ঢাকা মঙ্গলবার, ৪ মাঘ ১৪২৮, ১৮ জানুয়ারী, ২০২২
Mukto Sangbad Protidin

এইচএসসি পরীক্ষার জন্য কর্মসূচি সীমিত করার সিদ্ধান্ত


মুক্তসংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: বুধবার, ০১ ডিসেম্বর, ২০২১, ০৬:০৬
এইচএসসি পরীক্ষার জন্য কর্মসূচি সীমিত করার সিদ্ধান্ত
ফাইল ছবি

এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে আগামীকাল বৃহস্পতিবার নিরাপদ সড়কের দাবিতে চলমান কর্মসূচি সীমিত করার ঘোষণা করেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের (নিসআ) যুগ্ম আহ্বায়ক শিক্ষার্থী ইনজামুল হক বুধবার গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সীমিত কর্মসূচি পালন করবেন। এই সময় তারা সড়কের এক পাশে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করবেন, যাতে যানবাহন চলাচলে কোন অসুবিধা না হয়।

এদিকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আজ বুধবারও বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর রামপুরা ব্রিজের ওপর অবস্থান নেন আশপাশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলছেন, নিরাপদ সড়কের জন্য ৯ দফা দাবিতে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছি। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আজও আন্দোলনে নামে তারা। যতক্ষণ পর্যন্ত সড়ক নিরাপদ না হবে ততক্ষণ তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

এর আগে সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রামপুরায় রাস্তা পার হওয়ার সময় দুটি বাসের প্রতিযোগিতায় চাপা পড়ে নিহত হয় মাইনুদ্দিন ইসলাম। মাইনুল এবার একরামুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তার মৃত্যুর খবরে বন্ধু, সহপাঠী ও এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং রাস্তা অবরোধের মাধ্যমে তারা আ্ন্দোলনে নামে।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি দেখে: শিক্ষামন্ত্রী


এমএস.প্রতিদিন ডেস্ক:
মঙ্গলবার, ১৫ জুন, ২০২১, ০২:৩২
এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি দেখে: শিক্ষামন্ত্রী

ফাইল ছবি । ডা. দীপু মনি

করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি দেখে চলতি বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে মন্তব্য জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। আজ মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

এর আগে গত রবিবার (১৩ জুন) এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে নেওয়া সম্ভব না হলে বিকল্প ব্যবস্থার চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, চেষ্টা করছি সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা নেওয়ার। এখন সেটিও যদি না হয়, আমরা তার বিকল্প নিয়েও চিন্তা-ভাবনা করছি।

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। চলতি বছরের ১৩ জুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে ৩০ জুন পর্যন্ত ছুটি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

করোনা ভাইরাস: দ্বিতীয় দফায় তীব্রতার পেছনে বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন


স্বাস্থ্য ডেস্ক:
শনিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২১, ০৮:৫৯
করোনা ভাইরাস: দ্বিতীয় দফায় তীব্রতার পেছনে বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন

ফাইল ছবি

করোনাভাইরাসের প্রথম দফায় বাংলাদেশ সফলভাবে সামাল দিতে পারলেও, পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফায় পরিস্থিতি অনেক জটিল আকার ধারণ করেছে। এ নিয়ে চলছে নানামুখী আলোচনা। দেশে গত বছরের নভেম্বর থেকে এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত করোনাভাইরসের সংক্রমণ ছিল নিম্নমুখী। কিন্তু দ্বিতীয় দফায় মাত্রা বেশি হতে থাকে মার্চ মাস থেকে।

দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ যেমন বেশি তীব্রতর হয়, একইসাথে গুরুতর রোগী এবং মৃত্যুর সংখ্যাও হয় প্রথম দফার চেয়ে অনেক বেশি। স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যানেই তা উঠে এসেছে।

নিম্নমুখী অবস্থা থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে দেশে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে যায়। করোনাভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স নিয়ে বেশি গবেষণা করেছে চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউণ্ডেশন।

এই প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক ড: সমীর সাহা বলেছেন, সংক্রমণ যখন নিম্নমুখী হয়েছিল, তখন সবার মাঝে একটা ধারণা তৈরি হয়েছিল যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এসে গেছে। সেজন্য সবকিছু ঢিলেঢালাভাব থাকার বিষয়টি এবার সংক্রমণের তীব্রতা অনেক বেড়ে যায়।

