a
ফাইল ছবি
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে সিলেট-সুনামগঞ্জের পর নেত্রকোনা-শেরপুরেও বন্যা দেখা দিয়েছে। এসব জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি। গৃহপালিত পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছে তারা।
শেরপুর: ভারিবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে নয় দিনের মাথায় ফের আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে নিম্নাঞ্চলগুলোতে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে ভারিবর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলের পানিতে দ্বিতীয় দফায় শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশী ও সোমেশ্বরী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এ প্লাবন দেখা দিয়েছে।
এদিকে উজানের ভারতের মেঘালয়ের বিভিন্ন পাহাড়ি নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার সীমান্তবর্তী নালিতাবাড়ী উপজেলার ভোগাই নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে বেশ কয়েকটি গ্রাম ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
নেত্রকোনা: উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারি বৃষ্টিপাতে নেত্রকোনার কলমাকান্দা, দুর্গাপুর ও বারহাট্টা উপজেলায় বন্যা হচ্ছে। বিশেষ করে কলমাকান্দার পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। উপজেলার আটটি ইউনিয়নের ৩৪৩ গ্রামের মধ্যে বেশিরভাগ গ্রাম বন্যাকবলিত হয়ে পড়ায় প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ শুক্রবার সকালে বলেন, ‘কলমাকান্দা, দুর্গাপুর ও বারহাট্টা উপজেলার মধ্যে কলমাকান্দায় বেশি বন্যা হচ্ছে। ক্রমশ পরিস্থিতি অবনতি হচ্ছে। তিনটি উপজেলায় প্রচুর মানুষ পানিবন্দি। রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢুবে যাচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বন্যাকবলিত প্রতিটি উপজেলায় ২০ টন করে চাল ও দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শুকনো খাবারসহ ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত আছে।’
সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি চরম অবনতি হয়েছে। এতে ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। জেলার সদরসহ ছাতক, দোয়ারাবাজার, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর ও শান্তিগঞ্জ এই ছয়টি উপজেলা বন্যাকবলিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। পানিবন্দি লোকজন চরম দুর্ভোগে আছেন। সুনামগঞ্জ জেলা সদরে বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে সুনামগঞ্জ শহরেরর ৬০ ভাগ বাসাবাড়িতে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে।
সুনামগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহেদ হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সুনামগঞ্জ শহরের ৮০ ভাগ দোকানপাট পাহাড়ি ঢলের পানিতে নিমজ্জিত। দোকান ঘরে পানি ঢুকায় ব্যবসায়ীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। এমন অবস্থায় অনেকে দোকানপাট বন্ধ করে দিয়েছে। এতে ক্রেতা সাধারণ পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।’
সিলেট: টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে সিলেট নগরীসহ বেশ কয়েকটি উপজেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বন্যাকবলিতদের। বন্যার কারণে বিভিন্ন জায়গায় রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। বাড়িঘরেও ঢুকে পড়েছে পানি। সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ের কাছে বন্যার পানি চলে আসায় বিমান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সিলেটের কুমারগাঁও বিদ্যুতের গ্রিড উপকেন্দ্র রক্ষা করতে কাজ শুরু করেছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। দুপুর ১২টার দিকে গ্রিড উপকেন্দ্রে পানি প্রবেশ বন্ধ করতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) সিলেট বিক্রয় ও বিতরণ অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুল কাদির গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা দুপুর ১২টা থেকে জিও ব্যাগ ফেলে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে পানি প্রবেশ ঠেকাতে কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের সঙ্গে সিলেট সিটি করপোরেশন, ফায়ার সার্ভিস, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মীরা একযোগে কাজ করছেন। সূত্র: যুগান্তর
ফাইল ছবি
ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডের বিমানবন্দর সড়কটি আগামীকাল থেকে তিন দিন এড়িয়ে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিমানবন্দর স্টেশন এলাকায় বিআরটি প্রকল্পের উন্নয়ন কাজ ত্বরান্বিত করার জন্য ২৪ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২৭ নভেম্বর সকাল ৬টা পর্যন্ত সড়কটি না ব্যবহার করার জন্য নির্দেশনা এসেছে।
কাজ চলার সময় বাড়তি যানজটের আশঙ্কায় জনসাধারণের জন্য বিশেষ এই ট্রাফিক নির্দেশনা দিয়েছে বিআরটি।
বিআরটির প্রকল্প পরিচালক এএসএম ইলিয়াস শাহ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ওই সময়ে জনসাধারণ ও পরিবহণকে সম্ভাব্য বিকল্প পথ ব্যবহারের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সবার সহানুভূতি ও সহযোগিতাও কামনা করা হয়েছে।
এই সড়কে অনেকদিন যাবত জনদুর্ভোগের শেষ নেই। দীর্ঘদিন ধরে বিআরটি প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় সড়কে বেহাল অবস্থার মধ্যে রয়েছে। ফলে উত্তরা থেকে গাজীপুর পর্যন্ত এলাকার মানুষকে অন্তহীন দুর্গতি পোহাতে হচ্ছে।
তাই সড়কটিতে যান চলাচল স্থায়ীভাবে নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে আগামীকাল থেকে তিন দিন টানা কাজ চলবে। সূত্র: যুগান্তর
সংগৃহীত ছবি
চীনের সিনোফার্মের টিকার ২০ লাখ ডোজের প্রথম চালানটি বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে টিকার এ চালান পৌঁছাবে বলে জানা গেছে।
ঢাকায় চীনা দূতাবাসের উপরাষ্ট্রদূত হুয়ালং ইয়ান শুক্রবার গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বেইজিং এয়ারপোর্ট থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বিমান টিকা নিয়ে রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। বিমানটি রাত ১টায় ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এর আগে, দুই ধাপে চীন থেকে উপহার হিসেবে সিনোফার্মের ১১ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন প্রদান করেছে। ইতিমধ্যে দেশে চীনা টিকার প্রয়োগও শুরু করেছে।