a
মুক্তা দাশ
খুব কথা বলতে ইচ্ছে করে
অনেক অনেক কথা !
কথার খৈ ফুটবে,, অনবরত বুলেট-বৃষ্টির মতো
কিন্তু খেই হারাবো না ...
খুব কথা বলতে ইচ্ছে করে ।
ইনিয়ে- বিনিয়ে , ঘুড়িয়ে- প্যাচিয়ে ! যতোভাবে
আদরে আহ্লাদে কথা বলা যায়... ততো ভাবে শুধু কথাই বলে যাবো ...!!!
এতোসব কথার ভীড়ে তুমি শুধুই আমার হয়ে থাকবে ,
বুকে জড়িয়ে রাখবে।
কপালে চুমু খেতে খেতে বলবে... পাগলী একটা !
টগবগে কথার বকবকানিতে তুমি অতিষ্ঠ হবে না,,
শুধু মুচকি হাসিটা মুখে আঠার মতো লেগে থাকবে দৃষ্টির ছুঁচালো তীরে !
আমি মুর্ছা যাবো ঐ চোখে !!
লুটিয়ে পড়বো তোমার বুকের পরে...
ভার সইতে পারবে তো !!??
জমে থাকা যতো স্ফুটনাংক অভিমান,, যতো প্রেম
সব,, সব উজার করে দিবো..!
ধারন করতে পারবে তো !!??
জানি, পারবে না।
অনেকটা সময় পেরিয়ে গেছে !
দায়ভার এড়িয়ে প্রেম ভার বড়ো বেমানান
বে আাইনী।
গোধূলির রঙ স্বপ্নদেখে আকাশ কুসুম দুরাশার ,
বিচিত্র মন বিচিত্র সব অলীক দৃশ্যপট !
সবটাই জলরঙে আঁকা জলছবি ।।
ছবি সংগৃহীত: শহীদ ফাইয়াজ
ফাইয়াজ -এর জন্মদিনে মায়ের আবেগঘন চিঠি
প্রিয় ফাইয়াজ,
আব্বা আমার - আমার কলিজা বাচ্চা, আমার চাঁদের টুকরা। কেমন আছো আব্বা? পৃথিবীর বুকে বেঁচে থাকলে আজকে তোমার জন্য একটি বিশেষ দিন ছিল। কত কত স্মৃতি আমাদের। আব্বা আমি জানি তুমি খুব ভালো আছো। আমি তোমার জন্য কান্না করলেই মাহা আমাকে বলে 'মা, ভাইয়া তো শহীদ, ভাইয়া কত ভালো আছে! তুমি কাঁদো কেন?'
জানো বাবা, সেদিন বাজার করতে গিয়ে যেই চকোলেট এর শেল্ফ এর সামনে দিয়ে যাচ্ছি- আমি দেখতে পেলাম ঠিক তুমি দাঁড়িয়ে, আর ক্যাডবেরির একটা বড় Silk এর প্যাকেট আমাকে দেখিয়ে বলছো মুনাম্মা নেই এটা?' বাবা আমি আর চকোলেট কিনি না, মাহা মাইরীন ও আর আবদার করেনা।
সেইদিন মাইরীন মাহাকে বলছে 'জানো মাহা-মা আর কখনও বিরিয়ানি রাধবে না। ভাইয়া যে নাই, তাই।' সত্যিই তো বাবা, আমি কী করে রান্না করবো বলো? তোমাকেই তো খাওয়াতে পারবো না!
আব্বা, আমি কেমন আছি জিজ্ঞেস করবে না? আমি যে কেমন আছি জানি না বাবা- শুধু আমার কিছু ভালো লাগে না। শুধু মনে হয় অনেক দূরে হাঁটতে হাঁটতে কোথাও চলে যেতে পারতাম-। যেখানে কেউ নাই! চুপচাপ।
আমি যখন স্কুলে যাই বা অন্য কাজে ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর ক্রস করতে হয়, জানো বাবা আমি পুরোটা রাস্তা চোখ বন্ধ করে থাকি। সিটি হসপিটালের সামনে দিয়ে গেলেও চোখ বন্ধ করে রাখি। মনে হয় কেন আমাকে এসব পথে চলতে হচ্ছে। ধানমণ্ডি ২৭ টা এখন সবচেয়ে বিভীষিকাময় আমার জন্যে।
আচ্ছা বাবা এই যে তোমার জন্মদিন, রোজার ঈদ, কুরবানীর ঈদ, পহেলা বৈশাখ আসবে..- আমি কী করবো বলো তো? আমাদের না একসাথে শপিং এ যাওয়ার কথা! তারপর শপিং শেষে পিৎজ্জ্বা আর কফি খেয়ে রিকশা চড়ে গল্প করতে করতে বাসায় ফেরার কথা!
