a
বুবলি । ফাইল ছবি
সবারই আনন্দ-বেদনার স্মৃতি থাকে ঈদকে ঘিরে। তেমনি চিত্রনায়িকা বুবলির এরকম একটি স্মৃতির কথা তুলে ধরেন। সম্প্রতি বুবলি ঈদ নিয়ে নিজের আবেগঘন একটি স্মৃতি শেয়ার করেছেন।
সেই স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বুবলী বলেন, "একেবারে ছোটবেলার একটা ঘটনা মনে পড়ছে এখন। ড্রেসের জন্য খুব কান্না করেছি। তখনকার সময়ে ঈদের আগে আমরা কাউকে ড্রেস দেখাতাম না।
ঈদের দিন সকাল বেলা আমার তিনজন বান্ধবী আসে। দরজা খুলতেই দেখি ওদের একজনের ড্রেসের রংয়ের সঙ্গে আমার ড্রেসের রং মিলে গেছে। দেখে আমার খুব খারাপ লেগেছে। আম্মুকে বললাম আমার ড্রেসের কালার মিলে গেছে। এটা আমি পরতে পারব না।
একথা শুনে আম্মু আমাকে বোঝানোর চেষ্টা করলেন ঈদের দিন দোকান বন্ধ থাকে। কিন্তু আমার কান্না কিছুতেই থামছে না। প্রচন্ড কান্না করলাম। এর মধ্যে আব্বু আসলো। আমার কান্না থামাতে মার্কেটে বের হলাম। দেখলাম সমস্ত দোকান বন্ধ। একটা দোকান খোলা ছিল।
আব্বু দোকানদারকে বললো মেরুন কালার বাদ দিয়ে যত কালার আছে দেখান। উনারাও দেখছেন আমি তখনো কান্না করছি। উপস্থিত সবাই তখন হাসছিলেন। ওখান থেকে পিংক কালারের একটা ড্রেস কিনে নিই। ভাবতেই অবাক লাগে আমরা কতটা এক্সাইটেড ছিলাম।"
ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
বর্ষবরণে নানা আয়োজনে মুখরিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস
মুন্না শেখ, জবি প্রতিনিধি: "বিপ্লবের সিঁড়ি বেয়ে আসুক নেমে আলো, নববর্ষে মুক্ত জীবন থাকুক আরো ভালো” এই প্রতিপাদ্য কে সামনে রেখে আজ ১ বৈশাখ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ (১৪ এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নববর্ষ শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বৈশাখী মেলা ও প্রকাশনা প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে বর্ণাঢ্যভাবে পালিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ।
বাংলা নববর্ষ-১৪৩২ কে স্বাগত জানাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোঃ রেজাউল করিম, পিএইচডি-এর নেতৃত্বে সকাল ৯:৩০টায় নববর্ষ শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে রায়সাহেব বাজার, ভিক্টোরিয়া পার্ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ক্যাম্পাসে সমাপ্ত হয়।
নববর্ষের এ শোভাযাত্রায় অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার , বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালকবৃন্দ, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, প্রক্টর, প্রভোস্টবৃন্দ, শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী, সাংবাদিক, ছাত্র সংগঠন ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা।
শোভাযাত্রায় চারুকলা অনুষদের আয়োজনে সূর্যমুখী ও শাপলা ফুল, অরিগামি পাখি, চড়কি, তালপাতার সেপাই, লোকজ খেলনা, গরুসহ বড় গরুর গাড়ির স্থাপত্যসহ গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নিদর্শনসমূহ প্রদর্শিত হয়।
আয়োজনের অংশস্বরূপ সারাদিনব্যাপী বৈশাখী মেলা এবং প্রকাশনা প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এবারই প্রথম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়, যেখানে বিভিন্ন স্টলে স্থান পায় বাংলার ঐতিহ্যবাহী পণ্য, খাদ্যদ্রব্য ও শিল্পকর্ম।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ভবন চত্বরে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত বিভাগের পরিবেশনায় জমে ওঠে এক প্রাণবন্ত উৎসব। এ বিভাগ পরিবেশন করে হৃদয়ছোঁয়া সঙ্গীত।
