a আতঙ্কে ভুঁইফোড় সংগঠনের নেতারা, গা-ঢাকা দিয়েছেন অনেকে
ঢাকা শনিবার, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২, ১৪ মার্চ, ২০২৬
https://www.msprotidin.com website logo

আতঙ্কে ভুঁইফোড় সংগঠনের নেতারা, গা-ঢাকা দিয়েছেন অনেকে


এমএস.প্রতিদিন ডেস্ক:
সোমবার, ০২ আগষ্ট, ২০২১, ০৯:৩৫
আতঙ্কে ভুঁইফোড় সংগঠনের নেতারা, গা-ঢাকা দিয়েছেন অনেকে

সংগৃহীত ছবি

ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা ভুঁইফোড় ‘লীগ’ ও ‘রাজনৈতিক দোকানদারদের’ বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। দলকে বিতর্কিত ও বিব্রতকর অবস্থার মুখে ফেলে দেওয়া এসব অবৈধ সংগঠনের কাউকেই ন্যূনতম ছাড় দেবেন না দলের নীতিনির্ধারকরা। খোঁজা হচ্ছে ভুঁইফোড় সংগঠনের পৃষ্ঠপোষকও।

নানা কর্মকান্ডে আলোচিত-সমালোচিত ‘চাকরিজীবী লীগ’ খুলে বসা হেলেনা জাহাঙ্গীর র‌্যাবের হাতে আটক হওয়ার পর আতঙ্কে রয়েছেন এসব সুযোগ সন্ধানী। অনেকেই গা-ঢাকা দিয়েছেন। কেউ কেউ নিজের ফেসবুক আইডি ডিঅ্যাকটিভ করে গা-বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। এর মধ্যেই গতরাতে গ্রেফতার হয়েছেন বাংলাদেশ জননেত্রী শেখ হাসিনা পরিষদ সভাপতি মনির ওরফে দরজি মনির। 

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘যারাই নামের আগে ‘লীগ’ কিংবা ‘মুক্তিযোদ্ধা’ অথবা জাতির পিতার পরিবারের সদস্যদের নাম ব্যবহার করছে কেউই অনুমোদিত নয়। এরা ধান্দাবাজ, প্রতারক, সুবিধাবাদী ও ভুঁইফোড়। ইতিমধ্যে বিতর্কিত আড়াই শ রাজনৈতিক দোকানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দিয়েছি। ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু হয়েছে।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্যমতে, দল যখন ক্ষমতায় না থাকে তখন তাদের দেখা মেলে না। ক্ষমতায় এলেই ওরা গড়ে তোলে নিত্যনতুন লীগ। সুবিধাভোগীরা গত এক যুগে আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে গড়ে তুলেছে নতুন নতুন সংগঠন। এর মধ্যে ঢাকা নগরীতেই পাঁচ শতাধিক সংগঠন রয়েছে আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযোদ্ধার নাম ব্যবহার করে। এ ছাড়াও জেলা-উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়েও রয়েছে এদের সংগঠন। আওয়ামী লীগের অনুমোদন করা সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন থাকার পরও নিত্যনতুন লীগ গড়ে ওঠাকে বিস্ময়কর সুবিধাবাদী অবস্থান বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, ধান্দাবাজি আর চাঁদাবাজির মতলবেই সরকারি দলের নাম ভাঙিয়ে এরা গজিয়ে ওঠে। এখন এসব ভুঁইফোড় সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। শুধু ভুঁইফোড় সংগঠনের নেতাই নয়, কারা এসব কথিত ভুঁইফোড় সংগঠনগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা, মদদ কিংবা নেপথ্যে থেকে উৎসাহিত করছে, তাদের ব্যাপারেও খোঁজ-খবর নিতে শুরু করেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারক নেতারা। ‘লীগ’ শব্দ ব্যবহার করে সর্বশেষ সংযোজন ছিল নানা কর্মকান্ডে বিতর্কিত হেলেনা জাহাঙ্গীরের চাকরিজীবী লীগ।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘গঠনতন্ত্রের বাইরে অননুমোদিত দোকান খুলে অবৈধ কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অ্যাকশন শুরু হয়েছে। এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িতরা যত বড় ক্ষমতাধর ব্যক্তি বা নেতাই হোন না কেন, এবার কাউকেই আর ছাড় দেওয়া হবে না। এদের পৃষ্ঠপোষকদেরও খোঁজা হচ্ছে। দলের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।’

আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে স্বীকৃত আটটি সহযোগী ও দুটি ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন। সহযোগী সংগঠনগুলো হচ্ছে যুবলীগ, কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, যুব মহিলা লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, তাঁতী লীগ এবং মৎস্যজীবী লীগ। ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন হলো ছাত্রলীগ ও জাতীয় শ্রমিক লীগ। গঠনতন্ত্রে না থাকলেও মহিলা শ্রমিক লীগ, চিকিৎসকদের পেশাজীবী সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদের কর্মকান্ডে আওয়ামী লীগের ‘সায়’ রয়েছে। এ ছাড়াও বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও শেখ রাসেল শিশু-কিশোর পরিষদ, মোটর চালক লীগ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের মতো কিছু সংগঠনের কর্মকান্ডে আওয়ামী লীগ ধারণ করে। কারণ হিসেবে দলটির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও শেখ রাসেল শিশু-কিশোর পরিষদের মতো কিছু সংগঠন পঁচাত্তরের পর বৈরী পরিবেশে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন উপেক্ষা করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রচার করেছে। এ কারণে ধারণ করে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের প্রবীণ বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর দেশে অনেকেই আওয়ামী লীগের নাম মুখে নিতে চায়নি। সে সময়ে সংগঠন হিসেবে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, বঙ্গবন্ধু পরিষদ এবং আমরা সূর্যমুখীসহ হাতে গোনা ৪-৫টি সংগঠন ছিল যারা বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের কথা বলত। 

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের ব্যানারে সে সময়ে দেশের প্রখ্যাত শিল্পী, অভিনেতা, অভিনেত্রী ও নির্মাতারা মানববন্ধন, মোমবাতি প্রজ্বালন করে বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার দাবি করেছেন। রাজাকারের বিচার দাবি করেছেন। কিন্তু ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এসব সংগঠন বাড়তে থাকে। গত দুই মেয়াদে বাড়ার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। দলীয় ও সরকারি বৈধ কোনো অনুমোদন না থাকলেও এ সংগঠনের নেতাদের দৌরাত্ম্য এতই বেড়ে চলেছে যে, দলীয় অনেক নেতাকে পর্যন্ত তারা তোয়াক্কা করেন না। বিষয়টি আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকদের ভাবিয়ে তুলছে। দীর্ঘদিন পর হলেও আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকদের ঘুম ভাঙতে শুরু করেছে। অ্যাকশন শুরু হয়েছে ধান্দাবাজির এসব দোকানের বিরুদ্ধে।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘দলের সংকটকালে কাউকে পাওয়া যায়নি। ক্ষমতার এক যুগে গজিয়ে ওঠা সুযোগ সন্ধানী ও ভুঁইফোড় এসব সংগঠনের নেতাদের নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারণে মূল দল আওয়ামী লীগকে প্রায়ই বিভিন্ন ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। অথচ আওয়ামী লীগে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এসব দলের কোনো অস্তিত্ব নেই কিংবা মূল দলের আনুষ্ঠানিক কোনো স্বীকৃতি নেই। ধান্দাবাজদের অপতৎপরতা বন্ধে আওয়ামী লীগ কাজ শুরু করেছে।’ 

গত তিন দশকে দেখা গেছে, মূল দলের সঙ্গে মিল রেখে নানা সংগঠন খুলে চাঁদাবাজি বা সরকারি সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে এরা। বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে ‘জাতীয়তাবাদী’ বা ‘জিয়া’ তকমা লাগিয়ে গজিয়ে ওঠে এসব সংগঠন। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে ‘বঙ্গবন্ধু’, ‘মুক্তিযুদ্ধ’ বা ‘আওয়ামী’ শব্দ ব্যবহার করে গঠন করা হয় নানা সংগঠন।

