুরু করে এক পর্যায়ে সম্পাদককে উল্লেখ করে বলে ওঠে, ও তো ইসকনের দালাল, ও কোথাও কিছু খায়না, ওকে ছাড়া যাবে না। নাম না জানা আরো অনেকে তাকে ঘিরে ধরে। সম্পাদকের সাথে অকথ্যভাষায় গালাগালি করার প্রতিবাদ করলেই শারিরিক হামলা চালায়।  তিনি স্তম্ভিত ও হতভম্ভ হয়ে বসে পড়েন। নিজাম মোল্লা হালান ও কয়েকজন তাদের কিনে আনা স্ট্যাম্পে সম্পাদকের সই নেয়, ব্যাঙ্কের চেক পাতা ও জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি করে নেয়। তারা সমানে হুমকি দিতে থাকে, চেক ও স্ট্যাম্পে সই না দিলে এখান থেকে ছাড়বো না। সম্পাদক সাহেব আওয়ামী লীগ, বিএনপি কোন রাজনীতির সাথে যুক্ত না অথচ ওরা সবাই ছিল আওয়ামী লীগ পন্থি অথচ সেই হালান বলে, তোদের মা হাসিনা পালিয়েছে, তোরা হিন্দুরা বাংলাদেশে কিভাবে থাকবি? এসময় মোল্লা নিজাম হালান আরও বলেন, তোর বউ বেশি খারাপ, ও আমাদের দেখতে পারে না। ওকে মুসলমানদের দিয়ে গ্যাং রেপ করাতে হবে তাহলে বুঝবে আমরা কারা। তখন আমাদের চিনবে ও পছন্দ করবে। তোরা আমাদের শত্রু। এ দেশে তোদের ও ইসকনের কোন স্থান নেই। তোদের মতো লোকের পিসিয়ে মারার মতো লোক আমিই যথেষ্ট। বাশাইল মসজিদ নিয়ে কিছুদিন ঝামেলা চলছে সেই ঘটনায় সম্পাদককে ফাঁসিয়ে মামলা করার পরিকল্পনা করেন তারা। দ্যা নিউজের বার্তা সম্পাদক তৃণা রায় চৌধুরী বলেন, সম্পাদক মহোদয় সাত্ত্বিক খাবার খান, খুব সাধারণ ভাবে জীবন যাপন করে মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। নিজের বাড়ীটাকে সেবামূলক প্রতিষ্ঠান বানিয়েছেন। বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা, গরীব দুঃখী মানুষের খাদ্য আশ্রয়, শিক্ষার জন্য বিদ্যালয় চালুসহ অনেক সেবামূলক কার্যক্রম চালু করার জন্যই গ্রামের বাড়ীতে বেশি থাকেন। আর তার ফল হল খোলা বাজারে মারধর ও অকথ্য গালি। আমাকে নির্যাতন গ্যাং রেপ করার হুমকি দিচ্ছে তার সামনে। এমন কথা কানে শোনার থেকে মৃত্যু অনেক শ্রেয়।     বার্তা সম্পাদক তৃণা রায় চৌধুরীকে এই লাঞ্ছনাকর কথার প্রতিবাদে মানববন্ধনে অনেক নারী উপস্থিত হয়েছেন। তারা বলেন একজন নারীকে রেপ করার হুমকি আমরা অন্য নারীরা মেনে নেবো না। এই নিজাম মোল্লা হালান এবং তার দোসর শাহিন পেদা, মোঃ সাজ্জাদ হোসেন, সাবেক ইউপি মেম্বার মোঃ ফখরুল ইসলাম মামুনসহ সকল সহযোগীর দৃষ্টান্তমূলক চরম শাস্তি দাবী করছি। পরিশেষে যেকোন ব্যক্তি সম্পর্কে যাচাই না করে ইসকন/ আওয়ামী দোসর/ কথিত ফেসবুক পোস্ট কিংবা কোন ট্যাগ লাগিয়ে হুমকি নির্যাতন বন্ধে আশু পদক্ষেপ কামনা। দেশের সকল হিন্দু মুসলমান খ্রিস্টান ধর্মীয় মানুষদের শান্তিপূর্ণ সহবস্থানের পক্ষে আইনগত পদক্ষেপের জোরালো দাবী জানিয়েছেন উপস্থিত সাধারণ জনগন।
মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

কারাবন্দী থেকেই ব্যবসায় জড়িত শীর্ষ জঙ্গিরা


নিউজ ডেস্ক:
বুধবার, ৩১ মার্চ, ২০২১, ১০:০৯
কারাবন্দী থেকেই ব্যবসায় জড়িত শীর্ষ জঙ্গিরা

প্রতিকী ছবি

নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা কারাগারে বসেই ব্যবসা করছে। গড়ে তুলেছে সরবরাহ প্রতিষ্ঠান। অসাধু কিছু কারা সদস্যকে ম্যানেজ করে শুরু করা এসব ব্যবসা থেকে অর্জিত মুনাফা পৌঁছে যাচ্ছে কারাবন্দী জঙ্গি এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে। ব্যবসার মূলধন এবং সংগঠনের তহবিল সংগ্রহের জন্য কারাবন্দী জঙ্গিদের নির্দেশেই তাদের একটি অংশ বর্তমানে ডাকাতিসহ নানা অপরাধে লিপ্ত। অবাক করা তথ্য হলো- এসব কিছু হচ্ছে ভয়ংকর অপরাধী এবং কারাবন্দী শীর্ষ জঙ্গিদের জন্য তৈরি করা কাশিমপুরের হাই সিকিউরিটি জেলে। 

গত সোমবার পূর্ব তেজতুরী বাজার এলাকা থেকে দুই জঙ্গিকে  গ্রেফতারের পর চাঞ্চল্যকর এমন তথ্য পেয়েছে ঢাকা মহানগর  গোয়েন্দা পুলিশের তেজগাঁও জোনাল টিম। আসিফুর রহমান আসিফ (২৬) ও পিয়াস শেখ (২৮) নামে এই দুই জঙ্গিকে গতকাল আদালতের নির্দেশে তাদের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। এর আগে  সোমবার রাতে ডিবির পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে একটি মামলা ( নম্বর ৭০) করেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গ্রেফতারের সময় আসিফের কাছে টাকার দুটি বান্ডিল পাওয়া গেছে। ২০ হাজার টাকার  একটি বান্ডিলের ওপরে নাহিদ তাসনিম, কাশিমপুর এবং ১৫ হাজার টাকার একটি বান্ডিলের ওপর আল-আমিন, কাশিমপুর লেখা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসিফ জানিয়েছে, এগুলো ডাকাতির টাকা। এই টাকা কাশিমপুর জেলখানায় কর্তব্যরত একজন কারারক্ষীর মাধ্যমে ভিতরে নাহিদ তাসনিম ও আল-আমিনের কাছে পাঠানোর কথা ছিল। এর আগেও ডাকাতি করা টাকা তারা একাধিক কারারক্ষীর মাধ্যমে কারাগারের ভিতরে পাঠিয়েছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তেজগাঁও জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহাদাত হোসেন সুমা গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি এখনই কোনো মন্তব্য করতে চান না। তবে গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। এগুলোর যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। শিগগিরই সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে। গ্রেফতারকৃত দুজনের তথ্য এবং তাদের কাছ থেকে একটি সেল ফোনে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আসিফ জানিয়েছে, ডাকাতি করা অর্থ দিয়ে সংগঠনের কারাবন্দী শীর্ষ নেতাদের নির্দেশে হালাল অ্যান্ড ফ্রেশ নামে একটি খাদ্যপণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিল। কারাগার থেকে তাসনিম, সাঈদ, ফয়সাল ও আল-আমিন তাকে বিভিন্ন লোকজনের নম্বর দিত সেখানে সে চাহিদামতো মধু, খেজুরসহ বিভিন্ন পণ্য দিয়ে আসত। 

