a
ফাইল ছবি
২০২১ আর্চারি বিশ্বকাপ স্টেজ-২’ এর রিকার্ভ মিশ্র ইভেন্টে ফাইনাল নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশের রোমান সানা ও দিয়া সিদ্দিকী। বৃহস্পতিবার (২০ মে) সুইজারল্যান্ডের লুজানে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে কানাডাকে ৫-৩ সেটে পরাজিত করেন বাংলাদেশের এই দুই খ্যাতিমান আর্চারি খেলোয়াড়।
আগামী রবিবার (২৩ মে) স্বর্ণ জয় করতে হলে সানা-সিদ্দিক জুটিকে নেদারল্যান্ডসের বাধা টপকাতে হবে।
রিকার্ভ মিশ্র ইভেন্টের প্রথম রাউন্ডে ৫-৩ সেটে ইরানকে হারায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় রাউন্ডে শক্তিশালী জার্মানি পাত্তাই দেয়নি লাল-সবুজের টিমটি। ৫-১ সেটে হারিয়ে জয় ছিনিয়ে নেয় বাংলাদেশ।
কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনকে ৫-৪ সেটে হারিয়ে দেয় বাংলাদেশ। সেমিফাইনালে কানাডার বিপক্ষে দাপটের সঙ্গে জয় তুলে ফাইনালের মঞ্চ আলোকিত করার অপেক্ষায় রোমান-দিয়া আর্চারি জুটি। তাদের এমন অর্জনে ক্রীড়াঙ্গনে প্রশংসায় ভাসছে বাংলাদেশ আর্চারি টিম।
ফাইল ছবি
বাংলাদেশের ক্রীড়া জগতের অন্যতম সফল হকি খেলোয়াড় ও সংগঠক শামসুল বারী আজ ভোর পাঁচটার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন তিনি। আজ বেলা ১টায় মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত হকি ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন শামসুল বারী। ১৯৮৮ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত দীর্ঘ ১৮-১৯ বছর বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সালে এশিয়ান হকি ফেডারেশনের সদস্য হয়েছিলেন তিনি।
ঢাকার আরমানিটোলা স্কুল থেকে উঠে এসে যায়গা করে নেন পূর্ব পাকিস্তান হকি দলে। স্কুলটির হকি ঐতিহ্যের অন্যতম চেনামুখ ছিলেন তিনি। ১৯৭২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্লু পান। ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতি তাঁকে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার দেয়। ১৯৯৩ সালে পেয়েছেন বাংলাদেশ ক্রীড়া সাংবাদিক সংস্থার দেওয়া সেরা হকি সংগঠকের স্বীকৃতি। ১৯৯৫ সালে একই স্বীকৃতি দেয় বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতি।
ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আবাহনী ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের জার্সিতে একসময় মাঠ মাতিয়েছেন এই সফল ক্রীড়াবিদ। শামসুল বারীর মৃত্যুতে দেশের হকিতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। হকি ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, ‘আমরা একজন অভিভাবক হারিয়েছি। দেশের হকি উন্নয়নে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’ শোক প্রকাশের পাশাপাশি হকি ফেডারেশনের সহসভাপতি ইউসুফ আলী ক্ষোভও জানালেন, তিনি বলেন ‘বারী ভাই অনেক কাজ করেছেন হকির জন্য। কিন্তু জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার না পেয়েই তাঁকে চলে যেতে হলো। শামসুল বারী ভাইয়ের মতো হকি-অন্তঃপ্রাণ সংগঠক আর আসবে না। তাঁর মৃত্যু দেশের হকিতে অপূরণীয় এক ক্ষতি।’
ফাইল ছবি
দেশের সমালোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ার মেয়ে। তিনি এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। তিনি ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ইকড়ি ইউনিয়নের শিংখালী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সেখানে মামার বাড়িতে থেকে বড় হয়েছেন। তার পুরো নাম শামসুন নাহার স্মৃতি।
স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও পিরোজপুর জেলা পরিষদ সদস্য মো. আব্দুল হাই হাওলাদার জানান, পরীমনির বাড়ি এখানে না হলেও তিনি নানা মো. শামসুল হক গাজীর বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করে বেড়ে উঠেছেন। তবে তার বাড়ি নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার সালাবাদ গ্রামে। তার পিতা মনিরুল ইসলাম ছিলেন একজন পুলিশ কনস্টেবল।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, পরীমনির শিশুকালে তার মা সালমা সুলতানার মৃত্যু হয়। মায়ের মৃত্যুর পর পিতা-মাতার একমাত্র মেয়ে শামসুন নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমনিকে তার নানা মো. শামসুল হক গাজী তাদের ভাণ্ডারিয়ার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। তিনি ছিলেন মেধাবী ছাত্রী। কিন্তু গরিব হওয়ায় কোনো প্রাইভেট পড়তে পারেননি। তারপরও তিনি ভগিরাতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত হন।
এরপর মামার বাড়িতে থেকে পার্শ্ববর্তী মঠবাড়িয়া উপজেলার ভগিরাথপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২০১০ সালে প্রথম এসএসসি পরীক্ষা দিলেও প্রথমে তিনি ফেল করেন। পরের বছর ২০১১ সালে একই বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন।
পরীমনির নানা শামসুল হক গাজী জানান, পরীমনির মায়ের মৃত্যুর পর তাকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে আসি। সে আমাদের বাড়িতে থেকে স্থানীয় স্কুলে লেখাপড়া করে এসএসসি পাশ করে। পরে স্থানীয় একটি কলেজে ভর্তি হলেও বরিশালে থাকা খালাতো ভাই ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে বিয়ে হয়। সেখানে ২ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর বিচ্ছেদ হয়।
স্থানীয়রা জানান, উচ্ছৃঙ্খল জীবনের জন্য খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে ডিভোর্স হওয়ার পর ২০১৯ সালে দ্বিতীয় ও ২০২০ সালে তৃতীয় বিয়ে হয় পরীমনির।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মঠবাড়িয়ার ভগিরাথপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তার এক সহপাঠী জানান, ছাত্রজীবন থেকে শামসুন নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমনি ছিলেন উচ্চাভিলাষী ও উচ্ছৃঙ্খল। তাকে আমরা স্মৃতি নামে চিনতাম। তবে এসএসসির নিবন্ধনে তার নাম ছিল শামসুন নাহার।
জানা গেছে, অত্যন্ত গরিব পরিবারের কন্যা শামসুন নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমনি পেটের টানে চলে যান ঢাকায়। সেখানে চিত্রজগতে প্রবেশ করেন। প্রথমে ভালো পরিচিতি লাভ না করলেও পরে ‘বিশ্ব সুন্দরী’ নামে একটি ফিল্মে নায়িকার অভিনয় করে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।