জানা গেছে, এসব ভুঁইফোড় সংগঠন গজিয়ে উঠতে সুযোগ করে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কিছু নেতা, বর্তমান ও সাবেক এমপি-মন্ত্রী। তাদের ‘রাজনৈতিক বেকারত্ব’ কাটাতে দলীয় প্রধানের দৃষ্টি আকর্ষণে বা বিরোধী পক্ষকে কটাক্ষ করতে ‘শব্দবোমা’ ফাটাতেই এসব ভুঁইফোড় সংগঠনকে প্রথমে পৃষ্ঠপোষকতা করতেন। তাদের কেউ কেউ মিডিয়ার ‘খোরাক’ দিতে চটকদার কথার পাশাপাশি দল ও সরকারের বিরুদ্ধেও কথা বলতেন। আওয়ামী লীগের প্রথম মেয়াদে কেন্দ্রের কয়েকজন নেতা এসব ‘দোকানে’র নামে অনুষ্ঠান আয়োজন করিয়ে সরকারের সমালোচনায় মুখর ছিলেন। তখন এসব নেতার মুখ বন্ধ করতে কয়েকজনকে মন্ত্রিত্বও দেওয়া হয়েছিল। আবার অনেকেই দলের গুরুত্বপূর্ণ পদও পেয়েছেন। আবার কয়েকজন নেতা সক্রিয় হয়েছেন। কেউ মন্ত্রিত্ব পাননি, আবার কেউ কেউ মন্ত্রিসভায় আছেন। মূলত রাজনীতির যেসব বিষয় নিয়ে বিতর্ক হয়, সেগুলো নিয়ে আলোচনা বা সেমিনারের আয়োজন করে এসব সংগঠনের উদ্যোক্তা।  

অভিযোগ রয়েছে, ভুঁইফোড় সংগঠনের নেতারা তদবির করে মন্ত্রী-এমপিদের কাছ থেকে সুবিধা বাগানো, বিভিন্ন প্রকল্প হাতিয়ে নেওয়া, পদক বাণিজ্য, চাকরিতে নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতিতে তদবির করাসহ অসংখ্য কাজে লিপ্ত। এদের কেউ কেউ গোড়ার দিকে ঢাকা শহরে মেসে বাস করলেও কালক্রমে ভুঁইফোড় সংগঠন গড়ে তুলে বাড়ি-গাড়ির মালিক হয়েছেন। তারা আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতা, সহযোগী সংগঠনের নেতা পরিচয় দিয়ে দাপিয়ে বেড়ান সচিবালয়সহ বিভিন্ন অফিস-আদালত। অন্যদিকে রাজধানীতে বিভিন্ন অনুষ্ঠান শেষে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলে তারা এলাকায় গিয়ে বিশাল বিশাল পোস্টার সাঁটিয়ে কেন্দ্রীয় নেতার পরিচয় দিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ স্থানীয় অফিস-আদালতের টেন্ডারসহ নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়ছেন। অধিকাংশ ভুঁইফোড় সংগঠন ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় বললেও বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। 

