a
ফাইল ছবি
রাশিয়ার তেল বিক্রেতাদের ক্রেতা খুঁজে পেতে বেগ পেতে হচ্ছে এরকম খবর পশ্চিমা মিডিয়ায় খবর হলেও তেল বিক্রির রেকর্ড গড়লো দেশটি। ছয় কোটি ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে এই মুহূর্তে রাশিয়ার কয়েকটি তেল ট্যাংকার সমুদ্রে অবস্থান করছে খালাসের জন্য। এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ভোরটেক্সা নামের জ্বালানি তথ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটি যে পরিমাণে তেল বিক্রি করতো বর্তমানে তার চেয়ে তিনগুণ তেল নিয়ে রুশ জাহাজ সাগরে অবস্থান করছে।
সেইগলের তথ্য মতে, সমুদ্রে রাশিয়ার মোট তেলবাহী জাহাজের শতকরা ১৫ ভাগের কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্য নেই, এটিও যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। সেইগল বলছে, বেশিরভাগ জাহাজ চীন ও ভারতের দিকে যাচ্ছে আর কিছু জাহাজের তেল অজ্ঞাত স্থান দিয়ে বিক্রি হচ্ছে। একইসঙ্গে ইউরোপে বিভিন্ন দেশে রাশিয়ার তেল বিক্রির পরিমাণও বেড়েই চলেছে।
হিউস্টোনভিত্তিক জ্বালানি কৌশল প্রণয়নকারী সংস্থা ‘ক্লে সেইগল’ বলছে, সমুদ্রে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সূত্র: ইত্তেফাক
ফাইল ছবি
রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পোল্যান্ড ইউক্রেনকে আর কোনো অস্ত্র সরবরাহ করবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মাতেউস মোরাভিয়েস্কি।
শস্য আমদানি ঘিরে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার পর এই ঘোষণা দিল পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী।
টানা দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে রাশিয়া। রুশ এই আগ্রাসন মোকাবিলায় কিয়েভকে অস্ত্র সরবরাহ করে আসছে আমেরিকা ও ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো। এমনকি প্রতিবেশী পোল্যান্ডও ছিল ইউক্রেনকে অস্ত্র সরকরাহকারীর অন্যতম দেশ।
তবে ইউক্রেনের কট্টর মিত্র বলে পরিচিত এই দেশটি এখন থেকে আর কিয়েভকে অস্ত্র সরবরাহ না করার ঘোষণা দিয়েছে। মূলত ইউক্রেনীয় শস্য আমদানি করা বা না করা নিয়ে বিতর্কের জেরে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- কিয়েভকে অস্ত্র দেওয়ার পরিবর্তে আরও আধুনিক অস্ত্র দিয়ে নিজেকে সজ্জিত করার দিকে মনোনিবেশ করবে তার দেশ।
এর আগে জাতিসংঘে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির করা মন্তব্যের জন্য গত মঙ্গলবার ইউক্রেনীয় রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছিল পোল্যান্ড।
কিয়েভ থেকে খাদ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য প্রতিবেশী তিনটি দেশের বিরুদ্ধে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) কাছে মামলা দায়ের করে ইউক্রেন। ওই তিনটি দেশ হচ্ছে- স্লোভাকিয়া, পোল্যান্ড এবং হাঙ্গেরি।
রুশ আগ্রসনের শিকার কিয়েভের অভিযোগ, ইউক্রেনের ইইউ প্রতিবেশীদের এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার লঙ্ঘন। অন্যদিকে আমদানি বন্ধ রাখা এসব দেশ বলছে, সস্তায় শস্য আমদানির প্রভাব থেকে নিজেদের কৃষকদের রক্ষা করতে এই নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজন ছিল।
মূলত গত বছর ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণ মাত্রায় আগ্রাসনের পর থেকে কৃষ্ণসাগরে জাহাজ চলাচলের প্রধান লেন বন্ধ হয়ে যায় এবং এর জেরে স্থলপথে বিকল্প রুট খুঁজতে বাধ্য হয় ইউক্রেন। এর ফলে মধ্য ইউরোপে প্রচুর পরিমাণে শস্য ঢুকতে থাকে।
