a
ফাইল ছবি । আশরাফুল মান্নান
জীবন নদীর পাড় ভাঙে
আশরাফুল মান্নান
----------------------
উথাল-পাথাল ঢেউয়ের তোড়ে
জীবন নদীর পাড় ভাঙে
ঢেউয়ের সাথে আছাড় খেয়ে
বাম পাঁজরের হাড় ভাঙে।
সোঁতের ভেতর ডিগবাজী খাই
কূল-কিনারার নাই দেখা
অথৈ জলে যাচ্ছি ভেসে
কোথায় যে তার পাই দেখা?
বাঁচার মতো বাঁচতে আবার
নিরাশ বুকে সাধ জাগে
উগ্র নদীর বক্ষে যদি
একটু উঁচু বাধ জাগে--
সেথায় গিয়ে ফুরফুরে বায়
একটু খানি শ্বাস ফেলে
নতুন করে রচবো স্বপন
জীবনদাতার পাস পেলে।
তারিখ: ২০ মে ২০২১, মেলান্দহ, জামালপুর
শীলা ঘটক । ফাইল ছবি
ঠাকুরবাড়ির বাজার সরকার শ্যাম গাঙ্গুলীর তিন নম্বর মেয়ে__
রবির আদরের নতুন বৌঠান।
রবি ডাকতোও খুব মিষ্টি করে, নতুন-বৌ-ঠান ___
কথায় বলে জন্মদিনে বিয়ে দিতে নেই___
নয় বছরে জ্যোতির সঙ্গে বিয়ে হলো ঐ তারিখেই___
বিধাতা হয়তো এটাই চেয়েছিলেন!
আমি কাদম্বরী_____
কোন ছেলেপুলে হলো না____
‘বাঁজা’ বলে ঠাকুরবাড়ির মানুষের দুচোখের বিষ,
সারাক্ষণ আমায় নিয়ে চলত ফিসফাস।
আমার বাবাকে পাঠিয়ে দেওয়া হলো গাজীপুরের জামিদারি দেখতে।
বেয়াইমশাই মেয়ের বাড়িতে থাকবে!
সেটা আবার হয় নাকি!
নয় বছর থেকে একেবারে একা!
আমি কাদম্বরী____
ঊর্মিলা আমার ননদ স্বর্ণকুমারীর মেয়ে
দু বছর বয়স ওর
আমার বড় আদরের
ওকে খাওয়ানো, স্নান করানো, ঘুম পাড়ানো __
সব করতুম আমি।
বাড়ির পেছনের ঘোরানো লোহার সিঁড়ি দিয়ে
পড়ে গেল একদিন___
বাঁচলো না___চলে গেল চিরতরে।
আমার ভালোবাসার প্রান পাখীটি চলে গেল___
আমি একেবারে একা......
জ্যোতির উপযুক্ত বউ হতে পারিনি আমি!
বাজার সরকার শ্যাম গাঙ্গুলীর তিন নম্বর মেয়ে আমি।
শ্বশুরমশায়ের ইচ্ছেতে বিয়েটা হয়েছিল,
মেজজা-ভাসুর কারোর ভালো লাগেনি আমায়......
গায়ের রঙ কালো ......
জ্যোতির মতো রাজপুত্তুরের এই বৌ!
ঠাকুরবাড়ির দমবন্ধ ঘরে____
খোলা জানালা দিয়ে দক্ষিণা বাতাসের মতো___
রবি আসতো আমার ঘরে।
আমার রবি।
যাকে আমি খুব ভালোবাসতুম খু-ব।
রবি আমার চেয়ে দুবছরের ছোটো।
রবির এই আসা-যাওয়া নিয়েও অ-নে-ক খোঁটা!
আমি কাদম্বরী ____
কবিতা লিখতুম, একা থাকতে থাকতে
লিখে ফেলেছিলুম অনেকগুলো কবিতা।
রবি তা নিয়ে হাসিঠাট্টা করতও খুব।
দুজনে মিলে ঘরের সামনে গড়েছিলুম নন্দনকানন।
রবির বিয়ে হয়ে গেল___
আবার আমি একা।
অবসাদে ভ’রে থাকতো মন___
বেশ কদিন হলো রবি আর আসে না।
নতুন বৌ এসেছে যে, তার ঘরে......
আমাকে সময় দেবার সময় কই তার!
আমি কাদম্বরী___
একদিন জ্যোতিকে বললুম, আজকের রাত টা আমার কাছে থাকো না......
জ্যোতি চলে গেল_____
শুনলে না আমার কথা।
বেঁচে থাকার ইচ্ছে গুলো এক এক করে শেষ হয়ে গেল
এই বিশাল বাড়িতে আমি একেবারে একা।
মা কে মনে পড়ে না____
মা থাকলে হয়তো জন্মের তারিখে বিয়ে দিত না আমায়......
আমি তো সত্যিই সুখী হলুম না,
চারদিকটা অন্ধকার---ঘন অন্ধকার___
চোখের জল আর কবিতা লেখা____
একদিন জ্যোতির পকেট থেকে পেলুম একটা চিঠি____
প্রেমের চিঠি, ভালোবাসার চিঠি, সোহাগের চিঠি...
গোপন কিছু কথার চিঠি________ এক নটীর চিঠি!
জ্যোতির জীবনে আমি একেবারেই শূন্য____
বুঝলুম সেইদিন___ খুব বেশী করে ......
বেঁচে থাকার শেষ ইচ্ছেটুকুও রইল না আর ___
বাজার সরকার শ্যাম গাঙ্গুলীর তিন নম্বর মেয়ে
আমি কাদম্বরী।
------শীলা ঘটক, এফবি/দেশ পত্রিকা, কোচবিহার
ফাইল ছবি
ফাইনালিসিমায় ইতালিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশ সময় বুধবার (১ জুন) লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে মুখোমুখি হয় কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ইউরোপ সেরা ফুটবল দল ইতালি।
খেলার ২৮তম মিনিটে মেসির এসিস্ট করা বলে পা ছুঁইয়ে ইতালির জালে বল জড়ান মার্টিনেজ। এতে প্রথম গোলটি দেয় আর্জেন্টিনা। এরপর প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে দলের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন ডি-মারিয়া। এতে ইতালির বিপক্ষে ২-০ গোলের লীড পায় ফেভারিট আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয়ার্ধে ৯৪ মিনিটে গোল পান পাওলো দিবালা। এতে ৩-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মেসির আর্জেন্টিনার দল।
দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষা শেষে ২০২১ সালে কনমেবল কোপা আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন হয় লিওনেল মেসি। অপরদিকে ২০২০ সালে ইতালি জিতেছিল ইউরোর শিরোপা।
টানা ৩১ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড নিয়ে মাঠে নামে মেসির অদম্য আর্জেন্টিনা। ফুটবল বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে না পারার আক্ষেপে পোড়া ইতালি নামে আন্ডারডগ হিসেবে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ইতালির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও দলটির পক্ষে ছিল না। সর্বশেষ ৬ ম্যাচের মধ্যে মাত্র ২ ম্যাচে জয় পায় ইতালি। বাকি ৪ ম্যাচে হারের তিক্ত স্বাদ পেতে হয়েছে রবার্তো মানচিনির দলকে। সূত্র: ইত্তেফাক