a
ফাইল ছবি
ইসরায়েল এবং পারস্য উপসাগরীয় কয়েকটি আরব দেশকে সাথে নিয়ে পারস্য উপসাগরে একটি যৌথ সমুদ্র ড্রোন টাস্কফোর্স গঠন করতে যাচ্ছে আমেরিকা।
বুধবার মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক মার্কিন পঞ্চম নৌবহর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মার্কিন পঞ্চম নৌবহর ঘোষণা করেছে যে, তারা একটি নতুন টাস্কফোর্স গঠন করবে যার সঙ্গে এয়ারবোর্ন, নৌ জাহাজ ও আন্ডারওয়াটার ড্রোন যুক্ত থাকবে। সমুদ্রে জাহাজে হামলার ঘটনা নিয়ে যখন ইরোনের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি আরব দেশ ও ইহুদিবাদী ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা চলছে তখন এই ধরণের খবর প্রকাশ পেল।
মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে তারা বলেছে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল তাদের ড্রোন বহরের সক্ষমতা দেখবে।
দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে মধ্য এশিয়ায় মার্কিন সেনারা একের পর এক ব্যর্থতার পর নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। এর আওতায় লোকজনের মনোযোগ আকর্ষণ এবং মার্কিন সেনাদের উপস্থিতির বৈধতা দেয়ার লক্ষ্যে সমুদ্রভিত্তিক এই কথিত যৌথ টাস্ক ফোর্স গঠনের তৎপরতা চালাচ্ছে।
ফাইল ছবি: ডোনাল্ড ট্রাম্প
বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত ১১ টা এবং মার্কিন সময় দুপুর ১২টায় যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দেশটির ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করছেন।
বিবিসির প্রতিবেদন বলা হয়েছে, সাধারণত মার্কিন কংগ্রেস ক্যাপিটল হিলের সামনে শপথ অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। তবে আজ ওয়াশিংটনে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা আবহাওয়ার কারণে (মাইনাস ১৩ ডিগ্রি) ইনডোরে অনুষ্ঠিত হবে তার শপথ অনুষ্ঠান। শপথের পরই জাতির উদেশে ভাষণ দেবেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের এ অভিষেক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হ্যান ঝেং, আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের মিলেই এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিসহ অনেত অতিথি।
ট্রাম্পকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস। এ নিয়ে দ্বিতীয়বার তিনি ট্রাম্পকে শপথ পড়াবেন। অনুষ্ঠানে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও শপথ গ্রহণ করবেন।
শনিবার ওয়াশিংটন যাওয়ার পথে এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প প্রথম দিনই রেকর্ডসংখ্যক নির্বাহী আদেশে সই করবেন বলে জানান। তিনি যেসব নির্বাহী আদেশে সই করবেন, তার অনেকগুলোই বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের গৃহীত নীতি বাতিল করা হবে। ট্রাম্প তার নতুন মেয়াদের প্রথম দিন থেকে যেসব কর্মসূচি গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তার মধ্যে গণবিতাড়ন কর্মসূচি অন্যতম। সূত্র: যুগান্তর
ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
সাইফুল আলম, ঢাকা: আসন্ন জাতীয় বাজেটে তামাকজাত দ্রব্যের কর কাঠামো সংস্কার ও কঠোর নজরদারি করতে হবে। এজন্য জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাকজাত দ্রব্যের ওপর সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ, কর আদায় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা ডিজিটালাইজেশন এবং ধোঁয়াবিহীন তামাকের কর ফাঁকি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশে কর্মরত তামাক বিরোধী সংগঠনগুলো। মঙ্গলবার (২৭ মে, ২০২৫) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত প্রাক বাজেট সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব দাবি জানিয়েছে। বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট, বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি এবং ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট যৌথভাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরো’র প্রকল্প কর্মকর্তা ইব্রাহিম খলিলের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের সমন্বয়ক সাইফুদ্দিন আহমেদ, প্রত্যাশা মাদক বিরোধী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হেলাল আহমেদ, বিশিষ্ট আইনজীবি ও নীতি বিশ্লেষক মাহবুবুল আলম তাহিন, ভাইটাল স্ট্রাটেজিস এর টেকনিক্যাল এডভাইজর আমিনুল ইসলাম সুজন, একাত্তর টিভির বিশেষ প্রতিনিধি সুশান্ত সিনহা, দেশ রুপান্তর পত্রিকার বিজনেস এডিটর মাসুম বিল্লাহ, তামাক নিয়ন্ত্রণ গবেষক নাসিরুদ্দিন শেখ, এইড ফাউন্ডেশনের প্রকল্প পরিচালক শাগুফতা সুলতানা ও প্রমুখ ব্যাক্তিবর্গ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রকল্প কর্মকর্তা মিঠুন বৈদ্য। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বিদ্যমান তামাক কর ব্যবস্থা অত্যন্ত জটিল ও ত্রুটিপূর্ণ। পাশাপাশি বিদ্যমান একাধিক মূল্যস্তর তামাক কোম্পানিগুলিকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দিতে সহায়তা করছে। সমস্যা সমাধানে অ্যাড ভেলোরেম কর পদ্ধতির পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক পদ্ধতি চালুর দাবি জানানো হয়। বক্তারা তুলে ধরেন, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর উৎপাদন দ্বিগুণ হলেও মুনাফা বেড়েছে পাঁচ গুণ। যা প্রমাণ করে তামাকজাত দ্রব্যের কর ও মূল্য বাড়ালেও সরকারের রাজস্ব আয় কাঙ্ক্ষিত হারে বাড়েনি। পাশাপাশি ব্যবহার হ্রাসেও কোনো প্রভাব পড়েনি।
বক্তারা আরো বলেন, জর্দা ও গুলসহ ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রব্যের ওপর কার্যকর কর আরোপ ও ফাঁকি রোধে এখনো কোনো শক্তিশালী ব্যবস্থা নেই। বাজারে ৩৫০টি কোম্পানির ৮০০টির বেশি ব্র্যান্ডের এসব পণ্যের অধিকাংশেরই লাইসেন্স নেই এবং নির্ধারিত ব্যান্ডরোল ও স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা নেই। এর ফলে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। উল্লেখ্য, দেশে ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহারকারীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হলেও এই খাত থেকে আদায়কৃত করের পরিমাণ সিগারেট ও বিড়ি থেকে আদায়কৃত মোট করের ৬০০ ভাগের এক ভাগ।
তারা বলেন, ডিজিটাল ট্যাক্স ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু না থাকায় স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল ব্যবস্থাও কার্যকর হচ্ছে না। বিশেষ করে বিদেশি সিগারেটের প্যাকেটে ব্যান্ডরোল না থাকায় সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। এমতাবস্থায় তামাকজাত দ্রব্য প্রস্তুত ও বিক্রেতাদের বাধ্যতামূলক লাইসেন্সিংয়ের আওতায় আনা, নিয়মিত বাজার তদারকি, এবং এনবিআর ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া জরুরি।
এছাড়া, সংবাদ সম্মেলনে তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। তামাক পাতা রপ্তানি শুল্ক মওকুপ করায় গত ৭ বছরে সরকার ১৫ হাজার কোটি টাকারও অধিক রাস্বস্ব হারিয়েছে। খুবই উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, গত এক বছরেই ৫০,০০০ একর জমিতে তামাক চাষ বেড়েছে। অথচ এই জমিতে খাদ্যশস্য উৎপাদন করলে ডাল ও গমের আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা যেত। এছাড়া তামাক চাষে ব্যবহৃত জমির কারণে পশুপালন কমে যাচ্ছে, শিশুদের পুষ্টি ও শিক্ষায় ব্যাঘাত ঘটছে এবং পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরেন, যেমন—
> সকল তামাকজাত দ্রব্যের উপর সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা।
> ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রব্যের জন্য ডিজিটাল ট্যাক্স ট্র্যাকিং ও ব্যান্ডরোল চালু করা।
> সকল তামাকজাত দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও বিক্রেতাদের জন্য বাধ্যতামূলক লাইসেন্সিং ব্যবস্থা কার্যকর করা
> মোড়কে উল্লেখিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (MRP) তে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় নিশ্চিতে মনিটরিং ব্যবস্থা শক্তিশালী করা।
> ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নিয়মিত বাজার তদারকি করা
> শক্তিশালী তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণ নীতি ও তামাক কর নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা।
> তামাক পাতা রপ্তানিতে ২৫% শুল্ক পুনর্বহাল করা।
সংবাদ সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, বাজেটে তামাক নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জনস্বাস্থ্য রক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করা হোক।