a
ফাইল ছবি
ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযানে সহায়তা করলে চীনকে কঠোর পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
আজ সোমবার ইতালির রাজধানী রোমে এ বৈঠকে বসতে যাচ্ছে চীনা ও মার্কিন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের মাঝে। এর আগেই এ ধরনের হুমকি এল। বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য দিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি।
নির্দিষ্টভাবে কোনও কর্মকর্তার নাম উল্লেখ না করে আমেরিকার বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয় যে, ইউক্রেন অভিযানে চীনের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছে রাশিয়া।
ওয়াশিংটনে চীনা অ্যাম্বেসি দাবি করেছে, এ ব্যাপারে তারা কিছুই জানে না।
উল্লেখ্য, ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পরাশক্তি রাশিয়া। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোর থেকে এই অভিযান শুরু করে। এরই মধ্যে সোমবার ১৮তম দিন অতিবাহিত হয়েছে এই অভিযান। বিগত এইদিনে ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি নগরী দখল করে নিয়েছে রুশ বাহিনী। সূত্র: বিবিসি
ফাইল ছবি
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সদর দফতরের একেবারে নিকটে একটি পাতাল রেলওয়ে স্টেশনে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এরপরই মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) এ ঘটনা ঘটে বলে খবর প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, পাতাল রেলওয়ে স্টেশনের বেশ কয়েকটি এলাকায় গোলাগুলি হয়। এ সময় ওয়াশিংটনের আরলিংটনের কাছে পেন্টাগনের কর্মীদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। কয়েকজন আহত হয়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনাস্থল থেকে মাত্র কয়েক গজ দূরে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সদর দফতর পেন্টাগণের প্রধান প্রবেশ পথ রয়েছে।
এক টুইট বার্তায় পেন্টাগনের নিরাপত্তা বহিনীর প্রধান বলেন, ট্রানজিট সেন্টারের একটি ঘটনায় পেন্টাগন লকডাউন করা হয়েছে এবং সাধারণ লোকজনকে আক্রান্ত এলাকাটি এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।
ছবি সংগৃহীত
কয়েক বছর ধরে পরেন একটা শার্ট, ওপরের বোতাম তার ছেঁড়া। কেউ একজন জিজ্ঞাসা করতে বলেছিলেন, "নষ্ট না হলে আমি কি করব, ফেলে তো দিতে পারি না !"
অথচ বাবা তার রাউজানের জমিদার। লন্ডনে পড়তে গিয়ে তার যে গাড়ি ছিল, দেশ থেকে বড়ো কেউ গেলে সে গাড়িই ধার দেয়া হতো তাদের। তিনি যে দর্জির কাছে কাপড় সেলাই করতেন, সে দর্জি ছিলেন ব্রিটিশ রাজপুত্র প্রিন্স চার্লসের ব্যক্তিগত দর্জি৷ দেশে ফিরে দেশের মানুষের জীবদ্দশা দেখে সেই বিলাসী জীবন ত্যাগের প্রতিজ্ঞা করেছিলেন জাফরুল্লাহ, আমৃত্যু তাই পালন করেছেন।
লন্ডনের প্রকাশ্য রাস্তায় নিজেদের পাসপোর্টে আ'গুন ধরিয়ে দিলো কয়েকজন বন্ধু। এরা সবাই এবারের এফআরসিএস পরীক্ষার্থী৷ পরীক্ষা আর দেয়া হলো না, রাষ্ট্রহীন নাগরিক হিসেবে লন্ডন থেকে ফেরত পাঠানো হলো ভারতে৷ দেশের মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন দিয়ে পাকিস্তানের পাসপোর্ট পোড়ানো সে বন্ধুদের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন ডা.জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
