a
ফাইল ছবি
সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় উদ্ধারকাজ পরিচালনায় সেনা সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুন) বিকেলে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, সিলেট জেলার মধ্যে সদর উপজেলা, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানিগঞ্জে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া সুনামগঞ্জ জেলার সদর উপজেলা, জামালগঞ্জ, দোয়ারাবাজার, ছাতক ও দিরাইয়ে কাজ কাজ করে যাচ্ছে সেনা বাহিনী।
এছাড়াও, সুনামগঞ্জের খাদ্য গোডাউন রক্ষা এবং সিলেটের কুমারগাঁও পাওয়ার স্টেশনে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
সেনা সদস্যরা পানিবন্দী মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিতে কাজ করছেন। বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্র স্থাপন এবং উদ্ধারকৃতদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি চিকিৎসা সেবা প্রদান ও সীমিত পরিসরে খাদ্য এবং সুপেয় পানি সরবরাহ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সূত্র: ইত্তেফাক
ফাইল ছবি
জামালপুর জেলার অধিনে পৌরসভা সমুহে গতকাল সোমবার সকাল ৬টা থেকে আগামী ৩০ জুন রাত ১২টা পর্যন্ত লক ডাউন ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জামালপুর জেলা প্রশাসন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয় জামালপুর জেলাধীন পৌরসভা এলাকায় করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতি উচ্চ ঝুকিসম্পন্ন বিবেচনা করে এই লকডাউন ঘোষনা করা হয়। জেলা প্রশাসক মুর্শেদা জামান স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তিতে ১০ বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়।
১। কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তির বাসস্থান লকডাউনের আওতাভুক্ত থাকবে। উক্ত সময়ে আক্রান্ত ব্যক্তি ও পরিবারের সকলকে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনপূর্বক সার্বক্ষণিক গৃহে অবস্থান করতে হবে। কোনোক্রমেই বাড়ির বাইরে অবস্থান করা যাবে না।
২। সকল পর্যটনস্থল, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে।
৩। জনসমাবেশ হয় এ ধরণের সামাজিক (বিবাহোত্তর অনুষ্ঠান, জন্মদিন, পিকনিক, পার্টি ইত্যাদি) রাজনৈতিক, ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান বন্ধ রাখতে হবে।
৪। সকাল ৬:০০ টা হতে সন্ধ্যা ৬:০০ টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট, শপিংমল খোলা রাখা যাবে। তবে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট দোকানপাট ও শপিংমল বন্ধ করে দেয়াসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঔষধের দোকানসমূহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ২৪ ঘন্টা খোলা থাকবে।
৫। জরুরি পরিসেবা (যেমন বিদ্যুৎ, গ্যাস, কৃষিপণ্য পরিবহন, পশুখাদ্য ইত্যাদি) ও জরুরি প্রয়োজন (যেমন ঔষধ ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার ইত্যাদি) ব্যতীত কেউ সন্ধ্যা ৭:০০ টা হতে সকাল ৬:০০ টা পর্যন্ত বাড়ির বাইরে অবস্থান করতে পারবেন না।
৬। হোটেল, রেস্তোরা, খাবারের দোকানসমূহ শুধু পার্সেল, টেকওয়ে, অনলাইন অর্ডার বা হোম ডেলিভারী সেবা প্রদান করতে পারবে। কোন অবস্থাতেই উক্ত স্থানসমূহে বসে খাবার গ্রহণ করা যাবে না।
৭। বাস, মাইক্রোবাস ইত্যাদি গণপরিবহনসমূহ নির্ধারিত আসন সংখ্যার অর্ধেক নিয়ে চলাচল করতে পারবে। তবে যাত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যদিধি মেনে চলতে হবে।
৮। সিএনজি অটোরিক্সা, ইঞ্জিনচালিত রিকশা, অন্যান্য রিকশাসমূহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুধু ০২জন যাত্রী বহন করতে পারবে। সিএনজি ও অটোরিক্সাসমূহ কোনোক্রমেই সামনের সিটে যাত্রী বহন করতে পারবে না।
৯। কাঁচা বাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সকাল ৬:০০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬:০০ টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে।
১০। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ সরকার কর্তৃক জারিকৃত অন্যান্য নির্দেশনাসমূহ এ বিধিনিষেধের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে।