"আমরা বিয়েবাড়ি থেকে শুরু করে সমুদ্র সৈকত পর্যন্ত সব জায়গায় ঘুরাঘুরি করেছি। সেটার কারণেই ভাইরাস খুবই যথেচ্ছভাবে আমাদের মাঝে এসেছে। ভাইরাস যখন শরীরে আসে, তখন সে মাল্টিপ্লাই ( সংখ্যাবৃদ্ধি ) করে এবং এর মধ্যে মিউটেশনগুলো হয়। একইভাবে বিস্তারও ঘটে। ফলে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে সব জায়গায় ঘুরে বেড়ানো বা জনসমাগম অন্যতম কারণ" বলেন ড: সমীর সাহা।

তিনি জানিয়েছেন, গবেষণায় আরও কয়েকটি কারণ তারা পেয়েছেন। "আমাদের এখানে ইউকে এবং সাউথ আফ্রিকান ভেরিয়েন্ট এসেছে। এগুলোর বিস্তার হয়েছে সব জা্য়গায়। সব কিছু মিলিয়েই এই অবস্থা। ড: সমীর সাহা উল্লেখ করেছেন, এর বাইরেও আরও কারণ থাকতে পারে। সেগুলো চিহ্নিত করে গভীর গবেষণা করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

আইইডিসিআর এর কর্মকর্তারাও তাদের গবেষণায় একই ধরনের কারণ দেখতে পাওয়ার কথা জানান। দ্বিতীয় দফায় হাসপাতালগুলোতে করোনাভাইরাসের গুরুতর রোগী এবং মৃত্যুর সংখ্যাও 
আগের তুলনায় অনেক বেশি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক সানিয়া তাহমিনা বলেছেন, গবেষণায় ঘাটতির কারণেও সংক্রমণ তীব্রতার কারণ বুঝতে বিলম্ব হয়েছে।

"গবেষণা করার মতো প্রতিষ্ঠানের অভাব আছে এবং মুশকিল হয়েছে যে, গবেষণাগুলোর উপরও সাধারণ মানুষ এবং নীতি নির্ধারকরাও অনেক সময় পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারেন না। যার ফলে এই যে ভেরিয়েন্ট এসেছে - এটা কিন্তু আমরা দুই তিন মাস পর জানতে পারলাম।" এদিকে, ভারতে পরিস্থিতি যে খারাপ হচ্ছে, সে ব্যাপারেও বাংলাদেশের নজর রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন বিশ্লেষকরা।

ড: সমীর সাহা বলেছেন, ভারত ও পাকিস্তানসহ এই উপমহাদেশেই বড় আকারে একটা ঢেউ এসেছে।

অধ্যাপক সানিয়া তাহমিনা বলেছেন, "পশ্চিমবঙ্গে যে ট্রিপল মিউটেটেড ভাইরাস এসেছে, সেটা বাংলাদেশে এলে পরিস্থিতি কী হবে-সেটা ভাবলে গা শিউরে ওঠে।" তিনি মনে করেন, ভারতে সংক্রমণের ধরন নিয়ে বিশ্লেষণ করে এখনই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেছেন, বিশেষজ্ঞরা ভারতে সংক্রমণের গতিবিধি তীক্ষ্ণভাবে নজর রাখছেন।তবে দ্বিতীয় ঢেউ আসার আগে বিশেষজ্ঞরা কোন পূর্বাভাস সরকারকে দিয়েছিল কীনা সেটা আমাদের জানা নেই।

সরকারের কারিগরি কমিটির প্রধান অধ্যাপক মো: শহীদল্লাহ বলেছেন, "যখন আমাদের সংক্রমণ কমা শুরু হলো, তখনও আমরা বলেছি যে আমাদের দ্বিতীয় ঢেউয়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।"

"প্রতিরোধ এবং হাসপাতালের সেবা - দুটি বিষয়েই প্রস্তুত থাকার কথা আমরা বলেছিলাম।"

অধ্যাপক মো: শহীদুল্লাহ আরও বলেছেন, "এটাও আমরা পরিস্কার বলেছি যে, এই মহামারী বিশ্ব থেকে কবে যাবে- এটা কেউ বলতে পারছে না।" "এটা বুঝতে পারলে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে যা যা করণীয় - তার সবই আমাদের করতে হবে" - বলেন তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেছেন, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের ভিত্তিতেই সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে প্রথমে ১৮ দফা নির্দেশনা দিয়ে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছিল। এরপর দুই সপ্তাহের লকডাউন দেয়া হয়।

আবারও এই লকডাউনের মাঝেই ২৫ এপ্রিল থেকে দোকানপাট এবং শপিংমল খুলে দেয়া হচ্ছে। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এই বিষয়ে বলেছেন, দুই সপ্তাহের লকডাউন ২৮ শে এপ্রিল শেষ হলে বিধিনিষেধ আরও শিথিল করা হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেছেন, জীবন এবং জীবিকা - দু'টি বিষয় বিবেচনায় নিয়েই সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম
Share on Facebook