a
ফাইল ছবি
ইরানের সাথে সরাসরি আলোচনা করতে চান বলে জানিয়েছেন সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান। তিনি চান ইরানি ও সৌদি কর্তৃপক্ষের পাস্পারিক বিশ্বাস প্রতিষ্ঠার জন্য সকল আলোচনা সরাসরি অনুষ্ঠিত হোক। বুধবার মিডল ইস্ট আই এমন সংবাদ প্রকাশ করেছে।
সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে অনেক পুরোনো বৈরী সম্পর্কের কারণে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এমন তিক্ত সম্পর্ক থাকার কারণে দু’পক্ষই আলোচনার জন্য তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এরপর বুধবার জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদে দেয়া (আগে রেকর্ডকৃত ভার্চুয়াল) ভাষণে সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বলেন, ইরান আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র।
আমরা আশা করি, সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যকার এ প্রাথমিক আলোচনার ফলে আমাদের মধ্যে পাস্পারিক বিশ্বাস সৃষ্টি হবে। উভয় দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা ও পরস্পরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি হবে এ বিশ্বাসের মূল ভিত্তি।
সৌদি বাদশাহ আরো বলেন, ইরান যাতে পারমাণবিক শক্তি অর্জন করতে না পারে তার জন্য যে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা ছিল তাকে আমরা সমর্থন করি। যদিও ইরান সবসময় বলে থাকে যে তাদের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ তবুও আমরা দেখেছি তারা কিভাবে তাদের প্রতিজ্ঞার পরিপন্থী কাজ করে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ইরান ও সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের প্রধান আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ। সিরিয়া ও ইয়েমেনে তারা অনেক দিন ধরে যুদ্ধে লিপ্ত আছে। এ যুদ্ধে উভয় দেশের মদদপুষ্ট যোদ্ধারা পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়ছে। এ কারণে ২০১৬ সালে দু’দেশের মধ্যকার কূটনীতিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়। অল্প কিছু দিন আগে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে দুটি দেশ ইরাকে বৈঠক করে। সূত্র : মিডল ইস্ট আই
ফাইল ছবি
হামাসের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে সতর্কতা হিসেবে ইসরায়েলে নিজেদের একটি উত্পাদন প্ল্যান্ট বন্ধ ঘোষণা করেছে বিশ্বের বৃহত্তম খাদ্যদ্রব্য প্রক্রিয়াজাতকারী সুইজারল্যান্ডভিত্তিক কোম্পানি নেসলে। খবর রয়টার্সের।
পূর্ব-সতর্কতা হিসেবে ইসরাইলে ঐ উত্পাদন প্ল্যান্ট ‘সাময়িকভাবে বন্ধ’ করা হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার ক্ষমতাসীনগোষ্ঠী হামাসের সঙ্গে গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রথম কোনো জায়ান্ট কোম্পানি হিসেবে নেসলে তাদের উত্পাদন প্ল্যান্ট বন্ধ ঘোষণা করেছে।
হামাসের আকস্মিক হামলার পর বেশ কয়েকটি বৈশ্বিক কোম্পানি ইসরায়েলে তাদের কিছু কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে রেখেছে। আবার কিছু কিছু কোম্পানি তাদের কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে।
নেসলে বলেছে, ইসরাইলে তাদের উত্পাদন প্ল্যান্টটি কয়েক দিন বন্ধ থাকবে। তবে এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে জায়ান্ট এই কোম্পানি।
নেসলে প্রধান নির্বাহী মার্ক স্নাইডার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের নজর আমাদের সহকর্মী এবং কর্মচারীদের সুরক্ষিত রাখার দিকে। ব্যবসার উন্নয়ন নিয়ে আমার কোন মন্তব্য নেই। আমরা প্রয়োজনীয় সতর্কতা নিয়েছি।’
অন্যান্য বহুজাতিক প্যাকেজড পণ্য সংস্থাগুলো এখনও পর্যন্ত দ্বন্দ্বের বিষয়ে নীরব রয়েছে, এমনকি খুচরা, স্বাস্থ্যসেবা এবং তেল সংস্থাগুলো তাদের অবস্থান নিয়ে উদ্বিগ্ন। সূত্র: ইত্তেফাক
ছবি: সংগৃহীত
নির্বাচন কমিশনের কাছে সংরক্ষিত ৪০ হাজার ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ত্রুটি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ইভিএম প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) কর্নেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান। ত্রুটিপূর্ণ ইভিএমগুলো মেরামতের জন্য বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরিতে পাঠানো হচ্ছে বলে গনমাধ্যমকে জানান।
বুধবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের নিজ কক্ষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি। এর আগে ইভিএম নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
রাকিবুল হাসান বলেন, ‘যাচাই-বাছাই করে এখন পর্যন্ত ৪০ হাজার ইভিএমে ত্রুটি পেয়েছি। ত্রুটিপূর্ণ ইভিএমগুলো মেরামতের জন্য বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরিতে পাঠানো হচ্ছে। আর ১ লাখ ১০ হাজার ইভিএম ভোটের জন্য প্রস্তুত রাখা আছে।’
তিনি জানান, অর্থ সংকটে নতুন ইভিএম কেনার প্রকল্প অনুমোদন হয়নি। ফলে মজুত থাকা ইভিএমের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে নির্বাচন কমিশনকে। কিন্তু যে পরিমাণ ইভিএম মজুত আছে, তার কতগুলো এখন ব্যবহারযোগ্য, আর কতগুলো মেরামত করতে হবে, সে হিসাব আমরা করেছি।’
প্রকল্প পরিচালক জানান, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরিতে মজুত থাকা ৭০ হাজার এবং অন্যান্য গোডাউনে থাকা ৪০ হাজারসহ মোট এক লাখ ১০ হাজার ইভিএম এখন ভোটের জন্য সচল রয়েছে। বিভিন্ন সময় ভোটের পর সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করাসহ অযত্ন ও অবহেলায় ত্রুটিপূর্ণ ইভিএমগুলো অকেজো হয়ে গেছে বলে জানান প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ২০১৮ সালে ৩ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে দেড় লাখ ইভিএম কিনেছিল ইসি। কিন্তু পর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনার অভাবে অনেক ইভিএমই এখন ত্রুটিপূর্ণ। একাদশ জাতীয় সংসদের ৬টি সংসদীয় আসনসহ বিগত ৫ বছরে অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশনসহ বেশিরভাগ স্থানীয় সরকার নির্বাচন ইভিএমের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়।
এখন ১০টি আঞ্চলিক কার্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন জেলার ৪০টিরও বেশি অস্থায়ী গুদামে ইভিএমগুলো সংরক্ষিত আছে। গত ৪ মাস ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ৪০ হাজার ইভিএম ত্রুটিপূর্ণ পেয়েছে ইসি। সূত্র:ইত্তেফাক