a
ফাইল ছবি
সারাদেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে আজ শনিবার (৭ আগস্ট) থেকে শুরু হচ্ছে গণটিকা কার্যক্রম। আগামী ১২ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে ক্যাম্পেইন চালিয়ে ৩২ লাখ মানুষকে করোনা টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হবে।
গ্রাম, শহর ও দুর্গম এলাকার মানুষ ছয় দিনে পর্যায়ক্রমে টিকা পাবেন। এছাড়াও মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদেরও টিকা দেওয়া হবে।
টিকা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম বলেছেন, ‘আপনারা দেখেছেন নানান জায়গা থেকে নানা মন্তব্য এসেছে। নানা বিষয় এসেছে। আমরা সে ব্যাপারগুলোর বিষয়ে সজাগ আছি। আমরা চেষ্টা করব, ভবিষ্যতে যাতে এই ব্যাপারগুলোর পুনরাবৃত্তি না হয়। তবে টিকা নিয়ে যা হয়েছে সেটার সবটুকুর দায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের না।’
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মহাখালীতে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসের (বিসিপিএস) সভাকক্ষে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে আজ ৭ আগস্ট থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে টিকা ক্যাম্পেইন করে ৩২ লাখ মানুষকে করোনা ভাইরাসের টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। ২৫ বছর বা এর বেশি বয়সি জনগোষ্ঠী এই টিকা পাবে। তবে এ ক্ষেত্রে পঞ্চাশোর্ধ্ব ব্যক্তি, নারী ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অগ্রাধিকার পাবেন। এ ছাড়া এবার দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে করোনার টিকা দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন ডা. আবুল বাশার।
তিনি বলেন, ‘১৮ বছর বয়সি অনেকের এনআইডি নেই। আমরা পর্যালোচনা করে দেখেছি, যদি এনআইডি ছাড়া ১৮ বছর বয়সিদের টিকার আওতায় আনতে যাই, মাঠে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে, সেটা আমরা সামাল দিতে পারব না। সে জন্য অনেক আলোচনা করে আমরা ঠিক করেছি বয়সসীমা ২৫ বছর হবে। আমরা চিন্তা করেছিলাম, যদি আমরা ম্যাসিভ আকারে ক্যাম্পেইন না করতে পারি বা মানুষের মধ্যে উদ্দীপনা তৈরি করতে না পারি, তাহলে সারা দেশে যেখানে আমাদের ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকা দিতে হবে, এত মানুষকে আমরা কীভাবে কাভার করব? এটা পাইলট প্রজেক্ট বলা যেতে পারে। আমরা নিজেদের সক্ষমতা যাচাই করতে চাই। আমরা দেখতে চাই, আমাদের লোকেরা, প্রান্তিক পর্যায়ে এক দিনে কী পরিমাণ টিকা দিতে পারেন।’ সূত্র: ইত্তেফাক
ফাইল ছবি
বিদেশি চ্যানেলে ক্লিনফিড বাস্তবায়নে সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে সেখান থেকে এক চুলও সরা হবে না বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ক্লিনফিড বাস্তবায়ন সহজ কাজ ছিল না। ১৫ বছরে এটি বাস্তবায়িত হয়নি। এর আগেও একবার আমরা উদ্যোগ নিয়েছিলাম। নানা অজুহাতে সেটি করা সম্ভব হয়নি। এবার স্থির সিদ্ধান্ত নিয়ে আগে ভাগে গ্রাউন্ড ওয়ার্ক করে এবং যে সমস্ত জায়গা থেকে কথা উঠতে পারে তাদের জানিয়ে আমরা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছি। সুতরাং এ সিদ্ধান্ত থেকে আমরা একচুলও নড়বো না।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন সার্বিকভাবে গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা আনার জন্য সম্প্রচার, প্রিন্ট ও অনলাইন মাধ্যমে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে অনেকগুলো কাজ করেছি।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আপনাদের যে প্রস্তাব সেটার জন্য ধন্যবাদ জানাই। অন্তত প্রথমে ৫০টি পত্রিকা সম্ভব হলে ১০০টি পত্রিকার ক্ষেত্রে রিয়েলিস্টক যে সার্কুলেশন সেটার ভিত্তিতে ক্রম করা। আমি মনে করি এটা অনেক ভালো প্রস্তাব, আমি এটা করতে চাই।
