a
ফাইল ছবি
পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা ৪টি দেশ আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ-তে যে প্রস্তাব পাস করেছে তার কারণে ইরান নিজের অবস্থান থেকে ১ ইঞ্চিও সরে আসবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট সাইয়্যেদ ইবরাহিম রায়িসি।
আইএইএ’র বোর্ড অব গভর্নর্সের ত্রৈমাসিক বৈঠকে আমেরিকা ও তিন ইউরোপীয় দেশ ইরানবিরোধী প্রস্তাবটি ভোটাভুটিতে পাস হয়। চীন ও রাশিয়া কঠোরভাবে ওই প্রস্তাবের বিরোধিতা করলেও প্রস্তাবটিতে ভুয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ইরানের তিনটি ‘অঘোষিত স্থানে’ কথিত ইউরেনিয়ামের সন্ধান পাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় এবং আইএইএ’কে পূর্ণ সহযাগিতা করার জন্য তেহরানের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
ইরানের চহারমহাল ও বখতিয়ারি প্রদেশের রাজধানী শাহরে কোর্দ সফরের সময় এক সমাবেশে প্রেসিডেন্ট রায়িসি ভাষণ দেন। সেখানে তিনি আইএইএ-তে পাস হওয়া প্রস্তাব সম্পর্কে পশ্চিমাদের উদ্দেশ করে বলেন, আপনারা গ্রিসের আদালতের রায় দেখেছেন। আপনাদের কাছে আর কতবার প্রমাণ করতে হবে যে, আমরা ন্যায়সঙ্গত উপায়েই আমাদের ন্যায্য অধিকার আদায় করে ছাড়ি?
তিনি আরো বলেন, আপনারা আর কতবার ইরানি জনগণকে পরীক্ষা করবেন? আর কতকাল আপনারা ইরানি কর্মকর্তাদের কথা কানে তুলবেন না? আপনারা কী মনে করেন যে, আইএইএ-তে প্রস্তাব পাসের কারণে আমরা আমাদের অবস্থান থেকে সরে আসব? ইরান এক পা-ও পিছিয়ে আসবে না।
সূত্র: বিডি প্রতিদিন ও প্রেস টিভি।
ফাইল ছবি
চীনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শি জিনপিং তৃতীয় মেয়াদের জন্য সমর্থন প্রাপ্তি নিশ্চিত করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি তার বাকি জীবন ক্ষমতায় থাকার পথে থাকার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখলেন।
চীনা ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের প্রায় তিন হাজার সদস্য সর্বসম্মতভাবে শিকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুনঃনির্বাচিত করেছে। সংবিধানে পাঁচ বছর করে দুই মেয়াদের বেশি প্রেসিডেন্ট থাকার বিধানটি প্রত্যাহার করার প্রেক্ষাপটে এবারের এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে অন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল না বলে জানা গেছে। ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির নিযুক্ত এনপিসির ২,৯৫২ জন সদস্য ঘণ্টাখানেকের মধ্যে শিকে ভোট দেন। কেউ তার বিরুদ্ধে ভোট দেননি। শি এছাড়াও দেশের সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবেই তৃতীয় মেয়াদে সমর্থন লাভ করেন।
৬৯ বছর বয়স্ক শি ২০১২ সাল থেকে ক্ষমতায় রয়েছেন। মাও সেতুংয়ের পর তিনিই চীনের সবচেয়ে শক্তিশালী নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি যে কোনো সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জারকে সরিয়ে দিয়ে তার সমর্থদকের দিয়ে দল ভারী করেন বলে বলা হয়ে থাকে।
তিনি অক্টোবরে তৃতীয়বারের মতো পাঁচ বছর মেয়াদি সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সমর্থন আদায় করেন।
এনপিসি নতুন ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে হ্যান ঝেং এবং নতুন পার্লামেন্ট চেয়ার হিসেবে ঝাও লেইজিকে নির্বাচিত করা হয়েছে। উভয়েই শির আনুকূল্যপ্রাপ্ত হিসেবে পলিটব্যুরো স্ট্যান্ডিং কমিটিতে ছিলেন। সূত্র : আল জাজিরা
ছবি সংগৃহীত
নিউজ ডেস্ক: চলতি বছরে ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন হওয়া উচিত বলে মনে করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি জানান, এ বিষয়ে তাঁর অবস্থান আগের মতোই। দেশের ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারণের অধিকার একটি নির্বাচিত সরকারেরই হাতেই রয়েছে।
গতকাল বুধবার ঢাকা সেনানিবাসের সেনা প্রাঙ্গণে অফিসার্স অ্যাড্রেসে সেনাপ্রধান বলেন, ঢাকায় অবস্থানরত সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন। অনেক কর্মকর্তা ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন।
অনুষ্ঠানে নির্বাচন ছাড়াও করিডর, বন্দর, সংস্কারসহ সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে উপস্থিত সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এ তথ্যগুলো নিশ্চিত হওয়া যায়।
সেনাপ্রধান মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মানবিক করিডর–সংক্রান্ত আলোচনার বিষয়েও কথা বলেন। এ–বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাখাইন রাজ্যে মানবিক করিডর বিষয়ে সিদ্ধান্ত একটি নির্বাচিত সরকার থেকেই আসতে হবে এবং তা বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই হতে হবে। এখানে জাতীয় স্বার্থকে আগে দেখতে হবে। যা করার জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেই করতে হবে। যা-ই করা হোক না কেন, রাজনৈতিক ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে হতে হবে।
‘মব ভায়োলেন্স’: ‘মব ভায়োলেন্স’ বা উচ্ছৃঙ্খল জনতার সংঘবদ্ধ বিশৃঙ্খলা বা আক্রমণের বিরুদ্ধেও কঠোর বার্তা দিয়েছেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সেনাবাহিনী এখন আরও কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে। সংঘবদ্ধ জনতার নামে বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতা আর সহ্য করা হবে না।
বন্দর প্রসঙ্গ: চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশিদের হাতে দেওয়া নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনা ও বিতর্কের বিষয়েও কথা বলেছেন সেনাপ্রধান। এ–সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এখানে স্থানীয় মানুষ ও রাজনৈতিক নেতাদের মতামত প্রয়োজন হবে। রাজনৈতিক সরকারের মাধ্যমে এ ধরনের সিদ্ধান্ত আসা উচিত।
সংস্কার প্রসঙ্গে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, কী সংস্কার হচ্ছে, কীভাবে হচ্ছে, এ বিষয়ে তাঁর কিছু জানা নেই। এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কোনো পরামর্শ বা আলোচনা করা হয়নি।
সামনে ঈদুল আজহা। মানুষ যেন নিরাপদে ও উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদ্যাপন করতে পারে, সে ব্যাপারে সহযোগিতা করতে বলেছেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
সেনাপ্রধান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কখনোই এমন কোনো কার্যকলাপে যুক্ত হবে না, যা জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য ক্ষতিকর। তিনি সব পর্যায়ের সেনাসদস্যদের নিরপেক্ষ থাকার এবং ভবিষ্যতে নির্বাচনী দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের নির্দেশ দেন।
পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। পাশাপাশি বলেছেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারকে আমরা সহযোগিতা করছি। সহযোগিতা করে যাব।’ সূত্র: প্রথম আলো