শীর্ষ নেতাদের নির্দেশ মতো একাধিকবার সে কাশিমপুর কারাগারেও খেজুর ও মধু সরবরাহ করেছে। কারাগারে যোগাযোগের জন্য কাজে লাগানো হতো নারীদের। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গ্রেফতার আসিফ ও পিয়াস জেএমবির সক্রিয় সদস্য। 

কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি জেলে কারাবন্দী জেএমবির পৃষ্ঠপোষক ও শীর্ষ নেতা আবু সাঈদ, আবদুল্লাহ আল তাসনিম, আল-আমিন ও ফয়সালের সঙ্গে নিয়মিত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করত। শীর্ষ এই জঙ্গি নেতাদের নির্দেশে জেএমবির সক্রিয় সদস্য আনোয়ার আলী ওরফে হৃদয়, হাফিজুল শেখ ওরফে সকাল, আবু সালেহ, সোহেলসহ অজ্ঞাতনামা জঙ্গিরা ঢাকাসহ সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে ডাকাতি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে। এই অর্থের একটি অংশ জেলখানায় কর্তব্যরত কয়েকজন সদস্যের মাধ্যমে কারাবন্দী শীর্ষ নেতাদের কাছে পাঠাত। অবশিষ্ট টাকা হৃদয়, তানজিল বাবু ও সকালের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত সংগঠনের নেতা-কর্মী ও জেলে থাকা সদস্যদের পরিবারের কাছে পাঠাত। তাদের কাছ থেকে দুই রাউন্ড গুলিসহ একটি পিস্তল, কয়েকটি মোবাইল ও ৩৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। 

দীর্ঘদিন জঙ্গি প্রতিরোধ নিয়ে কাজ করে আসা কাউন্টার টেরোরিজমের একজন কর্মকর্তা জানান, তাদের কাছে আগে থেকেই তথ্য ছিল কাশিমপুর কারাগারে তাসনিম-সাঈদরা রীতিমতো ব্যবসা-বাণিজ্য করে অর্থ উপার্জন করছে। কারাবন্দীদের কাছে এবং তাদের পরিবারের কাছে তাসনিম মধু বিক্রি করত। আসিফ গ্রেফতারের পর আগে থেকে পাওয়া তথ্যের সত্যতা পেয়েছেন।

জানতে চাওয়া হলে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার গিয়াস উদ্দিন বলেন, এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তাই এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। কারাগারে জঙ্গিরা কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, শুধু জঙ্গি কেন, সাধারণ কোনো বন্দীরও মোবাইল ফোন ব্যবহার বা বিধিবহির্ভূত কিছু করার সুযোগ নেই।

ডাকাতির নির্দেশ আসে কারাগার থেকে : আসিফের মোবাইল ফোনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন অ্যাপস ঘেঁটে কিছু তথ্যে রীতিমতো বিস্মিত তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। কারণ, এসব বার্তা ছিল কারাবন্দী শীর্ষ জঙ্গিদের। একটি বার্তায় সরকারি কর্মকর্তা, আওয়ামী লীগ নেতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বাসায় ডাকাতি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ডাকাতি করতে গিয়ে গ্রেফতার হলে কি করতে হবে সে বিষয়েও নির্দেশনা রয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই আসিফ এবং পিয়াস জানিয়েছে, তারা পুরাতন জেএমবির সক্রিয় সদস্য। কাশিমপুর কারাগারে বন্দী তাদের শীর্ষ নেতা আবদুল্লাহ আল তাসনিম ওরফে নাহিদ, আবু সাঈদ, আল-আমিন ও ফয়সালের নির্দেশে তারা সংগঠনের তহবিল সংগ্রহের জন্য ডাকাতি করে বেড়াত। পুলিশের অভিযানের সময় তাদের সঙ্গে আনোয়ার আলী ওরফে হৃদয়, তানজিল বাবু, হাফিজুল শেখ ওরফে সকাল, আবু সালেহ, পাভেল ওরফে রাহুল, জোসেফ, রোজীসহ বেশ কয়েকজন বৈঠকের জন্য মিলিত হয়েছিল। 

গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে হাতিরঝিল, তেজগাঁও থানাধীন এলাকায় ছয়টি ডাকাতির ঘটনায় তারা পেশাদার ডাকাত দলের সঙ্গে জঙ্গি সম্পৃক্ততা পেয়েছিলেন। সে সময় পেশাদার কয়েকজন ডাকাত সদস্যকে গ্রেফতারের পর হৃদয়, তানজিল বাবু, সকালসহ কয়েক জনের নাম পান তারা। তবে ঘটনার পর থেকেই তারা আত্মগোপনে ছিল।

নির্দেশদাতা কারা : জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে গঠিত বিশেষায়িত ইউনিট কাউন্টার টেরোরিজম সূত্র বলছে, নির্দেশদাতাদের অন্যতম হলেন শীর্ষ জঙ্গি নেতা আবু সাঈদ। কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারে বন্দী এই শীর্ষ জঙ্গি ২০০৫ সালে সারা দেশে সিরিজ বোমা হামলা মামলার মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি। ২০০৭ সালে ভারতে পালিয়ে গিয়ে নদীয়া, বীরভূম ও বর্ধমান জেলার জেএমবির কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 

২০১৪ সালে বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণে তার সম্পৃক্ততা পাওয়ায় কলকাতা পুলিশের ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) তাকে ধরতে ১০ লাখ রুপি পুরস্কার ঘোষণা করে। ২০১৫ সালে আবু সাঈদ দেশে ফিরে এলে দুই বছরের মাথায় ২০১৭ সালের ২৯ ডিসেম্বর বগুড়া জেলা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। 

নির্দেশদাতাদের অন্য আরেকজন আবদুল্লাহ আল তাসনিম ওরফে নাহিদ। ২০১০ সালে জেএমবির আমির মাওলানা সাইদুর রহমান গ্রেফতার হওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত আমিরের দায়িত্ব পালন করে তাসনিম। ২০১৪ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে তাসনিম গ্রেফতার হয়। আবু সাঈদ ও তাসনিম ছাড়াও বাকি দুই শীর্ষ জঙ্গি নেতার একজন আল-আমিন আনসার আল ইসলামের নেতা ও ফয়সাল হরকাতুল জিহাদ নেতা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে তারা কারাগারে রয়েছে। সূত্র:বিডিপ্রতিদিন

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

আরও পড়ুন

ওবায়দুল কাদের করোনা নিয়ে কবিতা আবৃত্তি করলেন


এমএস.প্রতিদিন ডেস্ক:
শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২১, ০৬:০৮
ওবায়দুল কাদের করোনা নিয়ে কবিতা আবৃত্তি করলেন

ওবায়দুল কাদের

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) নিয়ে কবিতা আবৃত্তি করলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

কবিতাটির আবৃত্তি একটি ভিডিও শুক্রবার নিজের ভেরিফাইড ফেসবুকে পোস্ট করেন তিনি। 

ওবায়দুল কাদেরের কবিতাটি নিচে তুলে ধরা হলো-
 
সুনামির মতো বিধ্বংসী আলোড়ন তুলে
 করোনা এসেছে পৃথিবীজুড়ে
 কোভিডে কাঁপছে আজ সারা পৃথিবী
 কাঁপছে আমেরিকা, কাঁপছে লাতিন আমেরিকা
 কাঁপছে আফ্রিকা, কাঁপছে এশিয়া
 ভারত কাঁপছে, কাঁপছে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ  
 জীবনের এক অচিন্তনীয় অবিশ্বাস্য কঠিন লড়াই
 জরুরি শয্যার জন্য দুনিয়াজুড়ে হাহাকার
 সম্মুখসারির যোদ্ধারা সামাল দিতে হিমশিম  
 দেশে দেশে সংক্রমণ কেবল বাড়ছেই
 বাড়ছে মৃত্যুর হার
 কত আপন মানুষ এরই মধ্যে
 করোনার কালগ্রাসে চিরদিনের মতো বিদায় নিয়েছে
 এই আলোছায়ার সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে
 সন্তান হারানোর কান্না
 স্বামী হারানো বধূর ফরিয়াদে  
 বোন হারা ভাইয়ের আর্তনাদে
 সারা পৃথিবীর আকাশ ভারী
 নতুন নতুন ধরন এসে ভয়ংকর রূপ নিয়েছে করোনা
 এইতো সেদিন আমাদের কাছের মানুষ
 মতিন খসরুর শেষবিদায়ের বিষাদ সংবাদ পেলাম
 এক দিনেই সর্বোচ্চ ৯৬ জন চলে গেল মৃত্যুর মিছিলে

