a
ফাইল ছবি
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় গত ১১ দিন ধরে চলা ইসরায়েলি বর্বরতার হামলায় এ পর্যন্ত কমপক্ষে ২২৭ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৬৪ জন শিশু ও ৩৮ জন নারী রয়েছেন। এ নিয়ে বিভিন্ন দেশের নিন্দা-প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে দখলদার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে।
এ কারণে ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান আগ্রাসনের প্রতিবাদে যুক্তরাজ্যে ইসরায়েলি মালিকানাধীন একটি ড্রোন কারখানায় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনকারীরা।
কারখানাটির ছাদে অনেকেই প্রতিবাদ হিসেবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। তাদের নামাতে স্থানীয় দমকল বাহিনী ডেকেছিল ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ, কিন্তু তারা জানিয়ে দিয়েছে, মানবিক কাজে নিয়োজিত এই বাহিনী ফিলিস্তিনপন্থীদের গায়ে হাত দিতে পারেন না।
আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করছে, নিরীহ ফিলিস্তিনিদের ওপর আক্রমণ চালাতে ব্যবহৃত ড্রোন ওই কারখানায় তৈরি করা হয়। এজন্য কারখানাটির প্রবেশদ্বারে তালা লাগিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছে তারা। এতে সেখানকার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলেও দাবি তাদের। সূত্র : বিবিসি
ফাইল ছবি
ভারতের ছত্তিশগড়ের বিজাপুরে মাওবাদীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে ২২ ভারতীয় জওয়ান নিহত হয়েছেন। এ বিষয়ে ছত্তিশগড়ের ডিজিপি ডিএম অবস্থী জানিয়েছেন, শনিবার বিজাপুরের তারেম এলাকায় মাওবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় যৌথবাহিনী। এতে দু’পক্ষের সঙ্গে গোলাগুলি শুরু হলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রোববার সকালে ছত্তিশগড়ের পুলিশ কর্মকর্তা অশোক জুনেজা বলেন, মাওবাদীবিরোধী অভিযানে নিরাপত্তা সদস্যদের মৃত্যুর সংখ্যাই বেশি। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩১ জওয়ান।
এদিকে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। বিজাপুরের পুলিশ সুপার কমলচরণ কাশ্যপের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থা এএনআই জানায়, এখন পর্যন্ত ২২ জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের এলিট কোবরা ইউনিট, ডিস্ট্রিক্ট রিজার্ভ গার্ড ও স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের সমন্বয়ে গঠিত নিরাপত্তাবাহিনীকে লক্ষ্য করে মাওবাদীরা হামলা চালালে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে।
ছবিঃ মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
সাইফুল আলম, ঢাকা: আগামীকাল ১৩ নভেম্বর “জাতীয় ফিজিক্যাল মেডিসিন এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন দিবস”। এ উপলক্ষে আজ ১২ নভেম্বর ২০২৫ রাজধানী ঢাকার প্রেস ক্লাব এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন বাংলাদেশ সোসাইটি অব ফিজিক্যাল মেডিসিন এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, আমরা আজ এখানে একত্রিত হয়েছি দেশের ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন সেবার গুরুত্ব, বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা তুলে ধরতে। ফিজিক্যাল মেডিসিন এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন (PM&R) হলো এমন একটি চিকিৎসা শাখা যা বিভিন্ন ধরনের শারীরিক প্রতিবন্ধকতা, ব্যথা, পেশী ও স্নায়ুর সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের পুনর্বাসনের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে। এটি শুধুমাত্র চিকিৎসা নয়— বরং “জীবনকে পুনরুদ্ধারের চিকিৎসা”। বাংলাদেশে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ মানুষ স্ট্রোক, আঘাতজনিত অক্ষমতা, দুর্ঘটনা, পেশী-সন্ধি ব্যথা, শিশুদের সেরিব্রাল পালসি, বয়স্কদের চলাচলজনিত সীমাবদ্ধতা ইত্যাদি প্রতিবন্ধিতা সমস্যায় ভোগেন। ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, আধুনিক ফিজিওথেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, স্পিচ থেরাপি, ও রিহ্যাবিলিটেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে এদের অনেকেই আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সক্ষম হন।
আমরা চাই—
১। দেশের প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন ইউনিটকে আরও শক্তিশালী করা হোক।
২। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত রিহ্যাবিলিটেশন জনবল নিয়োগ দেওয়া হোক, এবং জনসচেতনতা বাড়ানো হোক যাতে মানুষ সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারে।
৩। বিদ্যমান আইনকে কার্যকর, নতুন আইন প্রণয়ন ও নীতিমালা বাস্তবায়নে তৎপরতা বাড়ানো।
৪। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, জেলা/উপজেলা প্রশাসন, এসএনজিও ও সিভিল সোসাইটি একসঙ্গে কাজ করা।
৫। স্কুল, কলেজ, কর্মক্ষেত্র, সড়ক-পরিবহন ইত্যাদি সর্বত্র প্রতিবন্ধি বান্ধব ইউনিভার্সাল ডিজাইনের মান মেনে তৈরি করা।
এই দিবসের প্রতিপাদ্য— “সবার জন্য রিহ্যাবিলিটেশন সেবা: সুস্থ জীবনের অধিকার”।
আমরা বিশ্বাস করি, একটি সুস্থ, কর্মক্ষম ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গঠনে ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন সেবা অপরিহার্য। তাই সরকার, চিকিৎসক সমাজ, গণমাধ্যম এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই সেবাকে আরও এগিয়ে নিতে হবে।
একটি দেশ তখনই প্রকৃত অর্থে উন্নত দেশ হিসেবে বিবেচিত হয়,যখন সেখানে প্রতিবন্ধী মানুষের সংখ্যা কম, প্রতিবন্ধিতা প্রতিরোধের সকল ব্যবস্থা বিদ্যমান থাকে,এবং যেসব ব্যক্তি প্রতিবন্ধী তাদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও জীবনযাপনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পূর্ণ সহায়তা ও সুযোগ নিশ্চিত করা হয়। আপনাদের কলম ও ক্যামেরার মাধ্যমে দেশের কোটি মানুষের কাছে সঠিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমরা আপনাদের সহযোগিতা কামনা করছি। রিহ্যাবিলিটেশন সেবার গুরুত্ব ও সম্ভাবনা সম্পর্কে গণসচেতনতা তৈরিতে আপনাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সবশেষে, আগামীকাল ১৩ নভেম্বর জাতীয় ফিজিক্যাল মেডিসিন এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন দিবস সফলভাবে পালনের জন্য সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানাই।