a
মুক্তা দাশ
ইট পাথরের এই শহরে তুমিহীন আমি ...
বড় একা!
আকাশ দেখিনা অনেকদিন। নরম ঘাসে ভেঁজা মাটিতে
হাতে হাত রেখে পাশাপাশি দু'জনে
অনেকদিন একসাথে হাঁটি না।
করোনা র মৃত্যু ভয়ে সবাই যখন ব্যস্ত হাটে-বাজারে
কিংবা শপিংমলের লম্বা লাইনে। তখন
আমি অপেক্ষায়.....
চারদেয়ালে বন্দী হবার আগে তোমার
শেষ ছোঁয়াটুকু পাবার আশায়।
ঠিক এসেছিলে,,, যেমনটি কাছে আসো বরাবর।
মুখোমুখি চায়ের কাপ ,,, উষ্ণতা জড়ানো ছোঁয়া
চোখের আয়নায় নিষ্পলক চোখ
আকাশছোঁয়া চাওয়া - পাওয়া ;
খুঁজে ফিরে না বলা অনুভব .....
সন্ধ্যারাগে শেষ চৈত্রে,,,, উঠেছিলো ঝড়
ঠোঁটের স্পর্শে লন্ডভন্ড ! কালবৈশাখী প্রহর।
করোনা ঝড়ে ছিটকে পরা নীড়ে আজ
দু'জনেই বন্দী! চারদেয়ালের বন্দীশিবিরে।
এমনি করেই ভাবছো কি আমায়?
নির্ঘুম রাতের নির্জন প্রহরে স্বপ্নেরা ভেসে বেড়ায়,
আকাশ কাঁদে। আমার বন্দীদশায়!
নতুন সূর্যোদয়ের আশায় বুক বেঁধে
বেঁচে আছি, তোমার চোখের মায়ায় .....
বড্ড মনে পড়ে তোমায় ...!
বড্ড মনে পড়ে তোমায়....।।
ফাইল ছবি
শহরের নিস্প্রাণ ঈদ
আলমগীর খোরশেদ
--------------------------
রাজধানী ঢাকায় যান্ত্রিক জীবন
ঈদ, জন্মদিন, ছোঁয়না কিছুই
টেলিভিশনে ঘোষণা ঈদের,
স্থলপথে, ফেরীতে, মানুষের ঢল
করোনা হেরে গেছে, মানবতার কাছে,
চাঁদটা কে আগে দেখেছে, তুই না আমি
ছোটবেলার তর্ক হারিয়েছে, সেই কবেই,
বুধ থেকে বুধ আষ্ট দিন বাকি
আঙ্গুলে গুণার সেই দিন,
ছোটখাটো একটা কিছু উপহার
অভিভাবকগণ এখনকার মতো
চাইলেই পাওয়া যেতোনা কিছু,
আব্বার পছন্দ সোয়াই পিঠা
চাউলের সেমাই, পোলাও কোরমা,
উঠোনে জলচৌকি ফেলে
চাউলের খাই দিয়ে বানাতাম লম্বা লড়ি,
মহিলারা হাতের তালুতে পিষে
ঠেলা দিয়ে বানাতেন সোয়াই পিঠা,
বাড়ির বড় পুকুর ঘাটে পাড়ার লোকজন
দলবেঁধে গোছলের ভীড়,
তিব্বত সাবানের ঘ্রাণ
গলায় পাউডার যেনো অত্যাবশ্যক,
বাজার থেকে কেনা কাগজের টুপি
চোখে সুরমা, আতর লাগিয়ে নাকে, মুখে
কানের চিপায় তুলো শেষটায়,
ধান ক্ষেতের আইল ধরে, দুইমাইল দূরে
ঈদের মাঠে সামিয়ানা ঠানানো,
মাইকে বয়ান মুরুব্বিগণের
মুড়কি, তিল্লোয়া যা চিনির তৈরী
কিনে নিতাম আগে,
নামাজ শুরু, লোকজনের দৌড়, দূরে
কাঁধে ছোট্ট বাবু, আরেকজন হাতে ধরা
তেল দেওয়া মাথা চিকচিক,
নামাজ শেষে বাড়ি ফিরে
ব্যাটারী দিয়ে টেলিভিশনে ঈদের অনুষ্ঠান
উঠোন ভরা পাড়ার মানুষ,
খড় বিছিয়ে দেওয়া, জগ দিয়ে পানিও
কতো মধুময় ছিলো গ্রামের ঈদ,
হারিয়ে গেছে সব কালের আবর্তে
স্মৃতির ডায়াফ্রাম কেঁপে উঠে,
রাজধানীতে লোক দেখানো ভালোথাকা
মায়ের হাতের চাউলের সেমাই
কাগজের টুপি, সুরমায় পানি আসা চোখ,
আতর মাখানো জ্বালা করা নাক
সবই ঢের ভালো ছিলো,
এই আতশবাজি ফোটানো, শহরের
মায়াহীন, নিস্প্রাণ, ঈদ থেকে।.......
ফাইল ছবি
রোজা রাখলে করোনার ঝুঁকি বেড়ে যায় এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটির গবেষকরা বলছেন, রোজা রাখার মাধ্যমে কেউ করোনার বিস্তার ঘটায় না। সুস্থ মানুষের জন্য রোজা রাখা নিরাপদ।
করোনাকালে রোজা শুরু হওয়ায় আগে জারি করা এক নির্দেশিকায় এসব কথা জানান ডব্লিউএইচওর বিশেষজ্ঞরা।
ডব্লিউএইচও আরও বলেছে, রোজা রাখার ফলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায় এমন কোনো প্রমাণ নেই। যারা দীর্ঘ সময় ধরে করোনায় ভুগছেন তারাও রোজা রাখতে পারবেন। রোজা রাখা অবস্থায় তাদের উপসর্গ যদি গুরুতর আকার ধারণ করে, তাহলে তারা চিকিত্সকের সঙ্গে পরামর্শ নিয়ে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী রোজা ভাঙতে পারেন।
৭ এপ্রিল জারি করা ওই বিশেষ নির্দেশনায় বলা হয়, দুঃখের বিষয় যে, চলতি বছর করোনা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। আমরা করোনায় অনেক মানুষকে হারিয়েছি। আরও অনেকে সংক্রমিত হচ্ছে। করোনা মহামারি এখন একটি বাস্তব হুমকি। তাই, এই রমজানে আমাদের আরও সচেতন থাকা জরুরি।