a
ফাইল ছবি
ইহুদিবাদী ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর অভিজ্ঞ জেনারেল আইজ্যাক ব্রিক বলেছেন, আগামীতে কোনো যুদ্ধে ইসরায়েল জিততে পারবে না। তিনি এ জন্য ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অপেশাদারসুলভ আচরণকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলের বর্তমান সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালনের বিষয়ে অনাগ্রহী এবং তাদের আচরণ সঠিক নয়।
তিনি আরও বলেছেন, 'সম্প্রতি আমি সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট পরিদর্শন করেছি। সেখানে সেনাদের মধ্যে হতাশা, বিশৃঙ্খলা ও অনাগ্রহ দেখেছি। এই অবস্থার পরিবর্তন না হলে আগামীতে কোনো যুদ্ধেই জিততে পারবে না ইসরাইলিরা।'
সশস্ত্র বাহিনীতে যেসব সমস্যা ও ঘাটতি রয়েছে সেগুলো সমাধানে কর্মকর্তাদের আন্তরিকতার অভাব রয়েছে বলেও জানান এই কমান্ডার। তার মতে, আগামীতে ইসরায়েল কোনো যুদ্ধে জড়ালে সেনাবাহিনীতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি ঘটবে।
এর আগেও তিনি এ ধরণের সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। এছাড়া সম্প্রতি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেত এই অবৈধ রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সূত্র : পার্সটুডে।
ফাইল ছবি
সকল আফগান পক্ষকে নিয়ে একটি নমনীয় ইসলামি সরকার গঠন করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে তালেবান। সোমবার মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন তালেবান মুখপাত্র সোহেল শাহিন।
তিনি বলেন, আফগানিস্তানে এখন যে সরকার গঠিত হবে তাতে শুধু তালেবান সদস্যরা থাকবেন না বরং সেখানে সব পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। যে কেউ তার অস্ত্র সমর্পণ করে তালেবানে যোগ দিলে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আবারো আফগানিস্তান থেকে সেনাদের ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে জানালেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি এটা অন্য আরেকজন প্রেসিডেন্টের জন্য রেখে দিতে পারি না। আফগানিস্তানে সেনা উপস্থিতি ধরে রাখার মধ্যে আর যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ জড়িত নয়।’
সোমবার হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে এমনটাই জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি ভাষণে আফগান পরিস্থিতির জন্য সকল ধরণের দোষ কাবুলের ওপরেই চাপিয়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি পূর্বের সিদ্ধান্তে অটল থাকার কথাও ব্যক্ত করেন।
জো বাইডেন বলেন, ‘আফগান সেনারা তালেবানের বিরুদ্ধে লড়বে আশরাফ গনি (সদ্যসাবেক আফগান প্রেসিডেন্ট) নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন। কিন্তু তার এ ধারণা ভুল ছিল। যেখানে আফগানরাই নিজেদের রক্ষায় লড়াইয়ে নামতে ইচ্ছুক নয়, সেখানে মার্কিনরা প্রাণ দিতে পারে না।’ সূত্র : সিএনএন, বিবিসি ও আল জাজিরা।
ফাইল ছবি: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রস্তুত হতে বলেছেন দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রবিবার (২৮ মার্চ) বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। আমি আওয়ামী লীগের সব নেতাকর্মীকে প্রস্তুত হতে বলব। সবাইকে সব অনুষ্ঠান সতর্কতার সঙ্গে করতে হবে। পাশাপাশি গত বছর মানুষের পাশে যেভাবে দাঁড়িয়েছেন, তেমনি সামনের দিনেও মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে, মানুষ যেন কষ্টে না থাকে।
তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে আমরা যা করার করব। কিন্তু দল হিসেবে আওয়ামী লীগেরও মানুষের পাশে থাকতে হবে। যে দল বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করেছে, তাদের ওপর অনেক দায়িত্ব। মানুষের জন্য খাদ্য বিতরণ, মাস্কসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ ও বিভিন্ন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হয়েছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে সারাবিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধানরা শুভেচ্ছা দিয়েছেন। এটা আমাদের জন্য সম্মানের, এটাই আমাদের সার্থকতা। তবে আমাদের যাত্রা অনেক দূরের; জাতির পিতার স্বপ্নের উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠন করতে হবে।
সরকার প্রধান বলেন, আমাদের অনেক দূর যেতে হবে। আমরা উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। এটাই জাতির পিতার স্বপ্ন। তার স্বপ্নের ক্ষুধা দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ব, এটাই প্রতিজ্ঞা।
শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে পাঁচ দেশের প্রধানরা বাংলাদেশে এসেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও ২৭টি প্রতিষ্ঠান থেকে শুভেচ্ছা বার্তা আমরা পেয়েছি। এটা বাংলাদেশের জনগণের জন্য অত্যন্ত সম্মানের। এটাই আমাদের সার্থকতা।
তিনি বলেন, সময়ের অভাবে বিদেশিদের সব বার্তা শোনাতে পারিনি। সব বার্তা সংরক্ষণে আছে। এসব তৃণমূল পর্যন্ত প্রচার করতে হবে। তাদের শুভেচ্ছা বার্তা যেন জনসাধারণ জানতে পারে। সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনকে এগুলো প্রচারে কাজ করার নির্দেশনা দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবুজ বাংলা আরও সবুজ করতে চারা রোপণ করতে হবে। এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে। কোনো জলাশয় যেন অনাবাদি না থাকে। খাদ্য উৎপাদন করে নিজেদের প্রস্তুতি রাখতে হবে। করোনা পরিস্থিতি কোন দিকে যায় বলা যায় না। যাতে অন্তত খাদ্য সংকট না হয়। আমরা নিজের খাদ্য নিজেই জোগান নিশ্চিত করে অন্যকে দেবো।
সরকার প্রধান বলেন, ভ্যাকসিন দেওয়া অব্যাহত থাকবে। তবে কেউ যাতে মাস্ক ছাড়া বাইরে বের না হয়। নিরাপদ দূরত্ব মেনে বসতে হবে। সভা-সেমিনার-কর্মশালা স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে করতে হবে। যতদূর সম্ভব খোলা জায়গায় কর্মসূচি করতে হবে। ঘরের মধ্যে করলে করোনার প্রাদুর্ভাব আরও বেশি দেখা দেয়।
শেখ হাসিনা বলেন, আজকে আমাদের প্রতিজ্ঞা হলো, বাংলাদেশে একটি মানুষও ভূমিহীন থাকবে না, গৃহহীন থাকবে না। আমরা সেই ব্যবস্থা করে যাচ্ছি। বঙ্গবন্ধু তার সংবিধান ও আইনে যে মৌলিক নির্দেশনা রেখে গেছেন, আমরা সে আলোকেই পথ চলছি। তার সব কাজ পূর্ণ করছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২১ বছর দেশ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম মুছে ফেলা হয়েছে। ৭ মার্চের ভাষণও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। বাংলাদেশকে ভিন্ন খাতে নেওয়া হয়েছিল। আমরা ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছিলাম। তারপরও চক্রান্ত থামেনি। ২০০১-এ আমাদের ক্ষমতায় আসতে দেয়নি। কিন্তু ফল ভালো হয়নি। পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। বিভিন্ন খাতে পিছিয়েছে বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, আমাদের শাসনামলে গত ১২ বছরে বাংলাদেশের আমূল পরিবর্তন হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে দেশ পরিচালনা করেছি। এত সব অর্জনে বঙ্গবন্ধুর আদর্শই কারণ। এটা নতুন কিছু না, কোনো ম্যাজিকও না। এদেশের মানুষ জাতির পিতার নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধ করে। ৭ মার্চের ভাষণে যা যা করতে বলেছেন, মানুষ তাই করেছিল। তিনিই বলেছিলেন, বাঙালিকে দাবায়া রাখতে পারবা না। আসলেও দাবায়া রাখা যায়নি, যাচ্ছে না। আমরা তার আদর্শে দেশ পরিচালনা করে এগিয়ে যাচ্ছি। সূত্র: ঢাকাপোষ্ট