‘লীগ’ নামে শতাধিক সংগঠন : লীগ শব্দ ব্যবহার করে শতাধিক সংগঠন রয়েছে। এর মধ্যে ‘ওলামা লীগ’ নামে একটি ধর্মীয় সংগঠনের কর্মকান্ডে সরকারকে বারবার বিব্রত হতে হয়েছে। তবে এ সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক না থাকার কথা বলেছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। কিন্তু বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারণে সংগঠনটির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। ‘বঙ্গবন্ধু আওয়ামী পরিবার লীগ’ ‘কেন্দ্রীয় আল্লাহওয়ালা লীগ’ ‘মিডিয়া লীগ’ ‘বাংলাদেশ আওয়ামী সজীব ওয়াজেদ জয় লীগ’ ‘অভিভাবক লীগ’ ‘ইতিহাস চর্চা লীগ’ ‘অধিকার আদায় লীগ’ ‘বাংলাদেশ আওয়ামী শিশু লীগ’ ‘আওয়ামী তৃণমূল লীগ’ ‘উদ্যোক্তা লীগ’, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় লীগ’ ‘আওয়ামী প্রচার লীগ’ ‘আওয়ামী সমবায় লীগ’ আওয়ামী তৃণমূল লীগ’ ‘আওয়ামী ছিন্নমূল হকার্স লীগ’ ‘আওয়ামী তরুণ লীগ’ ‘আওয়ামী রিকশা মালিক-শ্রমিক ঐক্য লীগ’ ‘আওয়ামী যুব হকার্স লীগ’ ‘আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ’ ‘আওয়ামী পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা লীগ’ ‘আওয়ামী পরিবহন শ্রমিক লীগ’ ‘আওয়ামী নৌকার মাঝি শ্রমিক লীগ’ ‘আওয়ামী ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী লীগ’ ‘আওয়ামী যুব সাংস্কৃতিক জোট লীগ’, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ, ‘বঙ্গবন্ধু সংহতি লীগ’ ‘আওয়ামী ওলামা লীগ’ ‘বঙ্গবন্ধু লেখক লীগ’, ‘বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগ’ ‘বঙ্গবন্ধু বাস্তুহারা লীগ’, ‘বঙ্গবন্ধু লেখক লীগ’ বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ, মুক্তিযোদ্ধা তরুণ লীগ, দেশীয় চিকিৎসক লীগ, ছিন্নমূল মৎস্যজীবী লীগ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী লীগ, ডিজিটাল ছাত্রলীগ, ডিজিটাল আওয়ামী প্রজন্ম লীগ, ডিজিটাল আওয়ামী ওলামা লীগ, বাংলাদেশ আওয়ামী পর্যটন লীগ, তৃণমূল প্রজন্ম লীগ, সজীব ওয়াজেদ জয় গবেষণা লীগ, বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তি লীগ, আওয়ামী শিশু লীগ, আওয়ামী তৃণমূল লীগ, আওয়ামী তরুণ প্রজন্ম লীগ, আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ, বাংলাদেশ জনসেবা লীগ, আওয়ামী শিশু-কিশোর লীগ, ‘বাংলাদেশ ইলেকট্রিক লীগ’, ‘নাপিত লীগ’, ‘ফকির লীগ’ ‘জননেত্রী লীগ’, ‘প্রবীণ লীগ’ ‘ডিজিটাল লীগ’ নাগরিক লীগ’ ‘আওয়ামী হারবাল লীগ, আওয়ামী অনলাইন লীগ, বিশ্ব আওয়ামী অনলাইন লীগ, উন্নয়ন প্রচার লীগ, বিশ্বমাতা উন্নয়ন লীগ, প্রবীণ হিতোষী লীগ, ৪০টি সংগঠনের সমন্বয়ে ‘সম্মিলিত আওয়ামী পরিষদ’, তরিকত লীগ, প্রতিবন্ধী উন্নয়ন লীগ, সেবক লীগ প্রভৃতি। 

বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা ও পরিবারের নামে যত সংগঠন: ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও চেতনা গবেষণা পরিষদ, বঙ্গবন্ধু একাডেমি, বঙ্গবন্ধু যুব পরিষদ, বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী হকার্স ফেডারেশন, বঙ্গবন্ধুর চিন্তাধারা বাস্তবায়ন পরিষদ, বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদ, বঙ্গবন্ধু নাগরিক সংহতি পরিষদ, বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদ, আমরা মুজিব সেনা, চেতনায় মুজিব, রাসেল মেমোরিয়াল একাডেমি, জননেত্রী পরিষদ, দেশরত্ন পরিষদ, বঙ্গমাতা পরিষদ, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব পরিষদ, বঙ্গবন্ধু যুব পরিষদ, বঙ্গবন্ধু বাস্তুহারা লীগ, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী হকার্স ফেডারেশন, বঙ্গবন্ধু গ্রাম ডাক্তার পরিষদ, বঙ্গবন্ধু আদর্শ পরিষদ, বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি পরিষদ, বঙ্গমাতা পরিষদ, আমরা মুজিব হবো প্রভৃতি। এ ছাড়াও ধান্দাবাজির দোকানের মধ্যে রয়েছে- নৌকা সমর্থক গোষ্ঠী, নৌকার নতুন প্রজন্ম, আমরা নবীন নৌকার প্রজন্ম, আওয়ামী শিশু যুবক সাংস্কৃতিক জোট, ঠিকানা বাংলাদেশ, জনতার প্রত্যাশা ইত্যাদি। সূত্র: বিডি প্রতিদিন

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

আরও পড়ুন

দেশের জনগণের আশা আকাংখা সাথে সমন্বয় করে কাজ করতে আমরা অঙ্গিকারবদ্ধ: জাকির হোসেন প্রধানিয়া


