a ১ লাখ কোটি ডলারের খনিজ সম্পদ বর্তমানে তালেবানের নিয়ন্ত্রণে
ঢাকা শনিবার, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫
https://www.msprotidin.com website logo

১ লাখ কোটি ডলারের খনিজ সম্পদ বর্তমানে তালেবানের নিয়ন্ত্রণে


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
শুক্রবার, ২০ আগষ্ট, ২০২১, ০৮:৪৭
১ লাখ কোটি ডলারের খনিজ সম্পদ বর্তমানে তালেবানের নিয়ন্ত্রণে

সংগৃহীত ছবি

পৃথিবীর দরিদ্রতম রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অন্যতম আফগানিস্তান। ৯০ ভাগ আফগানই দৈনিক দুই ডলারের কম আয়ে দৈনন্দিন জীবন চালান। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার সংযোগস্থল সেই আফগানিস্তানের মাটির নিচেই রয়েছে সারাবিশ্বের জন্য প্রয়োজনীয় এক লাখ কোটি ডলার (৮৪ লাখ কোটি টাকা) মূল্যের খনিজ সম্পদ।

২০১০ সালে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা ও ভূতাত্ত্বিকদের প্রকাশিত এক জরিপে এই সম্পদের সন্ধান দেয়া হয়েছিল। জরিপে বলা হয়েছিলো, এই বিপুল পরিমাণ সম্পদ আফগানিস্তানের অর্থনীতির গতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে।

দেশটির বিভিন্ন প্রদেশেই লোহা, কপার ও সোনাসহ বিপুল ধাতব খনিজ সম্পদ ছড়িয়ে আছে। পাশাপাশি ধারণা করা হচ্ছে, নবায়ন উপযোগী ব্যাটারির জন্য প্রয়োজনীয় কিন্তু দুর্লভ ধাতু লিথিয়ামের বৃহত্তম মজুদ আফগানিস্তানেই রয়েছে।

মার্কিন ইকোলজিক্যাল ফিউচার গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ রড স্কুনুভার বলেন, 'আফগানিস্তান নিশ্চিতভাবে ঐতিহ্যগত ধাতব সম্পদে সমৃদ্ধশালী একটি অঞ্চল। সাথে সাথে ২১ শতকে উদীয়মান অর্থনীতির জন্য প্রয়োজনীয় ধাতুও এখানে রয়েছে।'

গত মে মাসে আন্তর্জাতিক শক্তি কমিশন এক প্রতিবেদনে পরিবেশ বিপর্যয় এড়াতে লিথিয়াম, কপার, নিকেল, কোবাল্ট, মাটির বিরল মৌলসহ সরবরাহ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের লিথিয়াম, কোবাল্ট ও মাটির বিরল মৌলের বৈশ্বিক সরবরাহের ৭৫ ভাগই চীন, কঙ্গো ও অস্ট্রেলিয়া থেকে আসে।

২০১০ সালে মার্কিন জিওলজ্যিকাল সার্ভের কর্মকর্তা সাইদ মীরজাদ সায়েন্স ম্যাগাজিনকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, 'যদি আফগানিস্তান অল্প কয়েক বছর শান্ত থাকে এবং এর খনিজ সম্পদ উন্নয়নের সুযোগ দেয়া হয়, তবে এক দশকের মধ্যেই এটি এই অঞ্চলের ধনী দেশগুলোর মধ্যে একটিতে পরিণত হবে।'

বর্তমানে আফগানিস্তানে খনিজ সম্পদ থেকে প্রতি বছর এক শ' কোটি ডলার (আট হাজার চার শ' কোটি টাকা) আয় হয়।

মার্কিন থিঙ্ক ট্যাংক আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো মহসিন খানের মতে, খনিজ সম্পদ থেকে আয় হওয়া অর্থের ৩০-৪০ ভাগই দুর্নীতির মাধ্যমে লুটপাট হয়ে যায়।

দীর্ঘ ৪০ বছরের যুদ্ধ-বিগ্রহে বর্তমানে আফগানিস্তান বিধ্বস্ত। সর্বশেষ দুই দশক মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবিরাম যুদ্ধ চলেছে দেশটিতে। রোববার তালেবান রাজধানী কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর আফগানিস্তানে আপাতত যুদ্ধ শেষ হয়েছে। পুরো আফগানিস্তানে নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর দেশের উন্নয়নে এই খনিজ সম্পদ তালেবান ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

খনিজ সম্পদ উত্তোলনে উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন কোনো দেশের উপস্থিতি বর্তমানে আফগানিস্তানে না থাকায় চীনের সুযোগ রয়েছে এই অঞ্চলে বিনিয়োগের। ইতোমধ্যেই তালেবানের সাথে চীনা কর্তৃপক্ষের যোগাযোগ হয়েছে। তালেবান কর্তৃপক্ষ চীনকে আফগানিস্তানের মাটি দেশটির বিরুদ্ধে ব্যবহার না করার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছে। 