আমি সারাটা দিন মনে মনে তোমার সাথে কথা বলি, তুমি যে কত কত উপদেশ দাও আমাকে! কত বড় হয়ে গেছো তুমি আব্বা!
জানো বাবা তোমার জন্য যখন দোয়া করি, তখন আমি একটু স্বার্থপর হয়ে যাই। আমি আল্লাহকে বলি, আল্লাহ ফাইয়াজ কি বুঝতে পারছে, ওর জন্য আমি কত কষ্টে আছি? ওকে প্লিজ একটু বলে দিয়েন যে তোমার মুনাম্মা ভালো নাই। তোমাকে ছাড়া বেঁচে থাকা তোমার মুনাম্মার জন্য কঠিন শাস্তি হয়ে যাচ্ছে। আবার মনে হয়, এটা শুনলে হয়তো তোমার মন খারাপ হবে! তখন আবার কথা বদলে ফেলি। শুধু চাই তুমি ভালো থাকো।
তুমি ইনশাল্লাহ অনেক অনেক ভালো আছো। কারণ, যত মানুষ তোমার জন্য কেঁদেছে আর যত লোক তোমার জন্য দোয়া করছে- তুমি নিশ্চয়ই জানতে পারছো। মাতৃভূমির ক্রান্তিলগ্নে যেই ছেলে বীরের মত প্রান দেয়, তাকে কেউ ভালো না বেসে পারে বাবা? সমস্ত পৃথিবী তোমাকে এখন চেনে, আব্বা।
অনেক ভালোবাসি বাবা, অনেক দোয়া রইল। শুভ জন্মদিন বাবা ❤️।
তোমার মুনাম্মা
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪
ফাইল ছবি
বেশকিছুদিন ফুটবল থেকে দূরে থাকার পর অবশেষে পিএসজির জার্সিতে অভিষেক হয়ে গেল লিওনেল মেসির। পুরো ফুটবলবিশ্বের নজর থাকা এই ম্যাচের স্কোয়াডে থাকলেও শুরুর একাদশে ছিলেন না তিনি। পরে নেইমারের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মেসি।
মেসির অভিষেকের ম্যাচে রবিবার দিবাগত রাতে লিগ ওয়ানের ম্যাচে রেইমসের মাঠ থেকে ২-০ গোলে জয় নিয়ে ফিরেছে পিএসজি। তবে তাদের মেসি এবং নেইমারের কেউই গোল পাননি। জোড়া গোল করে ম্যাচের আসল নায়ক ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে।
বার্সেলোনা ছাড়া এই প্রথম অন্য কোনো ক্লাবের হয়ে মাঠে নামেন মেসি। আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের সম্ভাব্য অভিষেকের কথা শুনে আগেই সব অগ্রিম টিকিট শেষ হয়ে গিয়েছিল। তবে স্কোয়াডে রাখলেও মেসিকে একাদশে রাখেননি পিএসজি কোচ মাওরিসিও পচেত্তিনো। প্রথমার্ধেও বেঞ্চেই কাটে মেসির। তবে ম্যাচের ৬৬তম মিনিটে নেইমারের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড।
দর্শকদের তুমুল করতালি আর হর্ষধ্বনির মাধ্যমে মেসির আগমনকে স্বাগত জানান। তবে নতুন ক্লাবে অভিষেক ম্যাচে এত কম সময় মাঠে কাটিয়ে খুব বেশি কিছু করা হয়নি তার। তবে দল টানা চতুর্থ জয় পেয়েছে, এটাও বা কম কিসে! অন্তত 'অভিষেক' ম্যাচটা জয় দিয়ে উদযাপন করলেন আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকা। এর আগে ম্যাচের ১৬তম মিনিটেই লক্ষ্যভেদ করেন ফরাসি ফরোয়ার্ড এমবাপ্পে।
আনহেল দি মারিয়ার বক্সে বাড়ানো ক্রসে দারুণ এক হেডে গোল করেন তিনি। নেইমার-এমবাপ্পে-দি মারিয়াদের মুহুর্মুহু আক্রমণে দিশেহারা রেইমস ৫১তম মিনিটে সমতায় ফিরেছিল। কিন্তু ভিএআর দেখে অফসাইডের সিদ্ধান্তে গোলটি বাতিল করে দেন রেফারি। এরপর ৬৩তম মিনিটে ব্যবধান বাড়ান এমবাপ্পে। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ডান উইং ধরে রেইমসের ব্যাক পোস্টে থাকা ফরাসি ফরোয়ার্ডকে খুঁজে নেন আশরাফ হাকিমি। একদম কাছ থেকে অনায়াসেই বল জালে জড়িয়ে দেন এমবাপ্পে।