a
ছবি সংগৃহীত
কর্নেল(অব.) আকরাম: ষড়যন্ত্র আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি পারিবারিক জীবন থেকে শুরু করে জাতীয় জীবন পর্যন্ত বিস্তৃত। আমাদের জাতি অতীতে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে এবং এর ফলে সীমাহীন কষ্ট ভোগ করেছে। ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় ষড়যন্ত্র আমাদের জাতীয় জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অধ্যায় হয়ে উঠেছে।
ভারতে মুসলিম শাসনের সময় ষড়যন্ত্র ছিল একটি সাধারণ ঘটনা। প্রাসাদ অভ্যন্তরের কূটচাল এবং ক্ষমতার দ্বন্দ্বের মাধ্যমে বহু শাসকের পরিবর্তন ঘটেছে। পুরো মুসলিম শাসনামলেই রাজপ্রাসাদের অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র শাসকের পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রেখেছিল। তবে এই সময়ে বাইরের কোনো শক্তির সরাসরি হস্তক্ষেপের নজির ইতিহাসে ছিল না।
বিদেশি শক্তির প্রথম প্রত্যক্ষ ষড়যন্ত্র দেখা যায় বাংলায়, যখন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে ক্ষমতা থেকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রে জড়িয়ে পড়ে। কোম্পানি নবাবের সেনাপ্রধান মীরজাফর এবং মুর্শিদাবাদের হিন্দু ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক অভিজাতদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বাংলার শাসনভার দখল করে। মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতা এবং মুর্শিদাবাদের হিন্দু ব্যাংকারদের সহযোগিতার ফলে বাংলার স্বাধীনতা হারায়, আর ভারতবর্ষের মুসলমানরা প্রায় দুইশত বছরের জন্য ব্রিটিশদের দাসে পরিণত হয়।
পলাশীর যুদ্ধের পরিণতি এতটাই ভয়াবহ হয়েছিল যে, পুরো ভারতবর্ষের মুসলমানরা সমাজের নিপীড়িত শ্রেণিতে পরিণত হয় এবং ব্রিটিশ শাসনামলে একের পর এক ষড়যন্ত্রের শিকার হতে থাকে। কলকাতার হিন্দু অভিজাত সম্প্রদায় বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করে এবং ১৯১১ সালে ব্রিটিশদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে এটি বাতিল করতে বাধ্য করে। কিন্তু ১৯৪৭ সালে একই হিন্দু অভিজাত শ্রেণি বাংলাকে একত্রিত রাখতে দেয়নি। এটি ছিল কংগ্রেসের হিন্দু নেতাদের গভীর ষড়যন্ত্র।
ভারতের মুসলমানরা ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের জন্ম পর্যন্ত একের পর এক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর, পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যবিত্ত শ্রেণি নতুন সুযোগের সন্ধান পায় এবং উন্নতির স্বপ্ন দেখে। কিন্তু স্বাধীনতার শুরু থেকেই ভারত ষড়যন্ত্রমূলক নীতি গ্রহণ করে পাকিস্তানকে বিভক্ত করার পরিকল্পনা করে। ভারত দ্রুত সোভিয়েত-সমর্থিত কমিউনিস্ট দল এবং সদ্য প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে।
ভারতের ষড়যন্ত্র তখনই প্রকট হয়ে ওঠে যখন শেখ মুজিব আওয়ামী লীগের প্রধান নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ছিল ভারতের ষড়যন্ত্রের স্পষ্ট প্রমাণ। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিল। এই সুযোগে শেখ মুজিব তার ছয় দফা দাবি উপস্থাপন করেন, যা পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের কাছে ‘ম্যাগনা কার্টা’ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে।
ছয় দফা দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং ভারত-সমর্থিত আওয়ামী লীগের চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতার জন্য সক্রিয় হতে শুরু করে। আবদুর রাজ্জাক ও সিরাজুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে কয়েকজন তরুণ নেতা স্বাধীনতা আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু গঠন করেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ শেখ মুজিবের নেতৃত্বে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে, কিন্তু পাকিস্তানের সামরিক-রাজনৈতিক অভিজাত শ্রেণি ষড়যন্ত্র শুরু করে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিবর্তে তারা পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ওপর দমন-পীড়ন চালায়।
এই সুযোগে ভারত দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যায়। মাত্র নয় মাসের মধ্যে ভারত ও সোভিয়েত রাশিয়ার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় পাকিস্তান বিভক্ত হয়ে বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়। ভারতের ষড়যন্ত্র সফল হয় এবং তারা বাংলাদেশকে একটি আজ্ঞাবহ রাষ্ট্রে পরিণত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করে।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ভারতের ষড়যন্ত্র পুরনো সামাজিক কাঠামো, ইসলামী ঐতিহ্য ও মূল্যবোধকে ধ্বংস করার দিকে মোড় নেয়। কথিত ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ’ এর মাধ্যমে সমাজের ধর্মীয় মূল্যবোধকে দুর্বল করা হয়। গত পাঁচ দশকে আমরা সমাজের নৈতিক অবক্ষয়, শিক্ষার মানের বিপর্যয় এবং আন্তর্জাতিক চাকরির বাজারে আমাদের অযোগ্যতার প্রমাণ পেয়েছি। ভারতের ষড়যন্ত্র এতটাই সফল হয়েছে যে, আমরা কখনো তা বুঝতে পারিনি।
আমাদের রাজনৈতিক নেতারা, জিয়াউর রহমান ছাড়া, ভারতের ষড়যন্ত্রমূলক রাজনীতিকে বিশ্লেষণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ভারতীয় ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে জিয়াউর রহমান নিহত হন। গত ৫৪ বছরে আমরা ভারতের ষড়যন্ত্র থেকে মুক্ত হতে পারিনি, বরং প্রতিবার তাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছি।
বেগম খালেদা জিয়া দুইবার জনগণের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এলেও, দুবারই তার নিজের নিয়োগকৃত সেনাপ্রধানদের ষড়যন্ত্রের শিকার হন। উভয় ক্ষেত্রেই ভারতের হাত ছিল, কিন্তু তার গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক এটি আগে থেকে বুঝতে পারেনি। ফলাফল—আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন।
২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব নতুন বাংলাদেশের সম্ভাবনা তৈরি করলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি, বরং সবকিছু আরও জটিল হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত, আর জাতির ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
ভারতীয় আধিপত্যবাদী রাজনীতি আজও সক্রিয় রয়েছে, অন্যথায় কেন রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের পরিবর্তে ভারতের সমর্থনের প্রত্যাশা করবে? আমরা কি কখনো ভারতীয় আধিপত্যবাদী রাজনীতি থেকে মুক্ত হতে পারব? এটি আজ জাতির সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
লেখক: ড. শেখ আকরাম আলী
লেখক ও আন্তর্জাতিক কলাম লেখক, মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
আরাফাত আলম, বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা: বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান ও জাতীয় ঐক্য সমন্বয় পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী, সাবেক মন্ত্রী এম. নাজিম উদ্দিন আল-আজাদ ১৭ মার্চ, সোমবার, জাতীয় প্রেসক্লাবে জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জাতীয় ঐক্য সমন্বয় পরিষদ-এর উদ্যোগে সাংবাদিক সম্মেলনে নিম্নোক্ত ১৯ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিসমূহ:
১। জুলাই-আগস্ট ২০২৪ গণহত্যাসহ সকল গুম, নির্যাতন, শাপলা চত্বরে খুন ও বিডিআর হত্যা এবং ভোটাধিকার হরণের বিচার দ্রæত সম্পন্ন করতে হবে। ফ্যাসিস্ট ও তাদের দোসরদেরও বিচার করতে হবে এবং রাজনীতি করা থেকে বিরতসহ তাদেরকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে।
২। সকল প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পূর্ণ করে জাতীয় নির্বাচন করতে হবে যৌতিক সময়ের মধ্যে।
