a
ফাইল ছবি । আশরাফুল মান্নান
জীবন নদীর পাড় ভাঙে
আশরাফুল মান্নান
----------------------
উথাল-পাথাল ঢেউয়ের তোড়ে
জীবন নদীর পাড় ভাঙে
ঢেউয়ের সাথে আছাড় খেয়ে
বাম পাঁজরের হাড় ভাঙে।
সোঁতের ভেতর ডিগবাজী খাই
কূল-কিনারার নাই দেখা
অথৈ জলে যাচ্ছি ভেসে
কোথায় যে তার পাই দেখা?
বাঁচার মতো বাঁচতে আবার
নিরাশ বুকে সাধ জাগে
উগ্র নদীর বক্ষে যদি
একটু উঁচু বাধ জাগে--
সেথায় গিয়ে ফুরফুরে বায়
একটু খানি শ্বাস ফেলে
নতুন করে রচবো স্বপন
জীবনদাতার পাস পেলে।
তারিখ: ২০ মে ২০২১, মেলান্দহ, জামালপুর
ফাইল ছবি। জিয়াউর রহমান
খুব ছোট বেলার কথা। ৭৮ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট কর্তৃক প্রবর্তিত বাংলাদেশ টেলিভিশন আয়োজিত শিশুদের সুকুমার বৃত্তির প্রতিযোগিতা নতুন কুঁড়ির প্রতিযোগী এবং পুরস্কার বিজয়ী ছিলাম। তখনও আমি আমাদের প্রেসিডেন্টকে সরাসরি দেখিনি। এরপর বাংলাদেশ বেতার আয়োজিত একটি মঞ্চানুষ্ঠান হয়। রেডিওতে তো শুধু গান হয়,দেখা যায়না। কিন্তু প্রেসিডেন্ট সাহেব আদেশ দিলেন ঢাকার শাহবাগের রেডিও বাংলাদেশের হোম সার্ভিস এর ভেতরে পেছন দিকের উন্মুক্ত বাগানে একটা মঞ্চানুষ্ঠান করার জন্য। যেখানে উনি উপস্থিত থেকে পুরো অনুষ্ঠান উপভোগ করবেন।
আমরা যারা নিয়মিত রেডিও কলকাকলীতে অংশগ্রহণ করতাম তারাই সে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করলাম।প্রায় এক মাস ধরে রিহার্সাল হলো। গ্রামবাংলার মানুষের জীবন যাত্রা নিয়ে একটি নৃত্যনাট্য। অনেক কোরাস ভয়েজ ছিল, বলাই বাহুল্য সেখানে বড় বড় একক গান আমার ভাগে পড়লো এবং অনুষ্ঠানের শুরুতেই নৃত্যনাট্যের অংশ হিসেবে, যেন কেবল ভোর হলো এটা বোঝানোর জন্য ছিল ফজরের আজান।সেই আজান আমাকে দেয়া হলো। আজানের পরেই নাটকের ভেতরে বিবেক এসে গাইতে থাকে "মনরে পথে পথে পথ বাঁধিতে একতারা বাজাই"।সবই আমাকে গাইতে হয়েছে। এরপর পুরো একটা গ্রামীণ গল্প নাচেগানে উপস্থাপিত হলো।
আমাকে অনুষ্ঠানের বড় কেউ একজন ডেকে নিয়ে গিয়ে একদম প্রেসিডেন্ট সাহেব এর সামনে দাঁড় করালেন। আমি বুঝতে পারছিলাম না কি করা উচিত। উনি আমাকে এক হাতে টেনে নিয়ে একদম কাছে দাঁড় করিয়ে সেই বিখ্যাত সুমিষ্ট হাসি দিয়ে বললেন তোমার নাম? এতো সুন্দর নাম কে রাখলেন? তারপর বললেন এতো সুন্দর করে আজান কিভাবে দিলে তুমি! তারপর অনেক দোয়া করলেন। আমার বাবা-মা পাশেই দাঁড়ানো ছিলেন, উনি তাঁদের দিকে তাকিয়ে হেসে হেসে বললেন বাচ্চার যত্ন নেবেন। ও একটা রত্ন। যাইহোক।
এরপর একসময় আমাদের "মাদারটেক আব্দুল আজিজ উচ্চ বিদ্যালয়" এ তিনি এলেন স্কুল পরিদর্শনে। তখনকার দিনেই তিনি আমাদের স্কুলে অনুদান সহ পুরো স্কুলে যাতে এক জায়গা থেকে ক্লাসে ক্লাসে ঘোষণা বা লেকচার শোনা যায় এমন সাউন্ড সিস্টেম মাইক্রোফোন সেট কিনে দিলেন। উনি আসার সাথে সাথে আমার রিহার্সাল করা গান "প্রথম বাংলা আমার শেষ বাংলাদেশ" গাচ্ছিলাম।উনি আমাদের সামনে দিয়ে সহাস্যে ধীরে ধীরে যাচ্ছিলেন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা এবং শিক্ষকদের সাথে শেইকহ্যান্ড করতে করতে। আমার দিকে চোখ পড়তেই উনি চেনা একটা হাসি দিলেন, মানে উনি আমাকে দেখেই চিনেছেন এই মেয়েটিই সেই কনকচাঁপা এবং আমাদের প্রধান শিক্ষক কে জিজ্ঞেস করলেন যে কনকচাঁপা আপনার স্কুলে পড়ে? ভাবা যায়! একজন দেশের প্রেসিডেন্ট! তাঁর এতো তুচ্ছ বিষয় মনে রাখার ব্যাপারটা আজও বিস্মিত করে আমাকে। ওনার নির্দেশে "পেন পলস" ক্লাব নামক একটি এনজিও শুধু বাচ্চাদের নিয়ে কাজ করতো। সেখানেও আমি জিয়া শিশু পুরস্কার কয়েকবার পেয়েছি।
পেনপলস ক্লাবের পুরস্কার গুলো অপূর্ব ছিলো। নানান গুনীজনের জীবনীগ্রন্থ শিশুতোষ ভাষায় লেখা বই,একশোটা কাঠপেন্সিল, বিশ দিস্তা কাগজ! এগুলো পুরস্কার এর আইডিয়া ওনারই ছিলো। ওনার নামে "জিয়া পরিষদ" এর নানা কর্মকাণ্ডেও আমি অংশগ্রহণ করেছি।
সোজা কথায় তিনি ছিলেন অসম্ভব শিশুপ্রিয় মানুষ। শিশু-কিশোররা ঠিক ঠাক গড়ে ওঠে কিনা এনিয়ে তাঁর কঠিন নজরদারি ছিল। বিটিভিতে আমাদের অনেক শিল্পীর সাথে জনাব তারেক রহমান ও কোকো রহমান বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট সাহেবের কড়া নির্দেশ ছিলো তাঁর সন্তানদের যেন বিশেষ দৃষ্টিতে না দেখা হয়! তাদের বেশভুষা, তাদের যাতায়াতের যানবাহন খুবই সাধারণ ছিল। তারা দুই ভাই কোন প্রোটোকল ছাড়া বিটিভির গাড়িতে রিহার্সাল এ যাতায়াত করতো।
