a
ফাইল ছবি
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ইরানকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। এই হুমকির পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী-বা আইআরজিসি’র প্রধান কমান্ডার মেজর জেনারেল হোসেইন সালামি বলেছেন, প্রতিরক্ষানীতিতে শত্রুদের যেকোনো হঠকারী পদক্ষেপের ‘তাৎক্ষণিক, গুরুতর ও শক্তিশালী জবাব’ দেওয়া হবে। খবর ইরনার।
বুধবার পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালিতে মোতায়েন আইআরজিসি’র নৌসেনাদের যুদ্ধ প্রস্তুতি পরিদর্শনের পর এ সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন। তিনি বলেছেন, ‘ইরানকে হুমকি দিয়ে যারা কথা বলছে বিশেষ করে দখলদার ইসরায়েলের জেনে রাখা উচিত যে কোনো স্থানে যে কোনো মাত্রার হামলার দাঁতভাঙা জবাব দিতে তেহরান প্রস্তুত রয়েছে। ইরানের স্বার্থে আঘাত হানা হবে অথচ তেহরান তার জবাব দেবে না- এমন দিনের অবসান হয়েছে। ইরানের শত্রুরা যেন আর কোনোদিন সেই দিনগুলো ফিরে আসার স্বপ্নে বিভোর না হয়।’
উল্লেখ্য. এর আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনেট সেনাবাহিনীর উত্তর কমান্ডে ভ্রমণকালে তেহরানকে লক্ষ্য করে এক হুমকিতে বলেন, সমস্ত মধ্য প্রাচ্যে যখন আগুন জ্বলছে তখন তারা (ইরান) শান্ত্বভাবে তেহরানে বসে থাকতে পারে না। ইসরায়েল একাই দেখে নেবে ইরানকে। আমরা ইরানের বিরুদ্ধে বিশ্বকে সমবেত করার চেষ্টা করছি। একই সঙ্গে আমরা এককভাবেও কাজ করতে জানি। ইরান জানে আমাদের নিরাপত্তার হুমকি হলে তার জন্য কী মূল্য দিতে হয়।
ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেল বিরোধী রিপাবলিকানরা। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ২১৮টি আসনে দলটির প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেতে কংগ্রেসের ৪৩৫ আসনের মধ্যে ২১৮টি আসন প্রয়োজন হয়।
নিম্নকক্ষের ঘোষিত সর্বশেষ ফলাফল অনুযায়ী রিপাবলিকানরা ২১৮টি এবং ডেমোক্র্যাটরা ২০৯টি আসনে জয়ী হয়েছে। বাকি আসনগুলোর ফল এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
সিবিএস নিউজের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, রিপাবলিকানরা ২১৮–২২৩টি আসনে জয়ী হতে পারে। এরই মধ্যে রিপাবলিকানরা ২১৮টি আসন নিশ্চিত করে ফেলেছে। এর অর্থ হলো মেয়াদের বাকি সময়টাতে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে তার এজেন্ডা (সিদ্ধান্ত) বাস্তবায়ন করতে অনেকক্ষেত্রে বেগ পেতে হবে।
তবে উচ্চ কক্ষ বা সিনেটের ক্ষমতা ডেমোক্যাটদের হাতেই রয়েছে। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের উভয়কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেবে বলে দাবি করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা সেই ঘোষণা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেলেও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতাসীনদের হাতেই রয়ে গেল।
এদিকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন রিপাবলিকান নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন তিনি।
এ সময় সমর্থকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে আবার মহান ও গৌরবময় করার জন্য আমি আজ প্রেসিডেন্ট পদে আমার প্রার্থিতা ঘোষণা করছি। সূত্র: সিবিএস নিউজ, বিবিসি।
ফাইল ছবি
জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের এমপি বলেছেন, দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। নির্বাচনের ওপর সাধারণ মানুষের কোন আস্থা নেই। দেশের সাধারণ মানুষ মনে করছে, কারচুপি করতেই ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ করতে চাচ্ছে ক্ষমতাসীনরা। দেশের মানুষ একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রত্যাশা করছেন।
তিনি বলেন, ১৯৯০ সালের পর থেকে বারবার সংবিধান কাটাকাটি করে এক ব্যক্তির শাসন কায়েম করেছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। এখন সকল ক্ষমতা এক ব্যক্তির হাতে। কর্তৃত্ববাদী কোন সরকারের অধীনেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। আমাদের অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে একথা বলা-ই যায়। একই নির্বাচন কমিশন নির্দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে পারলেও দলীয় সরকারের অধীনে তা সম্ভব হয়নি।
কারণ, কর্তৃত্ববাদী সরকারের প্রার্থীদের সাথে অন্য প্রার্থীদের নির্বাচনে হলে কখনোই লেভেল প্লেইং ফিল্ড হয় না। মুক্তিযুদ্ধে চেতনা অনুযায়ী সমতা, সামাজিক ন্যায় বিচার ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, দুর্ণীতিতে দেশ ভেসে যাচ্ছে। অসাধু ব্যবসায়ী, আমলা আর রাজনীতিবীদদের একটি চক্র ব্যবসার নামে দেশে লুন্ঠন করছে। রাজনীতির অবস্থা এমন হয়েছে যে, নির্বাচনে যারা পরাজিত হবে, তারা যেন নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। দেশের মানুষ এমন রাজনৈতিক পরিবেশ দেখতে চায় না।
আজ দুপুরে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানীর কার্যালয়ে কৃষক শ্রমিক লীগের নেতৃবৃন্দ জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে আসেন। এসময় বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের নেতৃবৃন্দকে স্বাগত জানিয়ে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, কেউ দেশ ও মানুষের কথা বললেই তাকে দমিয়ে দেয়া হচ্ছে। কেউ সরকারের সমালোচনা করলেই তাকে দেশদ্রোহী হিসেবে গণ্য করা হয়। দেশের ইতিহাস বিকৃত করা হচ্ছে রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে।
এসময় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, এমন বালাদেশের জন্য আমরা যুদ্ধ করিনি। দেশে মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নেই। গণভবনের একজন কর্মচারীর যে সম্মান আছে, তা এখন মন্ত্রী ও এমপিদেরও নেই। সরকারি কর্মচারীরা এখন লাগামহীন। মানুষের সম্মান ও মর্যাদার ভারসম্য ফিরিয়ে আনতে হবে। এভাবে দেশ চলতে পারে না।
এসময় আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি, জাতীয় পার্টি মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু এমপি, জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি, কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, কো-চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি প্রমুখ।