a
ফাইল ছবি
জাতীয় সংসদ সদস্য, সাবেক শিল্প উপমন্ত্রী হাসিবুর রহমান স্বপন আর নেই। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোর সোয়া তিনটার দিকে তুরস্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের এ সংসদ সদস্য মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৬৬ বছর। তিনি স্ত্রী, তিন মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
শাহজাদপুর উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক ও তার ব্যক্তিগত সহকারী আশিকুল হক দিনার তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন। শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) হাসিবুর রহমান স্বপনের মরদেহ বাংলাদেশে আনা হবে। এরপর শাহজাদপুরে নিজ নির্বাচনী এলাকায় জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হবে।
তিনি জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তুরস্কের একটি হাসপাতালে কিডনি ট্রান্সফার করেন এমপি স্বপন। সফল অস্ত্রপচার শেষে সুস্থ হয়ে দেশে ফেরেন তিনি। এ অবস্থায় গত ২৫ জুলাই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন তিনি। গত ২৯ আগস্ট তাকে আবারও তুরস্কে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ভোরে মারা যান তিনি।
হাসিবুর রহমান স্বপনের জন্ম ১৯৫৬ সালের ১৬ জুন সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার দ্বারিয়াপুর গ্রামে।
ফাইল ছবি । শফিকুর রেজা বিশ্বাস
প্রশাসন ক্যাডারের সুদক্ষ ও চৌকস কর্মকর্তা নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বন্দর) মোঃ শফিকুর রেজা বিশ্বাসকে ময়মনসিংহ বিভাগের পঞ্চম বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি পেশাগত জীবনে সৎ, দক্ষ ও মেধাবী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। বর্তমান বিভাগীয় কমিশনার মোঃ কামরুল হাসান এনডিসিকে চট্রগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে বদলী করায় তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। গত বছরের ২ জুন তিনি ময়মনসিংহে যোগদান করেছিলেন মোঃ কামরুল হাসান।
মোঃ শফিকুর রেজা বিশ্বাস ইতিপূর্বে পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে যুগ্ম-সচিব, বগুড়া জেলার জেলা প্রশাসক, ফরিদপুরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, বাজিতপুর ও সোনাইমুড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার, নেত্রকোণা ও হবিগঞ্জ প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তাঁর উপর অর্পিত রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন।
মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখার উপ-সচিব শাহীন আরা বেগম স্বাক্ষরিত ৩০ মে’২০২১ এক প্রজ্ঞাপণে এই নিয়োগ দেয়া হয়।
মোঃ শফিকুর রেজা বিশ্বাস চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার ওসমানপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। স্থানীয় বিশিষ্ট সমাজসেবক মোঃ হারিছ উদ্দিন বিশ্বাস তার পিতা। তার সহধর্মিনী আরিফা আক্তার ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের উপাধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত। তারা ২ পূত্র ও ১ কন্যা সন্তানের পিতা-মাতা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতা বিভাগে কৃতিত্বের সাথে অনার্স এবং মাস্টার্স পাস করেন মোঃ শফিকুর রেজা বিশ্বাস। পরে ১৩তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৯৪ সালে প্রশাসন ক্যাডারে বরিশাল জেলায় তিনি চাকরি জীবন শুরু করেন। বাংলাদেশ ছাড়াও বিভিন্ন দেশ থেকে নানা প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করেন।
প্রশাসন ক্যাডারের সুদক্ষ ও চৌকস কর্মকর্তা মোঃ শফিকুর রেজা বিশ্বাসকে ময়মনসিংহ বিভাগের পঞ্চম বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়ায় তাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সেইসাথে নয়া কমিশনারকে আন্তরিকভাবে সহযোগীতারও আশ্বাস দিয়েছেন বিবৃতিদাতাগণ।
অভিনন্দন বিবৃতিতাদাগণ হলেন- ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোঃ ইকরামুল হক টিটু, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান, জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট জহিরুল হক খোকা ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এহতেশামূল আলম, জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি ময়মনসিংহ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ও এফবিসিসিআই এর সহ-সভাপতি মোঃ আমিনুল হক শামীম সিআইপি, জেলা নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল আমিন কালাম, বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিক্যাল প্র্যাকটিশনার্স এসোসিয়েশন ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি ও বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক অনার্স এসোসিয়েশন ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি এবং জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাঃ হরিশংকর দাশ, জেলা বিএমএ সাধারণ সম্পাদক ডাঃ এইচ. এ গোলান্দাজ তারা, গণকণল্যাণ পরিষদ (জিকেপি) নির্বাহী পরিচালক, শম্ভুগঞ্জ জিকেপি অনার্স কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও গভর্নিং বডির সভাপতি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ লায়ন ড. মোঃ সিরাজুল ইসলাম, ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এফ.এম. এ সালাম ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ নজরুল ইসলাম প্রমূখ।
