a
ফাইল ছবি
চীনের সিনোফার্মের তৈরি ৫ লাখ করোনার টিকা ১২ মে বাংলাদেশে আসছে বলে জানা গেছে। আজ সোমবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত লি ঝিমিং এ তথ্য জানান।
লি ঝিমিং বলেন, চীনের টিকার চাহিদা বিশ্বের অন্যান্য দেশে প্রচুর চাহিদা। তাই বাণিজ্যিকভাবে বাংলাদেশ যেসব টিকা পেতে চায়, তা পেতে একটু সময় লাগবে। তা ছাড়া বাংলাদেশ এক সপ্তাহ আগে শুধু সিনোফার্মের টিকার জরুরি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, চীনের উপহারের টিকার জন্য বাংলাদেশকে ৩ ফেব্রুয়ারি প্রস্তাব দিয়েছিল। আর বাণিজ্যিকভাবে টিকা পেতে ৩০ এপ্রিল প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ যদি আগে অনুমোদন দিত, তাহলে আগেই টিকা পেত।
ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
সাইফুল আলম, ঢাকা: দেশের সকল সরকারি হাসপাতাল, স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্তশাসিত হাসপাতাল, বিশেষায়িত ইনস্টিটিউটে কর্মরত স্বাস্থ্যসেবায় রোগ নির্ণয় ও ঔষুধ ব্যবস্থাপনাসহ নানাবিধ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের পদমর্যাদা ১১তম গ্রেড হতে ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে - মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্ট ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদ আজ ২৫শে নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে আব্দুস সালাম হলে সংবাদ সম্মেলনের অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরো বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়- গত ১৯/১১/১৯৯৪ তারিখের ১৬০ নং প্রজ্ঞাপন মারফত উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও সমমানের পদসমূহে কর্মরত ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপ্লোমাধারীদের ২য় শ্রেনীর পদমর্যাদাসহ ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক গত ০৬/০৪/২০১৭ তারিখের ১৪৬ নং প্রজ্ঞাপন মারফত নার্সিং ডিপ্লোমাধারীদের ২য় শ্রেনীর পদমর্যাদসহ বেতন ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে। ২০১৮ সালে কৃষি ডিপ্লোমাধারীকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে।
আজকের এ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা সরকারের সদয় সু-দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যে একই সমযোগ্যতা সম্পন্নকারীদের ১০ম গ্রেড প্রদান করা হলেও সমযোগ্যতা সম্পন্ন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার, ডিপ্লোমা নার্স, ডিপ্লোমা কৃষিবীদদের ন্যায় সম-ডিপ্লোমা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদেরকেও ১০ম গ্রেডে উন্নীত করার জোড় দাবী জানাচ্ছি।
আমরা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাশা করি, সরকার আমাদের যৌক্তিক দীর্ঘদিনের ন্যায্য অধিকার ১০ম গ্রেড এর সরকারি আদেশ জারির মাধ্যমে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এবং ফার্মাসিস্টদের দীর্ঘ ৩১ বছরের বৈষম্যের পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে আন্দোলনের পথে ঠেলে দেওয়া থেকে বিরত থাকবেন। অন্যথায় আগামী সপ্তাহ থেকে আন্দেলনের পরবর্তী কর্মসূচি এবং কর্মবিরতির মতো কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হচ্ছি।
কর্মসূচী:
১) সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সরকারকে ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে ৪ দিনের (২৬/১১/২০২৫ ইং থেকে ২৯/১১/২০২৫ ইং পর্যন্ত মোট ৯৬ ঘন্টা) আলটিমেটাম।
