a এনবিআর ২ ভাগে ভাগ হচ্ছে, ঈদের আগেই অধ্যাদেশ জারি: এনবিআর চেয়ারম্যান
ঢাকা মঙ্গলবার, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২, ১৭ ফেরুয়ারী, ২০২৬
https://www.msprotidin.com website logo

এনবিআর ২ ভাগে ভাগ হচ্ছে, ঈদের আগেই অধ্যাদেশ জারি: এনবিআর চেয়ারম্যান


মুক্তসংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক:
বুধবার, ১২ মার্চ, ২০২৫, ১০:৩৯
এনবিআর ২ ভাগে ভাগ হচ্ছে, ঈদের আগেই অধ্যাদেশ জারি এনবিআর চেয়ারম্যান

ফাইল ছবি: এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান

 

নিউজ ডেস্ক: ঈদের আগেই রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নামে দুই ভাগ হয়ে যাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), যা নতুন অর্থবছরের প্রথম থেকে কাজ শুরু করবে।

আজ বুধবার ‘আয়কর আইন, ২০২৩: সংস্কার ও প্রেক্ষিত’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার অনুষ্ঠানে এ কথা জানিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

তিনি বলেন, ‌প্রধান উপদেষ্টা গতকালও (মঙ্গলবার) আমাকে ডেকেছেন, তিনি বলেছেন ঈদের আগেই অধ্যাদেশ হয়ে যাবে। আগামী জুলাই থেকে কার্যকর হবে। যত দ্রুত সম্ভব এটা অপারেশনাল করব। আমরা সেদিকেই যাচ্ছি। শুরুটা করতে হবে এবং বিবাদ যা থাকবে সে জায়গাটা আমরা পরে অ্যাড্রেস করব।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (ট্যাক্সেশন) অ্যাসোসিয়েশন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

এনবিআর ২ ভাগে বিভক্ত হলে সেখানে কারা থাকবেন ও কাজ করবেন সেটিও তুলে ধরেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, কিছু বাইরের এক্সপার্টও থাকবে, বিশেষ করে ইকোনমিক, ফাইন্যান্স ও রিসার্চ থেকে কিছু লোক থাকবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় যারা অভিজ্ঞ তারাই মূলত এ কাজগুলো করবেন। তার সঙ্গে অক্সিলারি ফোর্স হিসেবে অন্যরাও থাকবেন। আমরা নৈর্ব্যত্তিকভাবে কোনো কিছু না দেখে আইনে যা আছে, এটা আমরা প্রয়োগ করতে পারব। সূত্র: বিডি প্রতিদিন

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

ব্যাংক থেকে লোন নিন, জমি বিক্রি বাদ দিন


এমএস.প্রতিদিন ডেস্ক:
রবিবার, ১৫ আগষ্ট, ২০২১, ১১:৪৮
ব্যাংক থেকে লোন নিন, জমি বিক্রি বাদ দিন

সংগৃহীত ছবি

জমি বিক্রি নয় বা এনজিও থেকে উচ্চ সুদে ঋণও নয়। এমনকি আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকেও ঋণ নেওয়ার দরকার নেই। কাজের জন্য বিদেশে যেতে আপনাকে ঋণ দেওয়ার জন্য বসে আছে ব্যাংক। একটি-দুটি ব্যাংক নয়, সরকারি-বেসরকারি অন্তত সাতটি ব্যাংক বিদেশে যেতে আপনাকে ঋণ দিচ্ছে।

মজার বিষয় হচ্ছে, ঋণের টাকার বিপরীতে ব্যাংকের কাছে কোনো জায়গা-জমিও বন্ধক রাখতে হবে না। তবে বিদেশে যেতে ঋণ দেওয়ায় সবচেয়ে এগিয়ে প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক। ২০১১ সালে ব্যাংকটি গঠনই করা হয় এ উদ্দেশ্যে।

এ ব্যাংকের পাশাপাশি যেসব ব্যাংক বিদেশে যেতে ঋণ দিচ্ছে, তাদের মধ্যে সোনালী, অগ্রণী, পূবালী ও এনআরবি ব্যাংক অন্যতম। এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক এবং এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকও সম্প্রতি বিদেশে যেতে ঋণ দেওয়া শুরু করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে বিদেশে ১ কোটি ২৫ লাখ বাংলাদেশি লোক রয়েছেন।