৩। জাতীয় ঐক্যমতের সরকার চাই, দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট সংসদ চাই, ঔপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন চাই, শাসক ও শোষকের অবসান চাই।
৪। অত:পর গণপরিষদ নির্বাচন করে গণপরিষদ সদস্যদের ভোটে সংবিধান সংশোধন করতে রাষ্ট্রিয় ব্যবস্থাপনায় মৌলিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে জুলাই-আগষ্ট গণ অভ্যুত্থানের চেতনা সমৃদ্ধ নতুন সংবিধান পণয়ন করার দাবি জানাই। যেন আর কোন ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচার সৃষ্টি হতে না পারে এবং নির্বাচন কমিশনের উপর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ হয়। যাতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা যায় সেই ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
৫। সরকার শুধুমাত্র কয়েকটি দলের সাথেই সংলাপ করে সংলাপ হয়ে গেছে বলে জাতীকে জানিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় জণমত জরিপে যাছাইয়ের মাধ্যম ছাড়া হতে পারে না। এটি একটি চুড়ান্ত পদক্ষেপ নয় বলেও জাতি মনে করে। সরকারের নিকট আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য হলো দেশের সকল রাজনৈতিক দলগুলোর সামাজিক সংগঠন, নাগরিক সংগঠন ও নাগরিক, পেশাজীবিসহ সকল পর্যায়ের স্টেক হোল্ডারদের সংগে আলোচনা করে সকল জাতীয় গুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিলে প্রকৃপক্ষে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আমাদের নিকট প্রতীয়মান হয়। এটাই বাস্তবতা এবং এটাই সময়ের দাবি। আমাদের জানা মতে, দেশে ১৫০-১৬০ টির মতো রাজনৈতিক দল রয়েছে। ২০২৩ সালে নির্বাচন কমিশনকে ৯৩টি দল নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে, সে সকল দলের সংগে সংলাপ করতে হবে অন্যথায় এ সংলাপও সিদ্ধান্তসমূহ অর্থবহ হবে না।
আমাদের জানা মতে দেশে ফ্যাসিবাদ ও তাদের দোসর ছাড়া প্রায় ৯৩টির মতো রাজনৈতিক দল রয়েছে। যাদের নিবন্ধন নেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
৬। অবিলম্বে মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় চাউল, তেল, পানি-বিদ্যুৎ-গ্যাস- জ্বালানী তেলসহ সকল দাহ্য পদার্থের দাম কমাতে হবে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ব্যবসায় সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দিয়ে জনমনে স্বস্তি আনতে হবে। মূদ্রাস্ফীতি কমাতে হবে। ব্যাংকিং খাত শক্তিশালী করতে হবে। অর্থনৈতিক মুক্তি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। নাগরিকদের কর্মসংসংস্থান সৃষ্টি করতে পারলেই প্রকৃত গণতন্ত্রের পথে যাওয়া সহজ হবে। ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। অর্থনৈতিক সচল করাসহ সকল ধরনের চাঁদাবজি বন্ধ করতে হবে।
৭। সরকারের উপদেষ্টাদের আরো তৎপর ও শক্তিশালী হতে হবে।
৮। সরকারের দেশ চালাতে যদি সমস্যা মনে করেন বা তাদের নিকট যদি ভার মনে হয় তাহলে আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য হলো প্রয়োজনে পূর্ণাঙ্গ ক্যাবিনেট করে জাতীয় সরকার বা বিকল্প সরকার গঠন করতে হবে। যাতে করে শক্তিশালীভাবে দেশ পরিচালিত হয় এবং ছাত্র জনতার গণ আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করতে হবে। আমরা চাই এই সরকার যাতে ব্যর্থ না হয়ে সফলতা অর্জন করে। এ বিষয়ে গণভোট (জবভবৎবহফঁস) জনগণের মতামত নেওয়া যেতে পারে।
৯। দেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরতে কূটনৈতিক মিশনে ফ্যাসিস্টদের দোসরদের প্রত্যাহার করে দেশ প্রেমিক যোগ্যদের নিয়োগ দিতে হবে। বিশেষত: ভারতে বসে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার হাসিনা দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। ভারতের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
১০। প্রশাসনের সকল স্তরে ফ্যাসিস্ট ও তাদের দোসরদের প্রত্যাহার করে বা বরখাস্ত করে দেশপ্রেমিক যোগ্যদের নিয়োগ অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে।