২) ২৬/১১/২০১৫ ইং, ২৭/১১/২০১৫ ইং এবং ২৯/১১/২০২৫ ইং তারিখে সারাদেশের সকল সরকারি, বেসরকারী, স্বায়ত্বশাসিত ও আধা স্বায়ত্বশাসিত মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, জাতীয় সংসদ সচিবালয় মেডিকেল সেন্টার, সচিবালয় ক্লিনিক, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে মেডিকেল সেন্টার, বঙ্গভবন মেডিকেল সেন্টার, স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশেষায়িত ইনস্টিটিউটসমূহে গণসংযোগ, লিফলেট বিতরন এবং স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠান প্রধান বরাবর স্মারক লিপি প্রদান ।
৩) ৩০/১১/২০১৫ ইং তারিখ রোজ রবিবার সকাল ৯.০০ টা থেকে ১১.০০ টা পর্যন্ত (মোট ২ ঘন্টা সারাদেশের সকল সরকারি, বেসরকারী, স্বায়ত্বশাসিত ও আধা স্বায়ত্বশাসিত মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, জাতীয় সংসদ সচিবালয় মেডিকেল সেন্টার, সচিবালয় ক্লিনিক, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে মেডিকেল সেন্টার, বঙ্গভবন মেডিকেল সেন্টার, স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশেষায়িত ইনস্টিটিউটসমূহে কর্মবিরতি পালন ।
৪) ১০ম গ্রেড বাত্মবায়নের দাবিতে সরকারকে পূনরায় ৪৮ ঘন্টার (০১/১২/২০২৫ ইং থেকে ০২/১২/২০২৫ ইং পর্যা) আলটিমেটাম প্রদান ।
৫) ০৩/১২/২০২৫ ইং তারিখ বুধবার সারাদেশের সকল সরকারি, বেসরকারী, স্বায়ত্বশাসিত ও আধা স্বায়ত্বশাসিত মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, জাতীয় সংসদ সচিবালয় মেডিকেল সেন্টার, সচিবালয় ক্লিনিক, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে মেডিকেল সেন্টার, বঙ্গভবন মেডিকেল সেন্টার, স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশেষায়িত ইনস্টিটিউটসমূহে অর্ধদিবস (সকাল ৮.০০ টা থেকে দুপুর ১২.০০ টা পর্যা) কর্মবিরতি পালন।
৬) ০৪/১২/২০২৫ ইং বৃহস্পতিবার সারাদেশের সকল সরকারি, বেসরকারী, স্বায়ত্বশাসিত ও আধা স্বায়ত্বশাসিত মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, জাতীয় সংসদ সচিবালয় মেডিকেল সেন্টার, সচিবালয় ক্লিনিক, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে মেডিকেল সেন্টার, বঙ্গভবন মেডিকেল সেন্টার, স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশেষায়িত ইনস্টিটিউটসমূহে পূর্নদিবস কমপিস্নট শাটডাউন ।
৭) এরপরেও সরকার যদি মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের ন্যায্য অধিকার ১০ম গ্রেড বাসত্মবায়ন না করে তাহলে সারাদেশের সকল সরকারি, বেসরকারী, স্বায়ত্বশাসিত ও আধা স্বায়ত্বশাসিত মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, জাতীয় সংসদ সচিবালয় মেডিকেল সেন্টার, সচিবালয় ক্লিনিক, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে মেডিকেল সেন্টার, বঙ্গভবন মেডিকেল সেন্টার, স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশেষায়িত ইনস্টিটিউটসমূহে লাগাতার কমপিস্নট শাটডাউন পালিত হবে।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন খাজা মাঈন উদ্দিন, মো: আব্দুস সামাদ, গাজী সাইফুল ইসলাম, এ. কে. এম. মুসা লিটন, মো: সোহেল রানা, মো: বিপ্লবুজ্জামান বিপ্লব, মোঃ মজিবুর রহমান, মোঃ রিপন শিকদার, মোঃ নাজমুল হুদা, নাসির আহমেদ রতন, মিয়া মোঃ গোলাম মাওলা, তৌহিদুল ইসলাম পাটোয়ারী, মো: মোশারফ হোসেন সহ অন্যান্য পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ।