বিজ্ঞাপনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে ই-টেন্ডারিং এর জন্য বিজ্ঞাপন যাচ্ছে না এটি কিছুটা জানতাম। তবে এত ভয়াবহ চিত্র সেটা জানা ছিল না।
এ বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলবো। ই-টেন্ডারিং হলেও যেন বিজ্ঞাপন যায়। আর আপনারা যে বকেয়ার কথা বলেছেন সেটা আমি জানি। অনেক পত্রিকার কয়েক কোটি টাকা করে বাকি আছে। কোর্টেও যে পড়ে আছে সেটা অবশ্য জানতাম না। এগুলো আমি জানলাম। দেশের মানুষ জানলেও মনে হয় ভালো হতো। কারণ এই বাকিটাতো থাকার কথা ছিল না।
বিজ্ঞাপনের টাকা প্রজেক্টের মধ্যে ধরা থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ধরা থাকে। কেন বাকি পড়ছে এটাই আসল বিষয়।
ছবি সংগৃহীত
পরকীয়া একটি মানসিক ব্যাধি। পরকীয়া পারিবারিক অশান্তি এবং বিবাহ বিচ্ছেদের একটি অন্যতম কারণ। অধিকাংশ পরকীয়ার সম্পর্ক গুলোতেই ভালোবাসা থাকে না, পরকীয়ার সম্পর্কে যে অনুভূতিগুলো তৈরি হয় সেটিকে প্রেম বলা যেতে পারে যেখানে রোমান্স থাকে, শারীরিক সম্পর্কের একটা বিষয় থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরকীয়া সম্পর্কগুলো ক্ষণস্থায়ী হয়, সর্বোচ্চ দুই থেকে তিন বছর এই সম্পর্কিত মানুষ দুটির একে অপরের প্রতি আকর্ষণ থাকে। এরপর সম্পর্কের পরিণতি হতে থাকে। ক্ষণস্থায়ী এই সম্পর্কের প্রভাব অনেক ক্ষতিকর যা দুটি সুন্দর সাজানো সংসারকে ধ্বংস করে দেয়। পরকীয়া থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিটি তার জীবন সঙ্গীর কাছে আগের মত আর বিশ্বস্ত হতে পারে না। ভাঙা বা ছেরা জিনিসকে সুপার গ্লু দিয়ে জোরা লাগালে জোরা লাগবে কিন্তু একটা দাগ থেকে যায়।
পরকীয়া সম্পর্ক দিন দিন বেড়েই চলছে। যার ফলে বাড়ছে পারিবারিক অশান্তি এবং বিবাহ বিচ্ছেদ। এই সম্পর্ক গুলো গড়ে ওঠার পেছনে কে দায়ী? কেন মানুষ পরকীয়া সম্পর্কে জড়িত হয়? অনেক মানুষ তার স্বভাবগত কারণে পরকীয়া সম্পর্ক করে থাকে। কখনো কখনো তারা একটি নয়, একই সঙ্গে একাধিক পরকীয়া সম্পর্ক করে। একটি সম্পর্ক ভেঙে গেলে আবার অন্য কারো সঙ্গে নতুন করে পরকীয়া করে। এই বিকৃত স্বভাবের মানুষগুলোর এই ধরনের আচরণ গড়ে ওঠার পেছনে তার ত্রুটিপূর্ণ পারিবারিক পরিবেশ, পরিবার থেকে ন্যায় নীতি এবং ধর্মীয় শিক্ষার অভাব এবং বিকৃত সামাজিক অবস্থা অনেক ভূমিকা পালন করে। পরকীয়ায় লিপ্ত আছে এমন কারো সঙ্গে বন্ধুত্ব থাকলেও পরকীয়া করার প্রতি প্রভাবিত হতে পারে।
পরকীয়ার অন্যান্য কারণ গুলোর মধ্যে একটি অন্যতম কারণ হচ্ছে জীবনসঙ্গীর কাছ থেকে পাওয়া অবহেলা। বিশেষ করে পুরুষরা যখন তার স্ত্রীর কাছ থেকে বিভিন্নভাবে অবহেলিত হয় এবং স্ত্রীরা সে বিষয়ে উদাসীন থাকে তখনই একজন পুরুষ বহির্মুখী হয়। এক্ষেত্রে স্বামী স্ত্রীর শারীরিক সম্পর্ক বা যৌন সম্পর্কের অপরিপূর্ণতা সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।অপর পক্ষে একজন স্ত্রীও যখন স্বামীর কাছ থেকে অবহেলিত হন তখন সে পরকীয়া করতে পারে।
পরকীয়া কখনোই স্থায়ী হয় না সুতরাং যে সম্পর্ক স্থায়ী হয় না বরং এর প্রভাব দুটো পরিবারের উপরে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে তাই এ বিষয়ে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। স্বামী এবং স্ত্রী উভয়কেই সুন্দর সম্পর্ক ধরে রাখার জন্য মনোযোগী হতে হবে। উভয়েই উভয়ের চাহিদাগুলো পূরণ করার জন্য সচেষ্ট থাকতে হবে। স্বামী-স্ত্রীর সুন্দর সম্পর্ক পরকীয়ার চেয়ে হাজার হাজার গুণ বেশি শ্রেয়। তাই এই সম্পর্ক কে টিকিয়ে রাখার জন্য সচেতনতার প্রয়োজন রয়েছে। আর যারা জীবনসঙ্গীর কাছ থেকে সবকিছু পাওয়া সত্বেও পরকীয়ার উপর নির্ভরশীল তাদের উচিত একজন ভালো মনোবিজ্ঞানীর পরামর্শ নেয়া।
সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন এবং সুন্দর সম্পর্কে সম্পর্কিত থাকুন।
নাসরীন আহমেদ
প্রাক্তন শিক্ষক মনোবিজ্ঞান বিভাগ
সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়
বেইলী রোড, ঢাকা
বাংলাদেশ