a
ফাইল ছবি
আজ ইসরাইলের হাইফা শহরের একটি গ্যাস ক্ষেত্রের আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। হাইফার এলাকার আশেপাশে বসবাসকারী ইসরায়েলিরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে অগ্নিকাণ্ডের ছবি শেয়ার করেছেন। তারা বলছেন, গ্যাস ফিল্ডের প্ল্যাটফর্মে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।
রুশ বার্তাসংস্থা স্পুটনিক এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ইসরাইলের গ্যাস ফিল্ডের আগুনের ছবি ছড়িয়ে পড়লে মুহুর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়।
ইসরায়েলি আক্রমনের জবাবে ফিলিস্তিনিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ভিতরই এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলো। তবে সেখানে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে কিনা তা নিশ্চিত নয়। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বলছে, কারিগরি ঝামেলার জন্যই উক্ত ঘটনা ঘটেতে পারে এবং এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।
দুই সপ্তাহ পূর্বে ইসরায়েলের হাইফার এলাকায় একটি তেল শোধনাগারে ব্যাপক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল এবং এর ফলে সেখানে ব্যাপক পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়। অগ্নিকাণ্ডের কারণে পুরো এলাকায় তেল সরবরাহ বন্ধ করে দিতে হয়েছিল। সূত্র: পার্সটুডে ও স্পুটনিক
ফাইল ছবি । তালেবান প্রতিনিধিদের সঙ্গে রাশিয়ার বিশেষ প্রতিনিধি জামির কাবুলোভ
মার্কিন জোটের পর এবার আফগানিস্তানে বেপরোয়া হয়ে উঠা তালেবানদের নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাশিয়া।
আফগানিস্তানের নতুন নতুন এলাকা দখলকারী তালেবানের সঙ্গে আলোচনায় বসা জরুরি হয়ে পড়েছে মনে করছে রাশিয়া। খবর তাসের।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তালেবানের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি বিবেচনা করছেন। যদিও এখন পর্যন্ত রাশিয়া তলেবানকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবেই মনে করে।
পেসকভ শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, আফগানিস্তানে যা কিছু ঘটছে বিশেষ করে আফগানিস্তান-তাজিকিস্তান সীমান্ত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তালেবানের সঙ্গে সংলাপ জরুরি হয়ে পড়েছে।
তবে তালেবান গোটা আফগানিস্তান দখল করে ফেললে মস্কো সম্ভাব্য তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেবে কিনা এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর পরিস্কারভাবে দেননি পেসকভ।
দিমিত্রি পেসকভ এমন সময় তালেবানের সঙ্গে সংলাপের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বললেন, যখন তালেবানের একটি প্রতিনিধিদল মস্কো সফর করছে।
তাজিকিস্তানসহ মধ্য এশিয়ার কয়েকটি দেশের সঙ্গে আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর চলমান গোলযোগ নিয়ে রাশিয়ার উদ্বেগ দূর করতে তালেবানের একটি রাজনৈতিক প্রতিনিধিদল মস্কো সফরে গেছে।
তালেবান হামলার জের ধরে আফগানিস্তানের শত শত সীমান্তরক্ষী ও সাধারণ নাগরিক এরইমধ্যে মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতে পালিয়ে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার মস্কোয় তালেবান প্রতিনিধিদল রাশিয়ার আফগানিস্তান বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি জামির কাবুলোভের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, ওই সাক্ষাতে তালেবান রাশিয়াকে এই নিশ্চয়তা দিয়েছে যে, তারা মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সীমান্তে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করবে না।
জাখারোভা শুক্রবার মস্কোয় বলেন, সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র তাজিকিস্তানেরর সঙ্গে আফগানিস্তানের সীমান্তের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বর্তমানে তালেবানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
অন্যদিকে রাশিয়া সফরকারী তালেবান কর্মকর্তা শাহাবুদ্দিন দেলোয়ার মস্কোয় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, তারা কোনো অবস্থায় আফগান ভূমিতে আইএসের মতো উগ্র গোষ্ঠীগুলোকে তৎপরতা চালাতে দেবেন না।