সাইফুল আলম, ঢাকা প্রতিনিধি, মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
বুধবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৫, ১০:১৬
দেশের জনগণের আশা আকাংখা সাথে সমন্বয় করে কাজ করতে আমরা অঙ্গিকারবদ্ধ: জাকির হোসেন প্রধানিয়া

ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন

সাইফুল আলম, ঢাকা:  বাংলাদেশে নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে "বাংলাদেশ ইউনাইটেড পার্টি"। এই দলের মূল লক্ষ্য হলো মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া, জনগণের অধিকার সংরক্ষণ করা, অর্থনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন নিশ্চিত করা, একটি উন্নত ও আধুনিক বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠন করা। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতির গৌরবজনক ইতিহাসকে সমুন্নত রাখাতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। দলের গঠনতন্ত্র, আদর্শ, কাঠামো, কার্যপ্রণালী এবং পরিচালনার রূপরেখা নির্দিষ্ট করে, যা দল পরিচালনায় একটি মৌলিক দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে। 

দলটির চেয়ারম্যান মোঃ জাকির হোসেন প্রধানিয়া এর নেতৃত্বে আজ (২৮ অক্টোবর ২০২৫, সকাল সাড়ে ১১ টায়) রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের ২য় তলায় জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এক উৎসবমুখর পরিবেশে দলটির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠিত হয়। এই সময় দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। 

রাজনৈতিক দলের নাম ঘোষিত বাংলাদেশ ইউনাইটেড পার্টি ইংরেজিতে Bangladesh United Party।  সংক্ষেপে একে “বিইউপি” নামে অভিহিত হবে। বিইউপি একটি গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল ।
বিইউপি দলের মূল ভিত্তি ৪টি : সততা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং কর্ম।

উপস্থিত সকল সাংবাদিকদের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ জাকির হোসেন প্রধানিয়া দলের লক্ষ্য উদ্দেশ্য বিস্তারিত বলেন। 
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য: 
১. ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের ইতিহাস যথাযথভাবে সংরক্ষণ, মূল্যায়ন, সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
২. জুলাই যোদ্ধা, চব্বিশের শহীদ ও আহতদের যথাযথ মূল্যায়ন ও তাদের প্রাপ্য মর্যাদা নিশ্চিত করা। 
৩. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে আধুনিক ও যুগোপযোগী বিচারালয় গড়ে তোলা। 
৪. এই জনপদের হাজার বছরের সংস্কৃতি ও কৃষ্টিকে ধারন, লালন করে আমাদের নিজস্ব জাতীয়তাকে বিকশিত করা। 
৫. দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সর্বদা অবিচল থাকা। 
৬. প্রকৃত গণতান্ত্রিক চর্চা ধারাকে সমুন্নত ও প্রতিষ্ঠিত করা।
৭. মানবাধিকার, বাক্ ও ব্যক্তি স্বাধীনতা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও সকল ধর্মের সমমর্যাদা নিশ্চিত করা । 
৮. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের মাধ্যমে বেকারত্ব ও দারিদ্র দূরীকরণ।
৯. আন্তর্জাতিক বিশ্বের সাথে সামঞ্জস্য রেখে যুগোপযোগী প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।
১০. দুর্নীতি ও স্বজন প্রীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরন করা ।
১১. দেশ পুণর্গঠনে নারীদের অংশগ্রহণ ও যথোপযুক্ত স্থানে যুক্ত করা, তৃনমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সকল কর্মক্ষেত্রে নারীদের সমঅধিকার সংরক্ষন করা।
১২. পরিবেশের সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
১৩. যুব সমাজকে সৃজনশীল কাজে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
১৪. 'প্রবাসী সুরক্ষা নীতিমালা' প্রণয়ন, বিদেশে বাংলাদেশি শ্রমিকদের সব ধরনের সুরক্ষা সহ তাদের ভোটাধিকারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
১৫. দেশের স্বার্থে বলিষ্ঠ বৈদেশিক পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করা ।
১৬. দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ও বলিষ্ঠ পদক্ষেপ ও কার্যকরী ভূমিকা গ্রহণ করা।
১৭. গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। সাংবাদিক ও গণমাধ্যম কর্মীদের অধিকার নিশ্চিত করা ও তাদের সুরক্ষা প্রদানে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
১৮. কৃষক, শ্রমিক তথা মেহনতি মানুষের কল্যাণ ও তাদের যথাযথ মূল্যায়ন ও তাদের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করা।