১১। সংসদ সদস্যদের সংখ্যা ৫০০তে উন্নীত করতে হবে। দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট রাষ্ট্র ব্যবস্থায় উচ্চকক্ষে ২০০ জন সদস্য (সিনেটর) করতে হবে। এক্ষেত্রে আমাদের প্রস্তাবগুলো সংসদ সদস্যদের খরচ কমাতে হবে।
১২। শিক্ষা কমিশন গঠন করতে হবে। যাতে থাকবে আলেম ওলামাসহ জ্ঞানী ব্যক্তিগন। ফ্যাসিস্টদের শিক্ষা ব্যবস্থা বাতিল করে দেশ ও জাতীর কল্যাণে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষাসহ বিশ্ব মানের শিক্ষা ব্যবস্থা প্রনয়ন করতে হবে। জুলাই গনঅভ্যুথানকে আমরা ধারন করি, সম্মান করি এই চেতনা অব্যাহত থাকুক।
১৩। আন্দোলনে সকল শহীদদের ক্ষতিপুরন দিতে হবে। দ্রু তাদের ক্ষতিপুরনের ব্যবস্থা করতে হবে। সকল আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহ করা। তাদের জন্য কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। সারা দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা সাফল্য ফিরিয়ে আনতে হবে।
১৪। আমরা বাংলাদেশ কে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিনত করতে চাই। যা বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাড়াতে পারে। অর্থনৈতিক মুক্ত ও অর্থনৈতিক বৈষম্য নূন্যতম পর্যয়ে থাকে। রাজনীতি নয় রাজনীতি নয় জননীতিতে কাজ করতে হবে। সাম্য, ন্যায় বিচার ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।
১৫। এছাড়াও আমরা জাতীয় ঐক্য ও গন মানুষের সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষে ও রাজনৈতিক সমাজিক ও পেশাদারকে ঐক্যবদ্ধ করে ঐক্যবব্ধ বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে জাতীয় ঐক্য সমন্বয় পরিষদ এর আরো পরিসর বৃদ্ধি করতে হবে।
১৬। কৃষক-শ্রমিক মেহনতী মানুষের অধিকার সংরক্ষণে সকল প্রকার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুসরণ করা হবে।
১৭। কুরআন ও সুন্নাহ পরিপন্থী কোনো আইন পাস করা যাবে না।
১৮। রাষ্ট্রীয় সকল মৌলিক প্রশ্নে জাতীয় ঐক্যমত্য বাংলাদেশী জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠাকরণ এবং উদার গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে গতানুগতিক রাজনৈতিক ধারা পরিবর্তন করা।
১৯। তেল, গ্যাস, কয়লা ইত্যাদি উৎসের পাশাপাশি পানিসম্পদ থেকে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যবস্থা করা, এছাড়া নিরাপদ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করে জাতীয়ভাবে বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধান করা। জনগণের গোচরীভুক্ত করে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সকল চুক্তি সম্পাদন করা।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান, জাতীয়ঐক্য সমন্বয় পরিষদের সমন্বয়কারী ও মিডিয়া উইং চীপ শেখ মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় ঐক্য সমন্বয় পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী ও সাবেকমন্ত্রী এম. নাজিম উদ্দিন আল-আজাদ আরও বলেন, বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আরও দৃঢ়ভাবে দেশকে পরিচালনা করতে অন্যান্য দলের ন্যায় তাদের সমন্বয় পরিষদের সকল দলের সার্বিক সহযোগিতা থাকবে। পাশাপাশি তিনি জাতীয় ভীত মজবুত করতে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন সংস্কার কমিশন গঠন প্রক্রিয়াকে অভিনন্দন জানান। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, কমিশনগুলো যাতে দ্রুত সংস্কার সম্পন্ন করে দেশে সকল ধরণের নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করা সহজতর হয়।
