a
ফাইল ছবি
বিশ্বকাপ বাছাইয়ে পর্বে রীতিমতো উড়ছে ব্রাজিল। শতভাগ জয় ধরে রেখে সেপ্টেম্বরের বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব শেষ করলো সেলেসাওরা। নেইমার জাদুতে ঘরের মাঠে পেরুকে ২-০ গোলে হারিয়ে টানা অষ্টম জয় পেলো ব্রাজিল। অর্থাৎ, বিশ্বকাপ বাছাইয়ের আট ম্যাচের আটটিতেই জিতলো পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। অ্যারেনা পেরনামবুকোয় এই জয়ের নায়ক নেইমার।
নিজে একবার লক্ষ্যভেদ করার আগে দলের প্রথম গোলটিতেও রেখেছেন অবদান। তার অ্যাসিস্ট থেকেই ব্রাজিলকে লিড এনে দিয়েছিলেন এভারতন রিবেইরো। ফলে শতভাগ জয় ধরে রেখে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের পয়েন্ট টেবিলে যথারীতি শীর্ষে ব্রাজিল। পূর্ণ ২৪ পয়েন্ট তাদের। সমান ৮ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আর্জেন্টিনা।
সেপ্টেম্বরের বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে ব্রাজিল পায়নি প্রিমিয়ার লিগে খেলা ৯ খেলোয়াড়কে। করোনাভাইরাস ও কোয়ারেন্টিন জটিলতায় খেলোয়াড় ছাড়েনি ইংল্যান্ডের ছয় ক্লাব। এত খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের ছাড়া ব্রাজিলের একাদশ গড়া নিয়েই দুশ্চিন্তার মেঘ জন্মেছিল।
তবে কোনও কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি সেলেসাওদের সামনে। থিয়গো সিলভা-গাব্রিয়েল জেসুস-আলিসনদের ছাড়াই জয়ের ধারা সচল রেখেছে ব্রাজিল। প্রতিপক্ষ পেরুকে বেশিরভাগ সময় আক্রমণ ঠেকাতেই ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। সুযোগ পেয়ে মাঝেমধ্যে ব্রাজিলের রক্ষণে হানা দিলেও সুবিধা করতে পারেনি। বিপরীতে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্রাজিলের প্রথম সুযোগটা আসে দশম মিনিটে। কিন্তু গেরসনের নেওয়া শট পেরু গোলকিপারের হাতে লেগে প্রতিহত হয়। তবে বেশিক্ষণ বাধায় দেয়াল টিকেনি সফরকারীদের। ১৪ মিনিটে স্বাগতিকদের লিড এনে দেন রিভেইরো। নেইমারের কাট ব্যাক থেকে এই উইঙ্গারের গোলমুখে নেওয়া শট পেরু গোলকিপারের হাতে লাগলেও শেষরক্ষা হয়নি। বল ঠিকই জড়িয়ে যায় জালে।
এগিয়ে যাওয়া ব্রাজিলের আক্রমণ চলতেই থাকে। তবে কখনও নেইমার, কখনও গাব্রিয়েল বারবোসা, কখনও লুকাস পাকিতা নষ্ট করেছেন সুযোগ। এরপর ৪০ মিনিটে গিয়ে গোলের দেখা পায় ব্রাজিল। এবার স্কোরশিটে নাম তোলেন নেইমার। রিবেইরোর দূর থেকে নেওয়া শট পেরুর এক খেলোয়াড় গোলের সামনে থেকে ক্লিয়ার করার চেষ্টা করেন। কিন্তু বল পায়ে ঠিকমতো না লেগে চলে আসে গোলের ঠিক সামনে ফাঁকায় থাকা নেইমারের কাছে। সহজ সুযোগটা কি আর মিস হয় প্যারিস সেন্ত জার্মেই ফরোয়ার্ডের! ওই লক্ষ্যভেদে আবার একটা রেকর্ডও গড়ে ফেলেছেন নেইমার।
বিশ্বকাপ বাছাইয়ে এখন সবচেয়ে বেশি গোল করা ব্রাজিলিয়ান তিনি। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে তার গোল এখন ১২। এত গোল পেলে, রোনালদো, রোনালদিনহো, রিভালদো, জিকো- কেউই করতে পারেননি। দ্বিতীয়ার্ধে গোল বাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে গেছে ব্রাজিল। বেশ কয়েকটি ভালো সুযোগও তৈরি করেছিল তারা। কিন্তু গোলের দেখা আর পায়নি। তাই ওই ২-০ গোলের স্কোরলাইন ধরে রেখে ৩ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।
ফাইল ফটো
লা লিগার চলতি মৌসুমে সেল্তা ভিগোকে ২-০ গোলে পরাজিত করে শীর্ষস্থান দখল করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। এর আগে শীর্ষ স্থান ছিলো অ্যাতলেটিকোর দখলে।
নিজেদের মাঠে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ম্যাচের শুরুতে এগিয়ে যায় রিয়াল। মার্কো আসানসিওর পাস থেকে ষষ্ঠ মিনিটে প্রতিপক্ষের জালে বল জড়ান লুকাস ভাসকুয়েস।