এই ছিলেন আমাদের শহীদ প্রেসিডেন্ট সমুখভাগের মুক্তিযোদ্ধা শ্রদ্ধার ও ভালোবাসার জিয়াউর রহমান।
মনে পড়ে তাঁর মৃত্যুতে অনেক কেঁদেছিলাম। টিভিতে লাখো মানুষের ঢল আর হৃদয়বিদারক করুণ ধারাবিবরণীতে কেঁদে কেঁদে অস্থির হয়ে গেছিলাম এই কিশোরী আমি!
আমার সেই অনুভূতি আজও তেমনি আছে,থাকবে।
স্রষ্টা, তুমি বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান সাহেবকে জান্নাতুল ফেরদৌসের স্থায়ী বাসিন্দা করে নেয়ার অনুগ্রহ করো।
ফেসবুক থেকে সংগৃহীত.../কন্ঠশিল্পী: কনক চাঁপা
ফাইল ছবি
নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ এবং গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে চলমান বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত করতে প্রধানমন্ত্রীকে বিশ্ব নেতাদের দেওয়া চিঠিকে বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন মামলা সংশ্লিষ্ট সিনিয়র আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে এনেক্স ভবনের সামনে সাংবাদিকদের কাছে আইনজীবী খুরশীদ আলম এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিশ্ব নেতারা বাংলাদেশের আইন, বিচার বিভাগকে না জেনে, পর্যালোচনা না করে অযাচিতভাবে বিচার বিভাগে হস্তক্ষেপ করছেন। তারা আদালতে ড. ইউনূসের মামলা নিয়ে এত মাতামাতি করছেন কেন আমার বুঝে আসে না।
বিশ্ব নেতাদের বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ জানিয়ে খুরশীদ আলম খান বলেন, বাংলাদেশে আসুন, দেখুন কত স্বচ্ছতার সঙ্গে ড. ইউনূসের মামলার বিচারকাজ চলছে। শুধু ড. ইউনূসের কথায় বাংলাদেশের বিচার বিভাগ নিয়ে বিরূপ ধারণা পোষণ করবেন না।
এর আগে ড. মুহম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে চলমান বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত করা এবং বাংলাদেশের আগামী সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করার জন্য শেখ হাসিনাকে খোলা চিঠি দিয়েছেন ১৭৫ জন বৈশ্বিক নেতা।
সোমবার প্রকাশিত সেই চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘সম্প্রতি তাকে (ড. ইউনূস) লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করায় আমরা উদ্বিগ্ন এবং এটি তাকে বিচারকভাবে হেনস্তা করার একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া বলে আমাদের বিশ্বাস।’
চিঠির শুরুতে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’ সম্বোধন করে লেখা হয়েছে—
‘আমরা নোবেল পুরস্কার বিজয়ী, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের নেতার পাশাপাশি বাংলাদেশের বন্ধু হিসেবে লিখছি। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকে আপনাদের জাতি যেভাবে প্রশংসনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে আমরা তার প্রশংসা করি।
কিন্তু সম্প্রতি বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রতি যে হুমকি পরিলক্ষিত হচ্ছে, তাতে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা বিশ্বাস করি, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়া এবং নির্বাচনের সময় প্রশাসন দেশের সব বড় দলের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়াটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগের দুটি জাতীয় নির্বাচনে বৈধতার অভাব ছিল।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে মানবাধিকারের প্রতি যে হুমকি আমাদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে তা হলো— নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের মামলা। আমরা উদ্বিগ্ন এই কারণে যে, আমাদের মনে হচ্ছে তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এটা ক্রমাগত বিচারিক হয়রানি বলেই আমাদের বিশ্বাস। এর আগেও ৪০ জন বিশ্বনেতা তার নিরাপত্তা এবং স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে আপনার কাছে যে আবেদন করেছিলেন। এই চিঠিটি তার ওপর ভিত্তি করেই লেখা হয়েছে। আমরা বিনীতভাবে অনুরোধ করছি, আপনি অবিলম্বে অধ্যাপক ইউনূসের বিরুদ্ধে বর্তমান বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত করুন। সূত্র: যুগান্তর