a রাজশাহীতে নকল ওষুধের কারখানায় অভিযান চালিয়ে মালিক আটক
ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ মাঘ ১৪৩২, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬
https://www.msprotidin.com website logo

রাজশাহীতে নকল ওষুধের কারখানায় অভিযান চালিয়ে মালিক আটক



শনিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২১, ০৬:০৬
রাজশাহীতে নকল ওষুধের কারখানায় অভিযান চালিয়ে মালিক আটক

file image

রাজশাহী মহানগরীর নামোভদ্রার জামালপুর আবাসিক এলাকায় মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ অভিযান চালিয়ে নকল ওষুধের কারখানার সন্ধান পেয়েছে। এ সময় চারটি নামি দামী কোম্পানির বিপুল পরিমাণ নকল ওষুধ, যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট ও ওষুধ তৈরির কাঁচামালসহ জব্দ করা হয়েছে ওষুধ তৈরির একটি মেশিন। অভিযান চলাকালে পুলিশ একজনকে আটক করেছে।
শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয় নকল ওষুধ তৈরির ওই কারখানায় (বাসায়)। নগরীর নামোভদ্রা জামালপুর এলাকার মৃত আনসার আলীর ছেলে আনিসুর রহমান (৪২) আটক।
অভিযানকালে মহানগর ডিবির সহকারী কমিশনার (এসি) রাকিবুল ইসলাম জানান, আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি ওই বাসায় তৈরি করা হয় নকল ওষুধ। এছাড়া আমরা অভিযোগ পেয়েছি, সেখান থেকে নকল ওষুধ সরবরাহ করা হয় বিভিন্ন দোকানে এবং ভুক্তভোগীরা বলেন বিভিন্ন দোকানে থেকে ওষুধ কেনার পর সেটি যে নকল তা বুঝতে পারেন। আমরা এমন অভিযোগের ভিত্তিতেঅনুসন্ধান শুরু করি।
আমরা অনুসন্ধানে জানতে পারি, রাজশাহীর বিভিন্ন জায়গায় এমন কারখানা আছে, ভেজাল ওষুধ উৎপাদন করা হয় যেখানে। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই বাসায় অভিযান চালাই আমরা। অভিযান পরিচালনার সময় বিভিন্ন নামি-দামি কোম্পানির যে সকল ওষুধ মার্কেটে বেশি বিক্রি হয় বিভিন্ন দোকান থেকে সেসব বিপুল পরিমাণে নকল ওষুধ উদ্ধার করি। যার কারণে আমরা এই কোম্পানির মূল মালিককে আটক করতে সক্ষম হয়েছি।
আটক আনিসুর জানান, তিনি ঢাকা থেকে নকল ওষুধ উৎপাদন মেশিনটি নিয়ে এসে দীর্ঘ ১ বছর ধরে নকল ওষুধ তৈরি করে বিক্রি করছেন। রাজশাহী, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তিনি বিক্রি করে আসছেন নকল ওষুধ। অনেকটা নির্জন এলাকার অবস্থিত নিজের বাড়িতে মেশিন বসিয়ে চারটি নামি দামী কোম্পানির নকল ওষুধ তৈরি করা হতো। অভিযানের এক সময় বিপুল পরিমাণ নকল ওষুধ জব্দ ও ওষুধ তৈরির কারিগরকেও আটক করা হয়েছে। ওষুধের পরিমাণ কত তা এখনই সঠিক বলা যাচ্ছে না। তিনি জানান এ বিষয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / Amin Hossain

আরও পড়ুন

মগবাজারে বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ৭, আহত প্রায় অর্ধশতাধিক


এমএস.প্রতিদিন ডেস্ক:
রবিবার, ২৭ জুন, ২০২১, ১১:৩১
মগবাজারে বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ৭, আহত প্রায় অর্ধশতাধিক

বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন

রাজধানীর মগবাজারের ওয়্যারল্যাস গেট এলাকায় বিস্ফোরণে নিহত ও আহতদের সংখ্যা বেড়েই চলছে। রাত ১১টা পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৭ জনে। সেই সঙ্গে আহতদের সংখ্যাও বাড়ছে। এদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কমপক্ষে ১৭ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ৭ জনের নিহতের খবর নিশ্চিত করেছেন। বিস্ফোরণের ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ডিএমপি কমিশনার। এসময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত আমরা সাতজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। তবে, আহতের সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও ধারণা করছি, ৩৯ থেকে ৪০ জন হবে।’