পাশাপাশি জুলাই আগষ্টে ছাত্র জনতার গণ অভ্যু্ত্থানের মধ্যদিয়ে দীর্গ ১৬ বছর ধরে জগদ্দল পাথরের ন্যায় জাতির ঘাঁড়ের উপর জবরদস্তি চেপে বসে সম্পূর্ণ ফ্যাসিবাদ শাসনের মাধ্যমে এদেশের সকল রাজনৈতিক দলের কণ্ঠরোধ করে দেওয়া হয়েছিল। একইসাথে গণ অভ্যুত্থান প্রতিহত করতে ফ্যাসিবাদ সরকারের দলীয় মন্ত্রী, এমপি, ছাত্র ও শ্রমিক সংগঠনের নেতা কর্মিরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কায়দায় ছাত্র জনতা তথা বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মিদের ওপর গুলিবর্ষণ, হত্যা, গুম, নির্যাতন, আয়নাঘরে রেখে অমানবিক পরিস্থিতির মধ্যে তাদের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। তাদের সঠিক বিচার করে যৌক্তিক সময়ের মধ্যে জাতীয় সরকার গঠন করে জনগনের প্রত্যাশিত অবাধ-নিরপক্ষ ও অংশগ্রহন মূলক জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সমন্বয় পরিষদের সকল দলের চেয়াম্যান, মহাসচিবসহ দলের কর্মী। উপস্থিত দলের চেয়ারপার্সনরা হলেন: জাতীয় মুক্তিদলের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এটিএম মমতাজুল করিম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান সেকেন্দার আল মনি, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চেয়ারম্যান এ. আর. এম. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, স্বাধীন পার্টির চেয়ারম্যান মির্জা আজম, ফেডারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান প্রফেসর এ আর খান, বাংলাদেশ জনতা পার্টির চেয়ারম্যান এসএম মোস্তাফিজু ররহমান, জাতীয় স্বাধীনতা পার্টির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজু, অ্যাপ্লাইড ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান প্রিন্সিপাল এম আর করিম, বাংলাদেশ পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান মোঃ সিদ্দিকুর রহমান, বাংলাদেশ স্বাধীন পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোঃ জুয়েল সমট্রা চিসতী, সিটিজেন পার্টির চেয়ারম্যান ড. আসলাম আল মেহেদী,বাংলাদেশ ইসলামী সাম্যবাদী দল পার্টির চেয়ারম্যান মুফতি নুরুল আমিন, বি.আর.পি পার্টির চেয়ারম্যান মোঃ হারুন অর রশিদ হিরু, বাংলাদেশ মানবাধিকার আন্দোলন পার্টির সভাপতি চেয়রম্যান খাজা মহিবউল্লাহ শান্তিপুরী, স্বদেশ পার্টির চেয়ারম্যান মোঃ আনিছুর রহমান, মানবাধিকার ও পরিবেশ উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান অধ্যাপক খোরশেদ আলম প্রমুখ।
ছবি সংগৃহীত
গত ৩০ এপ্রিল হতে সারাদেশে একযোগে চলছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। রুটিন অনুযায়ী এখন পর্যন্ত চারটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তবে এরই মধ্যে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কেননা এই দুই পরীক্ষার প্রশ্নে একই প্যারাগ্রাফ দেওয়া হয়েছে।
প্রশ্নপত্রে দেখা যায়, ইংরেজি প্রথম পত্র ও দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় ‘আওয়ার ন্যাশনাল ফ্ল্যাগ (Our National Flag)’ নিয়ে প্যারাগ্রাফ লিখতে বলা হয়েছে । আর তা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্কও উঠেছে।
রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আরিফুল ইসলাম বলেন, একই প্রশ্নে দুই পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে কিছু বলতে পারব না। মূলত এ প্রশ্নটি আমাদের হয়নি। এটা কোন বোর্ড করেছে জানতে হবে।
তিনি বলেন, সাধারণত একই প্রশ্নে দুই বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয় না। যারা প্রশ্ন করেন তারা এক সঙ্গে দুই ধরনের প্রশ্ন করেন। কিন্তু কেন-কিভাবে এমন প্রশ্ন হল সেটি জেনে পরে জানানো যাবে।
এ বিষয়ে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান তানবিরুল আলম বলেন, একই প্রশ্ন দুই পরীক্ষা নেওয়ার নিঃসন্দেহে মারাত্মক ভুল। একটি প্রশ্ন অন্তত পাঁচটি ধাপে চেকিংয়ের পর প্রিন্টে যায়। এত বড় ভুল মেনে নেওয়ার নয়।
তিনি বলেন, এভাবে পরীক্ষা নিলে পরীক্ষার মান কমবে। ছেলেমেয়েরা হতাশ হবে। এসব বিষয় নিয়ে সচেতন থাকতে হবে।
উল্লেখ্য, এবার নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন দাখিল এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ২০ লাখ ৭২ হাজার ১৬৩ জন শিক্ষার্থী। সূত্র: বিডি প্রতিদিন