প্রবাসী শ্রমিকদের ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা ও প্রভাব নিয়ে তৈরি ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী তাঁদের মধ্যে মাত্র ২ শতাংশ দক্ষ, ৬২ শতাংশ অদক্ষ এবং ৩৬ শতাংশ আধা দক্ষ। এক শ্রেণির আদম ব্যাপারী নির্ধারিত অঙ্কের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ নিয়ে বিদেশে শ্রমিক পাঠান। অনেক সময় ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে শ্রমিকদের পাঠানো হয়,

যাঁরা বিদেশে গিয়ে পরে মানবেতর জীবন যাপন করতে বাধ্য হন। প্রতিবেদনে তাই ঋণ আবেদনের দীর্ঘসূত্রতা কমানো এবং ঋণ আদায়ে তদারকি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

কারা ঋণ পাবেন: ভিসা পাওয়ার পর ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বরাবর আবেদন করতে হবে। বিদেশে কাজ করার জন্য যাঁরা ভিসা পেয়েছেন,

তাঁরাই পাবেন এ ঋণ। অর্থাৎ ঋণ পেতে চাইলে বৈধ ভিসা থাকতে হবে। ব্যাংক কোনো ভিসা পাইয়ে দেবে না। ঋণও দেওয়া হবে ভিসার মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে। ঋণ ও সুদ: সরকারি ব্যাংকগুলো ১ থেকে ২ লাখ টাকা ঋণ দিয়ে আসছে। আর ঋণের মেয়াদ সাধারণত ২ বছর।

গ্রেস পিরিয়ড রয়েছে আরও দুই মাস। সব মিলিয়ে ঋণ দেওয়া হচ্ছে ২৬ মাসের জন্য এবং সুদের হার ৯ শতাংশ। বেসরকারি ব্যাংকগুলো অবশ্য ঋণ দিচ্ছে ১ থেকে ৩ বছর মেয়াদি। এ ব্যাংকগুলো সুদ নেয় ১২ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত।

তবে বেসরকারি ব্যাংকগুলো বিদেশে গিয়ে পৌঁছানোর তিন মাস পর থেকে কিস্তি নেওয়া শুরু করে। অবশ্য সব ব্যাংকেরই ঋণের শর্ত ও অনুমোদনপ্রক্রিয়া প্রায় একই রকম।

ঋণ পরিশোধের মেয়াদ সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরিশাস, ওমান, কাতার, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া—এসব দেশের ক্ষেত্রে দুই বছর, শুধু সিঙ্গাপুরের ক্ষেত্রে এক বছর। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: বৈধ ভিসার পাশাপাশি বিদেশগামী কর্মীকে যে কোম্পানি কাজ দেবে বা নিয়োগ করবে,

সেই কোম্পানির নিয়োগপত্র লাগবে। লাগবে আবেদনকারীর সত্যায়িত তিন কপি ছবি, বর্তমান ঠিকানা ও স্থায়ী ঠিকানাসংবলিত পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নেওয়া সনদ,

পাসপোর্ট এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি। আরও লাগবে স্থানীয় বা ঘনিষ্ঠ এক বা একাধিক ব্যক্তির ব্যক্তিগত জামিননামা। এই জামিননামা সম্পত্তি বন্ধকের বিকল্প হিসেবে কাজ করে। আবেদনকারীর মতো জামিনদারদের ছবি, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নেওয়া সনদ,

পাসপোর্ট এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিও জমা দিতে হয়। এ ছাড়া যে ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স (প্রবাসী আয়) আসবে, সেই ব্যাংকের সঙ্গে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে একটি অঙ্গীকারনামা জমা দিতে হবে।

ঋণ পরিশোধ: সোনালী ব্যাংকের ঋণ পরিশোধের মেয়াদ সর্বোচ্চ তিন বছর। বিদেশে যাওয়ার পরে দুই বছরে ২৪ কিস্তি বা তিন বছরে বা ৩৬ কিস্তিতে ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