রমনা ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার ফয়সালুর রহমান বলেন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রে বিস্ফোরণের কথা প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও ঠিক কিভাবে বিস্ফোরণ ঘটলো তা তাৎক্ষণিভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। 

তবে বিস্ফোরণ ভবনটির নিচতলার ভেতরেই ঘটেছে। ওই বিস্ফোরণে ঘটনাস্থল থেকে মোট ছয়জনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। আহত ও নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।

রবিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ওয়ারলেস গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে বিস্ফোরণটি কীভাবে ঘটলো সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানা যায়নি। বিস্ফোরণে পর ভবনে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ করছে। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমের অপারেটর মো. ফরহাদ ইত্তেফাক অনলাইনকে জানান, রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এসি বিস্ফোরণে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রাথমিকভাবে বিস্ফোরণের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

কঠোর অবস্থানে থেকে মোকাবিলা করবে সরকার



মঙ্গলবার, ০৬ এপ্রিল, ২০২১, ১২:০৫
কঠোর অবস্থানে থেকে মোকাবিলা করবে সরকার

সরকার ভাবছে  রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে কঠোর অবস্থানে থেকে হেফাজতে ইসলামকে মোকাবিলা করার কথা। এ যাবৎ সংঘটিত প্রতিটি সহিংস ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে খুব কম সময়ের মধ্যে চার্জশিট দেবে পুলিশ। এর পর পরই শুরু হবে গ্রেপ্তার। এরই মধ্যে সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন সংগ্রহ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা সংবাদ মাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

নেতারা জানান, এখন দেশজুড়ে হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক শক্তি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা প্রথমে জনগণকে সচেতন করার কর্মকাণ্ডে উদ্যোগী ভূমিকা নেবেন। এরপর জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করবেন।

এ ছাড়া প্রশাসনিকভাবে হেফাজতে ইসলামের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডকে ছাড় না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে কয়েকজন মন্ত্রী সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া শুরু হয়েছে। হেফাজতে ইসলামের আমির জুনায়েদ বাবুনগরীসহ ২৪ শীর্ষ নেতা এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নারায়ণগঞ্জের ৩০টি মাদ্রাসার ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় উগ্রবাদী সংগঠনের সন্ত্রাস-সহিংসতা এবং উস্কানিমূলক অপতৎপরতার সঙ্গে সম্পৃক্ত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। এসব তাণ্ডবের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে। প্রতিটি ঘটনায় চার্জশিট দেওয়া হবে। এরপর শুরু হবে আইনানুগ ব্যবস্থা।

আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় কয়েক নেতার ভাষ্য, হেফাজতে ইসলামের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে দলের অনেক নেতাকর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের বাড়ি-ঘর ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছে। অনেক জায়গায় আওয়ামী লীগের অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবির প্রতিও অসম্মান দেখানো হয়েছে। এই বিষয়গুলো নেতাকর্মীরা স্বাভাবিকভাবে নেননি। তারা কেন্দ্রের কাছে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক নির্দেশনা চাচ্ছেন। দলের কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকেও এই বিষয়ে সাংগঠনিক প্রস্তুতি নেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দলের চার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও আট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক প্রস্তুত রয়েছেন। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল ও রংপুর বিভাগে দলের নেতাকর্মীদের তারাই গুছিয়ে আনতে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করবেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী সমকালকে বলেন, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে সরকার। সবাইকে আইনের আওতায় আনবে। আওয়ামী লীগ দায়িত্ববোধের অবস্থানে থেকে সন্ত্রাস ও সহিংসতার বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন করে তুলবে। মনে রাখতে হবে, ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলামে জ্বালাও-পোড়াওয়ের কোনো স্থান নেই। এই চেতনাকে জাগ্রত করতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবে ১৭ জন মারা গেছেন। হঠাৎ করে এই তাণ্ডব কেন? নিশ্চয়ই এর কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। যারাই তাণ্ডব করে থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবের তীব্র সমালোচনার পাশাপাশি এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। হেফাজতে ইসলামের সন্ত্রাস-সহিংসতার পেছনে বিএনপি-জামায়াতের ইন্ধন ও সম্পৃক্ততা খুঁজে দেখার কথাও বলেছেন। বিএনপি-জামায়াত ও তাদের মিত্রদের বক্তৃতা-বিবৃতিই হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা প্রমাণ করে- এমনটা মনে করছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। বিশেষ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতায় হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালে জামায়াতে ইসলামীর সরাসরি সমর্থন এবং বিএনপি নেতাদের এই হরতালকে যুক্তিসংগত আখ্যা দেওয়ার বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি সরকার।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত রবিবার সংসদ অধিবেশনে হেফাজতে ইসলামের সাম্প্রতিক তাণ্ডবের চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, অপকর্মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবের পেছনে বিএনপি-জামায়াতের মদদ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, 'পুলিশ কেন ধৈর্য দেখিয়েছে- এই প্রশ্ন সংসদেও এসেছে। আমরা ধৈর্য দেখিয়েছি এগুলো বিরত করার জন্য। সংঘাতে সংঘাত বাড়ে। আমরা তা চাইনি। সুবর্ণজয়ন্তী ভালোভাবে উদযাপন করতে চেয়েছি।'

