a
ফাইল ছবি
ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইউরোপ জোটবদ্ধ হয়ে রুশদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা দিলেও এখন সামরিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে রাশিয়ার সঙ্গে কি ধরনের আচরণ করা হবে তা নিয়ে খোদ ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যেই বড় ধরনের বিভেদ ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, রাশিয়ার সঙ্গে কঠোর আচরণ না করার ব্যাপারে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরন বক্তব্য দেওয়ার পর ইউক্রেন তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে এর কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে।
ম্যাকরন গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন, “আমাদের কারো উচিত হবে না রাশিয়াকে অবমাননা করে কথা বলা, যাতে যুদ্ধ থেমে যাওয়ার পর কূটনৈতিক উপায়ে বিরাজমান সমস্যা সমাধানের পথ খোলা থাকে।”
তার এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রি কুলেবা এক টুইটবার্তায় বলেছেন, “রাশিয়াকে অবমাননা করা থেকে বিরত থাকার জন্য ফ্রান্সসহ ইউরোপের যে কোনও দেশের আহ্বান বরং ওই দেশগুলোর জন্যই অবমাননাকর এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট রাশিয়াকে অবমাননা না করার কথা বলে প্রকৃতপক্ষে তিনি নিজেই নিজেকে অবমাননা করেছে।”
পর্যবেক্ষকরা মতে, ফ্রান্স ও ইউক্রেনের মুখোমুখি অবস্থান ও তীব্র বিতর্ক থেকে রাশিয়াকে নিয়ে ইউরোপীয়দের মধ্যে গভীর মতপার্থক্য ও বড় ধরনের বিভেদ লক্ষ্য করা যায়। ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালির মতো ইউরোপের বৃহৎ দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার দীর্ঘদিন ধরে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় আছে।
বিশেষ করে অর্থনৈতিক, জ্বালানি ও ইউরোপে নিরাপত্তা ক্ষেত্রে রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা অনেক পুরাতন। এ অবস্থায় ওই দেশগুলো রাশিয়াকে অবমাননা না করা, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান গ্রহণ না করা এবং সর্বোপরি যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধ বন্ধ করে ওই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে কথা বলছে।
অন্যদিকে ব্রিটেন, পোল্যান্ড ও পূর্ব ইউরোপের বাল্টিক অঞ্চলের দেশগুলো চাইছে রাশিয়াকে সামরিক উপায়ে পরাজিত করার জন্য সবাই যেন ইউক্রেনকে সহযোগিতা করে। এই দেশগুলো মনে করে মস্কোকে পরাজিত করা ছাড়া বিশ্বে বিশেষ করে ইউরোপে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
প্রকৃতপক্ষে, ইউরোপে মার্কিন মিত্ররা যুদ্ধংদেহী মনোভাব দেখালেও ইউরোপের বৃহৎ ও প্রভাবশালী দেশগুলো ভালো করেই জানে পরমাণু অস্ত্রধর রাশিয়া সামরিক দিক দিয়ে অনেক শক্তিশালী একটি দেশ। এ রকম একটি দেশকে উস্কানি দেওয়া হলে ইউরোপের জন্য অনেক বড় বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। এ অবস্থায় ইউরোপের যেসব দেশ রাশিয়াকে এক হাত দেখে নিতে চায় তারা আসলে অনেক বড় ঝুঁকি নিচ্ছে এবং গোটা ইউরোপের নিরাপত্তাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। অথচ আটলান্টিকের ওপারে যে আমেরিকার উস্কানিতে ইউরোপের এ দেশগুলো নিজেদেরকে ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিয়েছে সেই আমেরিকার জন্য কোনও ধরনের নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়নি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যে ইউরোপ শান্তিতে ছিল সেই ইউরোপ মার্কিন উস্কানিতে নজিরবিহীন বিপর্যয়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়াকে নিয়ে কি সত্যিই নিজেরা ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়তে যাচ্ছে ইউরোপীয় দেশগুলো? আর ওদিকে আটলান্টিকের ওপারে আমেরিকা নিজেদের নিরাপদ রেখে অস্ত্র ব্যবসা চালাতে যা করনীয় তাই করে যাবে কৌশলে। সূত্র: আল-জাজিরা/বিডি প্রতিদিন
ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় বসার মাত্র পাঁচ সপ্তাহ পার হতে না হতেই লিজ ট্রাসের ক্ষমতা টালমাটাল অবস্থায় পড়েছেন। এবার লড়ছেন গদি রক্ষার লড়াইয়ে। গুঞ্জন চাউর হচ্ছে ক্ষমতা হারাতে যাচ্ছেন লিজ। এরই মধ্যে খবর এলো ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুয়েলা ব্রাভারম্যান পদত্যাগ করেছেন।