প্রশাসন থেকে বলা হচ্ছে জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশে অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ফাইল ছবি । আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান
রংপুর থেকে ঢাকায় আসার পথে নিখোঁজ হয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচিত ইসলামী বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান। গত তিন দিন ধরে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে নিখোঁজ রয়েছেন বলে তার পরিবার অভিযোগ করেছে। খবর বিবিসি বাংলার।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নিখোঁজ হবার সময় তার সাথে গাড়িচালকসহ আরো তিনজন সহকর্মী ছিলেন। সেই তিনজন সহকর্মী এবং গাড়িটিরও কোন খোঁজ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করছেন আদনানের পরিবার। এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোন মামলা দায়ের করা হয়নি।
আদনানের নিখোঁজ হওয়ার তথ্য জানিয়ে দারুসসালাম এবং মিরপুর থানায় গেলে কোন থানাই সাধারণ ডায়েরি বা মামলা গ্রহণ করেনি বলেও অভিযোগ করছেন তার পরিবার। এ নিয়ে সর্বশেষ রংপুর সদর থানায় একটি জিডি করা হয়েছে।
তবে ঢাকায় পুলিশ বলছে, তিনি ঠিক কোন জায়গা থেকে নিখোঁজ হয়েছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলেই মামলা নেয়া হয়নি।
পরিবার থেকে আদনানের স্ত্রী সাবেকুন নাহার বলেছেন, আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। রাত ২টা ৩৭ মিনিটে তার ( আদনান) সঙ্গে শেষ কথা হয়, তিনি তখন বলেছেন কাছাকাছি চলে আসছেন। উনি তখন গাবতলী ছিলেন। এরপর রাত তিনটা থেকে তার ফোন বন্ধ পাই, এখনো পর্যন্ত নম্বর বন্ধই পাচ্ছি।
মামলা না করার কারণ জানতে চাইলে আদনানের স্ত্রী সাবেকুন নাহার পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘কোথায় মামলা করবো, কার কাছে অভিযোগ করবো? মামলা করবো কী, কেউ তো জিডিই নিতে রাজী হচ্ছে না।’
তিনি বলেছেন স্বামীর নিখোঁজ হওয়ার বিষয় নিয়ে শুক্রবার বিকালেই পুলিশের কাছে শরণাপন্ন হন তারা। কিন্তু রোববার বিকাল পর্যন্ত গাবতলী সংলগ্ন দারুসসালাম থানা কিংবা মিরপুর থানা কেউই মামলা গ্রহণ করেনি।
সাবেকুন নাহার অভিযোগ করেন, "থানায় ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছি। কোন থানাই দায়িত্ব নিচ্ছে না, এক থানা আরেক থানাকে দেখিয়ে দিচ্ছে।"
তবে রোববার সকালে রংপুর সদর থানায় এ নিয়ে একটি জিডি করা হয়েছে আদনানের মায়ের পক্ষ থেকে।
৩১ বছর বয়সী আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানকে ফেসবুক এবং ইউটিউবে অনেকেই তাকে অনুসরণ করেন।
আদনানের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নিয়ে এবং তার সন্ধান চেয়ে সামাজিক মাধ্যমে হ্যাশট্যাগ দিয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
পুলিশ কী বলছে, আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে বিবিসি দারুসসালাম এবং মিরপুর থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে।
মিরপুর থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
দারুসসালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদ স্বীকার করেছেন যে কোন সাধারণ ডায়েরি বা মামলা গ্রহণ করেননি তারা।
এ ব্যাপারে ওসি তোফায়েল বলেন, ‘উনি (আদনান) কোথা থেকে নিখোঁজ হয়েছেন সেই লোকেশনটা তো আমরা নিশ্চিত না। উনি গাবতলী থেকে নিখোঁজ হইছে, সেটা তো আমরা জানি না। সেক্ষেত্রে যেখান থেকে উনি রওনা হয়েছেন, সেই রংপুর অথবা উনার ঢাকায় যেখানে বাসা, সেখানে জিডি হতে পারে বা মামলা হতে পারে।
এখন পুলিশ আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানের মোবাইল ফোনের সর্বশেষ লোকেশন শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। এজন্য পুলিশের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাহায্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। গাবতলী এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে আদনানকে বা তার গাড়ীকে দেখা যায়নি। বাংলাদেশে নিখোঁজ ব্যক্তিকে অনুসন্ধানের জন্য পুলিশের আলাদা কোনো বিভাগ নেই।
সূত্র: বিবিসি বাংলা, যুগান্তর