গতকাল সাংবাদিকদের  আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে যারা তাণ্ডব চালিয়েছিল, তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জনগণ শেখ হাসিনা সরকারের সঙ্গে রয়েছে। সুতরাং যারা পেছন থেকে উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে উস্কানি ও অর্থায়ন করছে, তাদের মুখোশও উন্মোচন করা হবে।

সুবর্ণজয়ন্তী উৎসবে যোগ দিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতার নামে গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ ঢাকা, চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন স্থানে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা রক্তাক্ত সহিংসতার পাশাপাশি ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে। তাদের ডাকা হরতালেও সহিংসতা হয়েছে। জ্বালাও-পোড়াও থেকে রক্ষা পায়নি রেলস্টেশন, ভূমি অফিস, জেলা প্রশাসক-পুলিশ সুপার-সিভিল সার্জন-জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সুরসম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয় ও ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক নির্দশন। আওয়ামী লীগের অফিস জ্বালিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু এবং প্রধানমন্ত্রীর ছবিও ভাঙচুর করা হয়েছে।

সরকারি সূত্রগুলো বলছে যে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির মধ্যেও হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের সন্ত্রাস-সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ রিসোর্টে একজন নারীসহ হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের উপস্থিতির পরও এ সংগঠনের নেতাকর্মীরা যেভাবে হামলা-ভাঙচুর চালিয়ে তাদের নেতাকে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছে; সে বিষয়টিও সরকার এবং প্রশাসনকে ভাবিয়ে তুলেছে।

সংশ্নিষ্ট সূত্রে জানা যায় , হেফাজতে ইসলামের নেতাসহ সংশ্নিষ্ট মাদ্রাসাগুলোর ব্যাংক হিসাব ও আয়-রোজগারে অস্বাভাবিক গরমিল পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনসহ বিভিন্ন ধারায় মামলা দেওয়া হতে পারে। এ ছাড়া সন্ত্রাস-সহিংসতা ও প্রাণহানির দায়েও হেফাজত নেতাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে মামলা করার বিষয়ে ভাবা হচ্ছে। এরই মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত আটটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে সাড়ে ৮ হাজার মানুষকে। এর মধ্যে হেফাজতে ইসলামের দায়িত্বশীল কোনো নেতা বা কর্মীর নাম নেই। হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের ইন্ধন কিংবা সম্পৃক্ততা 'পাওয়া গেলে' তাদের এসব মামলায় হুকুমের আসামি করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

২০১০ সালে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের আত্মপ্রকাশ। চট্টগ্রামের হাটহাজারী বড় মাদ্রাসা হিসেবে পরিচিত দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম থেকে পরিচালিত হয় সংগঠনটি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবিতে ২০১৩ সালে গড়ে ওঠা গণজাগরণ মঞ্চের বিরোধিতা করে হেফাজতে ইসলাম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে প্রথম সবার নজরে আসে। ওই বছর ৫ মে ঢাকার মতিঝিল শাপলা চত্বরে অবস্থান করে গোটা এলাকায় নজিরবিহীন জ্বালাও-পোড়াও চালিয়ে দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে সংগঠনটি।

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনার পর হেফাজতে ইসলামের তোলা প্রতিটি দাবিতেই সরকার সমঝোতা কিংবা আপসের পথে হেঁটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। হেফাজতে ইসলামের দাবির মুখে পাঠ্যপুস্তক পরিবর্তন এবং সুপ্রিম কোর্টের সামনের ভাস্কর্য অপসারণের সিদ্ধান্তও সরকার নিয়েছে।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম
Share on Facebook

সর্বশেষ - সারাদেশ