সূত্র: সিএনএন/যায় যায় দিন

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

হামাসের কাছে হেরে গেছে ইসরায়েল: ইসরায়েলি সাবেক সেনা কর্মকর্তা


আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
সোমবার, ১৮ মার্চ, ২০২৪, ০৯:৫৬
হামাসের কাছে হেরে গেছে ইসরায়েল: ইসরায়েলি সাবেক সেনা কর্মকর্তা

এক ইসরায়েলি সাবেক সেনা কমান্ডার দাবি করেছেন, হামাসের বিপক্ষে এরইমধ্যে ইসরায়েল হেরে গেছে। আইজ্যাক ব্রিক নামের ওই ইসরাইলি মেজর জেনারেল হিব্রু সংবাদমাধ্যম মারিভে একটি কলাম লিখেছেন। সেখানে তিনি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘আপনি দীর্ঘ সময় ধরে অসংখ্য সাধারণ মানুষের সাথে মিথ্যাচার করতে পারেন না।’

ওই জেনারেল লিখেছেন, ‘গাজায় এবং হিজবুল্লাহর বিপক্ষে কী ঘটছে, তা অচিরেই কিংবা কিছুটা পরে আমাদের মুখে চুনকালি মেখে দেবেই। এটা হবে ইসরায়েলি সেনা বাহিনীর সবচেয়ে কলঙ্কজনক অধ্যায়। আমরা এরই মধ্যে হামাসের সাথে হেরে গেছি। আমরা এই যুদ্ধ যুদ্ধ খেলায় আমাদের বিশ্ব মিত্রদেরও হারিয়ে দিয়েছি।’

আইজ্যক আরো বলেছেন, ইসরাইলি বাহিনী আঞ্চলিক যুদ্ধের জন্য কোনো রকম প্রস্তুতই ছিলো না। সামনে তাদের জন্য আরো হাাজারো কঠিন পরিস্থিতি আসন্ন। আর তা হবে গাজা যুদ্ধের চেয়েও ভয়ংকর। এই সাবেক সেনা কর্মকর্তা আরো বলেছেন, ‘যদি আমরা হামাসের হাতে থাকা জিম্মিদের জীবিত ফিরিয়ে আনতে না পারি, তবে এটা জনগণের কাছে ইসরায়েলের বড় পরাজয় হিসেবেই গণ্য হবে।’ তার মতে ৭ অক্টোবরের পর থেকেই পদে পদে ব্যর্থ হয়েছে ইসরাইলের সামরিক বাহিনী। সূত্র: বিডি প্রতিদিন

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

আরও পড়ুন

নেতৃত্বের সংকটে দেশ, এক সংকট জন্ম দিচ্ছে আরেক সংকট!


কর্নেল আকরাম, কলাম লেখক, মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
বুধবার, ০১ জানুয়ারী, ২০২৫, ০৮:৪৬
নেতৃত্বের সংকটে দেশ, এক সংকট জন্ম দিচ্ছে আরেক সংকট!

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক: প্রতিদিন আমাদের যে সংকটগুলোর মুখোমুখি হতে হয়, সেগুলো দক্ষতা এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে সামাল দেওয়ার জন্য ভালো ও যোগ্য নেতৃত্ব অপরিহার্য। অন্যথায়, এক সংকট আরেক সংকটের জন্ম দেবে এবং শেষ পর্যন্ত তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। যদি নেতৃত্ব সংকট মোকাবেলায় যথেষ্ট দক্ষ না হয়, তাহলে সংকটের পরিণতি সমাজের জন্য মারাত্মক হয়ে দাঁড়াবে এবং সমাজ যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে।  

আমরা জাতি হিসেবে শুরু থেকেই বহু সংকটের মধ্য দিয়ে গিয়েছি এবং এর মূল্যও চোকাতে হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে দুই প্রেসিডেন্টের হত্যাকাণ্ড। উভয় ক্ষেত্রেই গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ব্যর্থতা উপেক্ষা করা যায় না। ২০০৫ সালের আগস্টের ঘটনা এবং ২০০৯ সালের বিডিআর হত্যাকাণ্ড আমাদের সমাজকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। অনেকেই মনে করেন, এই দুটি ঘটনায় ভারত সরাসরি জড়িত ছিল।  

সংকট ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ এবং এটি পরিচালনার জন্য পেশাদার ও অভিজ্ঞ লোকজনের প্রয়োজন। কিন্তু প্রতিবারই আমরা সংকটের মূল কারণ চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হয়েছি। এটি একটি জাতীয় ব্যর্থতা এবং এখনো পর্যন্ত আমরা একটি কার্যকর সংকট ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারিনি।  

