a
ফাইল ছবি
ইউক্রেন আত্মসমর্পণ করলেই রাশিয়া সেনা অভিযান বন্ধ করবে। আজ মঙ্গলবার এ কথা জানিয়েছেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ।
পেসকভ বলেন, ‘ইউক্রেন যত দ্রুত আত্মসমর্পণ করবে, রাশিয়া ততো দ্রুত সেনা অভিযান বন্ধ করবে।’ এসময় ইউক্রেনের কর্তৃপক্ষকে তাদের সেনাদের অস্ত্রসর্ম্পণ করার নির্দেশ দিতেও বলেছেন পেসকভ।
তিনি বলেন, ‘ইউক্রেন দিক থেকে সবকিছু বন্ধ করতে হবে এবং তাদের সেনাবাহিনীকে অস্ত্রসমর্পণ করার আদেশ দিতে হবে।’ যদিও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বারবার বলছে, কখনোই তার দেশ রাশিয়ার কাছে আত্মসমর্পণ করবে না।
চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়া বিশেষ সেনা অভিযান শুরু করে এবং তা এখনও অব্যাহত আছে। সূত্র: বিবিসি
ফাইল ছবি
ফিলিস্তিনের গাজায় কয়েক দিন ধরে চলমান অবরোধ এবং বিরামহীন ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তিনি বলেন, যুদ্ধেরও একধরনের নৈতিকতা রয়েছে। এসব ধ্বংসযজ্ঞ যুদ্ধের নৈতিকতা বিরোধী।
গতকাল বুধবার পার্লামেন্টে ক্ষমতাসীন একে পার্টির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সময় এরদোয়ান ইসরায়েলের প্রতি এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রতিটি যুদ্ধের নীতি-নৈতিকতা আছে। সপ্তাহজুড়ে গাজায় যা চলছে, তাতে নৈতিকতার মারাত্মক লঙ্ঘন।
অবরুদ্ধ গাজায় বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া এবং বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংসের প্রসঙ্গ টেনে এরদোয়ান বলেন, ‘মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে বাধা দেওয়া ও বেসামরিক মানুষজনের ঘরবাড়িতে বোমা হামলা করা যুদ্ধের লজ্জাজনক কৌশল। এটা যুদ্ধ নয়, এটা একটি ধ্বংসযজ্ঞ।’
এরদোয়ান আরও বলেন, ‘ইসরায়েলের ভূখণ্ডে বেসামরিক মানুষজনকে হত্যা করায়, প্রকাশ্যে সমালোচনা করি আমরা। সেই সঙ্গে গাজার নিরীহ মানুষজনের ওপর চালানো ধ্বংসযজ্ঞ ও বিরামহীন বোমাবর্ষণের মাধ্যমে হত্যার ঘটনাকেও সমর্থন করা যায় না।’
ইসরায়েলের সঙ্গে ফিলিস্তিনের সংগঠন হামাসের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সূত্রপাত গত শনিবার। ইসরায়েলের ভূখণ্ডে ওই দিন নজিরবিহীন রকেট হামলা চালায় হামাস। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ভেদ করে মাত্র ২০ মিনিটে ৫ হাজারের মতো রকেট ছুড়ে নিজেদের শক্তির জানান দেয় সংগঠনটি।
শুধু তা-ই নয়, সীমান্ত পেরিয়ে ইসরায়েলে ঢুকে পড়েন হামাসের যোদ্ধারা। শুরুতে হতবাক হলেও দ্রুত পাল্টা জবাব দেয় ইসরায়েল। পাল্টা আক্রমণ করে গাজা উপত্যকায়। এর পর থেকে ফিলিস্তিনে মুহুর্মুহু বোমা পড়ছে। ইসরায়েলি বিমান হামলায় গাজায় অসংখ্য ভবন ধসে পড়েছে। দেখা দিয়েছে খাবারের চরম সংকট। অনেক জায়গায় নেই বিদ্যুৎ। সুপেয় পানির সংকটে ভুগছেন গাজাবাসী।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গাজায় দুই শতাধিক জায়গায় বিমান হামলা চালানো হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, ইসরায়েলি হামলায় মৃত মানুষের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে, হামাসের হামলায় ইসরায়েলের মৃত্যু হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন। সূত্র: প্রথম আলো
ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
বেকারদের জন্য পর্যাপ্ত হোস্টেল তৈরি, ভাতা প্রদান, চাকরির আবেদন ফি বাতিল এবং সহজ শর্তে ঋন প্রদানসহ ৪ দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ বেকার সম্প্রদায়। শুক্রবার (২ জুন) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করে বেকারদের এ সংগঠন।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ বেকার সম্প্রদায়ের নেতাকর্মীরা চার দফা দাবি জানান। তাদের দাবি গুলো হল-