প্রথম গোল হজম করে ম্যাচে ফিরতে চেষ্টা করেছিলো সেল্তা ভিগো। কিন্তু কাজের কাজ করতে পারেনি তারা। প্রথমার্ধে এই ব্যবধানের সমতা আনতে পারেনি তারা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আবারও এগিয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। ৫৩তম মিনিটে আসানসিওকে দিয়ে করান দলের দ্বিতীয় গোল। শেষ পযর্ন্ত এই ব্যবধান ধরে রেখে তিন পয়েন্ট আদায় করে নেয় জিজুর শিষ্যরা।
সিংহাসনে বসা রিয়ালের পয়েন্ট ১৭ ম্যাচে ৩৬। তবে তাদের চেয়ে ৩ ম্যাচ কম খেলে ৩৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছে অ্যাতলেটিকো।
ফাইল ফটো:প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের নারী সমাজকে নিজ নিজ অধিকার আদায়ে নিজেদের যোগ্যতা অর্জনের আহ্বান জানান এবং নারী-পুরূষ নির্বিশেষে সকলকে এক সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত, বাংলাদেশ শিশু একাডেমী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করে, আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি নারীদের একটা কথাই বলবো-নারীদের অধিকার দাও, অধিকার দাও বলে চিৎকার করা, বলা আর বক্তৃতা দেওয়া- এতে কিন্তু অধিকার আদায় হয় না। অধিকার আদায় করে নিতে হবে। অধিকার আদায়ের মত যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, সেই যোগ্যতা আসবে শিক্ষা-দীক্ষা এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে। যে কারণে দেশ স্বাধীন হবার পরই এদেশে নারী শিক্ষা বাধ্যতামূলক এবং অবৈতনিক করে দেন জাতির পিতা।
তাঁর সরকার ২ কোটি ৫ লাখ ছেলে-মেয়েকে বৃত্তি-উপবৃত্তি দিচ্ছে যার মধ্যে বেশির ভাগই নারী উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমাজকে যদি গড়ে তুলতে হয়, তবে নারী-পুরুষ সকলকেই শিক্ষা দিতে হবে। যে কারণে আমরা প্রতিটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রেও নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি।
শেখ হাসিনা অতীতকে স্মরণ করে বলেন, তিনি ’৯৬ সালে সরকারে এসে দেখেছেন কোন নারীই ডিসি, এসপি’র কোন পদ পেতনা, উপজেলায় কোন ইউএনও’র পদ পেতনা কিন্তু তাঁর সরকার ক্ষমতায় আসার পর এখন সকল পদে নারীরা আসীন হয়েছেন।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, জাতীয় সংসদের স্পিকার, সংসদ নেতা, বিরোধী দলীয় নেতা, সংসদীয় উপনেতা সবাই মহিলা। এটাই বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় অর্জন। তিনি বলেন, অতীতে ধর্মের নাম নিয়ে বা সামাজিকতার কথা বলে নারীকে পশ্চাৎপদ করে রাখার অপচেষ্টা সমাজ থেকে দূর হয়েছে।
বিভিন্ন প্রতিকূলতাকে পাশ কাটিয়ে জীবন সংগ্রামে জয়ী নারীদের সম্মাননা দেয়ার জন্য বিশেষ উদ্যোগ হিসেবে ‘জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মসূচির মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য প্রতি বছর আন্তর্জাতিক নারী দিবসে ৫ জন ‘জয়িতা’কে জাতীয় পর্যায়ে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বেগম ফহিলাতুননেসা ইন্দিরা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার হিসেবে ১ লাখ টাকার চেক, সম্মাননা ক্রেস্ট এবং সনদ তুলে দেন।
মহিলা ও শিশু প্রতিমন্ত্রী বেগম ফজিলাতুননেসা ইন্দিরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সেপ্পো বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সায়েদুল ইসলাম স্বাগত বক্তব্য দেন। জয়িতা পদক প্রাপ্তদের পক্ষে নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তৃতা করেন জয়িতা হাছিনা বেগম নীলা।
মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, পদস্থ সামারিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশন ও দূতাবাসের প্রতিনিধি এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা পর্বের মাঝে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।