a
ছবি সংগৃহীত: ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্থ নিজ ঘর-বাড়িতে ফিরছেন ফিলিস্তিনিরা
আজ ১৯ জানুয়ারি, রোববার সকাল থেকে গাজায় ইসরাইল-হামাস যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে নিশ্চিত করা হয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যমগুলোতে। ৪৬০ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গাজার প্রতিটি পরিবার। তবে ইসরাইলের মন্ত্রিসভায় যুদ্ধবিরতি ও ‘জিম্মি’ মুক্তির চুক্তি অনুমোদন পাওয়ায় স্বস্তির আশায় প্রহর গুনছেন ফিলিস্তিনিরা। আজ রোববার সকাল থেকেই তারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবে এবং প্রাণ ভরে ভোগ করবে স্বাধীনতার স্বাদ।
গতকাল শনিবার (১৮ জানুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সামাজিক মাধ্যম এক্সের এক পোস্টে ঘোষণা করেছেন, স্থানীয় সময় রোববার সকাল ৮টা ৩০ মিনিট (গ্রিনিচ সময় ৬টা ৩০ মিনিট) থেকে গাজায় ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।
মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি শনিবার এক টুইট বার্তায় বলেছেন, ‘পক্ষগুলোর মধ্যে চুক্তির ভিত্তিতে... গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি রোববার সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে শুরু হবে। আমরা আমাদের ভাইদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার এবং সরকারি সূত্র থেকে নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করার পরামর্শ দিচ্ছি।’
আল-জাজিরা জানিয়েছে, শনিবার সকালের দিকে ইসরাইলি সরকার ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বৈঠকের পর চুক্তিটি অনুমোদন করেছে, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।
আল-জাজিরা আরো জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর ৪৬০ দিনেরও বেশি সময় পর এই চুক্তিটি অনুমোদিত হয়েছে। এ সময়ে ইসরাইলি বাহিনী ৪৬ হাজার ৭৮৮ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে এবং ১ লাখ ১০ হাজার ৪৫৩ জনকে আহত করেছে।
চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ৬ সপ্তাহের মধ্যে গাজায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের হাতে বন্দী ৩৩ ইসরাইলিকে মুক্তি দেয়া হবে। বিনিময়ে ইসরাইল কর্তৃক বন্দী শত শত ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেয়া হবে।
জর্ডান থেকে আল-জাজিরার সাংবাদিক হামদাহ সালহুত বলেছেন, ‘সকলের নজর এই মুহূর্তে গাজার দিকে। এই শেষ মুহূর্তে ইসরাইলি সেনাবাহিনী কী করতে চলেছে তা দেখার জন্য। কারণ ঐতিহাসিকভাবে, যেকোনো ধরনের যুদ্ধবিরতি চুক্তির আগে ইসরাইলি সেনাবাহিনী তার সমস্ত শক্তি দিয়ে গাজা উপত্যকায় আক্রমণ করে।’
তিনি আরো বলেন, এই মুহূর্তে সেখানে ‘অনেক ভয় ও উদ্বেগ থাকবে।’
এদিকে, বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে গত বুধবার যুদ্ধবিরতি চুক্তির ঘোষণা আসার পরও ইসরাইলি বাহিনী এলোপাতাড়ি বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা
ফাইল ছবি
নাইজার এক সময় ফ্রান্সের ঔপনিবেশ ছিল। কিন্তু সম্প্রতি দেশটির পশ্চিমাপন্থি প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বাজুমকে ক্ষমতাচ্যুত করে সামরিক সরকার। বন্দি করে রেখেছে তাকে। বাজুমকে মুক্তি দিয়ে জান্তাকে ক্ষমতা ছাড়তে হুমকি দিয়ে আসছে আফ্রিকা ইউনিয়নের নেতারা।
নাইজারের রাজধানী নিয়ামিতে অবস্থিত ফ্রান্সের দূতাবাসের বিদ্যুত্, পানিসহ জরুরি পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে দেশটির সামরিক সরকার। শুধু তাই নয়, বাইরে থেকে দূতাবাসে কোনো খাবার ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। সেখানকার একাধিক সূত্রের বরাতে রবিবার এ খবর জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