প্রতি মাসে কিস্তি দিতে হবে একটি করে। এ ব্যাংক এক অঙ্কের সরল সুদ নেয়। অগ্রণী ব্যাংকও এক অঙ্ক সুদ নেয়, তবে ঋণ পরিশোধ করতে হয় দেড় বছরে। পূবালী ব্যাংক আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিলেও পরিশোধের মেয়াদ ২ বছর। এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকসহ অন্য বেসরকারি ব্যাংকগুলো ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিয়ে ১২, ২৪ ও ৩৬ মাসিক কিস্তিতে তা পরিশোধের ব্যবস্থা রেখেছে। বিদেশে যাওয়ার ৩ মাস পর থেকে ঋণের মাসিক কিস্তি শুরু হয় এ ব্যাংকের।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

তুরস্ক-সিরিয়ার ভূমিকম্প বাংলাদেশকে যে সতর্কবার্তা দিচ্ছে


মুক্তসংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক
শনিবার, ১১ ফেরুয়ারী, ২০২৩, ০৮:২০
তুরস্ক-সিরিয়ার ভূমিকম্প বাংলাদেশকে যে সতর্কবার্তা দিচ্ছে

ফাইল ছবি

বিপুলসংখ্যক মৃত্যুর জন্য তুরস্ক সরকার ভূমিকম্পের তীব্রতাকে দায়ী করলেও তুরস্কের সাধারণ মানুষ ও বিশেষজ্ঞরা ভবন নির্মাণে অনিয়মকেই এর জন্য দায়ী করছেন।

২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে তুরস্কের ইস্তাম্বুলের একটি বহুতল ভবন ধসে ২১ জনের মৃত্যু হয়। তদন্তে দেখা যায়, আটতলা ভবনের ওপরের তিনটি তলা নির্মাণ করা হয়েছিল অবৈধভাবে। কিন্তু ভবনটির মালিকপক্ষ স্রেফ কিছু অর্থ জরিমানা দিয়ে ভবনটি বৈধ করে নিয়েছিল।

তুরস্কের মতো ভূমিকম্পপ্রবণ একটি দেশে ভবন নির্মাণের সময় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নীতিমালা না মানার পরও জরিমানা দিয়ে ‘ক্ষমা’ পাওয়ার এ সুযোগ বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে সতর্ক করে আসছিলেন বিশেষজ্ঞরা। ২০১৯ সালের ভবন ধসের পর চেম্বার অব সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্সের চেয়ারম্যান সেমাল গোকচে বলেছিলেন, এর অর্থ হলো আমাদের শহরগুলো, বিশেষত ইস্তাম্বুলকে কবরস্থানে পরিণত করা এবং আমাদের ঘরগুলো থেকে কফিন বের করার পরিস্থিতি তৈরি করা।’ (টার্কিশ সিটিজ কুড বিকাম ‘গ্রেভইয়ার্ডস’ উইথ বিল্ডিং অ্যামনেস্টি, ইঞ্জিনিয়ার্স সে, রয়টার্স, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯)

চার বছর যেতে না যেতেই তুরস্কের প্রকৌশলীদের সেই আশঙ্কা সঠিক প্রমাণিত হলো। ৬ ফেব্রুয়ারি ভয়াবহ ভূমিকম্পে হাজার হাজার ভবন ধসে সিরিয়া ও তুরস্কের এক বিশাল অঞ্চল আক্ষরিক অর্থেই কবরস্থানে পরিণত হয়েছে। ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ২৪ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে তুরস্কের অধিবাসী প্রায় সাড়ে ২০ হাজার।

এই বিপুলসংখ্যক মৃত্যুর জন্য তুরস্ক সরকার ভূমিকম্পের তীব্রতাকে দায়ী করলেও তুরস্কের সাধারণ মানুষ ও বিশেষজ্ঞরা ভবন নির্মাণে অনিয়মকেই এর জন্য দায়ী করছেন। ইস্তাম্বুলের বোগাজিচি ইউনিভার্সিটির কান্দিলি অবজার্ভেটরি অ্যান্ড আর্থকোয়েক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মুস্তাফা এরদিক আল-জাজিরাকে বলেছেন, ‘ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা এত বেশি হওয়ার অন্যতম একটি কারণ হলো যথাযথ মান বজায় রেখে ভবন নির্মাণ না করা।’