বিইউপি'র গঠণতন্ত্রের অঙ্গীকার রাজনীতি শুধুমাত্র ক্ষমতা বা পদায়নের জন্য নয়, বরং জনগণের কল্যাণ ও রাষ্ট্রীয় ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য দেশপ্রেম, সততা, মানবতা, গণতন্ত্র স্তম্ভগুলোর জনগনের আকাংখা প্রতিষ্ঠা করা। আমরা বিশ্বাস করি, সময়ের সাথে সাথে প্রয়োজন অনুসারে গঠনতন্ত্র পরিমার্জিত হতে পারে, তবে দলের মৌলিক আদর্শ ও নৈতিক অবস্থান কখনোই পরিবর্তন হবে না। দলীয় ঐতিহ্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি উত্তরাধিকার তাদের সঠিক পথ দেখাবে, নৈতিক নেতৃত্ব গঠনে সহায়তা করবে এবং একটি উন্নত, সমৃদ্ধ, আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ গঠনের পথে অগ্রগামী করে তুলবে।
এই চূড়ান্ত দলিলের মাধ্যমে আমরা ঘোষণা করছি।
“বাংলাদেশ ইউনাইটেড পার্টি” একটি আন্দোলন, একটি দায়িত্ব, একটি স্বপ্ন কোনো একক ব্যক্তির নয়, সমগ্র জাতির জন্য।”
আসুন আমরা সকলেই দেশের স্বার্থে একতাবদ্ধ থেকে একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণকর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একসঙ্গে এগিয়ে চলি ।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

এনবিআর ২ ভাগে ভাগ হচ্ছে, ঈদের আগেই অধ্যাদেশ জারি: এনবিআর চেয়ারম্যান


মুক্তসংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক:
বুধবার, ১২ মার্চ, ২০২৫, ১০:৩৯
এনবিআর ২ ভাগে ভাগ হচ্ছে, ঈদের আগেই অধ্যাদেশ জারি এনবিআর চেয়ারম্যান

ফাইল ছবি: এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান

 

নিউজ ডেস্ক: ঈদের আগেই রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নামে দুই ভাগ হয়ে যাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), যা নতুন অর্থবছরের প্রথম থেকে কাজ শুরু করবে।

আজ বুধবার ‘আয়কর আইন, ২০২৩: সংস্কার ও প্রেক্ষিত’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার অনুষ্ঠানে এ কথা জানিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

তিনি বলেন, ‌প্রধান উপদেষ্টা গতকালও (মঙ্গলবার) আমাকে ডেকেছেন, তিনি বলেছেন ঈদের আগেই অধ্যাদেশ হয়ে যাবে। আগামী জুলাই থেকে কার্যকর হবে। যত দ্রুত সম্ভব এটা অপারেশনাল করব। আমরা সেদিকেই যাচ্ছি। শুরুটা করতে হবে এবং বিবাদ যা থাকবে সে জায়গাটা আমরা পরে অ্যাড্রেস করব।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (ট্যাক্সেশন) অ্যাসোসিয়েশন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

এনবিআর ২ ভাগে বিভক্ত হলে সেখানে কারা থাকবেন ও কাজ করবেন সেটিও তুলে ধরেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, কিছু বাইরের এক্সপার্টও থাকবে, বিশেষ করে ইকোনমিক, ফাইন্যান্স ও রিসার্চ থেকে কিছু লোক থাকবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় যারা অভিজ্ঞ তারাই মূলত এ কাজগুলো করবেন। তার সঙ্গে অক্সিলারি ফোর্স হিসেবে অন্যরাও থাকবেন। আমরা নৈর্ব্যত্তিকভাবে কোনো কিছু না দেখে আইনে যা আছে, এটা আমরা প্রয়োগ করতে পারব। সূত্র: বিডি প্রতিদিন

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম
Share on Facebook

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন এর জনপ্রিয়

সর্বশেষ - রাজনীতি