ভারতে এসে আগরতলা ক্যাম্পের একপাশে চট-বেড়া দিয়ে গড়ে তুললেন ৪৮০ শয্যার ফিল্ড হাসপাতাল। দিনরাত এক করে হাজার হাজার মানুষের জীবন বাঁচানোর কাজ চলল তাতে। যুদ্ধ শেষ হলে এ হাসপাতালই হয়ে উঠল গরিবের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র৷
আজ ৫০ বছর পরেও, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নর্মাল ডেলিভারি বা ডায়ালাইসিস খরচ ২৫০০ টাকা৷ করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর ভদ্রলোকের জন্য ভিআইপি কেবিনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল, আনা হচ্ছিল দামী ওষুধ৷ দুটোকেই 'না' করে জাফরুল্লাহ বললেন, ' নিজের হাসপাতালের ওপর নিজে ভরসা না রাখলে মানুষ কি করে রাখবে? যে ওষুধ গরীবে কিনে খেতে পারবে না, সে ওষুধ আমি নেব না।'
১৯৮২ সালে জাতীয় ওষুধ নীতির নেতৃত্ব দিয়েছেন জাফরুল্লাহ। স্বপ্নবাজ এ লোকটির হাত ধরেই ৯০ শতাংশ ওষুধ আজ দেশেই তৈরি হয়। বিনামূল্যে বিলি হয় গণস্বাস্থ্যের ওষুধ। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রই আবিষ্কার করেছিল বাংলাদেশের করোনা টিকা বঙ্গভ্যাক্স, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন পেয়েছিল যে টিকা, পায়নি কেবল বাংলাদেশে।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চাকরির কয়েকটা বাঁধাধরা নিয়ম তিনি করেছিলেন। কর্মরতদের ধূ'মপান নিষিদ্ধ । প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী ড. ওয়াজেদ মিঞার চাকরির ব্যাপারে ১৯৯৬ সালে নেত্রী নিজেই ফোন করেন জাফরুল্লাহকে। তিনি শেখ হাসিনাকে তখনই সাফ জানিয়েছিলেন, ' ধূ'মপান ছাড়তে না পারলে চাকরি হবে না। ' বাধ্য হয়ে একমাসেই ধূ'মপান ছাড়েন ডা. ওয়াজেদ।
দোর্দণ্ড প্রতাপে যখন ক্ষমতায় এসেছেন জিয়াউর রহমান, জাফরুল্লাহকে মেজর জিয়া হাতে একটা ফাঁকা চেক ধরিয়ে আদেশ দিলেন, মন্ত্রী হও৷ সেদিন গরিবের ডাক্তার ৪ পৃষ্ঠার চিঠি লিখে জবাব দিয়েছিলেন, একজনও স্বাধীনতাবিরোধী থাকলে সে মন্ত্রীসভায় তিনি যাবেন না৷ ৮-১৮'র তরুণরা যখন নির্লিপ্ত, তখন ৮০ বছর বয়সেও হুইল চেয়ারে রাজপথ দাপিয়ে বেড়িয়েছেন এই মানুষটি৷ দাঁড়িয়েছেন বিচারের কাঠগড়ায়,পেয়েছেন অর্থদন্ডও।
নিজ প্রতিষ্ঠান গণস্বাস্থ্যের সম্পদ আছে কয়েক হাজার কোটি টাকার।পেয়েছেন ম্যাগসেসে পদকের মতো অসংখ্য আন্তর্জাতিক সম্মাননা। অথচ সমস্ত জীবন দেশের জন্য উৎসর্গ করে কপর্দকহীন হয়ে চলে গেলেন একগুঁয়ে মানুষটি। একেকটা হাসপাতাল যখন হয়ে উঠছে মানুষ মারার কল, তখন গরিব যাতে কম খরচে ক্যানসার চিকিৎসা পায়, ওষুধ পায়, তার বন্দোবস্ত করে গণস্বাস্থ্য হাসপাতাল গড়েছেন মানুষটি।
জীবন-মরণের মাঝখানে দাঁড়িয়ে শেষবার জাফরুল্লাহ বলেছিলেন, কিছু হলে দেশেই হোক, বিদেশে চিকিৎসা তিনি কিছুতেই নেবেন না।
সারাজীবনের মতো একবারই এই মৃত্যু সাজ,
এতদিন প্রাণ ছিলো, অমরত্ব শুরু হলো আজ..
এই জেদ, এই উদ্যম,এই দেশপ্রেমকে কুর্নিশ। আপনি জিতে গেছেন ১৬ কোটি হৃদয়৷ অভিবাদন, মহামানব জাফরুল্লাহ চৌধুরী!
-ফেসবুক থেকে সংগ্রহীত