a
ফাইল ছবি
সকল আফগান পক্ষকে নিয়ে একটি নমনীয় ইসলামি সরকার গঠন করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে তালেবান। সোমবার মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন তালেবান মুখপাত্র সোহেল শাহিন।
তিনি বলেন, আফগানিস্তানে এখন যে সরকার গঠিত হবে তাতে শুধু তালেবান সদস্যরা থাকবেন না বরং সেখানে সব পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। যে কেউ তার অস্ত্র সমর্পণ করে তালেবানে যোগ দিলে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আবারো আফগানিস্তান থেকে সেনাদের ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে জানালেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি এটা অন্য আরেকজন প্রেসিডেন্টের জন্য রেখে দিতে পারি না। আফগানিস্তানে সেনা উপস্থিতি ধরে রাখার মধ্যে আর যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ জড়িত নয়।’
সোমবার হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে এমনটাই জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি ভাষণে আফগান পরিস্থিতির জন্য সকল ধরণের দোষ কাবুলের ওপরেই চাপিয়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি পূর্বের সিদ্ধান্তে অটল থাকার কথাও ব্যক্ত করেন।
জো বাইডেন বলেন, ‘আফগান সেনারা তালেবানের বিরুদ্ধে লড়বে আশরাফ গনি (সদ্যসাবেক আফগান প্রেসিডেন্ট) নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন। কিন্তু তার এ ধারণা ভুল ছিল। যেখানে আফগানরাই নিজেদের রক্ষায় লড়াইয়ে নামতে ইচ্ছুক নয়, সেখানে মার্কিনরা প্রাণ দিতে পারে না।’ সূত্র : সিএনএন, বিবিসি ও আল জাজিরা।
ফাইল ছবি
মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে যুক্তরাজ্যে মৃত্যুর ঘটনা কমে এসেছে। যা সম্ভব হয়েছে লকডাউনের কারণে। এমনটিই মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। খবর এনডিটিভি
বরিস জানান, করোনাভাইরাসের প্রকোপের মাত্রা কমিয়েছে লকডাউনের ফলে। এই বিধিনিষেধ শিথিল হলে আবারও বাড়বে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা।
তিনি আরও জানান, সংক্রমণ কমলেও অর্থনীতি পুনরায় চালুর যে রোডম্যাপ আগে ঘোষণা করা হয়েছিল সরকার সেখান থেকে সরে আসবে না।
এ প্রসঙ্গে জনসন আরও বলেন, ‘আমরা যদি সব কিছু খুলে দেই তাহলে অবশ্যম্ভাবী পরিণতি হিসেবে আমরা আরও সংক্রমণ দেখতে পাব এবং দুঃখজনকভাবে আমরা হাসপাতালে আরও রোগী ও মৃত্যু দেখতে পাব।’
গত বছরের ডিসেম্বরে যুক্তরাজ্য টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছিল। মোট জনগোষ্ঠীকে টিকা দেওয়ার হারের ক্ষেত্রে বিশ্বে ইসরায়েলের পরই যুক্তরাজ্যের অবস্থান। তবে সংক্রমণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় দেশটিতে জানুয়ারি মাসে পুনরায় লকডাউন ঘোষণা করা হয়। ফেব্রুয়ারি থেকে সংক্রমণের মাত্রা ও মৃত্যুর হার কমতে শুরু করে বলে জানায় দেশটির গণমাধ্যমগুলো।
যুক্তরাজ্যে এখন পর্যন্ত ৪৩ লাখ ৭৫ হাজার ৮১৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে এবং মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ১২৩ জনের।
ফাইল ছবি
আগামী ১১ সেপ্টেম্বর নাগাদ আফগানিস্তান থেকে সব সৈন্য প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে আমেরিকা। এর ফলে দীর্ঘ দুই দশকের যুদ্ধের সমাপ্তি টানতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আমেরিকার এই ঘোষণার পর পরই এবার ন্যাটোও একই পথ অনুসরণ করছে।
ন্যাটোর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার সঙ্গে সংগতি রেখে তারাও আফগানিস্তান থেকে দ্রুত সেনা প্রত্যাহার শুরু করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্তনি ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে জোটের মহাসচিব জেনস স্টোলটেনবার্গ জানান, ন্যাটো তাদের ৭ হাজার সেনার সবাইকে প্রত্যাহার করে নিবে।
তিনি আরও জানান, ১ মে থেকে ‘রেসুলুট সাপোর্ট’ সেনাদের প্রত্যাহার শুরু হবে এবং কয়েক মাসের মধ্যেই তা সম্পন্ন হবে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আমেরিকানদের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে বলেন, ১১ সেপ্টেম্বর নাগাদ আফগানিস্তান থেকে সব সৈন্য প্রত্যাহার করে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ও পেন্টাগন আক্রমণের দুই দশক পরও সৈন্যদের সেখানে থাকার কোনও যৌক্তিকতা নেই।
হোয়াইট হাউস ভাষণের যে উদ্ধৃতি প্রকাশ করেছে সেখানে বাইডেন বলছেন, “আমরা আফগানিস্তানে গিয়েছিলাম কারণ ২০ বছর আগে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছিল। কিন্তু সেটা কোনও যুক্তি হতে পারে না যে এই ২০২১ সালেও সেখানে কেন থাকব।”
বাইডেন বলেন, “আমাদের মিত্র এবং সহযোগী, সামরিক নেতা, গোয়েন্দা কর্মকর্তা, কংগ্রেস ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কামলা হ্যারিসের সঙ্গে নিবিড় শলাপরামর্শের পরে এই উপসংহারে পৌঁছেছি যে, এখনই সময় আমেরিকার এই দীর্ঘতম যুদ্ধের অবসান ঘটানোর।”
সঙ্গে জানান, যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে আফগানিস্তানে কাজ করে যাবে এবং কাবুল সরকারকে সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখবে।