a
ফাইল ছবি । ডা. দীপু মনি
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, ‘চলতি বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত আকারে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব না হলে বিকল্প চিন্তা করা হচ্ছে।’
আজ রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, কিন্তু করোনা পরিস্থিতি বেড়ে যাওয়ায় সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হই। এখনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতি রয়েছে, তবে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে স্কুল-কলেজ খুলে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করা হবে।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘পরীক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই, তোমরা বাসায় বসে নিয়মিত পড়ালেখা করে সিলেবাস শেষ করবে। তার সঙ্গে সুস্থ থাকতে হবে। জীবন থেকে এক বছর চলে গেলেও কিছু হবে না, তার চাইতে সুস্থ থাকাটা বড় বিষয়।’
এর আগে প্রেসক্লাবে স্বপ্ন ফাউন্ডেশন আয়োজিত শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেব উপস্থিত ছিলেন ডা. দীপু মনি।
ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
সাইফুল আলম, ঢাকা: উপমহাদেশের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক ও সুফি চিন্তাবিদ হজরত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.) স্রষ্টার সৃষ্টি জগৎকে দেখেছিলেন এক অভিন্ন পরিবার হিসেবে। তাঁর মতে, স্রষ্টার একত্বে বিশ্বাস মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ দূর করে এবং মানবিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে। তাঁর প্রণীত ‘বিশ্ব-ভ্রাতৃত্ব’ দর্শন মানুষে মানুষে সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে নৈতিকতা, সহমর্মিতা, সহনশীলতা ও নিঃস্বার্থ সেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করে।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩ টায় রাজধানীর আগারগাঁও বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের সেমিনার হলে আহছানউল্লা সেন্টার ফর ইউনিভার্সাল হিউম্যানিটির আয়োজনে "বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব: দর্শন ও কর্মকৌশল” শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে একথা বলেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। তিনি বলেন-আইনের শাসন, মানবাধিকার ও নৈতিকতার সমন্বয় ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও নাগরিকের মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধা নিশ্চিত করতে পারলে রাষ্ট্র ও সমাজের মধ্যে আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন ডাম ক্লাব ২৫-এর উপদেষ্টা ড. কাজী এম. এহছানুর রহমান। তিনি বলেন-খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.)-এর বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের ভাবনা ছিল স্রষ্টার এককত্বে পূর্ণ বিশ্বাস থেকে উদ্ভূত, যেখানে তিনি সমগ্র সৃষ্টিকে একই পরিবারের অংশ মনে করতেন এবং মানুষে মানুষে, এমনকি জীব ও জড়ের মধ্যে ভেদাভেদ না করে সার্বজনীন ভালোবাসা ও সেবার ওপর জোর দিতেন, যা 'সৃষ্টের সেবা' এবং 'মানবতার ধর্ম' ধারণার মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি মনে করতেন, স্রষ্টা ও সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসা থাকলে বিশ্বে শান্তি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব, যা তাঁর দর্শন ও শিক্ষার মূল ভিত্তি ছিল।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ মাহমুদুর রহমান। এসময় তিনি বলেন-খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.) তাঁর জীবন ও কর্মের মাধ্যমে ব্যক্তিগত এবং সামাজিক উন্নয়নের কথা বলেছেন, যেখানে শিক্ষা, নৈতিকতা, পল্লী উন্নয়ন, এবং স্রষ্টার নৈকট্য লাভের মাধ্যমে আত্ম-উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন; তিনি 'ভয়, শ্রদ্ধা ও প্রেম' এর সমন্বয় ঘটিয়ে নিজেকে গড়ে তোলার কথা বলেছেন এবং তরুণদের জন্য তাঁর জীবন আদর্শকে পাথেয় হিসেবে গণ্য করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের সিনিয়র সাইকোলজিস্ট রাখী গাঙ্গুলীর সঞ্চালনায় সেমিনারে প্যানেল আলোচক হিসেবে খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.)