তুরস্কের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশের উচিত হবে অবিলম্বে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের দুর্বল অবকাঠামোর ভবন চিহ্নিত করে সেগুলোর সংস্কারের কর্মসূচি হাতে নেওয়া, নতুন ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড মানা হচ্ছে কি না, তার তদারকি নিশ্চিত করা, ভূমিকম্প-পরবর্তী উদ্ধার তৎপরতা ও চিকিৎসার সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরি ও তার নিয়মিত ড্রিল করা, গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানিসহ পরিষেবাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে ভূমিকম্পসহনীয় করা।

অথচ আনাতোলিয়ান ফল্ট লাইনের ওপর অবস্থিত হওয়ায় তুরস্ক মারাত্মক ভূমিকম্পপ্রবণ একটি অঞ্চল। এর আগে ১৯৯৯ সালে দেশটির উত্তর-পশ্চিমে ইজমিত অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ১৭ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। বিভিন্ন সময় ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির শিকার তুরস্কে ভবন নির্মাণে কঠোর আইন প্রণয়ন করা হয়, যার সর্বশেষ সংস্করণটি করা হয় ২০১৮ সালে। কিন্তু এসব আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন না হওয়ায় এবং সময়-সময় জরিমানার বিনিময়ে ক্ষমার ব্যবস্থা থাকায় তুরস্কের পুরোনো ভবনগুলোকে যেমন ভূমিকম্পসহনীয় করা হয়নি, তেমনই নতুন নির্মিত অনেক ভবনও ভূমিকম্পপ্রতিরোধী করে নির্মিত হয়নি।

বিবিসির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শুধু পুরোনো ভবনই নয়, এমনকি সদ্য নির্মিত অনেক ভবনও ভূমিকম্পে ধসে গেছে, যা এসব ভবন নির্মাণে অনিয়মকেই নির্দেশ করে। তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোয় প্রায় ৭৫ হাজার ভবন ওই ক্ষমার আওতায় এসেছিল। (টার্কি আর্থকোয়েক: হোয়াই ডিড সো মেনি বিল্ডিংস কলাপস?, বিবিসি, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩)

তুরস্কের ক্ষমতাসীন এরদোয়ান সরকার বরাবরের মতো ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে জরিমানার বিনিময়ে বিল্ডিং কোড ভঙ্গ করে নির্মাণ করা ভবনের বৈধতা দেওয়ার কর্মসূচি গ্রহণ করেছিল। সে সময় জরিমানার বিনিময়ে ক্ষমার জন্য ১ কোটি আবেদন জমা পড়ে, যার মধ্যে থেকে ১৮ লাখ আবেদন মঞ্জুর করা হয়। ভবন নির্মাণে অনিয়মকে এভাবে ক্ষমা করে ২০১৯ সাল নাগাদ তুরস্ক সরকারের আয় হয় ৩১০ কোটি ডলার। (টার্কিশ সিটিজ কুড বিকাম ‘গ্রেভইয়ার্ডস’ উইথ বিল্ডিং অ্যামনেস্টি, ইঞ্জিনিয়ার্স সে, রয়টার্স, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯)

তুরস্কে ভবন নির্মাণে অনিয়ম ও ভূমিকম্পে বিপুল হতাহতের এ ঘটনা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। তুরস্ক-সিরিয়ার মতো বাংলাদেশও ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা, সিলেট সীমান্তে সক্রিয় ডাউকি ফল্টের অবস্থান ও টাঙ্গাইলের মধুপুর ফল্টের অবস্থান এবং উত্তর-পূর্বে সীমান্তসংলগ্ন ইন্ডিয়ান প্লেট ও ইউরেশিয়ান প্লেটের সংযোগস্থল হওয়ায় বাংলাদেশ ভূমিকম্পের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ১৮৭০ থেকে ১৯৩০ সাল পর্যন্ত বড় আকারের বেশ কয়েকটি ভূমিকম্প হয়েছে এ অঞ্চলে। পরবর্তী সময়ে ছোট ছোট কিছু ভূমিকম্প হলেও বড় মাত্রার কোনো ভূমিকম্প হয়নি।