ফাইল ছবি
জোড়া মাথা নিয়ে জন্ম নেওয়া মনি মুক্তার বয়স এখন ১৩ বছর। দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামে বেড়ে ওঠা মনি-মুক্তা। তারা দুজনে স্থানীয় ঝাড়বাড়ি দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। জোড়া থেকে আলাদা হওয়া সেই মনি-মুক্তা ভালো আছে। গতকাল রবিবার (২২ আগস্ট) নিজ বাড়িতে মনি-মুক্তার ১৩তম জন্মদিন পালন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা শিশু হাসপাতালে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. এ আর খানের সফল অপারেশনের মাধ্যমে মনি-মুক্তার জোড়া মাথা আলাদা করা হয়। বাংলাদেশের চিকিৎসাসেবায় সৃষ্টি হয় এক নতুন ইতিহাস। প্রতি বছর বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও মনি-মুক্তার বন্ধুবান্ধবসহ প্রতিবেশী এবং গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতিতে কেক কেটে জন্মবার্ষিকী পালন করা হলেও এবার করোনা পরিস্থিতির কারণে ঘরোয়া পরিবেশে জন্মদিন পালন করা হচ্ছে বলে জানান মনি-মুক্তার বাবা জয় প্রকাশ পাল।
তিনি জানান, মনি মুক্তা সুস্থ এবং ভালো আছে। লেখাপড়ার পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে নাচ শিখছে। উপজেলা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে বেশ সুনাম কুড়িয়েছে তারা। করোনার কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় প্রতিবেশী শিশুদের সঙ্গে খেলা করে সময় কাটে তাদের। জন্মদিনে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে মনি-মুক্তা বলে, আমরা চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করতে চাই। দেশবাসীর দোয়া এবং সহযোগিতা পেলে আমরা অবশ্যই আমাদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারবো।
দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার শতগ্রাম ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রামের শরৎ চন্দ্র পালের ছেলে জয় প্রকাশ পাল। জয় প্রকাশ পালের স্ত্রী কৃষ্ণা রাণী পালের গর্ভে ২০০৯ সালের ২২শে আগস্ট পার্বতীপুর ল্যাম্ব হাসপাতালে সিজারিয়ান সেকশনে অস্ত্র পাচারের মাধ্যমে মনি এবং মুক্তা জোড়া লাগা অবস্থায় জন্ম নেয়। পরে রংপুরের চিকিৎসকগণ ঢাকা শিশু হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে যমজ বোনকে অস্ত্র পাচারের মাধ্যমে পৃথক করার পরামর্শ দেন। তাদের পরামর্শ ক্রমে ২০১০ সালের ৩০ জানুয়ারি ঢাকা শিশু হাসপাতালে মনি-মুক্তাকে ভর্তি করা হয়। ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা শিশু হাসপাতালে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. এ আর খানের সফল অপারেশনের মাধ্যমে মনি-মুক্তা আলাদা হয়। বাংলাদেশের চিকিৎসাসেবায় সৃষ্টি হয় এক নতুন ইতিহাস।
মনি-মুক্তার বাবা জয় প্রকাশ পাল জানান, সে সময় গ্রামের মানুষ এটাকে অভিশপ্ত জীবনের ফসল বলে প্রচার করতে থাকে। সমাজের নানা কুসংস্কারে প্রায় এক ঘরে হয়ে পড়ি। সমাজের নানা অপবাদে গ্রামে আসিনি। হতাশার মাঝে স্বপ্ন দেখি মনি-মুক্তাকে নিয়ে। বিভিন্ন চিকিৎসকের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে থাকি তাদের স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাওয়ার জন্য। আমাদের স্বপ্ন বাস্তব হয় ডা. এ আর খানের কারণে। সেই মানুষটির কারণে আমাদের এই দুই সন্তানের নতুন করে বেঁচে থাকা।