-এঁর বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব ভাবনা বিষয়ক আলোচনা করেন খানবাহাদুর আহছানউল্লা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক আলহাজ্ব এ এফ এম এনামুল হক, সেইন্ট যোসেফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ভাইস প্রিন্সিপাল ব্রাদার ভিক্টর বিকাশ ডি রোজারিও, মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মিলটন কুমার দেব। এসময় উন্মুক্ত আলোচনা করেন আহ্ছানউল্লা সেন্টার ফর ইউনিভার্সাল হিউম্যানিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল মাসুদ।
এসময় আলোচকরা বলেন- খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.) তাঁর সমগ্র চিন্তা ভাবনার মধ্যদিয়ে একটি আলোকিত সমাজ গঠনের চেষ্টা করেছেন। তিনি কখনো গোঁড়ামির কথা বলেননি। তাঁর সমাজ চিন্তায় মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘স্রষ্টার এবাদত ও সৃষ্টের সেবা’। স্রষ্টার এবাদত করতে হলে আগে সৃষ্টের সেবা করতে হবে। তিনি ভয়, শ্রদ্ধা এবং প্রেম এই তিনটার সমন্বয় ঘটিয়ে নিজেকে গড়ে তোলার কথা বলেছেন। তারা আরো বলেন, খানবাহাদুর আহছানউল্লা (র.)’র জীবন ধারার প্রতিটি বাঁকে যে অফুরান সমৃদ্ধি, সমারোহ ও সৌন্দর্য্যরে বিকাশ ঘটেছিল তাঁর যথার্থ নিরুপণ করা সম্ভব হলে ইতিহাসের অনেক অজানা কাহিনী উদ্ধার হতো। তাঁর জীবনভিত্তিক অনেক ঐতিহাসিক সত্যের তেমন মজবুত মিমাংসা হয়নি। তবু তাঁর বিশাল বর্নিল জীবনধারার কাছে আমাদের ঋণ ও কাতরতার কোন শেষ নেই।
ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষ হচ্ছে। অনেক রাজ্যে ফলাফলও প্রকাশিত হয়েছে। তবে কোনো কোনো রাজ্যে এখনো ভোট চলছে। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, রিপাবলিকানরা বেশ এগিয়ে রয়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে বলা যায়, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বেশ সমস্যায় পড়বে। অন্যদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিতে পারেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
এডিসন রিসার্চের সমীক্ষায় বলা হয়, মুদ্রাস্ফীতি ও অপরাধ দমনে ভোটাররা ডেমোক্র্যাটদের চেয়ে রিপাবলিকানদের ওপর ভরসা রাখছে অনেক বেশি। তবে গর্ভপাতের অধিকার প্রশ্নে ডেমোক্র্যাটরা বেশি সমর্থন পাচ্ছে।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওহাইও-এর এক রাজনৈতিক সমাবেশে নিজ সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ১৫ নভেম্বর ফ্লোরিডায় তার মার-এ-লাগোর বাসভবনে তিনি ‘খুব বড় বিবৃতি‘ দেবেন।
ট্রাম্প বলেন, আমি মঙ্গলবার ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোর পাম বিচে ১৫ নভেম্বর একটি খুব বড় ধরণের ঘোষণা দিতে যাচ্ছি।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিস্তারিত না জানিয়ে বলেন, তিনি সমালোচনামূলক হওয়া সত্ত্বেও আগামীকালের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন থেকে বিরত থাকতে চান না। খবর বার্তা সংস্থা তাসের।
এর আগে প্রতিবেদনসমূহে বলা হয় যে, ট্রাম্প মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের পরে ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা ঘোষণা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বেশ কয়েকটি নির্বাচনী পূর্বাভাস অনুসারে, রিপাবলিকান পার্টি মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষে তার প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে পারে, যা বর্তমান গণতান্ত্রিক প্রশাসনের কিছু উদ্যোগকে বাধা দেয়ার সুযোগ করে দেবে। সূত্র : সিএনএন ও এএফপি