তবে গত ১০০ বছরে বড় কোনো ভূমিকম্প না হওয়ায় ছোট কম্পনগুলো শক্তি সঞ্চয় করে সামনে বড় ভূমিকম্পের আশঙ্কা তৈরি করছে বলে মনে করছেন ভূতত্ত্ববিদেরা। বাংলাদেশে তুরস্কের মতো শক্তিশালী ভূমিকম্প হলে বিশেষত রাজধানী ঢাকাসহ ঘনবসতিপূর্ণ শহরের ভবনগুলোর কত শতাংশ টিকে থাকবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

বাংলাদেশে ইমারত নির্মাণ আইন ও বিধিমালা থাকলেও ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে তা যথাযথভাবে মেনে না চলার অভিযোগ বহুদিনের। আর আইন মেনে চলতে বাধ্য করবার ব্যাপারে নগরকর্তৃপক্ষের গাফিলতিও সুবিদিত,তারা মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম ও নিয়মিত তদারকির অভাবে পরিস্থিতির কোন পরিবর্তন হচ্ছে না। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সূত্র ধরে বণিক বার্তা জানাচ্ছে, দেশের শহরাঞ্চলের নির্মাণ করা ও নির্মাণাধীন ৬০ শতাংশ ভবনই তৈরি হচ্ছে বা হয়েছে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে।

এর মধ্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এর আওতাধীন ভবনের ৬৫.০৩ শতাংশ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন ২৮.৫৭ শতাংশ, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ৫৩.৬৯ শতাংশ, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ৬৭.৯৬ শতাংশ, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ২৫.৩৭ শতাংশ এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন ভবনের ২৪.৫৩ শতাংশ ভবন নানা ধরণের নিয়ম ভঙ্গ করে তৈরী।

ভবন নির্মাণে অনিয়মের মধ্যে রয়েছে অনুমোদিত উচ্চতার বেশি উঁচু ভবন নির্মাণ, নকশার বাইরে গিয়ে ভবন সম্প্রসারণ, আবাসিক ভবনের অনুমোদন নিয়ে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ, ভবনের চারপাশে প্রয়োজনীয় খোলা জায়গা না রাখা, যথাযথ অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা না রাখা ইত্যাদি। (শহরাঞ্চলের ৬০% ভবন নির্মাণে নিয়মের ব্যত্যয়, ২০ জানুয়ারি ২০২২, বণিক বার্তা) এভাবে অনিয়মের মাধ্যমে নির্মিত ভবনগুলো ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে মারাত্বক বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি (সিডিএমপি) কর্তৃক ২০০৯ সালে তৈরি একটি রিপোর্ট অনুসারে, শক্তিশালী ভূমিকম্প হলে ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৮৩ শতাংশ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৯২ শতাংশ এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এসব নগরে পুরোপুরি ভেঙে পড়া ভবনের সংখ্যা হবে যথাক্রমে ২ লাখ ৩৮ হাজার, ১ লাখ ৪২ হাজার এবং ৫০ হাজার। ঢাকায় ৭৪৮টি পানির পাম্প, ৭টি গ্যাস কম্প্রেসর স্টেশন এবং ৫৪ হাজার বৈদ্যুতিক স্থাপনা, চট্টগ্রামে ৭২টি পানির পাম্প, ২২টি গ্যাস কম্প্রেসর স্টেশন এবং ২৮ হাজার বৈদ্যুতিক স্থাপনা ও সিলেটে ১৮টি পানির পাম্প, ১টি গ্যাস কম্প্রেসর স্টেশন এবং ৯ হাজার বৈদ্যুতিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ঢাকায় পানির পাইপে ১ হাজার ১৬টি ও গ্যাস পাইপে ৬৮৪টি স্থানে, চট্টগ্রামে পানির পাইপে ৭২৭টি ও গ্যাস পাইপে ২২৯টি স্থানে এবং সিলেটে পানির পাইপে ১২২টি ও গ্যাস পাইপে ৯৭টি স্থানে লিকেজ বা ছিদ্র তৈরি হবে। এ ছাড়া ঢাকায় ১০৭টি, চট্টগ্রামে ৩৬টি এবং সিলেটে ১৩টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটবে। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের সিট পাওয়া যাবে ঢাকায় মোট সিটের ১২ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৪ শতাংশ এবং সিলেটে ১ শতাংশেরও কম। রাত দুইটায় ভূমিকম্প হলে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে মৃতের সংখ্যা হবে যথাক্রমে ২ লাখ ৬০ হাজার, ৯৫ হাজার ও ২০ হাজার।