সম্প্রতি, আমরা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে সরকার গঠনের প্যাটার্ন নির্ধারণ নিয়ে নতুন সংকট প্রত্যক্ষ করেছি। আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল নিজেই স্বীকার করেছেন যে, বিপ্লব পরবর্তী সময়ের জন্য উপযুক্ত সরকার গঠনের বিষয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি একটি গুরুতর ভুল এবং সংকট মোকাবেলায় ইতিহাসের জ্ঞান অপরিহার্য।  

এই সময়ে একটি জাতীয় বা বিপ্লবী সরকার গঠিত হওয়া উচিত ছিল, যেখানে ড. ইউনুস রাষ্ট্রপতি বা প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে এবং কর্নেল (অব.) অলি আহমদ রাষ্ট্রপতি বা প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। উপদেষ্টাদের বেশিরভাগ বিএনপি থেকে এবং কিছু উপদেষ্টা অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সমন্বয়কদের মধ্যে থেকে নির্বাচিত হওয়া উচিত ছিল।  

সময় এখনো শেষ হয়ে যায়নি। দ্রুত এই উদ্যোগ নেওয়া গেলে নির্বাচন এবং সংস্কার সংক্রান্ত অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক ও সংকট বন্ধ করা সম্ভব হবে।  

জাতিকে একত্রিত হয়ে জাতীয় সংকট মোকাবিলা করতে হবে এবং এটিই উচ্চ পর্যায়ের সংকট ব্যবস্থাপনার আদর্শ রূপ।  

সম্প্রতি আমরা একের পর এক সংকটের সম্মুখীন হচ্ছি, কিন্তু কার্যকর সমাধান দেখা যাচ্ছে না। এটি স্পষ্টভাবে আমাদের নেতৃত্বের অযোগ্যতার প্রতীক।  

সচিবালয়ে আনসার বাহিনীর সাম্প্রতিক সংকট অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জন্য সরাসরি হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র সমন্বয়কদের হত্যা আরও একটি অশনি সংকেত। বিভিন্ন ক্যাডারের কর্মকর্তারা প্রশাসনকে অস্থিতিশীল করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সংকটের মুখে ফেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা যেকোনো সময় ধর্মঘটের ডাক দিয়ে সরকারকে পঙ্গু করতে পারেন।  

সচিবালয়ের ভবনে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বর্তমান সরকারকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, সরকারের ভেতরেই বিরোধী শক্তি রয়েছে এবং তারা সরাসরি সরকারের মূল অংশে আঘাত হানতে সক্ষম।  

এই সংকটগুলো আমাদের কাছে পরিষ্কার সংকেত দেয় যে, সরকারি যন্ত্রপাতি সঠিকভাবে কাজ করছে না। এগুলো সরকারের বিরুদ্ধে কাজ করা সক্রিয় শক্তির চিহ্ন, যারা বহুমাত্রিক সংকট সৃষ্টি করতে পিছপা হবে না। ভারতের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় তারা আমাদের জন্য বিশাল সমস্যা তৈরি করবে এবং সরকারকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করবে।  

ভবিষ্যতের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সংকট মোকাবিলার জন্য আমাদের কী প্রস্তুতি রয়েছে, সেটি এখন সবার উদ্বেগের বিষয়। সংকট মোকাবেলায় পরিপক্বতা ও প্রজ্ঞার সঙ্গে আমাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন।  

পলাশীর যুদ্ধের পর লর্ড ক্লাইভ যদি মাত্র কয়েকজন ইংরেজ অফিসার নিয়ে প্রশাসন চালাতে পারেন, তাহলে আমরা কেন পারব না? জিয়াউর রহমান আমাদের সামনে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি সীমিত সংখ্যক পেশাদার সামরিক ও বেসামরিক অফিসারের সহায়তায় প্রশাসন দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করেছিলেন। বহুমুখী সমস্যা মোকাবিলা করেও তিনি অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে তা দূর করেছিলেন এবং আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল নেতা হিসেবে স্বীকৃত।  

আমাদের এখনো এমন কিছু উজ্জ্বল বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তা রয়েছেন, যারা জিয়াউর রহমান ও এরশাদের সঙ্গে কাজ করেছেন। তাদের খুঁজে বের করে জাতির জন্য কাজে লাগানো উচিত।  

সরকারের কার্যকারিতা, গতিশীলতা এবং পেশাদারিত্ব বাড়ানোর জন্য মন্ত্রিসভায় দ্রুত পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিতে হবে এবং অভিজ্ঞ ও দক্ষ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন এবং বিজয় আমাদেরই হবে, ইনশাআল্লাহ।

লেখক: সম্পাদক, সামরিক ইতিহাস জার্নাল এবং আইন ও ইতিহাসের অধ্যাপক

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম
Share on Facebook

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন এর সর্বশেষ

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন এর জনপ্রিয়

সর্বশেষ - আন্তর্জাতিক