a
ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকল দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু ও নিরেপক্ষ করার জন্য সরকারের প্রতি সুদৃষ্টি আকর্ষণ করে এক সংবাদ সম্মেলন করেছে ‘বাংলাদেশ জাতীয় ঐক্যজোট। শ্রক্রবার (৬ অক্টোবর) বিকাল ৪ টায়, চট্টগ্রাম নগরীর জামালখানস্থ প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সকল দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে একই প্লাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের উন্নয়ন ও জনগণের জন্য কাজ করা উচিত। বর্তমানে জনগণের ক্রয় ক্ষমতা ঊর্ধ্বগতির কারণে জনগণ হাট-বাজারে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে সরকার উদাসীন। এব্যাপারে শক্ত হাতে বাজার মনিটরিং করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
বক্তারা আরও বলেন, এখন বাংলাদেশের প্রধান সংকট নির্বাচন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুরো জাতি গভীর উৎকণ্ঠার মধ্যে আছে। এই সংকট উত্তোরণের জন্য দরকার নির্বাচনকালীন সময়ে সর্বদলীয় সরকার। বাংলাদেশের মানুষ সুষ্ঠু নির্বাচন চায়, তাদের ভোটের ন্যায্য অধিকার চায়। দেশ ও জাতির শান্তি কামনায় সৎ মানুষের সুশাসন চায়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী এম নাজিম উদ্দিন আল আজাদ বলেন, গণতন্ত্র, সুশাসন, সামাজিক ন্যায় বিচার এবং সাম্য সংহতি জাতীয় জীবনে প্রতিষ্ঠা আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের অঙ্গীকার।
এই অঙ্গীকার সামনে রেখেই ৩০ লক্ষ শহীদ ও লক্ষ লক্ষ মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছি। আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধারা এ দেশবাসীকে একটি স্বাধীন দেশ উপহার দিয়েছেন এবং তারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসেবে স্বীকৃতিও পেয়েছেন।
আমরা ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছি। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে আমরা জাতির কাছে অঙ্গীকারাবদ্ধ। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বর্তমানে যে জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে, তা নিরসনের একমাত্র উপায় হলো সংলাপ, সমঝোতা ও সমম্বয়ই এর পরিত্রাণের একমাত্র উপায়।
বর্তমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সকল নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে জাতীয় কনভেনশন আহ্বান করার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
জাতীয় ঐক্যজোটের মুখপাত্র ও বাংলাদেশ সনাতন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি সুশান্ত চন্দ্র বর্মন (শান্ত)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ধর্ম ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী বাংলাদেশ জাতীয় ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান ও বিএলডিপি’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এম নাজিম উদ্দিন আল আজাদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ঐক্যজোটের কো-চেয়ারম্যান ও জাতীয় মুক্তি দলের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এটিএম মমতাজুল করিম, বাংলাদেশ জাতীয় ঐক্যজোটের কো চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টির মহাসচিব ড. সুফি সাগর সামস্, বাংলাদেশ জাতীয় ঐক্যজোটের কো- চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ মানবাধিকার আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি খানা মহিবউল্লাহ শান্তিপুরী, বাংলাদেশ জাতীয় ঐক্যজোটের কো-চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টির চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মজুমদার। বাংলাদেশ সনাতন পার্টির সাধারণ সম্পাদক কালিপদ চক্রবর্তী, জাতীয় মুক্তিদলের যুগ্ম মহাসচিব সালেহ আহমদ, বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টি ও জোটের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ৬ টি দলের সমন্বয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ঐক্যজোট প্রতিষ্ঠা করা হয়। তারা গনতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার লক্ষ্যে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩শ আসনে নির্বাচন করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ফাইল ছবি
কোভিড-১৯ মহামারিতে গোটা বিশ্ব স্থবির হয়ে পড়েছে। উন্নত বিশ্বের দেশগুলো যেখানে করোনা মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে। আর বাংলাদেশ সরকার করোনা নিয়ে মিথ্যাচার করে দেশের মানুষকে ভয়াবহ পরিস্থির দিকে ঠেলে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার গণফোরামের জ্যেষ্ঠ তিন নেতা এক যৌথ বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।
বিবৃতিতে সাক্ষরকারী নেতারা হলেন-দলটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু, সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ চৌধুরী এবং গণফোরাম এর মুখপাত্র এডভোকেট সুব্রত চৌধুরী।
করোনায় সরকার ঘোষিত ১০ কোটি টাকা প্রণোদনার সমালোচনা করে বিবৃতিতে তারা বলেন, লকডাউনের নামে নিম্নবিত্তদের জীবন দুর্বিষহ করে ফেলেছে সরকার। বাংলাদেশে ১০ কোটি টাকা প্রণোদনা দেওয়া এক তামাশা ছাড়া কিছু নয়। কারণ এই দেশের বহু সংখ্যক লোক দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করে। তাদের ঘোষিত এ্ই ১০ কোটি টাকার প্রণোদনা কিভাবে এসব মানুষের মাঝে বিতরণ করবে?
গত বছরে সরকারের দেওয়া প্রণোদনার ১০ হাজার কোটি টাকার সিংহ ভাগ চলে গিয়েছিল বর্তমান সরকারের নেতা কর্মীদের পকেটে। সাধারণ মানুষের কাছে সে সাহায্য পৌঁছে নাই।
তারা আরও বলেন, এভাবে দেশের নিম্নবিত্ত মানুষদের কষ্ট না দিয়ে, তাদের জন্য ত্রাণের যথাযথ ব্যবস্থা করে লকডাউন কার্যকর না করলে এসব মানুষকে কখনোই ঘরে আটকে রাখা যাবে না।
ফাইল ছবি
রাশিয়া অবিলম্বে সিরিয়াকে আরব লীগের সদস্যপদ ফিরিয়ে দেয়ার জন্য আরব দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
মস্কো বলেছে, সিরিয়াকে আরব লীগে ফিরিয়ে নেয়া হলে আরব দেশগুলো দামেস্কের সঙ্গে নিজেদের মতবিরোধ মিটিয়ে ফেলতে পারবে।
ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা করতে আলজেরিয়া, মিশর, জর্দান, ইরাক ও সুদানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মস্কো সফরে গেলে তাদের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভরভ। ওই পাঁচ আরব দেশ নিজেদেরকে ‘ইউক্রেন বিষয়ক আরব কন্টাক্ট গ্রুপ’ বলে পরিচয় দিয়েছে।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা আরব লীগে সিরিয়ার প্রত্যাবর্তন আশা করছি। অবিলম্বে এই ইস্যুর সমাধান হলে আরব দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সংহতি আরে শক্তিশালী হবে।
২০১১ সালের মার্চ মাসে সিরিয়ায় বিদেশি মদদে সহিংসতা শুরু হওয়ার পর ওই বছরের নভেম্বর মাসে দেশটির সদস্যপদ বাতিল করে আরব লীগ। সরকার বিরোধী বিক্ষোভ দমনের অজুহাতে ওই পদক্ষেপ নিয়েছিল আরব লীগ। তবে সিরিয়া ওই পদক্ষেপকে ‘অবৈধ এবং আরব লীগের গঠন কাঠামোর পরিপন্থি’ বলে উল্লেখ করেছিল।
১৯৪৫ সালে যে ছয়টি দেশ নিয়ে আরব লীগ গঠন করেছিল, সিরিয়া ছিল সে দেশগুলোর অন্যতম। সাম্প্রতিক সময়ে সিরিয়াকে আরব লীগের সদস্যপদ ফিরিয়ে দেয়ার আহ্বানকারী দেশের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে। সূত্র: সানা