ফাইল ছবি
চীনে উৎপত্তি হ্ওয়া করোনা বিশ্বব্যাপী মহামারী রোগ হিসেবে আত্মপ্রকাশ কোভিড-১৯ নামে। এই ভাইরাসের কারণে ২০২০ সালের মার্চে থেকেই পুরো বিশ্বে আতঙ্ক চরমে ওঠে। অফিস, স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে সকল প্রতিষ্ঠান এক এক করে বন্ধ হয়ে যায়। করোনার ভয়ে মানুষ ঘর থেকে বের হওয়া বন্ধ করে দেয়। ধীরে ধীরে ব্যবসা, পড়াশোনা, যোগাযোগ সব বন্ধ হয়ে গেলো। তখন মানুষ ব্যাপকভাবে প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল হতে লাগলো।
আর মানুষের সেই কাজকে সহজ করে দিয়েছে অডিও-ভিডিও কনফারেন্সিং মাধ্যম জুম। ইন্টারনেটের সাহায্যে ডিভাইসে (যেমন, মোবাইল, কম্পিউটার) অ্যাপ ব্যবহার করে এই প্লাটফর্মের মাধ্যমে কয়েকজন ব্যবহারকারী একসঙ্গে ভিডিও কলে যুক্ত হতে পারেন। বলতে গেলে যোগাযোগকে সহজ এবং আরও বাস্তব করে তুলেছে জুম।
করোনাকালীন জুমের জনপ্রিয়তা:
মানুষ যখন করোনার কারনে ঘরবন্দী হয়ে পড়েছে তখন একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য জুমের উপর নির্ভর হচ্ছিলো। লকডাউন শুরুর পর এই অ্যাপের ব্যবহার জনপ্রিয়তা কতটা বেড়েছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। জুমে কী না করেছে মানুষ? অনলাইন ক্লাস, ক্লাসপার্টি, অফিসের কাজ, মিটিং, আদালতের বিচারকাজ, সরকারি মিটিং, এমনকি বিয়ের আয়োজনও হয়েছে জুমে।
কতক ক্ষেত্রে যে জুম মানুষকে পথ দেখিয়েছে, তা এক সমীক্ষায় দেখা গেছে। ফেব্রুয়ারিতে জুম ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ২ দশমিক ২২ মিলিয়ন অর্থাৎ ২২ লাখ। যার পরিমান ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ছিল প্রতিদিনের ব্যবহারকারীর প্রায় ১০ মিলিয়নের মতো। সেখান থেকে ২০২১ সালের এপ্রিলে দৈনিক ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৩০০ মিলিয়নে।
জুমের জনপ্রিয়তার রহস্য :
অনেকেরই প্রশ্ন থাকতে পারে অন্যান্য অ্যাপ থাকতে জুম এত জনপ্রিয় কেন? কারন হিসেবে উল্লেখ করা যায় যে, জুমের ফ্রি ভার্সনে একসঙ্গে ১০০ জন ব্যবহারকারী একসঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সিং এ যুক্ত হতে পারেন। যেখানে মাইক্রোসফটের ফ্রি ভার্সনে মাত্র ৫০ জন এর বেশি ব্যবহারকারী একসাথে যুক্ত হতে পারেন না।
আবার ৪০ মিনিটের বেশি সময় কনফারেন্সিংয়ে যুক্ত থাকতে হলে মাসে খরচ করতে হয় ১৪ দশমিক ৯৯ মার্কিন ডলার। তবে এন্টারপ্রাইজ ব্যবহারকারীদের খরচ করতে হয় ১৯ দশমিক ৯৯ মার্কিন ডলার। জুমে রয়েছে, প্রাইভেট কল, সরাসরি মেসেজ পাঠানোর সুবিধা এবং পারসোনালাইজড টুলসহ নানা ফিচার।
জুমের যাত্রা:
২০১১ সালের শুরুরদিকে ৪০ জন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে নিয়ে নতুন একটি কোম্পানি চালু করেন এরিক ইউয়ান। শুরুতে এর নাম ছিল ‘সাসবি’। কোম্পানিটি প্রথমদিকে বিনিয়োগ অভাবে কাজ করতে পারেনি। সকলের মত ছিল বর্তমানে ভিডিও টেলিফোনোর বাজার পড়ে গেছে। এ কারণেই কোনো ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠান এর পেছনে বিনিয়োগে আগ্রহী ছিল না। ভাগ্যক্রমে সে বছরই বছরের জুন মাসে বেশ কিছু পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ পায় কোম্পানিটি। পরের বছর অর্থাৎ ২০১২ সালে ‘সাসবি’ জুম নামটি ধারণ করে।
২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে কোম্পানিটি একটি বেটা ভার্সন চালু করে যেটির মাধ্যমে ১৫ জন ব্যবহারকারী ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হতে পারতেন। একই বছরের নভেম্বরে প্রথম গ্রাহক হিসেবে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে আরও কোম্পানিটি আরও বিনিয়োগ পায়। সেসময় জুম ১.১ ভার্সন চালু করে। এতে ২৫ জন ব্যবহারকারী একসঙ্গে যুক্ত হতে পারতেন। চালুর এক মাসের মধ্যে এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৪ লাখ। এরপর মে মাসের মধ্যেই ব্যবহারকারীর সংখ্যা পৌঁছে ১ মিলিয়নে।
তবে মজার ইতিহাস হলো, জুমের আবিস্কার হয়েছে এরিক ইউয়ান এর একান্ত এক ব্যক্তিগত এক সম্পর্ক থেকে। কলেজে পড়ার সময় তার এক বান্ধবি ছিল তার সাথে দেখা করতে তাকে অনেকটা পথ পেরিয়ে যেতে হতো। সময় লেগে যেত প্রায় ১০ ঘণ্টা। তখন থেকেই চিন্তা করতেন যদি এমন কোনো মাধ্যম থাকতো, যার সাহায্যে দূর থেকেও একে অপরকে মূহুর্তেই মন চাইলে দেখে দেখে কথা বলা যেত। তখন হয়তো চিন্তাও করেন নাই তিনিই একদিন সেই মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষকে যুক্ত করে সেবা দিতে পারবেন। তার সেই ভাবনা- আজকের জুম। যা তাকে বিশ্বের শীর্ষ ৪০০ ধনীর কাতারে এনে দিয়েছে।