১. ঢাকাসহ প্রত্যেক বিভাগ ও জেলা শহরে পর্যাপ্ত বেকার হোস্টেল করতে হবে এবং প্রত্যেক বেকারকে বেকার ভাতা দিতে হবে।
২. সকল চাকরির আবেদন ফি ও বিশ্ববিদ্যালয় এর আবেদন ফি বাতিল করতে হবে।
৩. ৩য় এবং ৪র্থ শ্রেণির চাকরিতে (১১-২০ গ্রেড) পিএসসি'র আদলে জাতীয় নিয়োগ বোর্ড গঠন করে নিয়োগ দিতে হবে।
৪. বেকারকে উদ্যোক্তা তৈরিতে সহজ শর্তে ঋণ দিতে হবে এবং চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা যৌক্তিকতার ভিত্তিতে বৃদ্ধি করতে হবে।
এসময় ৪ দফা দাবির যৌক্তিকতা বুঝিয়ে বাংলাদেশ বেকার সম্প্রদায় এর সভাপতি মো: আল কাওছার মিয়াজী বলেন, 'ঢাকাসহ প্রত্যেক বিভাগ ও জেলা শহরে বেকারের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো আবাসন সমস্যা। বেকার বা ব্যাচেলরদের বাড়িওয়ালারা বাসা ভাড়া দিতে চায়না, আর দিলেও হাজারো শর্ত জুড়ে দেয় এবং বাসা ভাড়া কয়েকগুন বেশি দিতে হয়। বিশ্বের প্রায় প্রত্যেক দেশে বেকারদের জন্য বেকার হোস্টেল রয়েছে। বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও কলকাতার বেকার হোস্টেলে থাকতেন। তাই বর্তমানে সময়ের প্রয়োজনে বাংলাদেশেও বেকার হোস্টেলের কোন বিকল্প নেই।'
কাওছার মিয়াজী আরো বলেন, 'বেকারদের জন্য বিশ্বের প্রত্যেক দেশে বিশেষ সুযোগ সুবিধা থাকলেও কেবল বাংলাদেশই হচ্ছে একমাত্র ব্যতিক্রম, যেখানে বেকার ভাতা তো দূরের কথা এখানে বেকারদেরকে হেয় করে দেখা হয়। এ কারণেই প্রত্যেক বছর অনেক বেকারকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হয়। বাংলাদেশে যদি বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, বৈশাখী ভাতা ইত্যাদি চালু থাকতে পারে তাহলে বেকার ভাতা কেন নয়? তাই উন্নত বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও বেকার ভাতা চালু করতে হবে।'
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো: সাইফুল আলম সরকার বলেন, 'বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে চাকরিতে আবেদনের কোন ফি নেওয়া হয় না। সেখানে বাংলাদেশ যেন আবেদন ফি নেওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক যদি আবেদন ফি ব্যতীত পরীক্ষা নিতে পারে, তাহলে ব্যাংক, মন্ত্রণালয়ে বা দপ্তরে কেন ফি নিতে হবে? সময় এসেছে পরিবর্তনের। যেহেতু তাদের প্রয়োজনে তারা নিয়োগ দিবে। সুতরাং পরীক্ষার ব্যায় তাদেরকেই বহন করতে হবে।'
সহ-সভাপতি মো: সবুজ হাওলাদার বলেন, 'একদিনে একজন চাকরী প্রার্থী সর্বোচ্চ একটি বা দুটি পরীক্ষা দিতে পারে।কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে' আমাদের দেশের মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, দপ্তর ও স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কোন সমন্বয় না থাকায় একই দিনে ২০, ২৫ এমনকি ২৬টি পরীক্ষা নেওয়ার নজির রয়েছে।'
সাংগঠনিক সম্পাদক মো: অসীম নায়েক বলেন, 'শিক্ষাকে যদি জাতির মেরুদন্ড বলা হয়ে থাকে তাহলে শিক্ষার মেরুদন্ড হলো বিশ্ববিদ্যালয়। আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার মানে পিছিয়ে থাকলেও ভর্তির আবেদন ফি নিতে মোটেও পিছিয়ে নেই।'
এছাড়াও মানববন্ধনে আরো বক্তব্য প্রদান করেন, মো: আসাদ আলী খান, মো: কামরুল ইসলাম, মো: সাইদুল ইসলাম, মোঃ মিজানুর রহমান, মো: সাদেকুল ইসলাম, বঙ্কিম চন্দ্র সরকার, অহিদুল ইসলাম ফয়সাল, শ্রী পবিত্র কুমার রায়, মো: মেহেদী কাওছার, মোছা: রওশন আক্তার পিংকি, কোহিনুর আক্তার, মোছা: শায়লা আনাম, মো: মাসুম বিল্লাহ, মো: লোকমান হোসেন, মো: মোসলিম মিয়া এবং জোবায়ের আলম সৈকত প্রমুখ।