আর এর জেরে সেসব দেশের কৃষকরা তখন থেকেই প্রতিবাদ-সমাবেশ করে আসছেন। তাদের অভিযোগ, ইউক্রেনীয় শস্যের চালান তাদের ক্ষতি করছে এবং স্থানীয় বাজারকে ক্ষতির মুখে ফেলে দিয়েছে।
আর সেই চাপের ফলে ২৭-সদস্যের ইইউ ব্লক চলতি বছরের শুরুতে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া ও সেই সাথে বুলগেরিয়া এবং রোমানিয়াতে ইউক্রেনের শস্য আমদানির ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।
সময়সীমার শেষ হওয়ার দিনে ইইউয়ের নির্বাহী সংস্থা হিসেবে ইউরোপীয় কমিশন এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু বুদাপেস্ট, ওয়ারশো এবং ব্রাতিস্লাভার সরকার ইউরোপীয় কমিশনের এই পদক্ষেপ মানতে অস্বীকার করে এবং শস্য আমদানির বিষয়ে তাদের নিজস্ব বিধিনিষেধ ঘোষণা করে।
কারণ এসব দেশের আশঙ্কা, ইউক্রেনীয় শস্য তাদের দেশের কৃষকদের স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত শস্যের দাম কমিয়ে দিচ্ছে। যদিও ইউরোপীয় কমিশন বারবার বলেছে, ব্লকের মেনে চলা বাণিজ্য নীতির বাইরে ইইউ সদস্যরা পৃথকভাবে কোনও পদক্ষেপ বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে না। সূত্র: বিবিসি, সিএনএন, ডয়েচে ভেলে।
ফাইল ছবি
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পর পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন নেদারল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী অঙ্ক বিজলেভেল্ড। শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) তিনি বলেছেন, গত মাসে আফগানিস্তান থেকে শরণার্থীদের সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার দায় নিয়ে তিনি পদত্যাগ করবেন। এর আগে বৃহস্পতিবার একই ইস্যুতে পদত্যাগ করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিগ্রিড কাগ। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
বৃহস্পতিবার সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ অভিযোগ করে বলেছে, আফগানিস্তানে তালেবানের উত্থানে ডাচ সরকারের ধীরগতির প্রতিক্রিয়ার জন্য উভয় মন্ত্রীই (অঙ্ক বিজলেভেল্ড ও সিগ্রিড কাগ) দায়ী। নেদারল্যান্ডে আশ্রয় পাওয়ার যোগ্য, এমন হাজার হাজার আফগানদের নিরাপদে সরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছে এই দুই মন্ত্রী।
অবশ্য বিজলেভেল্ড প্রথমে বলেছিলেন যে, তিনি থাকবেন। কিন্তু তার নিজের ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটস পার্টির সদস্যদের তীব্র সমালোচনার মুখে একদিন পরই পদত্যাগ করার নিদ্ধান্ত নিলেন।
অঙ্ক বিজলেভেল্ড বলেন, যারা আফগানিস্তানে এখনো আছেন এবং আমাদের নিরাপত্তার উপর নির্ভর করেন, তাদের আনার জন্য আমি আমাদের মিশন শেষ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার অবস্থান এখন আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠেছে। ফলে যারা আমার জন্য কাজ করে তাদের গুরুত্বপূর্ণ কাজে আমি বাধা দিতে চাই না। তাই এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলাম।
গত মাসে আফগানিস্তানে আনুষ্ঠানিকভাবে সামরিক মিশন শেষ করেছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনী। দীর্ঘ ২০ বছর পর আবারও দেশটির ক্ষমতা দখল করেছে উগ্রপন্থী তালেবান। এমতাবস্থায় আফগানিস্তান থেকে বিদেশি নাগরিক, কূটনীতিক ও ঝুঁকিকে থাকা আফগানদের সরিয়ে নিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। তবে এ কারণে কাবুল বিমানবন্দরে ব্যাপক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেসব দায় নিয়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন এই দুই ডাচ মন্ত্রী।