স্থানীয় সময় বুধবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে তিনি প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাসের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। খবর বিবিসির।
লিজ ট্রাস ইতোমধ্যে নিজ দলের এমপিদের ব্যাপক অসন্তোষের মুখে রয়েছেন। এমন সঙ্কটময় সময়ে সুয়েলা ব্রাভারম্যানের পদত্যাগ দেশটির সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে আরও অশান্তি বাড়াবে।
এর আগে, ট্যাক্স ইস্যুতে পদত্যাগ করেন অর্থমন্ত্রী কাওয়াসি কোয়ারতেং। এরপরই গুঞ্জন ওঠে প্রধানমন্ত্রীকেও শিগগির পদত্যাগ করতে হতে পারে।
বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, সুয়েলা মন্ত্রিপরিষদের দুটি নীতি ভঙ্গ করেন। প্রথমত সরকারি কাজে তিনি ব্যক্তিগত ই-মেইল ব্যবহার করেন। দ্বিতীয়ত তিনি এমন একজন ব্যক্তিকে সরকারি নথি প্রদান করেন, যার কাছে এ নথি দেওয়ার কথা নয়।
পদত্যাগপত্রে সুয়েলা ব্রাভারম্যান প্রধানমন্ত্রী ট্রাসের সমালোচনা করেছেন। বিশেষ করে ট্রাসের নীতির কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। ট্রাসকে তিনি লেখেন, ‘এই সরকারের নির্দেশনা নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন। আমাদের ভোটারদেরকে প্রধান প্রধান যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল আমরা শুধু তা ভঙ্গই করিনি বরং নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলোকে, যেমন সামগ্রিক অভিবাসন সংখ্যা হ্রাস করা, অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করা, বিশেষ করে ছোট ছোট নৌকায় করে বিপজ্জনকভাবে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে আশ্রয়প্রার্থীদের আসা বন্ধা করার মতো প্রতিশ্রুতির প্রতি সম্মান রাখার বিষয়ে এই সরকারের স্বদিচ্ছা নিয়েও আমার গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘সরকারের ভুলের দায় স্বীকার করতে হবে এবং সরকারকে জনগণের উপর নির্ভর করতে হবে। আমরা ভুল করিনি এমন ভান করা এবং জিনিসগুলো জাদুকরিভাবে ঠিক হয়ে যাবে আশা করাও ঠিক নয়।’
এদিকে, এতো কিছুর পরও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করার কোনো পরিকল্পনা নেই লিজ ট্রাসের। তার রাজনৈতিক মুখপাত্র বুধবার (১৯ অক্টোবর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এ মাসের শেষের দিকেও লিজ ট্রাস ক্ষমতায় থাকবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে তিনি পদত্যাগ করছেন না। সূত্র: ইত্তেফাক
ফাইল ছবি
করোনার কারনে ৩ দফা পিছিয়ে রোববার (৫ সেপ্টেম্বর) থেকে এয়ার বাবলের আওতায় বাংলাদেশ-ভারত বিমান চলাচল ফের আরম্ভ হচ্ছে। আজ শনিবার (৪ সেপ্টেম্বর) বেসামরিক বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দিয়েছে।
চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম. মাফিদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সব ধরনের যাত্রীর ভ্রমণের ৭২ ঘণ্টা আগে করোনা পরীক্ষা সরকারি কেন্দ্র থেকে সম্পন্ন করতে হবে। দু'দেশের নিয়ম অনুসারে যাত্রীরা কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন। বিমান জানায়, ৫ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকা-কলকাতা রুটে বিমানের প্রথম ফ্লাইট যাবে। করোনা মহামারির মধ্যে গত বছরের অক্টোবরে ভারতের সঙ্গে 'এয়ার বাবল' চুক্তির আওতায় বিমান চলাচল শুরু হয়েছিল।
মহামারিতে ভারত বিপর্যস্ত হয়ে পড়লে চলতি বছরের এপ্রিলে বন্ধ হয় বিমান চলাচল। দুই দেশের করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে ৪ সেপ্টেম্বর ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয় বেবিচক। প্রায় চার মাস পর বেসামরিক বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষ ৫ সেপ্টেম্বর থেকে ভারতের সঙ্গে আকাশপথে বিমান চলাচলের ঘোষণা আসলো।
এর আগে গত ২৮ আগস্ট বেবিচককে ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের এক চিঠিতে ৩ সেপ্টেম্বর থেকে এয়ার বাবল চুক্তির আওতায় ফ্লাইট শুরুর প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রস্তুতির অভাবে সেই দিন বিমান চলাচল শুরু করতে পারেনি বাংলাদেশ। ২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ আবারো দেশটিকে চিঠি পাঠায়।