আর বেলা দুইটায় ভূমিকম্প হলে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে মৃতের সংখ্যা হবে যথাক্রমে ১ লাখ ৮৩ হাজার, ৭৩ হাজার ও ১৪ হাজার। (সূত্র: আর্থকোয়েক রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট অব ঢাকা, চিটাগং অ্যান্ড সিলেট সিটি করপোরেশন এরিয়া, কমপ্রিহেনসিভ ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম, ২০০৯, পৃষ্ঠা xi- xiii)

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির এই রিপোর্ট তৈরির পর এক যুগেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে, এ সময়ে নিয়ম না মেনে তৈরি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংখ্যা আরও বেড়েছে। কিন্তু ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমানো বা উদ্ধার তৎপরতার প্রস্তুতির কোনো অগ্রগতি নেই। পুরোনো ভবনগুলোকে ঝুঁকিমুক্ত করার কোনো উদ্যোগ নেই, নতুন ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে যথাযথ নকশা মানা হচ্ছে কি না এবং রড, সিমেন্ট, বালুর যথাযথ ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা-ও দেখার কেউ নেই।

এ অবস্থায় ঢাকায় সাতের বেশি মাত্রার ভূমিকম্প হলে পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবন তো ধ্বংস হবেই, সেই সঙ্গে নিয়ম না মেনে ও জলাশয় ভরাট করে তৈরি নতুন ভবনও ধসে পড়বে। রানা প্লাজা ধস-পরবর্তী অভিজ্ঞতা দেখিয়ে দিয়েছে ভূমিকম্পে বিপুল ধ্বংসযজ্ঞ হলে আমাদের উদ্ধার তৎপরতার সামর্থ্য কত সীমিত। এ অবস্থায় ধ্বংসস্তূপ থেকে মানুষকে উদ্ধার, চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, ভূমিকম্প-পরবর্তী পানি-বিদ্যুৎ-গ্যাস সংযোগ সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনা ও অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলা নিয়ে কেমন অসহনীয় একটা পরিস্থিতি হবে, তা অনুমান করাও কঠিন।

ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কিন্তু এর ক্ষয়ক্ষতি পুরোপুরি রাজনৈতিক। ভূমিকম্প প্রতিরোধ করা যায় না, কিন্তু যথাযথ প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার মাধ্যমে ভূমিকম্পে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা যায়।

তুরস্কের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশের উচিত হবে অবিলম্বে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের দুর্বল অবকাঠামোর ভবন চিহ্নিত করে সেগুলোর সংস্কারের কর্মসূচি হাতে নেওয়া, নতুন ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড মানা হচ্ছে কি না, তার তদারকি নিশ্চিত করা, ভূমিকম্প-পরবর্তী উদ্ধার তৎপরতা ও চিকিৎসার সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরি ও তার নিয়মিত ড্রিল করা, গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানিসহ পরিষেবাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে ভূমিকম্পসহনীয় করা।

দুর্বল অবকাঠামোর ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশে ভূমিকম্পের ঝুঁকি অনেক বেশি, বড় আকারের ভূমিকম্প নিয়মিত হয় না বলে ভূমিকম্প মোকাবিলার প্রস্তুতিতে অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই। সূত্র: প্রথম আলো

লেখক:  কল্লোল মোস্তফা, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবেশ ও উন্নয়ন অর্থনীতিবিষয়ক লেখক। ই-মেইল: kallol_mustafa@yahoo.com

 

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম
Share on Facebook

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন এর জনপ্রিয়

সর্বশেষ - অর্থনীতি