a
করোনাভাইরাস
গত ২৪ ঘন্টায় করোনাভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে ২৪৮ জন। এ নিয়ে করোনাভাইরাসে দেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ২২ হাজার ১৫০ জন।
এদিকে, গত ২৪ ঘন্টায় করোনাভাইরাসে শনাক্ত হয়েছে ১২,৬০৬ জন। এ নিয়ে দেশে মোট করোনাভাইরাসে শনাক্তের সংখ্যা ১৩ লাখ ৩৫ হাজার ২০৭ জন।
আজ শুক্রবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে আরও জানানো হয়, গত ১ দিনে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ১৫৪৯৪ জন করোনারোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১১ লাখ ৭২ হাজার ৪৩৭ জন।
উল্লেখ্য, বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৮ হাজার ১৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ২৬ দশমিক ২৫ শতাংশ।
ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
সাইফুল আলম, ঢাকা: হার্ম রিডাকশন ফাউন্ডেশনের প্রথম উদ্যোগ নীতিনির্ধারণী আলোচনায় আজ অনেক গবেষণা লব্ধ পদক্ষেপের কথা বলা হয়। আজ এপ্রিল ১৫, ২০২৫ইং তারিখে বাংলাদেশ হার্ম রিডাকশন ফাউন্ডেশনের (বিএইচআরএফ) উদ্যোগে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে আজ (মঙ্গলবার) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) অনুষ্ঠিত হলো একটি নীতিনির্ধারণী সংবাদ সম্মেলন। সম্মেলনে পরিবেশেবান্ধব নয় এমন কীটনাশকের ব্যবহার কমানো, তামাককের ক্ষতিহ্রাস এবং সড়ক নিরাপত্তা- এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করা হয়। এটি ছিল এ বছরের শুরুতে গঠিত হওয়া বাংলাদেশ হার্ম বিভাকশন ফাউন্ডেশনের প্রথম উদ্যোগ।
অনুষ্ঠানে জনস্বাস্থ্য, কৃষি ও সড়ক পরিবহণ খাতের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিরা তাঁদের সংশ্লিষ্ট খাতের সমস্যা ও সমাধান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য উপস্থাপন করেন। পাশাপাশি ফাউন্ডেশনটির মূল লক্ষ্যের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে সঙ্গতি রেখে ক্ষতি কমানোর জন্য প্রমাণভিত্তিক কৌশল প্রণয়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।
আলোচনা শুরু করেন বাংলাদেশ হার্ম রিডাকশন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ড. মো. শরীফুল ইসলাম। তিনি বলেন, "হার্ম রিডাকশন কোনো বিলাসিতা নয়- এটি বাংলাদেশের জন্য একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। আমাদের লক্ষ্য হলো সমাজ, নীতি নির্ধারক ও বিশেষজ্ঞদের একত্রিত করে কার্যকর সমাধান তৈরি করা, যা আমাদের দেশের জন্য উপযোগী হবে।”
কৃষিখাতে নিরাপদ কীটনাশক ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বাংলাদেশ গ্রুপ প্রোটেকশন অ্যাসোসিয়েশনের রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার এবং টেকসই কৃষি উন্নয়ন ও নিরাপদ কীটনাশক ব্যবহারের অন্যতম প্রবক্তা দেবাশীষ চ্যাটার্জি। তিনি বলেন, “অসুরক্ষিতভাবে কীটনাশক ব্যবহার এখনো কৃষক ও পরিবেশের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে আছে। আমাদের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে হলে প্রশিক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।"
রোড সেফটি অ্যাডভোকেট ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ সালাহ উদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় আহতের সংখ্যা কমানোর লক্ষ্যে তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করে জানান, সড়ক দুর্ঘটনা বাংলাদেশে এখনও একটি বড় জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে রয়ে গেছে। তার ভাষ্যমতে, “আমাদের শুধু যানবাহনের কথা ভাবলেই চলবে না- নিরাপদ সড়ক, দক্ষ চালক এবং কার্যকর ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নের বিষয়েও সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। একটি জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা পরিকল্পনা অনেক আগেই নেওয়া উচিত ছিল।
আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও হার্ম রিডাকশন বিষয়ক দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন চিকিৎসক ডা. ডেলন হিউম্যান তামাকের ক্ষতিহ্রাস প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি তামাকজনিত রোগ কমাতে বিকল্প পন্থার ওপর আলোকপাত করেন, যা শুধুমাত্র নিষেধাজ্ঞার ওপর নির্ভর না করেও কার্যকর হতে পারে।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশকে তামাক নিয়ন্ত্রণের প্রথাগত পদ্ধতির সঙ্গে নিকোটিনের নিরাপদ বিকল্পও বিবেচনায় নিতে হবে। সঠিকভাবে এই পদ্ধতিগুলো যদি জনস্বাস্থ্য নীতিতে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, তাহলে অনেক ক্ষতি কমানো সম্ভব।”
সংবাদ সম্মেলনটি শেষ হয় একটি প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে, যেখানে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা সরাসরি বক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ পান। সরকারী সংস্থা, বেসরকারি সংগঠন (এনজিও) এবং স্বাস্থ্য খাতের প্রতিনিধিরা জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা উন্নয়নে বাংলাদেশ হার্ম রিডাকশন ফাউন্ডেশনের (বিএইচআরএফ) এই সময়োপযোগী পদক্ষেপকে স্বাগত জানান।
সবশেষে বাংলাদেশ হার্ম রিডাকশন ফাউন্ডেশন সম্পর্কে বলেন, বাংলাদেশ হার্ম রিডাকশন ফাউন্ডেশন (বিএইচআরএফ) হচ্ছে একটি অলাভজনক সংগঠন। এর লক্ষ্য হচ্ছে সামাজিক ও পরিবেশগত ঝুঁকির ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে আনা। দেশজুড়ে এসব ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তি ও কমিউনিটির মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো, প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেয়া এবং ঝুঁকি হ্রাসের জন্য বাস্তবসম্মত কৌশল বাস্তবায়নের তাগিদ দেয় বিএইচআরএফ। অ্যাডভোকেসি, গবেষণা ও প্রান্তিক পর্যায়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়ার মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক ও পরিবেশগত ঝুঁকির মতো চালেঞ্জগুলো তুলে ধরে ফাউন্ডেশনটি। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পার্টনারদের সাথে নিয়ে বিএইচআরএফ'র উদ্দেশ্য হচ্ছে আরো নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও গঠনমূলক সমাজ গড়ে তোলা।
ফাইল ছবি:শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, ‘নতুন শিক্ষাক্রম পুরোপুরি বাস্তবায়ন হতে লাগবে ২০২৫ সাল (দশম শ্রেণি পর্যন্ত)। ২০২৬ সালে গিয়ে শিক্ষার্থীরা নতুন শিক্ষাক্রমে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া শুরু করবে’।
সোমবার (২৯ মে) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নতুন শিক্ষাক্রমের আলোকে মূল্যায়ন প্রক্রিয়াটি এ বছর থেকে চালু হচ্ছে। তবে এর বিভিন্ন দিক বুঝে উঠতে একটু সময় লাগবে। শিক্ষক ও অভিভাবকদের অভ্যস্ত হতেও কিছুটা সময় লাগবে। তবে শিক্ষার্থীরা দ্রুত অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে।
মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. কামাল হোসেন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব সোলেমান খান, মাউশির পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) শাহেদুল খবীর চৌধুরীসহ আরও অনেকে।
গত জানুয়ারি থেকে প্রথম, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম শুরু হয়েছে। আগামী বছর দ্বিতীয়, তৃতীয়, অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে তা শুরু হবে। এরপর ২০২৫ সালে চতুর্থ, পঞ্চম ও দশম শ্রেণিতে চালু হবে। উচ্চমাধ্যমিকে একাদশ শ্রেণিতে ২০২৬ সালে এবং দ্বাদশ শ্রেণিতে ২০২৭ সালে নতুন শিক্ষাক্রম চালু হবে। নতুন শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের বড় অংশ হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে (শিখনকালীন)।
তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পুরোটাই মূল্যায়ন হবে সারা বছর ধরে চলা বিভিন্ন ধরনের শিখন কার্যক্রমের ভিত্তিতে। আর চতুর্থ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঁচটি বিষয়ে কিছু অংশের মূল্যায়ন হবে শিখনকালীন। বাকি অংশের মূল্যায়ন হবে সামষ্টিকভাবে, মানে পরীক্ষার ভিত্তিতে। সূত্র: ইত্তেফাক