সোমবার তুর্কিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে জানা গেছে, নাইজারের জিন্দারে অবস্থিত ফরাসি ক্যানসুলেটেও একই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নাইজারে ফরাসি ঘাঁটির পানি, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং খাদ্য পণ্য স্থগিত করার নির্দেশ দেন ন্যাশনাল সাপোর্ট কমিটি ফর দ্য সেফগার্ডিং অব কান্ট্রির (সিএনএসপি) সভাপতি এলহ ইসা হাসুমি বোরিমা। যারা পণ্য ও পরিষেবা সরবরাহে ফরাসিদের সহায়তা করবে তারা ‘সার্বভৌম জনগণের শত্রু’ বলে বিবেচিত হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি। সূত্র: ইত্তেফাক
ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
সাইফুল আলম, ঢাকা: ২০০৯ - ২০২৪ সময়ে রাজনৈতিক ভাবে বৈষম্যের শিকার হওয়া বঞ্চিত সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর অসংখ্য অফিসারদের দাবির প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তি সরকার ন্যায়বিচার প্রদানের লক্ষ্য একটি কমিটি গঠন করে। গত ৩০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে, কমিটি তাদের রিপোর্ট প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেন। কিন্তু অত্যন্ত দুখ জনক ভাবে উক্ত রিপোর্টটি মিথ্যায় পরিপূর্ণ ও পুরাপুরি প্রহসন মুলক। বাস্তবে রিপোর্টটি সত্যের অপলাপ। কমিটি সংস্লিস্ট বঞ্চিত অফিসারদের না ডেকে, তাদের আবেদন বিবেচনা না করে উক্ত রিপোর্ট প্রদান করে বলে প্রায় ৬০০ অফিসার দাবি করেন।
কমিটির এই প্রহসন মূলক রিপোর্টের ফলস্রুতিতে কয়েকশত বঞ্চিত অফিসার দ্বিতীয়বার বঞ্চিত হবার আশংকা দেখা দিয়েছে। এমতাবস্থায় উক্ত অফিসারগন পক্ষ থেকে একটা টিম এর কারন জানার জন্য যোগাযোগ করে। এতে জানা যায় যে, কমিটি বাহিনী সদর দপ্তর থেকে সহযোগিতা না পাওয়ায় তাদের কার্যক্রম সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়নি। এমনকি কমিটির কার্যক্রমে চাকুরীরত সদস্যগন কোনভাবেই উপস্থিত হননি। কমিটি মূলত ইতোপূর্বে বাহিনী সদর দপ্তর কর্তৃক প্রেরিত সুপারিশ সমুহকেই পুনরায় সুপারিশ করেছে মর্মে জানা যায়। দু:খজনকভাবে বাহিনী সদর দপ্তরের সুপারিশে ফ্যাসিস্টদের সহযোগীরাই পুনরায় সুবিধা পেতে যাচ্ছে। আজ ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জাস্টিস ফর কমরেডস আয়োজিত প্রোগ্রামে বক্তারা এই দাবি জানান।
এ প্রহসনের কারন হিসেবে উল্লেখ্য করা যায় যে পটপরিবর্তনের পরে অদ্যবধি বাহিনী সমুহে গুনগত সংস্কার না করায় ফ্যাসিস্ট এর দোসররাই এখানে বাহিনীসমূহ নিয়ন্য্রন করছে। এমনকি কমিটি তে নিযুক্ত সদস্যগনও ফ্যাসিস্ট আমলের সুবিধাভোগি। ফলে তাদের এই রিপোর্টটি পুরাপুরি পক্ষপাততুস্ট।
বক্তারা অভিযোগ করেন – কমিটি গণমাধ্যমে প্রকাশ করেছে যে তারা সকল আবেদনকারীর সাথে কথা বলেছেন/সাক্ষাতকার নিয়েছেন, অথচ বাস্তবে বেশিরভাগ বঞ্চিত অফিসারকে ডাকাই হয়নি। মূলত তাদের আবেদন বিবেচনাই করা হয়নি। সকল আবেদনকারীদের সাক্ষাতকার ছাড়া কমিটি পূর্নাঙ্গ রিপোর্ট জমা দেয়া এবং ‘সকল আবেদনকারীদের সাক্ষাতকারের মাধ্যমে সুপারিশ করা হয়েছে’ এইরূপ বক্তব্য সম্পূর্ন ভাবে মিথ্যা। বক্তাদের কাছে এটা প্রতিয়মান যে, বাহিনী সদর দপ্তর যেসব পছন্দনীয় ব্যক্তদেরকে সুপারিশ করেছিল, সরকার গঠিত কমিটিও তাদেরকেই সুপারিশ করেছে। এক্ষেত্রে ফ্যসিস্ট আমলে তৈরি করা অসত্য ডকুমেন্ট সমূহকেই তারা বিবেচনায় নিয়েছে। এই কাজে গোয়েন্দা সংস্থা সহ ইতোমধ্যে সুপারিশকৃত কিছু অফিসার কমিটিকে প্রভাবিত করে নিজেদের সুবিধা আরো বাড়িয়ে নিয়েছে।
সরকারের কাছে লেঃ জেনারেল হাফিজ এর কমিটি যে রিপোর্ট জমা করেছে তা বক্তারা প্রত্যাখ্যান করছে। বক্তারা জমাকৃত প্রতিবেদন স্থগিত বা বাতিল করার দাবি করেন। তারা সরকারের কাছে সকল আবেদনকারীদের জন্য কমিটির কার্যক্রম চালু রেখে অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের মত আবেদনকরা বাকি ৬০০ অফিসার ও যারা এখনো আবেদন করতে পারেননি কিন্তু সত্যিকারভাবে বঞ্চিত তাদের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।