a
ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি ভবনে আগুন লাগার ঘটনায় ৯ শিশুসহ ১৯ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় রবিবার সকালে ত্রুটিপূর্ণ স্পেস হিটার থেকে এ আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানা যায়। রয়টার্স
প্রতিবেদন বলছে, ভবনটির নিচতলার একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। ধোঁয়ার কারণে আটকে পড়া বাসিন্দারা বাতাস চলাচলের জন্য জানালা ভেঙে, তোয়ালে ভিজিয়ে নিজেদের রক্ষার চেষ্টা করেন। এ সময় আহত বেশ কয়েকটি শিশুকে উদ্ধার করে অক্সিজেন দিতে দেখা যায়।
ফায়ার কমিশনার ড্যানিয়েল নিগ্রো জানান, কিছু লোক অতিরিক্ত ধোঁয়ার কারণে ভবন থেকে নামতে পারেননি। ৬০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন এবং ১৩ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে নিহতদের বেশির ভাগই ধোঁয়ায় শ্বাস নিতে না পারায় প্রাণ হারিয়েছেন।
মেয়র এরিক অ্যাডামস এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, দুর্ঘটনাস্থলের বেশির ভাগ বাসিন্দার আদি নিবাস পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়ার অধিবাসী। সূত্র: ইত্তেফাক
ছবি সংগৃহীত
বিশ্ব জুড়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠত্ব। আন্তঃদেশীয় চ্যালেঞ্জ ও আঞ্চলিক সংঘাত এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এক মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এই সতর্কবার্তায় উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে আমেরিকাকে ক্রমশ ভঙ্গুর বিশ্ব ব্যবস্থা মোকাবিলা করতে হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে চীন প্রভাবিত করতে পারে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
সোমবার মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনআই), কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ), কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (এফবিআই) দেশটির সিনেট গোয়েন্দা কমিটির কাছে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে চীন, ইরান ও রাশিয়া বর্তমান আন্তর্জাতিক বিশ্বব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। একই সঙ্গে ইউক্রেনে রুশ অভিযান ও ফিলিস্তিনের গাজায় হামাস ও ইসরাইলের সংঘাত বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চাভিলাষী ও উদ্বিগ্ন চীন, সংঘাতপ্রবণ রাশিয়া, আঞ্চলিক কিছু শক্তি যেমন ইরান এবং আরো সক্ষম কিছু অরাষ্ট্রীয় গোষ্ঠী বিশ্বব্যবস্থার নিয়মনীতিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। একই সঙ্গে বিশ্বব্যবস্থায় আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এর পেছনে চীন, রাশিয়া ও ইরানের মতো শক্তিধর কয়েকটি রাষ্ট্ একত্র হয়ে কাজ করছে।
বলা হয়েছে, ইউক্রেনে রাশিয়া যখন যুদ্ধে লিপ্ত, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক সহায়তা দিয়ে মস্কোর পাশে দাঁড়াচ্ছে চীন। রাশিয়া ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য বাড়ছে। রাশিয়ায় সামরিক কাজে ব্যবহূত হতে পারে, চীন থেকে এরকম সব পণ্যের রপ্তানি ২০২২ সাল থেকে তিন গুণ বেড়েছে।
সোমবার সিনেটের গোয়েন্দা কমিটির কাছে ইউক্রেনে সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন এনআইয়ের পরিচালক এভ্রিল হেইনস। সিআইএ পরিচালক উইলিয়াম বার্নসও একই ধরনের অনুরোধ জানিয়েছেন। অন্যদিকে এফবিআই পরিচালক ক্রিস্টোফার রে আমেরিকায় সন্ত্রাসবাদের হুমকি নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন। সূ্ত্র: ইত্তেফাক
ফাইল ছবি
অন্যদের ধমক দেওয়ার পুরোনো অভ্যাস অবশ্যই বন্ধ করতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে। চীনের উন্নয়নকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনকে অবশ্যই বেইজিংয়ের ‘ন্যায়সংগত’ উদ্বেগের প্রতি মনোযোগী হতে হবে। আজ শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে এক ফোনালাপে এসব অভিযোগ তুলেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। একই সঙ্গে চীনের ‘লাল সীমা’ অতিক্রম না করতে যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারও করে দিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুই অর্থনীতির দেশ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশ দুটির মধ্যকার সম্পর্কে অনেক বিষয় নিয়ে উত্তেজনা চলছে। তবে কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই দেশের নেতারা উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যেই ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে এসব কথা বললেন ওয়াং।
গত মাসে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশগুলোর জোট জি-২০-এর নেতাদের সম্মেলন হয়েছে। সেখানে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বৈঠক করেছেন। ২০১৭ সালের পর দুই দেশের নেতাদের প্রথম বৈঠকে তাইওয়ানসহ অনেক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে মনে করে চীন। তবে চীনের এই দাবি নাকচ করে আসছে তাইওয়ান। তারা নিজেদের স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে দেখে। বেইজিংয়ের দাবি, তাইওয়ান ইস্যুতে ওয়াশিংটন বাড়াবাড়ি করছে। সাম্প্রতিক সময়ে তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
চীন এ হুমকিও দিয়েছে, তাইওয়ান ইস্যুতে প্রয়োজনে সামরিক হস্তক্ষেপ করবে তারা। সির সঙ্গে আলোচনায় তাইওয়ান ঘিরে বেইজিংয়ের ক্রমে আক্রমণাত্মক ও জবরদস্তিমূলক তৎপরতায় আপত্তি জানান বাইডেন বলেন, এতে তাইওয়ান প্রণালি ও সীমান্ত অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট এবং বৈশ্বিক উন্নয়নে ব্যাঘাত ঘটছে।
এদিকে সি তাইওয়ানকে ‘প্রথম লাল সীমা’ বলে বর্ণনা করেছেন। চীন-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই সীমা অতিক্রম করা যাবে না বলে বাইডেনকে জানান তিনি।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ওয়াং ইর ফোনালাপের পর শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। বিবৃতি অনুযায়ী, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন, বালির সম্মেলনে দুই রাষ্ট্রপ্রধান যেসব বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন, সেসব বিষয়ে বাস্তবসম্মত নীতি প্রণয়ন ও জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে।
ওয়াং ই আরও বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতির জন্য যেসব নীতি প্রয়োজন, সেসব বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা বাড়াতে হবে। সম্পর্ক, সব স্তরে সংলাপের ওপর জোর দেওয়া ও যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সুনির্দিষ্ট সমস্যা সমাধান করতে হবে। তিনি বলেছেন, চীন সব সময় শান্তির পক্ষে। সূত্র: প্রথম আলো