সকালে ঘুম ভাঙলেই নতুন নতুন মৃত্যুর সংবাদ আর সংক্রমণ খবর
জীবনে যারা এত কাছের মানুষ
প্রাণঘাতী প্যান্ডেমিক তাদের কত দূরে সরে নিয়ে যায়
এ রোগীদের কাছে আসতে ভয়
ফুল জোটে না কফিনে
মৃতের সৎকারেও আপন মানুষেরা কাছে ভেড়ে না
দূর থেকে কেবল নিশ্চিত শূন্যতায় হৃদয় ভারাক্রান্ত হয়
করোনা প্রতিরোধে সারা দুনিয়ায় আজ লকডাউন চলছে
চলছে রাত্রিকালীন কারফিউ
পৃথিবীজুড়ে গরিব আরও গরিব হচ্ছে
বাড়ছে নিঃস্ব মানুষ, ভাসমান মানুষ
বাড়ছে কর্মহীন বেকারদের দীর্ঘ মিছিল
বাংলাদেশে লকডাউন মানতে চায় না মানুষ
মাস্ক পরতেও নিদারুণ অনাগ্রহ
স্বাস্থ্যবিধির প্রতি সাংঘাতিক অবহেলা
ভ্যাকসিনেও হার মানছে না করোনা
এ ভয়ংকর ভাইরাসকে হারাতেই হবে
স্বাস্থ্যবিধির শাণিত হাতিয়ারই কেবল হারাতে পারে প্রাণঘাতী করোনাকে
করোনা দিনে দিনে হয়ে উঠছে আরও হিংস্র
আরও প্রতিশোধপরায়ণ
তবু মানুষ সর্বত্রই বেপরোয়া
আর হাটেবাজারে ফেরিঘাটে
বেপরোয়া মানুষের ছুটন্ত মিছিল চোখে পড়ে প্রতিদিন
সরকারি বিধিনিষেধ পুরোপুরি মানছে না মানুষ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক আহ্বানেও উপেক্ষা
নানা ফাঁকফোকরে শহর থেকে গ্রামের দিকে অনিশ্চিত অভিযাত্রা
যেন বিরাম নেই
অপ্রয়োজনীয় ঘোরাঘুরির প্রবণতাও অপ্রতিরোধ্য
আসুন আমরা অদৃশ্য এই শত্রু করোনার বিরুদ্ধে
ঘরে ঘরে সচেতনতার দুর্গ গড়ে তুলি

সম্মিলিত শক্তি দিয়ে আসুন আমরা প্রতিহত পরাজিত করি
প্রাণঘাতী করোনাকে
সময়ের সাহসী কাণ্ডারি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিজয়ী হই
ভুলে গেলে চলবে না
সরকারকে ফাঁকি দিলেও করোনাকে ফাঁকি দেওয়া যায় না
সামান্য উদাসীনতায় এ সংক্রমণে অকালমৃত্যু অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে
করোনা এখন তরুণদেরও ছাড়ছে না
করোনার করাল গ্রাস থেকে ধনী দরিদ্র, বড় ছোট কারও রেহাই নেই
এখন আর কোনো রাজনীতি নয়
এখনকার রাজনীতি হচ্ছে সচেতনতার দুর্গ গড়ে তোলা
করোনাকে প্রতিরোধ করা
আসুন আমরা দলবল শ্রেণি পেশা নির্বিশেষে
আমাদের সকলেই সুরক্ষার স্বার্থে
প্রাণঘাতী করোনার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ে অবতীর্ণ হই 
জয় আমাদের হবেই ইনশাআল্লাহ

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম
Share on Facebook

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন এর জনপ্রিয়

সর্বশেষ - অপরাধ