a
ফাইল ছবি
ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধণ ও প্রতিমন্ত্রী অশ্বিন চৌবেসহ অন্তত ৯ জন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভায় রদবদলের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এ পদত্যাগের ঘোষণা আসে।
দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ বিষয়ে জানায়, বুধবার মন্ত্রিসভায় রদবদলের আগে হেভিওয়েট ওই মন্ত্রীরা পদত্যাগ করেছেন।
প্রসঙ্গত, গত মার্চের মাঝামাঝি থেকেই ভারতে দৈনিক করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে থাকে। একে পর এক গড়তে থাকে রেকর্ড। এরপর এপ্রিল-মে মাসে তা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। পুরো এপ্রিল-মে থেকে জুনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত দেশটিতে প্রতিদিন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন সাড়ে তিন লাখ থেকে ৪ লক্ষাধিক মানুষ।
দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যাও ছিল ৪ হাজারেরও বেশি। দেশের স্বাস্থ্যখাতের এমন বেহাল দশায় দেশটির ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন সরকারের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। চলমান এই সমালোচনার মধ্যেই আজ বুধবার পদত্যাগ করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন ও একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অশ্বিন চৌবে।
সেই সাথে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল নিশাঙ্ক এবং শ্রমমন্ত্রী সন্তোষ গাংওয়ারও পদত্যাগ করেছেন। আরও রয়েছেন কেন্দ্রীয় রাসায়নিক ও সারবিষয়ক মন্ত্রী সদানন্দ গৌদা, নারী ও শিশু কল্যাণবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সঞ্জয় ধোর্তে, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়, ভোক্তা কল্যাণবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রাও সাহেব ধানবে পাতিল এবং জলশক্তিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রতন লাল কাটারিয়া।
এ বিষয়ে এনডিটিভি বলছে, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ চলাকালে তা প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার কোন সদস্যের ভূমিকা কেমন ছিল সে বিষয়ে সম্প্রতি একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছেন দেশটির স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা। প্রতিবেদনটি এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে জমাও দিয়েছেন তারা।
এদিকে প্রতিবেদন জমা দেয়ার পরই সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় রদবদলের ঘোষণা দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার ঘোষণা অনুযায়ী, বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হবে। তার কয়েক ঘণ্টা আগেই বর্তমান মন্ত্রিসভার ৯ সদস্যের পদত্যাগের খবর এলো।
এনডিটিভি আরো জানায়, বুধবার নতুন ৪৩ জন সদস্য ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন।
ফাইল ছবি
ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় লুহানস্কের বড় শহর সেভেরোদোনেৎস্ক শহরে গভীরে ঢুকে পড়েছে। আজ সোমবার লুহানস্কের আঞ্চলিক গভর্নর সেরহি গাইদাই এ কথা জানিয়েছেন। দনবাসের লুহানস্ক অঞ্চলের সেভেরোদোনেৎস্কই সবচেয়ে বড় শহর, যার কিছু অংশ এখনো কিয়েভের নিয়ন্ত্রণে। সম্প্রতি এই শহরে হামলা জোরদার করে রুশ বাহিনী। খবর রয়টার্স ও আল-জাজিরার।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে গাইদাই বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের জন্য হতাশার খবর রয়েছে, শত্রুরা শহরের ভেতরে ঢুকে পড়ছে।’
গভর্নর গাইদাই বলেন, পার্শ্ববর্তী লিসিচানস্ক শহর এখনো ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে। দুই শহরের মধ্যকার মূল সড়কে গোলাবর্ষণ করা হচ্ছে। তবে সড়কটি এখনো বন্ধ হয়ে যায়নি। গাইদাই আরও বলেন, সেভেরোদোনেৎস্কে গ্যাস ও পানি নেই। এই পরিষেবা চালুর কোনো সম্ভাবনাও দেখছি না। লুহানস্ক অঞ্চলের ১০ লাখ মানুষকে পানি সরবরাহ করা যাচ্ছে না।
এর আগে গাইদাই বলেছিলেন, সেভেরোদোনেৎস্কের উপকণ্ঠে প্রবেশ করা রুশ সেনাদের গোলাবর্ষণে দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত হন, আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন।
গাইদাই বলেন, সব ধরনের অস্ত্র ও বিমান হামলার সহায়তা নিয়ে রুশ সৈন্যরা শহরে হামলা চালাচ্ছে। শহরের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তাঁরা ঢুকে পড়েছে। তীব্র লড়াই চলছে। ইউক্রেনীয়দের জন্য এটা এক কঠিন পরিস্থিতি।
গাইদাই বলেন, রুশ বাহিনী একই কৌশল বারবার প্রয়োগ করছে। তারা তিন, চার, পাঁচ ঘণ্টা ধরে টানা গোলাবর্ষণ করে। এরপর হামলা চালায়। কোথাও হামলাকারীরা মারা যায়। তখন গোলাবর্ষণের পর আবারও হামলা চালায়। সাফল্য না পাওয়া পর্যন্ত এই কৌশল চালিয়ে যাচ্ছে তারা।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলা শুরু করে রাশিয়া। কিয়েভ দখলে ব্যর্থ হয়ে তারা দনবাস অঞ্চল নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ওপর জোর দেয়। ওই এলাকার বড় অংশ আগে থেকেই রুশ–সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দখলে ছিল।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এক সাক্ষাৎকারে বলেন, দনবাসের ‘স্বাধীনতাই’ এখন তাদের ‘শর্তহীন অগ্রাধিকার’। ইউক্রেনে হামলা শুরুর আগমুহূর্তে রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ঘোষিত দনবাস অঞ্চলের লুহানস্ক ও দোনেৎস্ককে ‘স্বাধীন’ রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেয় মস্কো। সূত্র: প্রথম আলো
ফাইল ছবি
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, জুলাই মাস থেকেই ২০ হাজার টাকা করে সম্মানী ভাতা পাবেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা।
রোববার ঢাকা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ৩ কোটি ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে এই কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরে মোজাম্মেল হক বলেন, কয়েক দিনের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৩০ হাজার বীরনিবাস নির্মাণ কাজ শুরু হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৩০ হাজার বীরনিবাস নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন করেছেন। প্রথমে ১৪ হাজার থাকলেও পরে প্রধানমন্ত্রী এ সংখ্যা ৩০ হাজারে উন্নীত করেছেন বলে জানান তিনি।
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী আরও জানান, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং জেলা-উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র্রে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সারা দেশে সব বীর মুক্তিযোদ্ধার কবর একই ডিজাইনে করার কাজও চলমান রয়েছে বলেও জানান মোজাম্মেল হক।
উল্লেখ্য, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি গণভবনে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ১২ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার করার কথা জানিয়েছিলেন।