তিনি বলেন, কোনো প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে আফগান ভূমি ব্যবহার করতে দেয়া হবে না।তিনি আফগানিস্তানের ৮৫ শতাংশ এলাকা তালেবানের দখলে রয়েছে বলেও দাবি করেন।
তবে তালেবানের এই দাবি আফগান সরকার মেনে নেয়নি। আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী গত বুধবার ৮০টি জেলা তালেবানের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছিলেন।
ফাইল ছবি
এসো হে নবীন, বাজিয়ে সুর-লহরী উল্লাসিত নব বীণ। আজ সুর মিলিয়ে গাইব জয়যাত্রার গান, আনন্দে আহ্লাদিত নবীন প্রাণ। দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর শেষে নবীনদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। নবীনদের আগমনে ক্যাম্পাসে সৃষ্টি হয়েছে এক উৎসবমুখর পরিবেশ।
এবারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ৩৬ টি বিভাগে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছেন ২ হাজার ৭৬৫ জন শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার (৮ মার্চ) নবীন শিক্ষার্থীদের পৃথকভাবে বরণ করে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ব স্ব বিভাগ। নবীন শিক্ষার্থীদের পরিচয় পর্ব, শিক্ষার্থীদের অনুভূতি, শিক্ষকদের দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য, নবীনদের ফুল, বইসহ অন্যান্য উপহার সামগ্রী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নবীনদের বরন করে নিয়েছে।
সকাল ১১টায় বিভিন্ন বিভাগে উদ্বোধনী ক্লাস শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে ক্যাম্পাসে আসতে থাকেন বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনের নিজস্ব বাসগুলোয় ছিল নবীনদের উপচে পড়া ভিড়।
ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই ক্যাম্পাসে আসতে থাকেন নবীন শিক্ষার্থীরা। সবুজ ছায়ায় আচ্ছন্ন বিভিন্ন আড্ডা স্থান যেমন শান্ত চত্বর, শহীদ মিনার, কাঁঠাল তলা, টিএসসিসি, পোগোজ মাঠ ও বিভিন্ন ভবনের প্রাঙ্গণসহ পুরো ক্যাম্পাস নবীন-প্রবীণদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে ব্যস্ত সবাই। চলছে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার ধুম।
এদিকে নারী দিবস উপলক্ষে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এছাড়া ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্য সংগ্রহের কার্যক্রম শুরূ করেছে।
প্রথম দিনের ক্লাসের অনুভূতি জানতে চাইলে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ফুয়াদ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ক্লাস করতে পেরে অনকে ধন্য মনে করছি।”বিশ্ববিদ্যালয় যে জ্ঞান-ভান্ডার ও প্রেরণার বাতিঘর তা প্রথম দিনেই উপলদ্ধি করলাম।”
এ বিষয়ে পরিসংখ্যান বিভাগে ভর্তি হওয়া নবীন শিক্ষার্থী তন্ময় মৃধা বলেন- স্কুল-কলেজের গন্ডি পেরিয়ে প্রায় প্রত্যেক শিক্ষার্থীরই স্বপ্ন থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার। আমিও তার ব্যাতিক্রম নই। করোনা পরিস্থিতির কারনে কম বেশি সবারই স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছিল। তার উপর ভর্তিযুদ্ধের বাড়তি চাপ ছিল ভর্তিচ্ছুদের। সব মিলিয়ে নাজেহাল অবস্থায় পড়তে হয়েছে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের।
যেহেতু অটোপাশের তকমা লেগে গিয়েছে তাই বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষাই ছিল মেধার স্বাক্ষর রাখার উপযুক্ত মঞ্চ। তাই মহামারির মধ্যেও নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছি। গুচ্ছ অধিভুক্ত ২০ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করি এবং আশানুরূপ ফলাফল অর্জন করি। বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেলেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছিল আমার প্রথম পছন্দ। সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপা ও মা-বাবার আশীর্বাদে আমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগে ভর্তি হওয়ার সুযোগ অর্জন করি। দেশের অন্যতম সেরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাওয়ায় আমি এবং আমার পরিবারের সবাই ভীষণ আনন্দিত।
করোনা পরবর্তী সময়ের পর সশরীরে ক্লাস, বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন পরিবেশ, আমার সহপাঠী, শ্রদ্ধেয় শিক্ষক-শিক্ষিকা সবকিছু মিলিয়ে এক অন্যরকম অনুভুতি।