নাট্যকলা বিভাগ মঞ্চস্থ করে জনপ্রিয় যাত্রাপালা ‘ভেলুয়া সুন্দরী’। এছাড়াও, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, আবৃত্তি সংসদ এবং উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী উপস্থাপন করে নানা আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
বিকাল থেকে জবি ব্যান্ড মিউজিক অ্যাসোসিয়েশনের ব্যবস্থাপনায় সংগীত ও কনসার্টের মনোমুগ্ধকর আয়োজনে মুখরিত হয় ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ। যেখানে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে ছিল জনপ্রিয় সঙ্গীত ব্যান্ড " এ্যাশেজ" ।
বৈশাখের রঙে রাঙানো এ আয়োজন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে দেয় উৎসবের এক উচ্ছ্বসিত আবেশ। নববর্ষের এই অনুষ্ঠান বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের মাঝে তুলে ধরতে একটি কার্যকর ভূমিকা রাখে।
ফাইল ছবি: গোলাম রাব্বানী
ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর শারীরিক অবস্থার কিছুটা অবনতি হয়েছে। আজ শনিবার (৩ এপ্রিল) সকালে রাব্বানী তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে শারীরিক অবস্থা অবনতির কথা জানিয়ে পোস্ট দেন। তার পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হল-
"জ্বর, সর্দিকাশি আর শারীরিক দুর্বলতার সাথে গত দুদিন যাবৎ শ্বাসকষ্ট আর বুকে চাপ অনুভব করছি। গতরাতে কিছু সময়ের জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডারও ব্যবহার করতে হয়েছে।
যদি কিছু হয়ে যায়, যদি অকালে চলে যেতে হয়... এই আফসোস, হতাশা আর মনোকষ্ট নিয়েই যেতে হবে। যে আদর্শ আর দলের জন্য এতো ত্যাগ, জীবন-যৌবন,ক্যারিয়ার, স্বাদ-আহলাদ সব জলাঞ্জলি দিয়ে ইতিবাচক কাজ করতে চাইলাম, সেই দলেরই স্বার্থান্বেষী মহলের কাছ থেকেই মিথ্যা অপবাদ আর বিমাতাসুলভ অন্যায় আচরণের শিকার হলাম! আত্মপক্ষ সমর্থন, সত্য-মিথ্যা যাচাই-বাছাই, তদন্ত এসবের নূন্যতম সুযোগও মিললো না, যা যে কোনো মানুষেরই প্রাপ্য অধিকার।
একজন প্রমাণিত দুর্নীতিবাজ ভিসিকে রক্ষা করতে গিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম ছাত্রসংগঠন ও এর শীর্ষ নেতৃত্বকে মিথ্যা অভিযোগে কলঙ্কিত করা হলো। যার বিরুদ্ধে সকল তথ্যপ্রমাণ থাকার পরও কোন তদন্ত হলো না, বিচার হলো না! শিক্ষা মন্ত্রনালয়, ইউজিসি, দুদক সব দেখে জেনে বুঝেও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়া 'জিরো একশন টু করাপশন' নীতি অনুসরণ করলো।
বেঁচে থাকলে নিজেই প্রমাণ করবো ইনশাআল্লাহ। আর যদি মারা যাই, তাহলে শেষ ইচ্ছে ও চাওয়া থাকবে, দেশ ও জনগণের টাকা পুকুর চুরি করে আমাদের উপর মিথ্যা অপবাদ দেয়া জাবি ভিসি যেন কোনভাবেই পার না পায়, জাতির সামনে যেন সত্যটা উন্মোচিত হয়। জোরপূর্বক থামিয়ে দেয়া দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন যেন ফের শুরু হয়। ইউজিসি আর দুদকের যেন বিবেকবোধ জাগ্রত হয়। প্রাণের প্রতিষ্ঠান ছাত্রলীগ যেন কলঙ্কমুক্ত হয়।"
এর আগে, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন গত ৩১ মার্চ। রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষার পর ফলাফল পজিটিভ আসে। নিজের ফেসবুকেই জানিয়েছিলেন তার করোনার কথা। উল্লেখ্য, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ২০১৯ সালের ১ অক্টোবর বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে গোলাম রাব্বানীকে বহিস্কার করা হয়।